কথাবার্তা
বাংলাদেশ ও ভারতের পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খবর
শ্রোতাবন্ধুরা! পত্রপত্রিকার পাতার বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠান কথাবার্তার আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি আশরাফুর রহমান। ১৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিকগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন খবরকে শীর্ষ শিরোনাম করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের খবরাখবর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
ঢাকার পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম
- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের: প্রথম আলো
- বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায় আমেরিকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক বাংলা
- আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ চাই না: প্রধানমন্ত্রী- ইত্তেফাক
- মার্কিন কূটনীতিকের বার্তা পরিষ্কার: আমির খসরু : যুগান্তর
- ভোটারবিহীন নির্বাচনের দৃষ্টান্ত গড়েছিল বিএনপি: ওবায়দুল কাদের- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
- বাংলাদেশে গণতন্ত্র দুর্বল হলে সম্পর্ক সীমিত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ইঙ্গিত দিলেন শোলে: মানবজমিন
কোলকাতার পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম
- সীমান্তে ইইউ-এর মতো দরজা খুলে দিতে হবে বিকাশ হবে সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও অর্থনীতির: ইমরান- পূবের কলম
- ভিক্ষার দান’ নয়, হকের বকেয়া ডিএ-র দাবি যৌথ মঞ্চের, সোম-মঙ্গল রাজ্যে দু’দিন কর্মবিরতির ডাক আনন্দবাজার
- গুজরাটে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ৪ মহিলা-সহ ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৮- আজকাল
- লালফৌজকে জোর টক্কর, চিনা আগ্রাসন রুখতে মোদির তিন ‘মাস্টারস্ট্রোক’- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোর বিস্তারিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের: প্রথম আলো
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রী হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার রুলের পাশাপাশি কয়েক দফা নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেন।
ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে গতকাল বুধবার একটি রিট করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন।
রিটের ওপর আজ শুনানি হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
জেলা প্রশাসককে এই তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত। আদালতের আদেশ অনুসারে তিন সদস্যের কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা থাকবেন। জেলা জজ মনোনীত বিচার বিভাগীয় একজন কর্মকর্তা থাকবেন। আর থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক। কমিটি গঠনের সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবিতে ভর্তির কয়েক দিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হন এক ছাত্রী। নেত্রীদের কথা না শোনার অভিযোগ তুলে ওই ছাত্রীর ওপর সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানো হয়। অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন নেত্রীরা। ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যান। গত রোববার রাতে ইবির ছাত্রী হলের গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার প্রক্টর, হল প্রভোস্ট ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায় আমেরিকা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আমেরিকা বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়, এ নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ড. মোমেন বলেন, আমেরিকারসহ বড় বড় দেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থী নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। এতে অনেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি একেবারেই ছোটোখাটো উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা খুব ভাগ্যবান যে, অনেক দেশের নামজাদা কূটনীতিকরা এসেছেন। আমেরিকার কথা বলছেন, আমেরিকার সাতজন অত্যন্ত সিনিয়র কূটনীতিক এসেছেন, আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা এসেছেন আমাদের সঙ্গে তাদের দেশের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করাতে। ড. মোমেন বলেন, এ মিরাকল দেশের সঙ্গে তারা (আমেরিকানরা) সুসম্পর্ক রাখতে চান। আর এখানে নতুন নতুন যে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত হতে চান, সেজন্য এসেছেন।
এ সময় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি)ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা, রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন কূটনীতিকের বার্তা পরিষ্কার: আমির খসরু : যুগান্তর
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখন একজন মার্কিন কুটনীতিক ঢাকায়। তিনি যখন সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, দেশে গণতন্ত্র নিম্নগামী থাকবে, নিচের দিকে চলে যাবে, তাদের (সরকার) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও নিম্নগামী হবে, সহযোগিতা কমে আসবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের স্বাধীনতা হলে এক নাগরিক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
বুধবার বিকালে রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সফররত মার্কিন কুটনীতিক ডেরেক শোলে বলেছেন, বিশ্বের শক্তিশালী গণতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক আছে। বিশ্বের যেকোনো দেশে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা সীমিত করে নেয়। এর মানে এই নয় যে, আমরা সহযোগিতা করব না। এর মানে এটাও নয় যে, আমাদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ নয়। সম্পর্ক সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনায় আসে ব্যবসা–বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।
এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এগুলো সবচেয়ে কঠিন কথা। মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো আপোষ নাই বলেছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাতিত কোনো গণতন্ত্র চলতে পারে না। এই কথাগুলো ঢাকায় বসে তিনি বলেছেন। কত অপমানকর! বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা তাদের পকেটে চলে গেছে। এজন্য বাংলাদেশের মানুষ যেমন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে, তেমনি বিশ্ববাসী, বিশ্ববিবেক প্রতিবাদ করছে। এই প্রতিবাদ বাংলাদেশে যেমন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, বিশ্ববাসীও জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।
আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ চাই না: প্রধানমন্ত্রী- ইত্তেফাক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বহিরাগত শক্তির যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ চাই না। আমরা বঙ্গবন্ধুর ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বহিঃশক্তির যে কোনো আক্রমণ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীকে পর্যাপ্ত সক্ষম করে তুলতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে (ইবিআরসি) ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট’ এর ‘দশম টাইগার্স পুনর্মিলনী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশে রুপান্তরিত করতে চাই। তাই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশ ও জণগণের পাশে আছে। যেকোন দুর্যোগে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের পাশে দাঁড়ায়, শুধু দেশে নয় বিদেশেও।
শেখ হাসিনা বলেন, যখনই বন্ধু প্রতীম কোনো দেশে দুর্ঘটনা ঘটে তখনই আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে যায় এবং উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ ও সেবা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শান্তিরক্ষী বাহিনী গৌরবজনকভাবে দায়িত্ব পালন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে যাচ্ছে। তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাম্প্রতিক তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্প ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্ধার কাজে সফলভাবে অংশগ্রহণের উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তার হৃদয়ের খুব কাছের। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শহীদ তার দুই ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এবং লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল এই রেজিমেন্টের সদস্য ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তাই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পুনর্মিলনীতে যোগ দেওয়া একদিকে আমার জন্য বেদনাদায়ক, অন্যদিকে আনন্দের।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন এবং খোলা জিপে চড়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ তার সঙ্গে ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও প্রত্যক্ষ করেন
ভোটারবিহীন নির্বাচনের দৃষ্টান্ত গড়েছিল বিএনপি : ওবায়দুল কাদের- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত দিন। বিএনপি বাংলাদেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং নির্বাচনের নামে প্রহসনের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মূলত ১৯৯৬ সালের এই দিনে স্বৈরাচারের প্রতিভূ এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অপশক্তি বিএনপি তথাকথিত নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত দিন। বিএনপি বাংলাদেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং নির্বাচনের নামে প্রহসনের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মূলত ১৯৯৬ সালের এই দিনে স্বৈরাচারের প্রতিভূ এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অপশক্তি বিএনপি তথাকথিত নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে এবং তাদের একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন টিকিয়ে রাখার অশুভ লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভোটারবিহীন এক প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন করে।
তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দল ফ্রিডম পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে ওই নির্বাচন আয়োজন করে বিএনপি। খুনি ফারুককে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসান বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে ১৫০ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় খালেদা জিয়ার বিএনপি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষ ঘৃণাভরে একতরফা নির্বাচন বর্জন করে। ফলে দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা হারায় ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত রোষের প্রতিফলন রূপে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জনতার মঞ্চ’। অপ্রতিরোধ্য গণশক্তির বিপরীতে থাকে শুধু গণবিরোধী বিএনপি-কেন্দ্রিক অপশক্তির চক্রব্যূহ।
তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনার বাতিঘর হিসেবে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় গণমানুষের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ জনতার রুদ্র-রোষে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ। সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শাসকগোষ্ঠী বিএনপি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের ক্ষোভ ও ঘৃণা গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে ৩০ মার্চ বিএনপি সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনার আপসহীন নেতৃত্বে জনগণের বিজয় সূচিত হয়। জনগণ ফিরে পায় তাদের হারানো ভোটের অধিকার। এরপর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামী লীগ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি সর্বদা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বিনষ্ট করে আসছে; অন্ধকারে চোরা গলি দিয়ে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা চালিয়েছে। জনগণের প্রতি আস্থা না রেখে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপরাজনীতিতে লিপ্ত থেকেছে। বিএনপিই হলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র দুর্বল হলে সম্পর্ক সীমিত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ইঙ্গিত দিলেন শোলে: মানবজমিন
