রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তুলুন: প্রেসিডেন্ট
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১১ সেপ্টেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- রোহিঙ্গা সংকট: রাখাইনে গণহত্যা চলছে- দৈনিক প্রথম আলোর শীর্ষ শিরোনাম
- নৃশংসতার চিহ্ন মুছতে গুম করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের লাশ- দৈনিক ইত্তেফাক
- রাখাইনে সহিংসতাকে গণহত্যা বলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়- দৈনিক যায়যায়দিন
- রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তুলুন: প্রেসিডেন্ট- দৈনিক ইনকিলাব
- পেছনে মৃত্যু আগুন সামনে অন্ধকার: ওরা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র- দৈনিক সমকাল
- ২০০ দালালের সাজা: রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্দয় বাণিজ্য- দৈনিক মানবজমিন
- রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্র দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক যুগান্তর
- প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই চালের জন্য মিয়ানমার গিয়েছিলাম : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী
- বিদ্যুৎ অপচয় না করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর- দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- ইজরায়েলের অস্ত্রেই রোহিঙ্গা জঙ্গি নিকেশ অভিযান মায়ানমারের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: ফিরে আসাটা ছিল সবচেয়ে কঠিন- দৈনিক আনন্দবাজার
- ভণ্ড বাবাদের তালিকায় রামরহিম- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
রোহিঙ্গা সংকট: রাখাইনে গণহত্যা চলছে- দৈনিক প্রথম আলোর শীর্ষ শিরোনাম
মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা চলছে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া রোহিঙ্গারা স্রোতের মতো বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য চলে আসছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আনান কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল রোববার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ওআইসিভুক্ত দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ এই অনুরোধ জানিয়েছে। এ ছাড়া রাখাইনের দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন চেয়েছে। ব্রিফিংয়ের পর দেশি-বিদেশি কূটনীতিকেরা প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে ওই ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার প্রাণহানিকে গণহত্যা বলেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো বাংলাদেশও এবারের রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা মনে করে কি না জানতে চাইলে মাহমুদ আলী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো আমরাও তা-ই বলছি।’ রাখাইনে এখন পর্যন্ত কত লোক মারা গেছে, জানতে চাইলে তিনি সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
নৃশংসতার চিহ্ন মুছতে গুম করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের লাশ- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিজেদের নৃশংসতার চিত্র? মুছে ফেলতে নিহত রোহিঙ্গাদের লাশ গুম করছে। তারা আগুনে পুড়িয়ে, মাটিতে পুঁতে ও নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিথর দেহ গুম করছে, যাতে পরবর্তীতে বিশ্বের কেউ এসে এর প্রমাণ না পায়। উখিয়ায় অনুপ্রবেশকারী অনেক রোহিঙ্গা এই দাবি করেছেন। এদিকে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এক মাসের জন্য অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ির নো ম্যানস ল্যান্ডের কাছে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে তিন রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার চলমান সেনা অভিযানে চার শতাধিক ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে সেদেশের সরকার। তবে মিয়ানমারের গণতন্ত্রের জন্য গঠিত সর্বদলীয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও লেবার পার্টির এমপি রুশনারা আলীর নেতৃত্বে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্যদের লিখিত এক চিঠিতে নির্ভরযোগ্য রোহিঙ্গা সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। লন্ডনে বসবাসরত মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা এক্টিভিস্ট ড. মং জার্নিও এর আগে ইত্তেফাকের কাছে এই দাবি করেছিলেন।
