সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ ০৯:৩২ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১০ সেপ্টেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। আজও ঢাকার দৈনিকগুলোতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যা এবং বাংলাদেশ অভিমুখী রোহিঙ্গা ঢল সংক্রান্ত নানা খবর গুরুত্ব পেয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিকগুলোর কয়েকটি প্রধান প্রধান খবরের শিরোনাম হচ্ছে:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রোহিঙ্গার ঢলে উদ্বিগ্ন সরকার: সীমান্তে জাতিসংঘের অস্থায়ী ক্যাম্প চায় বাংলাদেশ- দৈনিক যুগান্তর
  • রোহিঙ্গা সংকট: বিরামহীন রোহিঙ্গা জনস্রোত, ক্লান্ত শরীর, পেটে ক্ষুধা- দৈনিক প্রথম আলো
  • ঢাকার চাপে নয়া দিল্লির নড়াচড়া- দৈনিক মানবজমিন
  • বাংলাদেশে ঢোকার সুযোগ খুঁজছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা- দৈনিক ইত্তেফাক
  • রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়ায় জমি নির্ধারণ হয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী
  • প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা স্রোত মোকাবেলা করতে পারবো : ওবায়দুল কাদের- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • সংসদে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে আদালতের রায় ও রোহিঙ্গা ইস্যু- দৈনিক ইনকিলাব
  • বেশুমার যাত্রী বয়ে বিলম্বে ঢাকায় আসছে ট্রেন- দৈনিক যায়যায়দিন

ভারতের শিরোনাম:

  • কেন্দ্রের চাপে রাজ্যে বন্ধ পরিচয়পত্র বিলি: এ রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়নে মমতার না- দৈনিক আনন্দবাজার
  • গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে গুরুংকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ; মমতার বৈঠকে দাবি না মিটলেই অনশন: বিনয়- দৈনিক বর্তমান
  • ফের জাতীয় স্তরে রাজ্যের স্বীকৃতি, ৯টি প্রকল্প জিতল পুরস্কার- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • মহিলা কংগ্রেসের শীর্ষে সুস্মিতাকে বসালেন রাহুল- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

রোহিঙ্গার ঢলে উদ্বিগ্ন সরকার: সীমান্তে জাতিসংঘের অস্থায়ী ক্যাম্প চায় বাংলাদেশ- দৈনিক যুগান্তর

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এই স্রোত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে রাখাইনের অবশিষ্ট রোহিঙ্গারও বাংলাদেশে ঢুকবে। সেক্ষেত্রে এবার মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়াবে ১০ লাখ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকট উত্তরণে তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর আওতায় সীমান্তে নাফ নদীর উভয় তীরে জাতিসংঘের অস্থায়ী ক্যাম্প বসানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া রোহিঙ্গার ঢল বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার এখনই সময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তায় রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করার প্রস্তাব করা হয়। কারণ রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক তদারকিতে নিবন্ধন করা না হলে মিয়ানমার তাদের নিতে অস্বীকার করবে। সরকার অবিলম্বে নাফ নদীর উভয় তীরে জাতিসংঘের অধীনে অস্থায়ী ফোল্ডিং ক্যাম্প বসানোর প্রস্তাব করেছে। এই বায়োমেট্রিক নিবন্ধনেও আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করেছে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা সংকট: বিরামহীন রোহিঙ্গা জনস্রোত, ক্লান্ত শরীর, পেটে ক্ষুধা- দৈনিক প্রথম আলো