বাংলাদেশে গণতন্ত্র দুর্বল হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সীমিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি জে ব্লিঙ্কেনের উপদেষ্টা ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্সিলর ডেরেক এইচ শোলে। ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত শোলে খোলাসা করেই বলেন, কোথাও গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়লে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এর মানে এই নয় যে আমরা সহযোগিতা করবো না, আমাদের সম্পর্ক অর্থবহ হবে না। কিন্তু ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি সীমিত হওয়ার কারণ হবে!গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আগাম অঙ্গীকার তথা রূপরেখা না দেয়ায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, তবে ওই সম্মেলনে যোগদানের পূর্ব শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট ফরমেটে আগামীর গণতন্ত্র চর্চা বিষয়ক পরিকল্পনা জমা দিলে তাতে বাংলাদেশ অংশ নিতে পারবে। বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনের সফরে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা আসে ডেরেক শোলের নেতৃত্বে মার্কিন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি দল। গতকাল সকালে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করে প্রতিনিধি দলটি। এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। এ সময় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ে মার্কিন প্রশাসনের আন্ডার সেক্রেটারি পদমর্যাদার ওই কাউন্সেলর আরও বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো যে কোন দেশে বিনিয়োগের সময় স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা চায়।বাংলাদেশ কেন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এমন প্রশ্নে ডেরেক শোলে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নানা কারণে সম্পর্ক কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। এখন তা অনেকটাই স্বাভাবিক।
কেবল বাংলাদেশ নয়; এ অঞ্চলের অন্যদের সঙ্গেও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসন ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলকে (আইপিএস) গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহের কারণগুলোর অন্যতম এটিও।সরকার থেকে বারবার অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে শঙ্কিত কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারের হয়ে আমি বলতে পারবো না। তবে সরকারের কাছে আমরা আমাদের অবাধ, মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে যাবো। বিশ্বের যে কোনো স্থানে নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে- এ বিষয়টি জনগণের আস্থায় আসতে হবে। এ নিয়ে আগাম সংলাপেও জোর দেন তিনি। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে ডেরেক শোলে বলেন, সরকার বলেছে, তারা অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চায়- এ বিষয়ে আমি আশ্বস্ত। তবে সুশীল সমাজকে চাপে রাখা, মানবাধিকার ও পূর্ববর্তী নির্বাচন নিয়ে আমাদের কিছুটা যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। আমরা উদ্বেগের বিষয়গুলো জানিয়ে যাবো। নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের প্রতিশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র আস্থা রাখতে চায় বলেও জানান তিনি।নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের ভবিষ্যত নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে নির্বাচনের ফল বিরোধীপক্ষের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে।বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের কাউন্সিলর বলেন, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার জায়গা থেকে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করি। আমরাও নিখুঁত নই। তবে আমরা আমাদের ত্রুটিগুলো শুধরে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমরা অন্য অংশীদারদের থেকেও আশা করি।র্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালে র্যাব নিয়ে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছি। সুখবর হচ্ছে গত বছর বাহিনীর কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে, অনেকটাই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে আমরা র্যাবের টেকসই সংস্কার ও জবাবদিহিতা দেখতে চাই। এ বিষয়ে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যতক্ষণ টেকসই সংস্কার ও জবাবদিহি না দেখব, ততক্ষণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়ে মার্কিন এ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিগত যারা সম্মেলনে যোগ দিয়েছে সবাই গণতন্ত্র উন্নয়নে পরিকল্পনা দিয়েছে। সম্মেলনে যারা যোগ দিতে পারেনি, তাদের কাছেও আমরা অভিন্ন পরিকল্পনা চেয়েছি।বাংলাদেশ গণতন্ত্র উন্নয়নে পরিকল্পনা দিয়ে এখানে যোগ দিতে চায়নি। ভবিষ্যতে পরিকল্পনা দিয়ে এতে যোগ দেয়ার সুযোগ রয়েছে।বাংলাদেশে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন না হওয়ার পরিণতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ না হলে পরিণতি কি হবে তা অগ্রিম ধারণা করা কঠিন। তবে এটুকু বলতে পারি, যেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতাও সঙ্কুচিত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো উজ্জ্বল জানিয়ে তিনি বলেন, এ কারণেই এদেশে আমরা ক্রমাগত সফর করছি। আমাদের কমন কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে আমরা আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই আশাবাদী। শক্তিশালী গণতন্ত্রের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বন্ধু বলেও দাবি করেন ডেরেক শোলে।রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্প, পাকিস্তানে বন্যা, ইউক্রেন সংকটসহ বর্তমানে বিশ্বের শত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রোহিঙ্গা সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারে থাকবে।চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই দুই দেশের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বলবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রেরও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশ সঠিক বিষয়ের পক্ষে থাকুক।মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক এনাম আহমেদ, যমুনা টিভির নির্বাহী পরিচালক ফাহিম আহমেদ এবং এএফপির ব্যুরোপ্রধান শফিকুল আলম প্রমুখ।
