সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭ ১০:৫৫ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত- দৈনিক যুগান্তর
  • রাখাইনে এখন যা হচ্ছে- দৈনিক মানবজমিন
  • ৮৫ ভাগ রোহিঙ্গা শিশু রোগাক্রান্ত- দৈনিক প্রথম আলো
  • অভুক্ত শিশুসন্তানদের মুখের দিকে তাকালে কান্না আসে- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • শরণার্থীদের জন্য বছরে ব্যয় হবে ৬৪০ কোটি টাকা- দৈনিক সমকাল
  • স্বাধীন আরাকান রাজ্যই সমাধান দাবি হেফাজতের- দৈনিক যায়যায়দিন
  • জাতিসংঘ অধিবেশন মঙ্গলবার, শেখ হাসিনার ভাষণ ২১ সেপ্টেম্বর- দৈনিক ইত্তেফাক
  • চালের দাম নিয়ন্ত্রণহীন- দৈনিক ইনকিলাবের ব্যানার শিরোনাম

ভারতের শিরোনাম:

  • রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলল ভারত- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • রেহিঙ্গাদের নিয়ে দিল্লির সুরেই সুর মেলাল ঢাকা- দৈনিক আনন্দবাজার
  • রোহিঙ্গাদের পাশে মমতা- দৈনিক আজকাল
  • ২ মোর্চা নেতা নবান্নে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক- দৈনিক বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত- দৈনিক যুগান্তর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে ভারত। প্রতিবেশী এ দেশটি এখন রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। দিল্লির এ বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। দু’দিন আগে টেলিফোনেই কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এবার দু’জন একই ফ্লাইটে আটলান্টিক পাড়ি দেয়ার সময়ে সেই আলোচনাই হয়েছে।

দিল্লির বরফ গলাতে নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। তবে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও ভারতের ইউটার্ন নেয়ার পেছনে কাজ করেছে। ঢাকা, নিউইয়র্ক, আবুধাবি ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র একথা নিশ্চিত করেছে। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের সঙ্গে একই সুরে রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘ইসলামী সন্ত্রাসী ইস্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এখন তার অবস্থানের বড় পরিবর্তন হল।

রাখাইনে এখন যা হচ্ছে- দৈনিক মানবজমিন

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো এখনো জ্বলছে। বর্মীদের আগুন থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ এখনো বন্দি সেখানে। বর্মীরা তাদের সীমান্তে কড়া পাহারা বসিয়েছে। অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বর্মী যুবকরা (মগ) বিস্তীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পথ আগলে রেখেছে। তারা পুরুষদের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে ছবি তুলছে। তাদের জেলে পাঠাচ্ছে। নারীদেরকে হয় নির্যাতন করছে, না হয় ফিরিয়ে দিচ্ছে। শিশুদের পরিণতি আরো ভয়াবহ। তাদের আগুনে পুড়িয়ে মারছে। না হয় গলা কাটছে। বার্মার রাথিডং-এর উউরুপাড়া সংলগ্ন জঙ্গলে এখনো অবস্থানরত আব্দুস সালাম এমনটাই জানিয়েছেন।

৮৫ ভাগ রোহিঙ্গা শিশু রোগাক্রান্ত- দৈনিক প্রথম আলো

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে লাইন দিয়ে হাঁটতে থাকা রোহিঙ্গাদের সারি এখন টেকনাফ শহরবাসীর চেনা দৃশ্য। গত ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সে দেশের সোনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপরে যে গণহত্যা ও বিতাড়ন শুরু করেছে, তা এখনো চলছে।

প্রতিদিনই টেকনাফ শহরের নে-টং পাহাড়ের পাশ থেকে দেখা যায়, নাফ নদীর পূর্ব পারে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। সন্ধ্যার পরে সেই ধোঁয়ার ভেতরে আগুনের শিখাও চোখে পড়ে। আগুন লাগানোর দৃশ্য একেবারে দক্ষিণের সেই শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত নাফ নদীর পাশের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো থেকে থেকে চোখে পড়ে। ঘরবাড়িহারা, দেশ থেকে উৎখাত হওয়া হাজার হাজার শিশু, নারী, জোয়ান, বৃদ্ধ প্রাণ বাঁচাতে প্রায় একরকম শূন্য হাতেই জেলে নৌকায় বঙ্গোপসাগরের প্রান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে আসছে। সেখান থেকে তাদের বিজিবির তত্ত্বাবধানে সরিয়ে আনা হচ্ছে টেকনাফ ও উখিয়ার নতুন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে।

