এপ্রিল ২২, ২০২৩ ১৩:১৬ Asia/Dhaka
  • মায়ের মন দিয়ে জনগণের সেবা করে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। ২২ এপ্রিল শনিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • সোনা মজুতে বাংলাদেশ বিশ্বে ৬৬তম-প্রথম আলো
  • এবারের ঈদ আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কষ্টকর: ফখরুল–ইত্তেফাক
  • ফিরোজায় যেভাবে ঈদ কাটছে খালেদা জিয়ার-দৈনিক মানবজমিন
  • মায়ের মন দিয়ে জনগণের সেবা করে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী-কালের কণ্ঠ
  • বঙ্গভবনে শেষ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে যা বললেন রাষ্ট্রপতি-যুগান্তর

কোলকাতার শিরোনাম:

  • সত্যের জন্য যে কোনও মূল্য দিতে রাজি’, সময়সীমার মধ্যেই দিল্লির ‘বাংলো’ খালি করলেন রাহুল-সংবাদ প্রতিদিন
  • মুকুল মানসিক অসুস্থ? অভিযোগ পেলেই পদক্ষেপ করতে চান স্পিকার, যেতে পারে বিধায়ক পদ!-আনন্দবাজার
  • আরও ৩ জনের মৃত্যু করোনায়, ‘সক্রিয়’ রোগী হাজার ছুঁইছুঁই-গণশক্তি

এবারে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

সোনা মজুতে বাংলাদেশ বিশ্বে ৬৬তম-প্রথম আলো

রিজার্ভ হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে সোনার মজুত রয়েছে ১৪ টন। এ পরিমাণ সোনা মজুতের ফলে বিশ্বে ৬৬তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি মাসে প্রকাশিত বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা মজুতের এ তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৮১৩৩ দশমিক ৫০ টন সোনার মজুত রয়েছে। ইউরোপের দেশ জার্মানি রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। দেশটির মজুত প্রায় ৩ হাজার ৩৫৫ টন। জার্মানির পরে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ ইতালি। দেশটির রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৫২ টন সোনা। এর পরের তিনটি দেশ হলো যথাক্রমে রাশিয়া, চীন ও সুইজারল্যান্ড।

রিজার্ভ বহুমুখীকরণের জন্য বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই সোনা মজুত রাখে। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে এক যুগ আগে ১০ টন সোনা সংগ্রহ করেছিল। আর বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মজুত সোনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ টনে।

মায়ের মন দিয়ে জনগণের সেবা করে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী-কালের কণ্ঠ

দেশের মানুষের মাঝেই পরিবারের স্বজনদের খুঁজে পাই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবাইকে হারিয়ে আজ আমার কেউ নেই। দেশের মানুষের মাঝেই পরিবারের স্বজনদের খুঁজে পাই। ব্যক্তিগত জীবনে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দেশের মানুষ ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি।

আজ শনিবার (২২ এপ্রিল) সকালে গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমার তো কেউ নেই। বাবা-মা, ভাই-বোন আমি সব হারিয়েছি। সব হারিয়ে আমি আর আমার ছোট বোন বেঁচে ছিলাম। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি।

তিনি বলেন, বাবার যে স্বপ্ন- প্রতিটা মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, চিকিৎসা পাবে, সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবে, বাংলার মানুষের সেই মৌলিক চাহিদা পূরণ করা আমার কাজ। যেহেতু আমি বাবা-মা, ভাই সব হারিয়েছি, আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষের মাঝে আমি খুঁজে পাই আমার হারানো বাবা-মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মা যেমন তার সংসার আগলে রাখেন, যেমন তার সংসারের ভালো-মন্দ দেখে, সংসারের প্রতিটি মানুষকে সুখী দেখতে চান, উন্নত দেখতে চান- ঠিক সেই মায়ের মন নিয়ে আমি বাংলাদেশের জনগণের সেবা করি। যেন বাংলাদেশের মানুষ সুন্দর জীবন পায়।

বঙ্গভবনে শেষ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে যা বললেন রাষ্ট্রপতি-যুগান্তর

বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিবর্গকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। 

