সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৭ ১৩:৪০ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৬ সেপ্টেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • থামছে না রোহিঙ্গা স্রোত- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম
  • সু চির দাবি, রাখাইনে সবাই নিরাপদে- দৈনিক প্রথম আলো
  • রোহিঙ্গা বহনকারী ১১টি নৌকা নিমজ্জিত, ৭ নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত কেন মিয়ানমারের পাশে?- দৈনিক সমকাল
  • র‌্যাবের অভিযান শেষ: ‘জঙ্গি আস্তানা’য় ৭ দগ্ধ লাশ: দৈনিক মানবজমিন
  • সহায়ক সরকারে রিজিড নয় বিএনপি: ফখরুল- দৈনিক যায়যায়দিন
  • রাজধানীর অলি-গলিতে এখনও কোরবানির পশুবর্জ্য- দৈনিক ইনকিলাব
  • চামড়া পাচার রোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি- দৈনিক ইত্তেফাক

ভারতের শিরোনাম:

  • লঙ্কেশ খুনে বিজেপিকে আক্রমণ রাহুলের, পাল্টা নিন্দায় নিতিন গডকড়ী- দৈনিক আনন্দবাজার
  • রোহিঙ্গা নিয়ে সুকির পাশে মোদির ভারত- দৈনিক আজকাল
  • জঙ্গিদের অর্থে লাগাম টানতে লাগাতার এনআইএ হানা দিল্লি থেকে কাশ্মীরে- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • বাংলার কিছু জায়গায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইছে দিল্লি পুলিশ- দৈনিক বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

থামছে না রোহিঙ্গা স্রোত- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিষ্ঠুর নির্যাতনের মুখে গত ১৩ দিনে অন্তত ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ২৪ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার এবং গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। রোহিঙ্গা যুবকদের ধরে নিয়ে হত্যা, নারীদের ধর্ষণের পর খুন, আগুনে ছুড়ে ফেলে শিশু হত্যা, শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ায় ওইসব এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে। ওইসব ঠিকানাহীন বিপন্ন মানুষের স্রোত বইছে বাংলাদেশের দিকে। এই স্রোতের সঙ্গে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। কোনোভাবেই থামছে না, ক্রমেই বাড়ছে এই স্রোতের তীব্রতা। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাতে গণভবনে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ, মানবিক বিপর্যয়, মিয়ানমারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে নির্যাতন সইতে না পেরে যারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে তাদের প্রতি অত্যন্ত মানবিক আচরণ করতে হবে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার বলেছেন, সরকার রোহিঙ্গা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের ঘটনা দুঃখজনক। অমানবিক।

সু চির দাবি, রাখাইনে সবাই নিরাপদে- দৈনিক প্রথম আলো

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সবার নিরাপত্তাবিধান করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। রাখাইনে সপ্তাহ দুয়েক আগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সবশেষ নৃশংস অভিযান শুরুর পর এই প্রথম এ বিষয়ে মুখ খুলে এমন দাবি করলেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা।

আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবারের ফোনালাপে সু চি ওই দাবি করেন। দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে আজ সু চির দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ানকে সু চি বলেছেন, তাঁর সরকার ইতিমধ্যে যথাসাধ্য উপায়ে রাখাইনের সব মানুষকে সুরক্ষা দিতে শুরু করেছে। সু চি বলেছেন, মানবাধিকার-বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক সুরক্ষার অর্থ তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন। তাই তাঁরা দেশের সব মানুষের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন। এটা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানবিক অধিকারও বটে।

সু চির দাবি, রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে প্রচুর অপ-তথ্য ছড়াচ্ছে। এই অপ-তথ্য সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রীর টুইটারে পোস্ট করা হত্যাযজ্ঞের ছবির প্রসঙ্গ টেনে সু চি দাবি করেন, ওই ছবি মিয়ানমারের নয়। পরে অবশ্য ছবিগুলো সরিয়ে নিয়েছেন তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী।মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রচুর ভুয়া ছবি ছড়াচ্ছে। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এসব অপ-তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে অপ-তথ্য ছড়ানোর জন্য সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন সু চি। সহিংসতার মুখে লাখো রোহিঙ্গার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে সু চি কোনো মন্তব্য করেননি। গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন শুরু হয়। নির্বিচারে হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ায় প্রাণে বাঁচতে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকছে।

রোহিঙ্গা বহনকারী ১১টি নৌকা নিমজ্জিত, ৭ নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার- দৈনিক নয়াদিগন্ত