এসব আশ্রয়কেন্দ্রের হাজার হাজার আশ্রিত রোহিঙ্গারা সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফের) শিশু সুরক্ষা প্রধান জ্যঁ লিবে গত মঙ্গলবার আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে কক্সবাজারে এক বিবৃতিতে বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ শিশু এবং এরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। গত কয়েক দিনে আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, এখন এসব শিশু ব্যাপকভাবে ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বরসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

অভুক্ত শিশুসন্তানদের মুখের দিকে তাকালে কান্না আসে- দৈনিক নয়াদিগন্ত

ক্ষুধার্ত সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে চোখে পানি আসে। তাদের খাবার জোগাতে এখন হাত পাততে হয় মানুষের কাছে। এক বেলা খেলে বাকি দুই বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। একটি খুপড়ি ঘরে সবাই থাকি। সোজা হয়ে ঘুমানো পর্যন্ত যায় না। ক্ষুধা লাগলে শিশুরা কান্নাকাটি করে। কিন্তু কিছুই করার থাকে না। অথচ তারা কোনো দিনই খাবারের জন্য কষ্ট পায়নি।

কুরআনের একজন হাফেজ মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, মাদরাসায় চাকরি করতাম। জমিজমা যা ছিল তা দিয়ে টাকা পেতাম। অথচ এখন নিদারুণ কষ্টে আছি। আল্লাহ যে আরো কত লানত লিখে রেখেছেন তা একমাত্র তিনিই জানেন।

হাফেজ কাশেম বলেন, তিন দিন হয় ওই ক্যাম্পে এসেছেন। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে খাবার দিতে গেলে এখন মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। ত্রাণের লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। ক্ষুধার্ত শিশুগুলো খাবার চেয়ে যখন কেঁদে ফেলে তখন স্বামী-স্ত্রী দুইজনই মুখ বুঝে কাঁদেন। একদিন তাদের সব ছিল। ঘরে খাবারের কোনো অভাব ছিল না। পাঁচ সন্তানকে কোনো দিন না খেয়ে এক বেলাও কাটাতে হয়নি। অথচ তারা এখন দিনে এক বেলাও পেট পুরে খেতে পায় না। পরনে কাপড় নেই। ওই শিশুসন্তানরাও ঘুমাতে পারে না। পাহাড়ি ঢলে ক্যাম্পে বুক পানি হওয়ায় ওই পাঁচটি সন্তান নিয়ে শনিবার মধ্য রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে কাটাতে হয়েছে। ছোট্ট দুই শিশুকে কোলে করে তিনি এবং তার স্ত্রী রাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

শরণার্থীদের জন্য বছরে ব্যয় হবে ৬৪০ কোটি টাকা- দৈনিক সমকাল

নতুন করে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্নেষকরা। তারা বলছেন, শুধু গত ২৫ আগস্টের পর আসা শরণার্থীদের এক বছরের জন্য খাদ্য, পয়ঃনিস্কাশন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতেই কমপক্ষে ৬৪০ কোটি টাকা লাগবে। এ ছাড়া কক্সবাজারসহ আশপাশ এলাকায় জীবন-জীবিকা ও আর্থ-সামাজিক সংকট বাড়িয়ে দেবে। অর্থনীতি, নৃতাত্ত্বিক বিশ্নেষক ও শরণার্থী গবেষকরা সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, নতুন করে আসা সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গার প্রতিদিনের খাবার খরচ জনপ্রতি ১০০ টাকা ব্যয় করা হলে বছরে সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গার জন্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এর বাইরে হিসাব করে দেখা যায়, প্রতি চারজনে একটি পরিবার ধরে একটি করে ঘর নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজন প্রায় ৯০ কোটি টাকা। এ ছাড়া তাদের জন্য খাবার পানি ও পয়ঃনিস্কাশনে ব্যয় হবে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে টাকার অঙ্কেই ৬৪০ কোটি টাকা খরচ হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে জরুরি সহায়তার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থায় শরণার্থী সংকট দীর্ঘ হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় যত বছর গড়াবে, তত বেশি ব্যয়ের চাপ বাড়বে বাংলাদেশের ওপরেই।