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, দেশের বিত্তশালী ও সামর্থ্যবানদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।শনিবার ঈদের নামাজ আদায়ের পর বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে বঙ্গভবনে শেষবারের মত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মো. আবদুল হামিদ।  বাসস জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, তার সহধর্মিণী রাশিদা খানমসহ পরিবারের সদস্যরা শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ইসলামের মহান শিক্ষাকে ধারণ করে মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের মুখে হাসি ফোটাতে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপ্রধান ধনী-গরিব নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করছে। বাংলাদেশও এই ক্ষতিকর প্রভাবের বাইরে নয়। এমতাবস্থায় বিত্তশালীদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, এই ঈদুল ফিতরে সবার অঙ্গীকার হলো ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে সবার মুখে হাসি ফোটানো।

এবারের ঈদ আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কষ্টকর: ফখরুল–ইত্তেফাক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবারের ঈদ আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কষ্টকর। একদিকে আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাগারে রয়েছেন। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে শরিক হতে পারেননি। অন্যদিকে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিতে এই ঈদের আনন্দকে উপভোগ করার জন্য সাধারণ মানুষের যে ন্যূনতম সামগ্রী কেনা দরকার, তারা সেটা কিনতে পারেননি। দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে তাদের। শনিবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ঈদের নামাজ আদায় শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খানসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নিয়ে কবর জিয়ারত করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, এবারের ঈদের বাজারও কোনোরকম জমে উঠতে পারেনি। কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা একেবারেই কমে গেছে। জনগণকে ভুল বোঝানোর মধ্য দিয়ে এই সরকার বোঝাতে চায়, দেশের পরিস্থিতি ভালো আছে। কিন্তু দেশের জনগণ দুঃসময় পার করছে। বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলে, প্রচারণা করে, প্রতারণা করে টিকে আছে।

ফিরোজায় যেভাবে ঈদ কাটছে খালেদা জিয়ার-দৈনিক মানবজমিন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ঈদ উদযাপন করছেন। গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ঈদ কাটাচ্ছেন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। পুত্রবধূ শর্মিলী রহমান সিঁথি ও দুই নাতনি জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানের সঙ্গে ঈদের দিন কাটাচ্ছেন তিনি। বাসভবন সূত্র বলছে, আজ ঈদের দিন বোন সেলিমা ইসলাম ও ভাই শামীম ইস্কান্দারসহ পরিবারের লোকজন দুপুরের পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী  কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।  

বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের দিন ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। বিরোধী দলের নেত্রী থাকাকালীন সময়েও একইভাবে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। তবে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চারটি ঈদ কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি। যদিও সে সময় ঈদের দিন ফুল, মিষ্টি ও রান্না করা বিভিন্ন প্রকারের খাবার নিয়ে পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতেন। ২০২০ সাল থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন তিনি। এই সময়ে ঈদের দিনগুলোতে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে আসছেন।

মুকুল মানসিক অসুস্থ? অভিযোগ পেলেই পদক্ষেপ করতে চান স্পিকার, যেতে পারে বিধায়ক পদ!-আনন্দবাজার

মুকুল রায় কি মানসিক ভাবে সুস্থ নন? কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়কের দিল্লিযাত্রার পর থেকেই এ নিয়ে জল্পনা চলছে। প্রথম দিনেই মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায় দাবি করেন, তাঁর বাবা মানসিক ভাবে সুস্থ নন। সোমবার মুকুল দাবি করেছেন, তাঁকে তাঁর পরিবারই মানসিক ভারসাম্যহীন বানাতে চায়। নিয়ম অনুযায়ী, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তি বিধায়ক থাকতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে কী হবে মুকুলের?

স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার আনন্দবাজার অনলাইনকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলেই তিনি ব্যবস্থা নেবেন। তৃণমূল এবং বিজেপিও সেই ব্যবস্থা নেওয়ারই পক্ষে। তবে মুকুল আদৌ ততটা ‘অসুস্থ’ নন বলেই মনে করছেন সিপিএমের আইনজীবী সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

দিল্লিতে বসে মুকুল দাবি করেছেন, বাড়ির লোক তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। শুক্রবারই তিনি বলেছেন, ‘‘আমার শরীর এখন ঠিক আছে। আমি পূর্ণ সুস্থ। মাঝে শরীর খারাপ হয়েছিল। এখন ঠিক আছে। বাড়ির লোক অসুস্থ অসুস্থ করে পাগল প্রমাণের জন্য মনের উপর একটা চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। তাই বাড়ির কাউকে না জানিয়েই দিল্লিতে চলে এসেছি#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।