কক্সবাজারের নাফ নদীতে রোহিঙ্গাদের বহনকারী অন্তত ১১টি নৌকা ডুবে গেছে। শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট থেকে সাতজন নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে নৌকাগুলো ডুবে যায়।

কোস্ট গার্ডের শাহপরীর দ্বীপ স্টেশন কমান্ডার লেঃ ফয়সাল জানান, সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়া পয়েন্টে ৫জনের লাশ এবং দুপুরে জালিয়াপাড়া পয়েন্টে দু'জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈনুদ্দিন খান জানান, নৌকাডুবির ঘটনা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছেন। এদিকে টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ৩০১৪ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড। এখনও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত কেন মিয়ানমারের পাশে?- দৈনিক সমকাল

রাখাইন রাজ্যে নতুন করে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মাঝে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার থেকে মিয়ানমার সফর করছেন। সফরে আগে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা বিরোধী কথাবার্তাও শোনা গেছে।

গত মাসের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সীমান্তবর্তী কয়েকটি চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারত সবসময় মিয়ানমারের পাশে থাকবে।' এর আগে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজুজু ঘোষণা করেন, ভারতে বসবাসরত ৪০ হাজার রোহিঙ্গার সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। যদিও ভারতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ হাজার জাতিসংঘ নিবন্ধিত শরণার্থী, তবুও রিজুজু বলেন, 'জাতিসংঘের নিবন্ধনের কোনো অর্থ নেই। আমাদের কাছে ওরা সবাই অবৈধ।'

কলকাতায় বিবিসির সাবেক সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে রয়েছেন। তিনি বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের ঠিক আগে দিল্লির পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য বিবৃতির মূল উদ্দেশ্য বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের সাথে অধিকতর ঘনিষ্ঠতা। সংখ্যাগরিষ্ঠ বার্মিজদের রোহিঙ্গা বিরোধী কট্টর মনোভাবের সাথে একাত্ম হতে চাইছে ভারত। সুবীর ভৌমিক বলছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চীনের মৌনতার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি সরকার।

র‌্যাবের অভিযান শেষ: ‘জঙ্গি আস্তানা’য় ৭ দগ্ধ লাশ: দৈনিক মানবজমিন

মিরপুরের ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে সাত জনের পোড়া দেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ। অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতের বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে র‌্যাবের ধারণা। শক্তিশালী ওই বিস্ফোরণে ভবনের পাঁচ তলার একটি অংশ ধসে চার তলায় নেমে গেছে। বিস্ফোরণের উত্তাপ এখনও সেখানে রয়ে গেছে।

বিস্ফোরণস্থলের পাশ থেকে সাত জনের আগুনে পোড়া কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ভবনে নিহত আব্দুল্লাহ জেএমবি’র সারোয়ার তামিম গ্রুপের সদস্য ছিল জানিয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, এক বছর ধরে তাকে র‌্যাব খুঁজছিল। সারোয়ার তামিম গ্রুপের সদস্যরাও ওই বাসায় যাতায়াত করতো। গতকাল থেকে অভিযান শুরুর পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করাতে চেষ্টা চলছে। তবে রাতে ভবনে বিকট বিস্ফোরণের পর আগুন ও ধোয়া উড়তে দেখা যায়। রাতে অভিযান স্থগিত রেখে সকালে আবার অভিযান শুরু হয়।

সহায়ক সরকারে রিজিড নয় বিএনপি: ফখরুল- দৈনিক যায়যায়দিন

নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি তুললেও বিষয়টির ওপর অনড় না থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খোলা রাখতে চায় বিএনপি। মঙ্গলবার বিকালে উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, 'আমরা এখনো সংঘাতে যেতে চাই না, আমরা সংঘাত এড়িয়ে যেতে চাই। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে আগামী নির্বাচন হোক- সেটা আমরা চাই, সিরিয়াসলি চাই। আমরা কখনোই চাই না যে সেই অতীতের পুনরাবৃত্তি হোক।' 'আমরা নির্বাচনকালীন সময়ে সত্যিকার অর্থে একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার চাই। এটা কিন্তু 'রিজিড' ব্যাপার নয়। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করতে চাই, সমঝোতা করতে চাই। আমরা সব সময় আশা করে আছি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।'