রাখাইনে সহিংসতাকে গণহত্যা বলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়- দৈনিক যায়যায়দিন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানিকে গণহত্যা বলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রোববার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এ অভিমত দিয়েছেন। ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুটি গ্রুপকে পৃথকভাবে ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, তুরস্কের কূটনৈতিক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রথম গ্রুপে ও ওআইসি সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা দ্বিতীয় গ্রুপে এ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো বাংলাদেশও মিয়ানমারের মানুষের প্রাণহানিকে গণহত্যা মনে করে কিনা, জানতে চাইলে মাহমুদ আলী বলেন, 'আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো আমরাও বলছি।' অবশ্য রাখাইনে সহিংসতায় কতজন মারা গেছেন, জানতে চাইলে তিনি কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি।
রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তুলুন: প্রেসিডেন্ট- দৈনিক ইনকিলাব

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগে এবং ওআইসি’র মতো সংগঠনগুলোর সহায়তায় একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় ওআইসি সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এরদোগানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে আবদুল হামিদ বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের এই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠির জন্য জাতিসংঘ অথবা ওআইসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচালিত একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তোলা যেতে পারে।’
প্রেসিডেন্ট মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। এই জনস্রোত ঘন জনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও পরিবেশের জন্য বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে এবং পূর্বপুরুষের ভূমিতে তাদের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে তুরস্কের নেতার পাশাপাশি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
পেছনে মৃত্যু আগুন সামনে অন্ধকার: ওরা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র- দৈনিক সমকাল

হাজারে হাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী আসছে প্রতিদিন। অথচ তাদের নাম-ধাম কেউ লিখে রাখছে না। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সূত্রই এবার আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা কত, তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারছে না। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অন্তত ৩৯টি সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। তাদের অনেকেই নতুন-পুরনো কোনো ক্যাম্পে না গিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পথে পথে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে নতুন বসতি গড়ার চেষ্টা করছে শরণার্থী হয়ে আসা এই বিপন্ন মানুষগুলো।
গতকাল রোববার টেকনাফের মৌচনিতে এমন একটি অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেলে ভিড় করে আসে অনেক নারী-পুরুষ। তাদের একজন মংডুর গড়াখালি থেকে আসা আবুল ফয়েজ বলেন, 'আঁর নামম্মান ছাড়াংত তুল।' তার কথার অর্থ দাঁড়ায়- 'আমার নামটা লিস্ট করেন।' শুধু ফয়েজ একা নন; নাম 'ছাড়াংত' করার দাবি ছিল সবারই। তারা বলছিলেন, কেউ তাদের নাম-ধাম লিখে রাখছে না।
২০০ দালালের সাজা: রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্দয় বাণিজ্য- দৈনিক মানবজমিন

রাখাইনের মৃত্যুডেরা থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্দয় বাণিজ্য শুরু করেছে দালাল চক্র। এই চক্রে আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা আবার কেউ কেউ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশ্রয় পাচ্ছেন। অসহায়, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন এখানে আগে আসা রোহিঙ্গারাও। উখিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা এবং আরাকান সড়কের দুই পাশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে নবাগতরা। তবে ওই এলাকার পুরনো কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প এবং নতুন বালুখালি ক্যাম্পকে ঘিরেই রোহিঙ্গাদের জটলা। ক্যাম্প এলাকায় অনেকেই ত্রাণ দিচ্ছেন বলে এখানে