বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর: রাষ্ট্রপতি
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১০ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব
- বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর : রাষ্ট্রপতি- দৈনিক ইত্তেফাক
- মানবাধিকার কমিশনকে পাত্তা দিচ্ছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- দৈনিক প্রথম আলো
- যারাই ভিন্নমত প্রকাশ করছে সরকার তাদেরকে গুম করছে : ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- জ্যেষ্ঠতা ও মেধার মূল্যায়ন নেই: প্রশাসনে পদোন্নতির আতঙ্ক-দৈনিক যায়যায়দিন
- রংপুরের পর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি: এরশাদ- দৈনিক যুগান্তর
- স্কুলে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন: তুঘলকি প্রকল্পে তোলপাড়- দৈনিক মানবজমিন
- বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে আরও ৩ দিন সময়- দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- রাহুলকে বিঁধতে মোদির মুখে এখন নিজামি- দৈনিক আজকাল
- দুর্নীতি ঠেকাতে পঞ্চায়েতের খরচে কড়াকড়ি- দৈনিক বর্তমান
- , নাকি দামি গাড়ির প্রদর্শনী! অমদাবাদে চমকে দিল বিজেপি- দৈনিক আনন্দবাজার
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব

নিজস্ব মেধা শক্তি ও ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার জন্য নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের সকল নারী-পুরুষ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবে। মেয়েদেরকেও সবসময় এটা ভাবতে হবে যার যে মেধা, যার যে শক্তি সে যেন সেটাকে বিকশিত করে।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া দিবস ও রোকেয়া পদক-২০১৭ বিতরণ উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই চলতে হবে। সেটা নিজেদের উদ্যোগে নিতে হবে, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয়। চলার পথে নানা বাধা থাকে, বাধা আসবেই। সেই বাধাকে অতিক্রম করে আমাদের নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। মা-বোনদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, সকলের উচিত আমাদের সমাজে যারা একেবারে অবহেলিত জনগোষ্ঠী তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং তাদের সহযোগিতা করা। সকলে মিলে কাজ করলে নিশ্চয়ই এই সমাজ গড়ে উঠবে।
নারীর ক্ষমতায়ণ ও উন্নয়নে সরকারের ব্যাপক কার্যক্রমের সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি এনেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশ শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর আমার সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর এবং পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকারে বর্তমানে ১২ হাজার ৮শ ২৮ জন নির্বাচিত মহিলা সদস্য দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত রয়েছে এবং স্থানীয় সরকারের অন্তত ৫টি কমিটিতে তারা চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। মহিলা শিক্ষিকার সংখ্যা শতকরা ৬০ভাগে উন্নীত হয়েছে।
বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর : রাষ্ট্রপতি- দৈনিক ইত্তেফাক
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল মানবাধিকার ও সুশাসনের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেছেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে আজ শনিবার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আগামীকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে এ দিবস পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সর্বস্তরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ প্রণয়ন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
জনগণের মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এরপর থেকে মানবাধিকারের প্রতি জাতিসমূহের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নসহ মানবাধিকার রক্ষায় দেশ ও দেশের বাইরে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানবতার এ অনন্য নিদর্শন স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি প্রদান করা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনকে পাত্তা দিচ্ছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- দৈনিক প্রথম আলো

গত পাঁচ বছরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৮৫টি ঘটনার ক্ষেত্রে প্রতিবেদন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু মন্ত্রণালয় এই সময়ে একটি চিঠিরও কোনো জবাব দেয়নি। এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার অনুসন্ধানের চেয়ে সভা-সেমিনার ও সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কমিশন। বছরজুড়ে অসংখ্য গুম, নিখোঁজ ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও গত এক বছরে কমিশন মাত্র চারটি ঘটনার অনুসন্ধান করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে বেশির ভাগ অভিযোগ আসে পুলিশের বিরুদ্ধে। আমরা যখন এসব অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই, তখন তাদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাই না, যা আমাদের হতাশ করেছে।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী কমিশন সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা তাদের সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে বা দরখাস্তের ভিত্তিতে সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। সরকারকে ওই প্রতিবেদন দ্রুত কমিশনকে দিতে হবে। এ ব্যাপারে কমিশন কোনো সুপারিশ করলে তা বাস্তবায়ন করে ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। কমিশনের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আইনের কোনো তোয়াক্কাই করছে না।
যারাই ভিন্নমত প্রকাশ করছে সরকার তাদেরকে গুম করছে : ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত

যারাই ভিন্নমত প্রকাশ করছে সরকার তাদেরকে গুম করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই সরকার এমন গুম খুনের রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, একটি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছে আজ দেশের অসংখ্য পরিবার এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। যারাই সে দলটির বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশ করছে বা করতে চাচ্ছে তাদেরকে সরকার শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং ক্ষমতায় যেতে হয় হত্যা করছে, না হয় গুম করছে।
আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ঢাকা সহ সারাদেশেই এই মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি।
প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় দুপুরে এই মানববন্ধনে ঢাকা মহানগর বিএনপি, মহিলা দল, ওলামা দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। মামলা, হত্যা, গুম-খুনে জর্জরিত। কারণ একটাই জোর করে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে রাখা। শুধু তাই নয়, আজকে বিচারবিভাগকে কব্জা করে ফেলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে বাধ্য করা হয়েছে প্রথমে ছুটি পরবর্তীতে পদত্যাগে। প্রশাসনকে করা হয়েছে সম্পূর্ণ দলীয়করণ।
জ্যেষ্ঠতা ও মেধার মূল্যায়ন নেই: প্রশাসনে পদোন্নতির আতঙ্ক- দৈনিক যায়যায়দিন
সরকারের শেষ সময়ে প্রশাসনের দেড় শতাধিক কর্মকর্তাকে (যুগ্মসচিব) অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার কার্যক্রম চলছে। কিন্তু পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, মেধা ও দক্ষতার মূল্যায়ন না হওয়ায় এসব কর্মকর্তার মধ্যে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের তিন স্ত্মরে (উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব) পদোন্নতির জন্য গত সেপ্টেম্বর থেকে অন্ত্মত ১৫ দফা বৈঠক করে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। পরে সে চিন্ত্মা বাদ দেয়া হয়। শুধুমাত্র অতিরিক্ত সচিব পদেই পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত্ম হয়। সে অনুযায়ী ১৭৮ জনের নাম চূড়ান্ত্ম করে এসএসবি। তবে এদের অনেকে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৭৮ জনের নাম পাঠানোর সার-সংক্ষেপ প্রস্তুত করেও তা আর পাঠানো হয়নি। পরে আবারও এসএসবির বৈঠক বসে গত মাসে। ওই বৈঠকে ১০ থেকে ১৫ জনের নাম সংযোজন-বিয়োজন করে নতুন সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য।
সরেজমিন দেখা যায়, পদোন্নতি প্রক্রিয়া এবার বিলম্বিত হওয়ায় সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনেকে বিভিন্ন সূত্রে নিজে বঞ্চিত হওয়ার খবর শুনে কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না। আর যারা তালিকায় রয়েছেন বলে জেনেছেন তাদের মাঝেও সারাক্ষণ অস্থিরতা কাজ করছে।
রংপুরের পর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি: এরশাদ- দৈনিক যুগান্তর

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।রোববার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মঙ্গলবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি।গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেম শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরেরও নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের ওই ঘোষণার প্রতিবাদে আরব বিশ্বসহ সারা পৃথিবীতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত গাজাসহ বিভিন্ন স্থানে। এসব সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।
স্কুলে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন: তুঘলকি প্রকল্পে তোলপাড়- দৈনিক মানবজমিন

সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে এসকেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি) স্থাপনে এক তুঘলকি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এটি বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)। প্রকল্পের জন্য ১১১৬ কোটি টাকা সংস্থান রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় প্রকল্পের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন। উদ্যোগী সংস্থার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প কতটা বাস্তবায়ন যোগ্য? অন্যদিকে পুরো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬৩টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে এসকেলেটর স্থাপনের জন্য ১১১৬ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
২০১৭-২০২১ সালে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তার আগে গত ২১শে মার্চ একনেকে এ প্রকল্প পাস হয়। সেখানে প্রকল্পের আর্থিক সংশ্লিষ্টরা, নিরাপত্তাসহ অনেক বিষয় গোপন রাখা। এরপর ৬ই নভেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় এ প্রকল্পের বাস্তবতা নিয়ে এক ডজনের বেশি প্রশ্ন তুলে এর জবাব চাওয়া হয়েছে উদ্যোগী সংস্থার কাছে।
গত ২১শে মার্চ একনেকে এ প্রকল্প পাস হওয়ার পর এর আনুষ্ঠানিকতা ও অর্থ ছাড়ের তোড়জোড় শুরু করে মাউশি। কিন্তু এরমধ্যেই ব্যতিত্রুম ঘটনা ঘটিয়ে প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিকল্পনা কমিশন। সাধারণত একনেকে পাস হওয়ার পর প্রকল্পে যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না। কিন্তু এ প্রকল্পের প্রশ্ন তোলার কারণ ব্যাখ্যা করে পরিকল্পনা কমিশনের শিক্ষা উইং-এর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প পাস করানোর সময় নানা বিষয় গোপন করা হয়। যা পরবর্তীকালে আমাদের চোখে ধরা পড়ে। একাধিক বৈঠকে বাস্তবায়নকারী সংস্থা সদুত্তর দিতে না পারায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতটা যৌক্তিক তাদের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে আরও ৩ দিন সময়- দৈনিক সমকাল

