‘শরীয়াহ আইনের নামে তালেবান বাড়াবাড়ি করেছে; ধ্যান ধারনায় পরিবর্তন আনতে হবে’
মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। আমি আপনাদের শ্রোতা। এছাড়া ফেসবুক এবং ওয়েবসাইটের পাঠক।
তালেবান ক্ষমতা দখল করেছে একমাসের বেশি সময় হলো এবং তারা ১১ সেপ্টেম্বর শপথ গ্রহণ করে দায়িত্বভারও গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে অন্তঃকলহ শুরু হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। নারী শিক্ষা, তাদের কর্ম পরিবেশ ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে তালেবান সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের অভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো দেশ এখন পর্যন্ত তাদেরকে স্বীকৃতি প্রদানও করেনি। তালেবান ঘোষণা করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হবে এবং ইসলামসম্মত পোশাকের নিয়মকানুনও চালু করা হবে। তাছাড়া, তারা নারী ও পুরুষ কর্মীদের একত্রে কাজ করার অনুমতিও প্রদান করবে না বলে জানিয়েছে।
আমরা জানি, ইসলামে পর্দা মানা ও শিক্ষা গ্রহণ করা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ফরজ বা অত্যাবশীয় কাজ। ইসলামে নারীদের পোষাকি পর্দার চেয়ে পুরুষের চোখের পর্দা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হিজাব বা পর্দা নারীদের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক। নারীদের সুরক্ষার জন্য পর্দার বিকল্প নেই। কিন্তু যথাযথ পর্দা প্রথা মেনে সহশিক্ষা গ্রহণে যেমন সমস্যা নেই, তেমনি কর্মক্ষেত্রে কাজ করতেও বাধা নেই। ইসলামী অনৈসলামী বহু দেশে এর প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। এমনকি পশ্চিমা সংস্কৃতির দেশগুলোতেও নারীরা হিজাব পড়ে লেখাপড়া করছে এবং চাকুরি-বাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্যে অংশ নিচ্ছে।
ইসলামের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, পর্দা প্রথা মেনে নারীরা যুদ্ধে পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছিল এবং সেই ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে মসজিদে জামাতে নামাজে অংশগ্রহণও করছে কিন্তু তালেবান শরীয়াহ আইনের নামে বাড়াবাড়ি করেছে। ইসলামে বাড়াবাড়ি একটি চরম অপছন্দনীয় কাজ। ইসলাম কুসংস্কারে নয়, আধুনিকতায় বিশ্বাস করে এবং নারীদের পর্দা মেনে পুরুষের সাথে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি কাজ করতে কোথাও বাধা নেই।
তালেবানরা ইসলামের অপব্যাখ্যার কারণে নব্বইয়ের দশকেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি এবং একই ধারা অব্যাহত রাখলে বর্তমানেও পাবে না। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে তাদের ধ্যান ধারনায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং ইরানের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজে লাগাতে পারে।
বিনীত
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।