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে হলে শেখ হাসিনাকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। 'জনগণের এই সরকারের প্রতি আস্থা নেই। আমিই সব- এই দাম্ভিকতা পরিহার করতে হবে। আমি সবকিছু চাপিয়ে দেব- সেই ধারণা বদলাতে হবে।' দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সম্প্রতি কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানকে খুঁজে বের করে দেয়া সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিকাল ৪টায় উত্তরার ৮নং রোডের ৪নং সেক্টরের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব। এরপর সমসাময়িক রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। 'জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে কি না' জঙ্গি নির্মূলে সরকারের কর্মকাণ্ডের পেছনে 'জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর কোনো চক্রান্ত' হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন মির্জা ফখরুল।

রাজধানীর অলি-গলিতে এখনও কোরবানির পশুবর্জ্য- দৈনিক ইনকিলাব

কোরবানির পশুর বর্জ্য এখনও রাজধানীর অলি-গলিতে পড়ে আছে। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যভর্তি ডাস্টবিনগুলো ইতোমধ্যে পরিস্কার করা হলেও কিছু কিছু এলাকায় বেশ কয়েকটি ডাস্টবিনে এখনও উপচে রয়েছে বর্জ্য। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে বর্জ্যরে বিশাল স্তূপ। পশু জবাই দেওয়ার পর পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হলেও স্যাভলন ও বিøচিং পাউডার না দেওয়ায় সে স্থানগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন দাবি করেছেন, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিটি কর্পোরেশন ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে তা শতভাগে দাঁড়িয়েছে বলে ডিএসসিসি’র জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। ঐদিন পর্যন্ত দক্ষিণ সিটি প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। অন্যদিকে, উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হলেও তা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার মেট্রিক টনে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ দুই সিটি কর্পোরেশনের বেশ কিছু অলি-গলিতে কোরবানির পশুর বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে কোন প্রকার বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়নি।

চামড়া পাচার রোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি- দৈনিক ইত্তেফাক

চামড়া পাচার রোধে সাতক্ষীরার ২৩৮ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃখংলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঈদুল আযহার পরে কোনো চোরাকারবারী যাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে কোনো পশুর চামড়া পাচার করতে না পারে সে জন্য সীমান্তে এই কঠোর নজরদারী করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত জুড়ে রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।

ট্যানারি মালিকদের নির্ধারণ করা মূল্যে পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে কোনো চোরাচালানী যাতে প্রতিবেশী দেশ ভারতে চামড়া পাচার করতে না পারে সে জন্য এই টহল জোরদার করা হয়েছে। কোরবানির পর চোরাকারবারীরা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচুর পরিমাণ পশুর চামড়া অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে পাচার করে থাকে। এ জন্য চামড়া পাচার রোধে বিজিবির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট বসানোসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. আমিনুর রহমান জানান, সাতক্ষীরায় সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো চোরাচালানি ভারতে চামড়াসহ কোনো ধরনের পণ্য পাচার না করতে পারে সেজন্য সমগ্র সীমান্ত এলাকাজুড়ে বিজিবি বিশেষ সতর্কাবস্থাসহ গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।

তিনি আরো জানান, সীমান্ত দিয়ে যে কোনো ধরনের পাচার ও জঙ্গি-সন্ত্রাস প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার জানান, সাতক্ষীরা একটি সীমান্তবর্তী জেলা। এখান থেকে যাতে কোনো চোরাচালানি চামড়া পাচার না করতে পারে সেজন্য বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগামী ৭ দিন যাবৎ এই নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

লঙ্কেশ খুনে বিজেপিকে আক্রমণ রাহুলের, পাল্টা নিন্দায় নিতিন গডকড়ী- দৈনিক আনন্দবাজার

বিজেপি এবং আরএসএস-এর বিরোধিতা করেই খুন হতে হল সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশকে। প্রায় সরাসরিই এই অভিযোগ করলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আক্রমণ করলেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই রাহুলের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া এল বিজেপির দিক থেকে। শীর্ষ বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী জানালেন, বিজেপি-ও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছে, রাহুলের মন্তব্য সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘দুর্ভাগ্যজনক’। আরএসএস-এর তরফ থেকেও গৌরী লঙ্কেশ খুনের নিন্দাই করা হয়েছে। আরএসএস নেতা এম জি বৈদ্য আততায়ীদের ‘ফাঁসি’র দাবি তুলেছেন।