রোহিঙ্গাদের ভিড় লেগেই আছে। সরজমিন এবং প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অবৈধ এ বাণিজ্যের মূল অভিযুক্ত সরকারি দল ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের হলেও তাদের সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে বিএনপি, জামায়াত নেতাদের। স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগীরা অবশ্য সর্বদলীয় এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে বনবিভাগ, পুলিশ ও বিজিবি’র মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রম নির্মাণে বন বিভাগ, গরু চোরাচালানে বিজিবির তুমব্রু ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য এবং বালুখালিস্থ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের ওপেন সিক্রেট বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্র দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক যুগান্তর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জাতিগত সহিংসতায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে পরিচয়পত্র দেবে সরকার। এদের আশ্রয় দিতে কক্সবাজারে দুই হাজার একর জমির ওপর নতুন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
ইতিমধ্যেই রোহিঙ্গাদের জন্য কুতুপালংয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে সাত সদস্যের কমিটি ওই এলাকা পরিদর্শন করেছে।
রোববার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই চালের জন্য মিয়ানমার গিয়েছিলাম : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়েই চালের জন্য মিয়ানমার গিয়েছিলাম। একদিকে ট্রেড (ব্যবসা) চলবে, আরেকদিকে আজকে যে অবস্থা চলছে তার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতাও চলবে। এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একথাই বলেছেন।
রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পঞ্চগড়ের এমপি জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টায় স্পিকার ড. শিরীর শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। নাজমুল হক প্রধান জানতে চান, দেশে দুর্যোগের কারণে চাল আমদানি করতে হয়। আরেকটি দুর্যোগ রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় চালের জন্য মিয়ানমার গেছেন। মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন- মিয়ানমারের কাছে চাল আমদানির কারণে বিশেষ কোনো ছাড় পাওয়া যাবে কি না?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সাথে তিন প্রকার চালের চুক্তি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা এক লাখ ২০ হাজার টন চাল পাব। এর মধ্যে এক লাখ টন সাদা চাল আর ২০ হাজার টন সিদ্ধ চাল। মিয়ানমার থেকে চাল আনার সবচেয়ে সুবিধা হলো এটা আমাদের কাছের রাষ্ট্র। সেখান থেকে আসতে আমাদের সময় লাগবে মাত্র তিনদিন। দরদাম এখনও ফাইনাল না হলেও তুলনামূলক কম দাম পড়বে। ভিয়েতনাম থেকে চাল আনতে ১৫-২০ দিন সময় লাগে। মিয়ানমার থেকে চাল আনার সময় কম লাগায় দাম কম পড়বে। এজন্য আমরা মিয়ানমার গিয়েছিলাম।
বিদ্যুৎ অপচয় না করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর- দৈনিক নয়াদিগন্ত

বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হবার আহবান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার বলেছেন, তার সরকার সারাদেশে বিদ্যুতের অপচয়রোধে প্রিপেইড মিটার অন্তর্ভুক্ত করবে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ একটি দেশ ও জনগণের সম্পদ। কাজেই আমি সবাইকে এটি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার অনুরোধ জানাব।’
প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে একথা বলেন।
বিদ্যুতের অপচয়রোধে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে প্রিপেইড বিদ্যুতের মিটার ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি সবাইকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে বলব, এটা হলে সিস্টেম লস হবে না।... আপনি যেটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন শুধু সেটুকুরই বিল আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। ...আর প্রয়োজন শেষে নিজের ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি এবং ফ্যানের সুইচটি নিজ হাতে বন্ধ করে দিন। ...এ ব্যাপারে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করি।’
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