অধস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের করা সময় আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয় আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিধিমালা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলা বিধিটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) চলে গেছে বলে আমি জানি। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে এ গেজেট প্রকাশ হবে।
এর আগে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। গত ৫ নভেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের করা চার সপ্তাহের সময়ের আবেদনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, আইনমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে বসতে চান। শুনানি শেষে গেজেট প্রকাশে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
রাহুলকে বিঁধতে মোদির মুখে এখন নিজামি- দৈনিক আজকাল

নির্বাচনী প্রচারে আজ গুজরাটের মানুষের কাছে কংগ্রেসকে কার্যত ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে তুলে ধরল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সকলেই প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেসের প্রচারে জম্মু–কাশ্মীর যুব কংগ্রেসের নেতা সুলেমন নিজামির গুজরাটে উপস্থিতি নিয়ে। গতকালই আমেদাবাদের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নাম ধরে ধরে কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতা কবে কোথায় তাঁর বিরুদ্ধে কী কী কুকথা বলেছিলেন তা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলেন। আর আজ লুনাভাডার জনসভায় মোদি প্রশ্ন তুললেন নিজামিকে নিয়ে। বলেন, এই কংগ্রেস নেতাই একদা তাঁর পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এরপরই মোদি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি আপনাদের শত্রুর বিরুদ্ধেও এমন ভাষা কোনও দিন ব্যবহার করেছেন?’ তারপর যোগ করেন, ‘এমন নেতাকেই স্টার প্রচারক করে কংগ্রেস গুজরাটে এনেছে। এই নেতাই চেয়েছিল কাশ্মীরের স্বাধীনতা। এই নেতাই ভারতীয় সেনাকে ধর্ষক বলেছিল। এমন কোনও ব্যক্তি রাহুল গান্ধীর হয়ে ভোট চাইলে মানুষ তাঁকে (রাহুলকে) ক্ষমা করবে? এই নেতাই বলেছিল কাশ্মীরের প্রতিটি ঘরেই একজন করে আফজল গুরু জন্ম নেবে।’ মোদির কথায় ‘গুজরাটে বসবাসকারী মুসলিমেরা কখনওই এমন ভাষা ব্যবহার করে না। এখানেই না থেমে মোদি আরও যোগ করেন, ‘আমার বাবা এবং মা দু’জনেই ভারতীয়। আমি তাঁদের সন্তান এবং সেই সন্তান সারা জীবনই ভারতের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে।’ রাহুল গান্ধীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মোদির বক্তব্য, ‘সাহস থাকলে তাঁদের প্রত্যেককেই দল থেকে সাসপেন্ড করুন, যাঁরা আমার বিরুদ্ধে অপশব্দ প্রয়োগ করেছেন। শুধু একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নিজেকে সাধুপুরুষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন না।’
মিছিল, নাকি দামি গাড়ির প্রদর্শনী! অমদাবাদে চমকে দিল বিজেপি- দৈনিক আনন্দবাজার

