তালেবানের সঙ্গে স্থগিত শান্তি আলোচনা থেকে কি পেল আফগান জনগণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৮ বছরের ব্যর্থ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পর তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করে আফগানিস্তান থেকে সেনা সংখ্যা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে আলোচনার একই সময়ে তালেবানের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী হামলা অব্যাহত থাকা।
এরই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প শনিবার রাতে এক টুইটার বার্তায় ঘোষণা করেন, তালেবান নেতাদের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিডে তার যে গোপন আলোচনা হওয়ার কথা ছিল তা তিনি বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই বৈঠকের পাশাপাশি তালেবানের সঙ্গে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা কথিত শান্তি আলোচনাও তিনি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বৃহস্পতিবার কাবুলে তালেবানের পক্ষ থেকে চালানো বোমা হামলায় একজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।ওই হামলায় মার্কিন সেনার পাশাপাশি ১১ আফগান বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ৪০ জন আহত হয়।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রোববার ক্যাম্প ডেভিডে তালেবান নেতাদের পাশাপাশি আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে তার আলাদা আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে উৎখাত ও এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করার লক্ষ্যে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েছিল আমেরিকা। ইঙ্গো-মার্কিন আগ্রাসনে তালেবান সরকারের পতন হলেও গত ১৮ বছরে তালেবানকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয় মার্কিন সরকার। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে সেই তালেবানের সঙ্গেই আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় ওয়াশিংটন। কাতারের রাজধানী দোহায় এ পর্যন্ত তালেবান নেতাদের সঙ্গে আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত জালমাই খালিলযাদ ৯ দফা বৈঠক করেছেন।
তালেবানের সঙ্গে কথিত শান্তি আলোচনায় আমেরিকা আন্তরিক বলে খালিলজাদ দাবি করেছেন। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটনের নীতি হচ্ছে, তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার পরও আফগানিস্তানে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হবে। অথচ তালেবানের দাবি দেশটি থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার একই সময়ে তালেবান তাদের সন্ত্রাসী হামলা অব্যাহত রেখেছে। দৃশ্যত আলোচনায় আমেরিকার কাছ থেকে অধিক ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে অর্থাৎ আফগানিস্তান থেকে সব দখলদার সেনা প্রত্যাহারের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসব হামলা চালাচ্ছে তালেবান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তালেবান-মার্কিন শান্তি আলোচনা চললেও এ সময়ে আফগানিস্তানে সহিংসতা এতটুকু কমেনি এবং দেশটির জনগণ এই আলোচনার কোনো সুফল এখন পর্যন্ত ভোগ করতে পারেনি।#
পার্সটুডে/এমএমআই/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।