ইজরায়েলের অস্ত্রেই রোহিঙ্গা জঙ্গি নিকেশ অভিযান মায়ানমারের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্যাগোডা থেকে শুরু করে মসজিদ। রাখাইন প্রদেশে তাণ্ডবের হাত থেকে রেহাই পায়নি কোনও ধর্মীয়স্থান৷ রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সামলাতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে মায়ানমার সেনা৷ আন্তর্জাতিক মহল থেকেও প্রবল চাপ আসছে সু কি সরকারের উপর৷ এমনই পরিস্থিতিতে মায়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল৷ জানা গিয়েছে, প্রচুর পরিমাণে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে মায়ানমার সেনাকে সাহায্য করছে ইজরায়েল৷
‘মিডল ইস্ট আই’ নামের এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মায়ানমার সেনাকে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের নিকেশ করতে অত্যাধুনিক অস্ত্র জোগান দিচ্ছে ইজরায়েল৷ ওই অস্ত্রের জোরেই রাখাইনে বিদ্রোহীদের একপ্রকার কোণঠাসা করে ফেলেছে সরকারি বাহিনী৷ এছাড়াও ‘টার আইডিয়েল কনসেপ্টস’-সহ একাধিক ইজরায়েলি অস্ত্রনির্মাণকারী সংস্থা বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে মায়ানমারের কমান্ডোদের৷ ইতিমধ্যে প্রায় ১০০টি ট্যাঙ্ক, গানবোট, মিসাইল-সহ অন্যান্য মারণাস্ত্র মায়ানমার সেনাকে দিয়েছে ইজরায়েল৷ শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে নাইপিদাও-এর পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে তেল আভিভ৷ প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মায়ানমারের পাশে রুখে দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল৷ রাখাইন প্রদেশে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মায়ানমারের উপর অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন৷ তবে ইজরায়েল পাশে থাকে তাতে আদৌ কোনও প্রভাব পড়ছে না সরকারি বাহিনীর উপর, এমনটাই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা৷
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: ফিরে আসাটা ছিল সবচেয়ে কঠিন- দৈনিক আনন্দবাজার

দেখতে দেখতে বছর ঘুরে গেল। কাশ্মীরে উরির সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হামলার বদলা নিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্দরে সেই অভিযানে সে দিন অন্যতম নেতা ছিলেন মেজর ‘মাইক ট্যাঙ্গো’। প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ না করে সেনার সাঙ্কেতিক নাম ব্যবহার করেই তাঁর অভিজ্ঞতার কথা লেখা হয়েছে সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বিশদ বিবরণ রয়েছে শিব আরুর এবং রাহুল সিংহের লেখা বইটিতে। সেই অভিযানের ১৪টি আলাদা আলাদা ঘটনা বর্ণনা করে তুলে ধরা হয়েছে ভারতীয় সেনার দুঃসাহসিক অভিযানের আখ্যান।
মেজর ‘মাইক ট্যাঙ্গো’ জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে ওই অভিযান সেরে ফেরার সময় পদে পদে বাধা দিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা। জঙ্গিদের যে চারটি লঞ্চপ্যাড বাছা হয়েছিল, সেগুলি পাক গুপ্তচর বাহিনী আইএসআই পরিচালনা করে। আর রক্ষা করে খোদ পাক সেনা। ফলে পাক বাহিনী যখন টের পায় শত্রুপক্ষ হামলা চালিয়ে ফিরে যাচ্ছে, তারা পাল্টা হামলা চালায়। ওই এলাকায় পাক বাহিনীর সবক’টি সীমান্ত চৌকি থেকে ভয়াবহ গোলা বর্ষণ শুরু হয়। সীমান্ত চৌকিগুলিতে যতরকমের অস্ত্র ছিল সেই সবরকমের অস্ত্র ব্যবহার করে পাক বাহিনী হামলা চালায় বলে ‘মাইক ট্যাঙ্গো’কে উদ্ধৃত করে বইটিতে জানানো হয়েছে।
ভণ্ড বাবাদের তালিকায় রামরহিম- দৈনিক আজকাল

দিব্যি সাধুগিরি করে খাচ্ছিলেন। কিন্তু কপালে সইল না গুরমিত রামরহিম সিংয়ের। ধর্ষণ মামলায় হাজতবাস হয়েছে তাঁর। তাতে কয়েক দশক পুরনো ধান্দা প্রায় উজাড় হয়ে গিয়েছে। তারমধ্যেই তাঁকে ভণ্ড বাবাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল হিন্দু সাধু সন্ন্যাসীদের শীর্ষ সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ।’ শনিবার ভুয়ো বাবাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। আসারাম বাপু,তার ছেলে নারায়ণ সাই, সন্ত রামপাল সহ মোট ১৪ জন ভণ্ড সাধুর নাম রয়েছে। নাম রয়েছে রামরহিমেরও। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি মহন্ত নরেন্দ্র গিরি বলেছেন, ‘এরকম ভণ্ড বাবাদের জেলে পোরা উচিত। সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত তাদের আয় ব্যায় ও সম্পত্তির। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছি। এদের খপ্পরে পড়বেন না ।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১১