চোখের সামনে গুলিতে মারা গেছেন আবদুল বাসেতের বাবা ফয়েজুল্লাহ (৪৫)। শোকের জন্যও সময় লাগে। সেই সময়টুকুও পাননি বাসেত। নিজের প্রাণ বাঁচাতে বাবার লাশ ফেলে রেখেই ছুটে পালিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বসে ছিলেন টেকনাফ বাসস্ট্যান্ডের সামনে। সেখানে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা জনা চল্লিশ শিশু-নর-নারীর সঙ্গে তিনিও ছিলেন। প্রায় দুই দিন চলার পর তাঁদের এই সাময়িক বিশ্রাম। তখনই বাসেত বলছিলেন কী ঘটেছিল।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংগদু জেলার রাচি দং থানার ডুমছের গ্রামে বাসেতের বাড়ি। মা-বাবাসহ তাঁদের ছয়জনের পরিবার। জমি ছিল প্রায় ১৫ বিঘা। গরু আটটি। তেমন অভাব ছিল না। সবকিছুই গেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর রোষানলে পড়ে। বাসেত বলছিলেন, সেনাবাহিনীর লোকেরা ঈদের আগের দিন গ্রামে এসে তাঁদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হুকুম দেয়। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলেও যেতে থাকেন। যাঁরা যাচ্ছিলেন না, দুই দিন আগে তাঁদের গ্রামের একটি ধানখেতে নিয়ে জমায়েত করে সেনারা। তারপর তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে, আশপাশ দিয়ে টানা গুলি চালাতে থাকে। এতে প্রাণভয়ে সবাই দৌড়ে পালাতে থাকেন। কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান। তাঁদের মধ্যে বাসেতের বাবাও ছিলেন। তাঁর পেটের ডান পাশে গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ মৃত্যু। বাবার লাশ ফেলে রেখে অন্যদের মতোই জন্মের ভিটেমাটি ছেড়ে ছুটতে হয়েছে বাসেতকে।

ঢাকার চাপে নয়া দিল্লির নড়াচড়া- দৈনিক মানবজমিন

ঢাকার চাপে নড়েচড়ে উঠল নয়া দিল্লি। শনিবার অস্বাভাবিকভাবে মিয়ানমার সরকােের ওপর শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল থামাতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নয়া দিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টি করে ঢাকা। নয়া দিল্লিতে এ জন্য ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাত করেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নির্দেশনা অনুসরণ করেন। ঢাকার এমন আহ্বানের প্রেক্ষিতে নয়া দিল্লি মিয়ানমারকে কঠোর কোনো বার্তা না দিলেও বলেছে, রাখাইন রাজ্যে ‘রেসট্রেইন্ট অ্যান্ড ম্যাচিউরিটি’ বা বিরত থাকতে ও পরিপক্বতা প্রদর্শন করতে। বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফর করে রাখাইনে ‘উগ্রপন্থিদের সহিংসতায়’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কিন্তু নির্যাতিত, নিষ্পেষিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের নামটিও উচ্চারণ করেন নি। তাই শনিবার ঢাকা নয়া দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে, যাতে তারা মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের এমন যোগাযোগের পর মনিবার রাতে ভারত রাখাইন পরিস্থিতি শান্ত করার ও পরিস্থিতি পরিক্বতার সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানায় মিয়ামনারের কাছে। এতে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কল্যাণের বিষয়টিতে নজর রাখতে বলা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেছেন, সহিংসতা বন্ধ হয়ে এসেছে। রাখাইন রাজ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে। বাংলাদেশ সরকারের একটি শীর্ষ স্থানীয় সূত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, বর্তমান সঙ্কট নিয়ে আমরা ভারত সরকারের কাছে আমাদের জটিলতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছি।

বাংলাদেশে ঢোকার সুযোগ খুঁজছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অবস্থানরত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সুযোগ খুঁজছে বলে জানা গেছে। সদ্য অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের দাবি, উত্তর মংডুর বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গারা দলে দলে জড়ো হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার যারা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছে তাদের বেশিরভাগই আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান। পরিস্থিতি শান্ত হবে ভেবে তারা এতোদিন ধরে অপেক্ষা করেন। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন অব্যাহত থাকায় তারা এপারে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গতকাল শনিবার অনুপ্রবেশকারী মিনার মিয়া নামের এক রোহিঙ্গা ইত্তেফাককে জানান, উত্তর মংডুর কুয়াঞ্চিবন, সাহেব বাজার এলাকা থেকে ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে একযোগে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। পথে যাতে সেনাবাহিনীর আক্রমণের কবলে পড়তে না হয় সেজন্য তারা একসাথে আসছেন। দিনের বেলা হাঁটছেন, রাতে পথেই জিরিয়ে নিচ্ছেন। তারা কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পৌঁছবে।

রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়ায় জমি নির্ধারণ হয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একত্রিত করে নিবন্ধন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। শনিবার দুপুরে নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকায় পাঁচ হাজার একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে আপাতত আড়াই হাজার একর জমিতে রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয় শিবির নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা স্রোত মোকাবেলা করতে পারবো : ওবায়দুল কাদের- দৈনিক নয়াদিগন্ত