রাহুল গাঁধী বলেছেন, ‘‘বিজেপি বা আরএসএস-এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তাঁকে আক্রমণের শিকার হতে হয়, এমনকী খুনও হতে হয়। তারা একটা মাত্র আদর্শ চাপিয়ে দিতে চায়, যা ভারতের চরিত্রের বিরোধী।’’ রাহুলের টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ রয়েছে। কংগ্রেস সহ-সভাপতি লিখেছেন, ‘‘চাপে পড়ে কখনও কখনও প্রধানমন্ত্রী মুখ খোলেন, কিন্তু সমস্ত বিরোধী কণ্ঠস্বরকে শেষ করে দেওয়াই হল আসল লক্ষ্য এবং এর ফলে ভারতে খুব গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’’

রোহিঙ্গা নিয়ে সুকির পাশে মোদির ভারত- দৈনিক আজকাল

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহত্যা নিয়ে একটি কথাও বললেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার মিয়ানমারের জননেত্রী আং সান সুকির সঙ্গে বৈঠকের পরে নেপিতাওয়ের সরকারি অবস্থানকেই সমর্থন করলেন তিনি। বললেন, দেশের অখণ্ডতা এবং আঞ্চলিক ঐক্য বজায় রাখতে সব পক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে। সেনার অত্যাচারে ১ লক্ষ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। অত্যাচার নিয়ে সরব আন্তর্জাতিক দুনিয়া। রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনার অত্যাচারের জেরে তাঁরা ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসতে শুরু করেছেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ব্রিকসে সম্মেলনের শেষেই নেপিতাও গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সুকি–র সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ভারত মিয়ানমারের পাশে রয়েছে। রাখাইন প্রদেশে সেনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনহানি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সুকি–ও সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে ভারতকে পাশে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সুকি বলেছেন, ভারত এবং মিয়ানমার নিশ্চিত করছে যে তাদের দেশে সন্ত্রাসের শিকড় গাড়তে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী দেশে নাশকতা চালানোর জন্য সন্ত্রাসবাদীদের লালনও করবে না অন্যদেশ।

জঙ্গিদের অর্থে লাগাম টানতে লাগাতার এনআইএ হানা দিল্লি থেকে কাশ্মীরে- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভারতের বুকে জঙ্গিদের অর্থ, অস্ত্রশস্ত্র জোগাচ্ছে কে? কোথা থেকে আসছে কাশ্মীরি যুবকদের পাথর ছোড়ায় উৎসাহ দেওয়ার টাকা। দেশের মাটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিচ্ছে কে? এই সব প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। বুধবার সকালে রাজধানী দিল্লি ও কাশ্মীরের ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালায় এনআইএ। হানা দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসাররা হাওয়ালা ব্যবসার শিকড় উপড়ে ফেলতে চাইছে এনআইএ।

এদিন শ্রীনগর ও উত্তর কাশ্মীরের একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন এনআইএ-র অফিসাররা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হাওয়ালা-চক্রের মাধ্যমে কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠন ও বিক্ষোভকারীদের তহবিলের অর্থ জোগাচ্ছে বেশ কিছু ব্যবসায়ী সংগঠন। মঙ্গলবারই হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মিয়া আবদুল কাইয়ুমকে জঙ্গিদের অর্থ জোগানো সংক্রান্ত বিষয়ে তলব করে এনআইএ। এই ঘটনা ঘিরে তৈরি হয় বিক্ষোভ।

বাংলার কিছু জায়গায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইছে দিল্লি পুলিশ- দৈনিক বর্তমান

পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইছে দিল্লি পুলিশ। কিছু জঙ্গি সংগঠনের গতিবিধির হদিশ পেতেই তারা এখানে ঘাঁটি গড়তে চাইছে। আসলে সুদূর রাজধানীতে বসে এরাজ্যে সক্রিয় জেহাদি গোষ্ঠীগুলির কাজকর্ম জানতে তাদের অনেক ক্ষেত্রেই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। অনেক খবরই তাদের কাছে সময়ে পৌঁছাচ্ছে না। এই কারণেই এখানে তারা ক্যাম্প করতে চাইছে। অর্থ্যৎ অভিযানের ক্ষেত্রে বারবার যাতে রাজ্য পুলিশের অনুমতি চাইতে না হয়, তাই চাইছে দিল্লির উর্দিধারীরা। ইতিমধ্যেই এই আরজি জানিয়ে তাদের তরফে একটি চিঠি রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টরেটে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। চিঠি সপ্তাহখানেক আগেই এসে পোঁছেছে। যদিও তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য রাজি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে পুলিশ মহলে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, আসলে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশকে জঙ্গি কার্যকলাপের তথ্য জানার নাম করে ঢুকিয়ে দিয়ে, রাজ্যের উপর নজরদারি চালাতে চাইছে কেন্দ্র। কারণ দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণে।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৬