স্বাধীন আরাকান রাজ্যই সমাধান দাবি হেফাজতের- দৈনিক যায়যায়দিন

স্বাধীন আরাকান রাজ্য গঠনের মাধ্যমেই কেবল রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব বলে মনে করে হেফাজতে ইসলাম। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশে মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা এ কথা বলেন।

দুপুর ১২টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে থেকে হেফাজতে ইসলামের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিল করে গুলশানে মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে পেঁৗছলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পুলিশের বাধার মুখে সংগঠনের নেতারা শান্তিনগর মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানে ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক নুর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ আর সামনে যেতে না দেয়ায় সেখান থেকে সংগঠনের ছয়জন নেতা মিয়ানমার দূতাবাসে গিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়ে আসেন। স্মারকলিপিতে রাখাইন     রাজ্যে গণহত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে ফেরত নেয়ার দাবি জানানো হয়।

জাতিসংঘ অধিবেশন মঙ্গলবার, শেখ হাসিনার ভাষণ ২১ সেপ্টেম্বর- দৈনিক ইত্তেফাক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এই বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের প্রায় শতাধিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মত এই বিতর্কে অংশ নিতে স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছবেন বলে জানা গেছে। এদিকে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে স্থানীয় সময় রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অধিবেশনে তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বিমাবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে উপস্থিত প্রবাসীরা এসময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলেও জড়ো হন। এসময় সেখানে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।  

জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রেস উইং জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন। শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের একমাত্র সরকার প্রধান, যিনি পর পর ৯বার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার নজির স্থাপন করলেন।

চালের দাম নিয়ন্ত্রণহীন:বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ- দৈনিক ইনকিলাবের ব্যানার শিরোনাম

সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের পরও কমছে না চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরবর্তী সময়ে চালের বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ে। রোহিঙ্গাদের আগমনে সেই চালের বাজারে আগুন লেগেছে। বাজারে ৪০-৪২ টাকার মোটা চালের দাম বেড়ে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা হয়েছে। বর্তমানে ৫২ টাকার কমে কোনো চাল নেই বাজারে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও কোনো কাজে আসছে না। অভ্যন্তরীণ চাল সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে সরকার দৃষ্টি দেয় আন্তর্জাতিক বাজারে। সেখানেও বিভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে (জি টু জি) চাল আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও এখনও ইতিবাচক কোন সরা পাওয়া যায়নি। একই পরিণতি হয় থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রেও। চাল মজুদ নিয়ে সঙ্কটের অন্যতম কারণ এটি বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলল ভারত- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানকে বেনজির আক্রমণ করল ভারত। এই প্রথম পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মুখ বলে প্রকাশ্যেই বিঁধল নয়াদিল্লি। সোমবার পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ‘প্রত্যুত্তরের অধিকার’-এর আওতায় জেনেভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বিষ্ণু রেড্ডি বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের পেশ করা তথ্য সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। উপত্যকায় প্ররোচনা ছড়াতেই ইসলামাবাদ এই জাতীয় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। ভারত ওই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ খণ্ডন করছে।’

রেড্ডি আরও জানান, কাশ্মীরে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পাকিস্তানের টাকায় যে সন্ত্রাস ছড়ানো হচ্ছে সেটার গলা টিপে ধরা। উপত্যকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। পাকিস্তান কাপুরুষের মতো লুকিয়ে কাশ্মীরে হামলা চালাচ্ছে। তাদের কথার সঙ্গে কাজের কোনও মিল নেই। ইসলামাবাদকে আক্রমণ করতে গিয়ে নয়াদিল্লি দু’টি বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। কাশ্মীরে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত ও বালোচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন। ভারতের বক্তব্য, কাশ্মীরে পাক জঙ্গিদের অনুপ্রবেশে মদত দিয়ে পাকিস্তান ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সেই ইসলামাবাদই আবার ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনছে। অথচ, বালোচিস্তানে সাধারণ মানুষের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে ইসলামাবাদই। কন্ঠরোধ করা হচ্ছে বিরোধীদের। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে এভাবেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদকে কোণঠাসা করে ফেলে নয়াদিল্লি।