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি আজ শনিবার নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন এবং আজও অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই রোহিঙ্গা স্রোত আমরা মোকাবেলা করতে পারবো। জাতিসংঘ ও সারা বিশ্ব এ সংকট মোবাকেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। সারা বিশ্ব বলছে সংকট মোকাবেলায় শেখ হাসিনার সরকার সফল হয়েছে। বিএনপি শেখ হাসিনার উন্নয়ন সহ্য করে না তাই শেখ হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশ চায়। তারা উন্নয়নের দুধের সর খাওয়া দল। তারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনও তাদের খুশি করতে পারবে না।

সংসদে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে আদালতের রায় ও রোহিঙ্গা ইস্যু- দৈনিক ইনকিলাব

সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কারণে আহ্বান করা দশম জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনের আলোচনায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া আদালতের রায় নিয়ে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ। এছাড়া মিয়ানমারের চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ষোড়শ সংশোধনী আদালতের রায় বাতিলের ঘোষনার পর থেকে আওয়ামীলীগের নেতারা বলে আসছেন আদালত যতবারই বাতিল করবে তা সংসদে ততবারই পাস করা হবে।

আজ রোববার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে বিকেল ৪টায় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে চলতি অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচী চ‚ড়ান্ত হবে। তবে এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। যা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ চলতে পারে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এই অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্য-বাধকতা রয়েছে সংবিধানে। এর আগে গত ১৩ জুলাই সংসদের ১৬ তম অধিবেশন শেষ হয়।

বেশুমার যাত্রী বয়ে বিলম্বে ঢাকায় আসছে ট্রেন- দৈনিক যায়যায়দিন

ভেতরে যাত্রী ঠাসা! ছাদও ভর্তি! তিল ধারণের ঠাঁই নেই ট্রেনে। সড়কপথে যখন ভোগান্তি চরমে, তখন ট্রেন বোঝাই হয়ে ঢাকায় ফিরছেন যাত্রীরা। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি যাত্রী টানতে গিয়ে একেকটি ট্রেনের বিলম্বও হচ্ছে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

এরপরও বহু যাত্রীর অভিযোগ, হাতে টিকিট নিয়েও ট্রেনের ভেতরে যেতে পারেননি তারা।

বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে আসা সব ট্রেনই যাত্রীদের চাপে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এগোচ্ছে। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী উঠছেন এসব ট্রেনে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গতি সীমিত করে নেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নেয়া হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতে। সেতুর ওপর ট্রেন আটকে যাওয়ার মতো অবস্থা হলে যখন-তখন যাত্রী নামিয়ে দিতে হচ্ছে ছাদ থেকে। খুব ধীরগতি মানা হচ্ছে সেখানে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ট্রেন পরিচালনা সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে এসব কারণে প্রতিটি ট্রেনের শিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঢাকার দিকে আসা ট্রেনগুলোতে উত্তরাঞ্চলের বিপুল যাত্রীচাপ থাকায় প্রতিটি স্টেশনে দীর্ঘ বিরতিও দিতে হচ্ছে। ফলে কমলাপুরে পৌঁছাতে অনেক বিলম্ব করছে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

কেন্দ্রের চাপে রাজ্যে বন্ধ পরিচয়পত্র বিলি: এ রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়নে মমতার না- দৈনিক আনন্দবাজার

মায়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া যে সব রোহিঙ্গা মুসলিম এ দেশে ঢুকেছেন, তাঁদের ‘পুশব্যাক’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। রাজ্যগুলিকে এই নীতি মেনে চলতে বলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কিন্তু সেই ফরমান মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নবান্নের শীর্ষ মহলের সিদ্ধান্ত, উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা এ রাজ্যে থাকতে চাইলে মানবিকতার খাতিরেই তাঁদের থাকতে দেওয়া হবে। কোনও অবস্থাতেই জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘রোহিঙ্গারা মুসলিম বলেই কেন্দ্র এমন অবস্থান নিচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্র অমানবিক হলেও আমরা তা হতে পারব না।’’