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোর বিস্তারিত
ভিক্ষার দান’ নয়, হকের বকেয়া ডিএ-র দাবি যৌথ মঞ্চের, সোম-মঙ্গল রাজ্যে দু’দিন কর্মবিরতির ডাক আনন্দবাজার
মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) দেওয়ার দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করে চলেছেন সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। এ বারের রাজ্য বাজেট পেশের একেবারে শেষ লগ্নে এসে সরকারি কর্মীদের ৩ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কিন্তু এই সামান্য ডিএ বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট নন মঞ্চের সদস্যেরা। তাঁরা বিষয়টিকে ‘ভিক্ষার দান’ হিসাবেই দেখছেন। তাই কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে আগামী সোম এবং মঙ্গলবার রাজ্যে একটানা ৪৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তাঁরা। শুক্রবার রাজ্যজুড়ে ‘ধিক্কার মিছিল’-এরও ডাক দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দুই কাজের দিনে তাই সরকারি কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। ডিএ বৃদ্ধির দাবিতে সব কর্মচারী সংগঠনকেই শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছে মঞ্চ।
সীমান্তে ইইউ-এর মতো দরজা খুলে দিতে হবে বিকাশ হবে সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও অর্থনীতির: ইমরান- পূবের কলম
পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে এক সময় কোনও কাঁটাতারের বেড়া ছিল না। দুই বাংলা এক থাকায় হিন্দু-মুসলিমরা যৌথভাবে সমাজ, অর্থনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিকাশে সহায়তা করত।
কিন্তু দেশভাগ সেই সুযোগ নষ্ট করেছে। তৈরি হয়েছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ভারতীয় উপমহাদেশ যেখানে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারত উন্নতিতে, সে-ই পিছিয়ে পড়েছে।
এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও তার সমাধান খুঁজতে হীরালাল ভকত মহাবিদ্যালয়ে বুধবার এক আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছিল। ‘ভারত উপমহাদেশের রাজনীতিতে বাঙালি জাতির অবদান: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই সেমিনারে বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রথিতযশা মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাগত ভাষণ দেন হীরালাল ভকত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. নুরুল ইসলাম। বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ ও দৈনিক পুবের কলম-এর সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান, তথ্যচিত্র নির্মাতা সৌমিত্র ঘোষ দস্তিদার, অধ্যাপক সৈয়দ এম জামান, শিক্ষক মামুন হাসান প্রমুখ।
গুজরাটে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ৪ মহিলা-সহ ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৮
ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা গুজরাটের পাটানে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। আহত ৮ জন। আহতরা সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। স্থানীয় মানুষ এবং প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, রাধানপুর-ভারাহি জাতীয় সড়কের ওপর জিপ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ১৬জন যাত্রীকে নিয়ে একটি জিপ মোতি পিপলি গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় জিপের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাককে ধাক্কা মারে। ট্রাকটি উল্টোদিক দিয়ে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর জিপটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৪ জন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও ৩ জন প্রাণ হারান। মৃতদের মধ্যে ৭ বছরের এক শিশুও রয়েছে। আহতদের অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রাক ও জিপ চালকের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লালফৌজকে জোর টক্কর, চিনা আগ্রাসন রুখতে মোদির তিন ‘মাস্টারস্ট্রোক’- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
চিনা (China) আগ্রাসনের জবাব দিতে মরিয়া ভারত। এবার লালফৌজকে রুখতে নয়া সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi)। একটি নয়, তিন-তিনটি ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই পদক্ষেপগুলি বেজিংকে অস্বস্তিতে ফেলবে।
কী এই তিন নতুন পদক্ষেপ? এক, ইন্দো-তিব্বত সীমান্তে বর্ডার পুলিশের সংখ্যাবৃদ্ধি। দুই, শিনকু লা টানেল চালু করা। তিন, গ্রামের জন্য ‘প্রাণবন্ত’ প্রকল্প চালু করা। মনে করা হচ্ছে, তিব্বত ও শিনজিয়াংয়ের মতো জায়গায় চিনা সেনা যে ত্রিস্তরীয় সীমান্ত সুরক্ষা বলয় তৈরি করছে, তার মোকাবিলা করতেই এই নয়া পরিকল্পনা।
সম্প্রতি মোদি সরকার চিনা সীমান্ত এলাকায় আইটিবিপি জওয়ানের সংখ্যা বাড়াতে পদক্ষেপ করেছে। লালফৌজ (PLA) যেভাবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গ্রামগুলিতে সেনা মোতায়েন করছে, তেমনটাই করবেন এই জওয়ানরা। নতুন ব্যাটেলিয়নগুলি ৪৭টি সীমান্ত পোস্টের দায়িত্বে থাকবে। এর মধ্যে লাদাখ ও উত্তরাখণ্ডে একটি করে পোস্ট থাকবে। বাকিগুলি সবই অরুণাচল প্রদেশে। এই নতুন ও অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করার সিদ্ধান্তের ফলে বড় শহরে না গিয়ে গ্রামেই থাকার প্রবণতা বাড়বে এলাকার তরুণদের। স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ওই গ্রামগুলিতে বাণিজ্যের উপরেও জোর দেওয়া হবে।
এরই পাশাপাশি শিনকু লা টানেল তৈরিতে সম্মতিও দিয়েছে মোদি সরকার। ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল ২০২৫ সালের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে। এর ফলে লাদাখের (Ladakh) সঙ্গে সারা বছরই যোগাযোগ রাখতে পারবেন জওয়ানরা।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।