জুন ০২, ২০১৬ ১৩:৩৮ Asia/Dhaka

ইসলামি ইরানের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (র.)এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা কথা বলেছি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সাথে। পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো।

রেডিও তেহরান: বছর ঘুরে আবারো এল ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনীর মৃত্যু বার্ষিকী। তার নেতৃত্বে সফল হয়েছিল ইরানে ইসলামি বিপ্লব। সমসাময়িক ইতিহাসে এ বিপ্লবকে আপনি কিভাবে দেখেন?

আহমদ আবদুল কাদের: ইরানের ইসলামি বিপ্লব নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক একটি বিপ্লব। ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনের বিপ্লব বলা চলে। যে আশা এবং প্রত্যাশা নিয়ে বিপ্লব এসেছিল ৩৬ বছর পর সময়ের ব্যবধানে সে আশা প্রত্যাশা কিছুটা কমে গেছে। তবে বিপ্লবের শুরুটা ছিল ইতিহাস সৃষ্টিকারী। নতুন একটি ধারার সৃষ্টি করেছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লব।

রেডিও তেহরান: বিপ্লবে ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আহমদ আবদুল কাদের: ইরানের ইসলামি বিপ্লবে মরুহুম ইমাম খোমেনী (র.) এর নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সমসাময়িক ইতিহাসে ইমাম খোমেনী (র.) এর মতো নেতৃত্ব খুব কমই দেখা গেছে। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সব বিবেচনায় বলতে হবে জনগণকে জাগিয়ে তোলা, অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া, দেশের মানুষের মনের আহাবানকে উপলব্ধি করতে পারা এবং দেশিয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যাকে মোকাবেলা করতে পারার ক্ষেত্রে ইমাম খোমেনী (র.) এর নেতৃত্বের কোনো তুলনা হয় না। সামগ্রিক বিষয়ে তার ভূমিকা অনন্য।

রেডিও তেহরান: বিপ্লব পরবর্তী ইরানের পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইমাম খোমেনীর অবস্থানকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আহমদ আবদুল কাদের: বিপ্লব পরবর্তী সময় ইমাম খোমেনী (র.) পরাশক্তির চক্রান্ত মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃঢ়তার সাথে যে ভূমিকা পালন করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

ইরানের জনগণসহ বিশ্বের মুসলমানদেরকে তিনি অনুপ্রাণিত করেছেন। বিপ্লবোত্তর ইরানের পুনর্গঠনের জন্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইমামের ভূমিকা অনন্য। পররবর্তীতে ইরানকে নিয়ে যতোটা পড়াশুনা করেছি তাতে জানতে পারছি সেখানে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। যদিও বেশ কিছু সমস্যা সেখানে আছে; অর্থাৎ সব সমস্যার পুরোপুরি সমাধান তারা করতে পারেনি বা করা যায় না। যেমন ধরুন মুদ্রাস্ফীতিসহ বেশ কিছু বিষয় আছে। তারপরও সামগ্রিকভাবে একটি দেশকে উন্নয়নের জন্য যেসব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা করা প্রয়োজন তিনি তার সবকিছুই করেছেন। ইরান প্রতিমহূর্তে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আমি মনে করি।

রেডিও তেহরান: ফিলিস্তিন ইস্যুকে ইমাম খোমেনী নতুন করে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

আহমদ আবদুল কাদের: ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে ইমাম খোমেনী(র.) এর উদ্যোগ প্রশংসাব্যঞ্জক। ফিলিস্তিন ইস্যুকে মোকাবেলা করতে গিয়ে বা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্ব মুসলমানের মধ্যে সংহতি প্রকাশের জন্য তিনি পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস পালনের ডাক দিয়েছেন। এতে ফিলিস্তিন নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এরপর থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশ্ববাসীর সংহতি ডেভালাপ করেছে এবং তা দিনে দিনে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইমাম খোমেনী (র.) ভূমিকা অনন্য। আর এ ইস্যুটিকে বিশ্ব মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা প্রয়োজন। ইমাম খোমেনীর উদ্যোগ পরবর্তীতে আমরা সবাই যদি মুসলিম ঐক্যের প্রতি জোর দিতে পারতাম তাহলে ভালো হতো। শিয়া-সুন্নি বা এধরণের কিছু ইস্যু যদি আমরা সামনে না আনতাম তাহলে আরো এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। তবে ইমাম খোমেনী(র.)র সেই ঐক্যের আহবানকে মুখে আমরা সমর্থন জানিয়েছি তবে কার্যত তা পালন করতে পারিনি। তবে মুসলমানদের এক হওয়ার বিষয়টির প্রতি সবার দৃষ্টি দেয়া উচিত।

রেডিও তেহরান: মুসলিম বিশ্বের সামগ্রীক কল্যাণে ইমামের অবদানকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আহমদ আবদুল কাদের: মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক কল্যাণে ইমাম খোমেনী (র.) এর অবদানকে মাত্র কয়েকটি বাক্যে বলা সম্ভব নয়। ইসলামে গণজাগরণের ক্ষেত্রে ইমাম খোমেনীর ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে মানুষকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বে ইতিহাস হয়ে আছেন। বিশ শতকের দিকে নানারকম বিপ্লব হয়েছে কিন্তু ইমাম খোমেনী ইরানের জনগণের জন্য যে ইসলামী বিপ্লব করেছেন ইতিহাসে এমনটি আর নেই।সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করা এবং দেশকে আমূলে পাল্টে দেয়া, ওলামা সম্প্রদায়কে মাঠে আনার নজির কিন্তু তার আগে আর সম্ভব হয়নি। তার পরবর্তীকালেও আর দেখা যায়নি। ফলে আমি মনে করি ইরানের ইসলামি বিপ্লব এবং পরবর্তীতে দেশ গড়ার ক্ষেত্রে ইমামের অবদানের কোনো তুলনা হয় না।#