মায়ানমারে সন্ত্রাসের বলি হয়ে গত কয়েক বছর ধরে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা সে দেশ ছেড়ে নৌকা করে বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। গত ২৫ অগস্ট থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় সেই সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে ইতিমধ্যেই আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার জম্মু লাগোয়া এলাকায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি মায়নমারে গিয়ে এঁদের সকলকে ‘পুশব্যাক’ করার নীতি ঘোষণা করে এসেছেন।

গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে গুরুংকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ; মমতার বৈঠকে দাবি না মিটলেই অনশন: বিনয়- দৈনিক বর্তমান

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা আগামী ১২ তারিখের উত্তরকন্যার বৈঠক ফলপ্রসূ না হলে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অনশনে বসার হুমকি দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিদ্রোহী নেতা বিনয় তামাং। শনিবার দার্জিলিংয়ে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিনয়। সেখানেই তাঁর গলায় এই হুঁশিয়ারি শোনা যায়। বিনয়ের আচমকা এই ‘রণংদেহি’ মেজাজে অনেকেই বিস্মিত। তবে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিমল গুরুংয়ের জমি কাড়তেই বিনয় এখন এই কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছেন। একদিকে নিজেকে পাহাড়ের নেতা হিসাবে তুলে ধরতে গোর্খাল্যান্ডের কথা বলে পাহাড়বাসীর মন জয় করা, অন্যদিকে মোর্চা সুপ্রিমোর প্রতি চাপ বাড়িয়ে নিজের ভাবমূর্তি তুলে ধরার কৌশলই মোর্চার এই বিদ্রোহী নেতা নিয়েছেন।

ফের জাতীয় স্তরে রাজ্যের স্বীকৃতি, ৯টি প্রকল্প জিতল পুরস্কার- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রকল্প রূপায়ণের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ফের দেশের শীর্ষে। কন্যাশ্রীর বিশ্বজয়ের পর এবার শিশু আলয়, যুবশ্রী বা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পেল ভারতসেরার শিরোপা। রাজ্যের ৯টি উদ্ভাবনী ও জনবান্ধব প্রকল্প স্কচ অর্ডার অফ মেরিট সম্মান পেয়েছে। এর মধ্যে আবার ৬টি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

ব্যবসা টানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সুবিধাদানের যে নীতি, সেই ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ পেয়েছে স্কচ প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড। একই খেতাব পেয়েছে ইনস্পেকশন রিফর্মস ও ছোট্ট বয়সে শিশুকে যত্ন ও শিক্ষার প্রকল্প ‘শিশু আলয়’। স্কচ গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে যুবশ্রী, সামাজিক সুরক্ষা যোজনা ও ই-ডিস্ট্রিক্ট প্রজেক্ট। যুবক-যুবতীদের কাজের যোগ্যতা ও দক্ষতার মানোন্নয়নে যুবশ্রী প্রকল্প বহু রাজ্যেও সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ফলে শ্রমিকরা দুর্ঘটনা বা নানা ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছেন।

মহিলা কংগ্রেসের শীর্ষে সুস্মিতাকে বসালেন রাহুল- দৈনিক আজকাল

সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী হলেন শিলচরের সাংসদ সুস্মিতা দেব। শোভা ওঝার জায়গায় তাঁকে নিয়ে আসা হল। চোদ্দো মাস পরে যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট, সেই মধ্যপ্রদেশের এক মহিলা নেত্রীকে সরিয়ে সুস্মিতাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসার পেছনে কংগ্রেস সহ–সভাপতি রাহুল গান্ধীর ‘‌হাত’ দেখছেন দলের নেতাদের একাংশ। তাঁদের ব্যাখ্যা, প্রবীণদের আপত্তি সত্ত্বেও রাহুল যে দলীয় সংগঠনে নতুন মুখ আনার নীতি থেকে সরবেন না, সুস্মিতার নিয়োগ তারই প্রমাণ। স্বাভাবিকভাবেই মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্ব পেয়ে খুশি সদ্যপ্রয়াত কংগ্রেস নেতা সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা। তাঁর কথায়, ‘এত তাড়াতাড়ি এত বড় দায়িত্ব পাওয়ার আশা কখনই করিনি। কারণ জাতীয় রাজনীতিতে আমি নবাগত। তবুও মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে আমাকে বেছে নেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহ–সভাপতি রাহুল গান্ধীকে। আপ্রাণ চেষ্টা করব তাঁদের এই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে।’

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১০