রেহিঙ্গাদের নিয়ে দিল্লির সুরেই সুর মেলাল ঢাকা- দৈনিক আনন্দবাজার

মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢলকে নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকি বলে মানছে বাংলাদেশও। সোমবার কলকাতায় বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের জঙ্গি-যোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা ওয়াকিবহাল। উদ্বিগ্নও বটে। সে দিক দিয়ে তারা নিরাপত্তার পক্ষে অবশ্যই ঝুঁকির।’’ আলম জানান, মানবিক কারণে ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয়ের ব্যবস্থা তাঁরা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশ চায় মায়ানমার সরকার সব রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিক। কোফি আন্নান কমিটির সুপারিশ মেনে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও সচেষ্ট হোক।

সোমবার কলকাতায় একটি আলোচনাসভায় বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায়— ১৬ কোটি বাঙালি যদি খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, তবে ৮ লাখ শরণার্থীকেও তাঁরা খাওয়াতে পারেন। মানবিক কারণেই আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি।’’ শাহরিয়ার আলম জানান, কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থী চিরকাল বাংলাদেশে থেকে যেতে পারেন না। এর ফলে অর্থনীতিতে যে চাপ পড়বে, আজকের বাংলাদেশ তা সামলে নিতে সক্ষম। কিন্তু এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাদের জঙ্গি-যোগের বিষয়টি তো রয়েছেই।

রোহিঙ্গাদের পাশে মমতা- দৈনিক আজকাল

সাধারণ মানুষ আর জঙ্গি এক নয়। কোনও জঙ্গি থাকলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে সাধারণ রোহিঙ্গারা যাতে কষ্ট না পান, সেটা দেখা উচিত। না হলে মানবিকতা বিপন্ন হবে। সোমবার নবান্নে এ কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিচারাধীন বিষয়। এটা নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তবে কেন্দ্র বলেছে রোহিঙ্গারা যারা এখানে এসেছে তাদের তালিকা তৈরি করে ফেরত পাঠাতে। রাজ্যের শিশু অধিকার রক্ষা কমিশন রয়েছে। তারা শিশুদের মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে রাজি নয়। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, সাধারণ মানুষ আর জঙ্গি এক নয়। তিনি বলেন, জঙ্গি কার্যকলাপ বরদাস্ত করব না। কোনও জঙ্গি থাকলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তবে মানববিকতা নিয়ে কোনওরকম সমঝোতা করা উচিত নয়।‌

২ মোর্চা নেতা নবান্নে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক- দৈনিক বর্তমান

পাহাড়ের বন্ধ চা-বাগান শ্রমিকদের বকেয়া বোনাস উৎসব পর্ব শুরু হওয়ার আগেই মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বাগান মালিকদের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আচমকাই পাহাড় ছেড়ে নবান্নে এসে সোমবার বোনাসের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার চিফ কোঅর্ডিনেটর বিনয় তামাং ও অনীত থাপা। একই বিষয়ে মুখ্যসচিব মলয় দে আহুত একটি জরুরি বৈঠকেও অংশ নেন মোর্চার দুই নেতা।

বৈঠক শেষে মোর্চার দুই নেতা এবং মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, টানা বন্‌ধের জেরে দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন চা-বাগান শ্রমিকরা। ১৬-১৭ আর্থিক বছরের বোনাস তাঁরা পাননি। মালিকদের বলছি, বোনাস দিন। তা না হলে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে। অসহনীয় অবস্থায় পড়া শ্রমিকদের প্রতি মালিকরা যে সহমর্মিতা জানাবেন, তারও ভরসা রেখেছেন মমতা। তাই বলেছেন, আমার বিশ্বাস, অন্য কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৯