প্রথম দফার নির্বাচন মিটে গিয়েছে গত কালই। এক দফা যুদ্ধ শেষে খানিকটা হাফ ছাড়ার আমেজ রাজনৈতিক শিবিরে। তার উপরে রবিবার। ফলে ভোটের গুজরাত কিছুটা ছুটির মেজাজেই আজ। সেই ছুটির সকালেই চোখধাঁধানো মিছিল বার করল বিজেপি।
অমদাবাদ শহরে রবিবার সকালে বিজেপির যে মিছিল বেরল, তা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি, নাকি দু’দশক ধরে শাসন ক্ষমতায় থাকা একটা দলের অতুল প্রভাব প্রতিপত্তির প্রদর্শনী, বোঝা মুশকিল হয়।৮৯টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হয়েছে সবে। এখনও ৯৩টি আসনে ভোট নেওয়া বাকি। ফলে একটু হাফ ছাড়ার ইচ্ছা থাকলেও, উপায় নেই বিজেপি বা কংগ্রেস কোনও দলেরই। পরবর্তী দফা ভোটগ্রহণের আগে বিজেপির চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন।
গুজরাতের শহরাঞ্চলে বিজেপির ঘাঁটি সবচেয়ে শক্ত। গ্রামীণ এলাকায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল শাসকদল। কংগ্রেসের জনভিত্তি কিছুটা মজবুত ওই সব এলাকায়। অধিকাংশ শহরাঞ্চলের ভোট মিটে গিয়েছে প্রথম দফাতেই। দ্বিতীয় দফায় যাঁরা ভোট দেবেন, তাঁদের মধ্যে গ্রামীণ জনসংখ্যাই বেশি। তাই এই দফার ভোটের আগে আরও জোর দিয়ে ঝাঁপাতে হবে বিজেপিকে। রবিবার সকালে অমদাবাদ শহরে বিজেপির মিছিলের বহর বুঝিয়ে দিল প্রতিপক্ষকে একটুও মাটি ছাড়তে রাজি নয় শাসকদল। বিজেপির যে মিছিল এ দিন আমদাবাদ শহরে দেখা গেল, তা দেখলে এসইউভি এবং দামি গাড়ির প্রদর্শনী বলে ভুল হতে পারে।
দুর্নীতি ঠেকাতে পঞ্চায়েতের খরচে কড়াকড়ি- দৈনিক বর্তমান

গ্রাম পঞ্চায়েতে চুরি-দুর্নীতি রুখতে ২৫ হাজার টাকার বেশি কাজের ক্ষেত্রে পেমেন্টের জন্য বিডিও ও জেলাশাসকদের ছাড়পত্র লাগবে। পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে প্রত্যেক জেলায় ওই নির্দেশিকা (নং-২৮৩৮/আইএসজিপিপি/গ্র্যান্ট-১/ ২০১৭) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে এই কড়া নির্দেশিকায় গ্রাম স্তরে রীতিমতো নাড়াচাড়া পড়ে গিয়েছে। কারণ, ভোটের মুখে এমন অনেক কাজ তড়িঘড়ি করতে হয়, যার ঠিক মতো টেন্ডার ডাকা হয় না, পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয় না, অথচ পেমেন্ট হয়ে যায়। কাউকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য এটা করা হয়, এমন অভিযোগও ওঠে। তাই একেবারে তৃণমূলস্তরে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি বন্ধ করতে চায় মমতার সরকার। বিদায়ী পঞ্চায়েত যাতে টাকা নষ্ট করতে না পারে, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে ৩ হাজার ৩৪০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এক একটি গ্রাম পঞ্চায়েত এখন খরচের জন্য কমপক্ষে দেড় থেকে দু’কোটি টাকা পায়। চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্র ও রাজ্যের তহবিল থেকে ওই টাকা আসে। এছাড়াও পারফরম্যান্স বেসড গ্রান্ট, বিশ্বব্যাঙ্কের সহযোগিতায় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাতিষ্ঠানিক সশক্তিকরণ প্রকল্পে (আইএসজিপিপি) টাকা আসে গ্রাম পঞ্চায়েতে। নানা কাজে টাকা আসে গ্রামস্তরের এই প্রশাসনে। টাকার যাতে যথেচ্ছ অপব্যবহার না হয় এবং পরিকল্পনামাফিক তা ব্যবহার করার জন্যই এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হল। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে মনিটরিং কাম ইন্সপেকশন কমিটি গড়তে হবে। তারাই কী কাজ হবে, তার পরিকল্পনা করবে। কাজ হয়ে যাওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য ওই কমিটি তা পাঠাবে বিডিও’র কাছে। বিডিও তা হাতে পাওয়ার পর দ্রুত সব পরীক্ষা করে চূড়ান্ত ছাড়পত্রের পাঠাবেন জেলাশাসকের কাছে। জেলাশাসক ছাড়পত্র দিলে সাতদিনের মধ্যে পেমেন্ট পেয়ে যাবেন ঠিকাদাররা। তবে জেলাশাসকের অনুমোদন না মিললে পেমেন্ট হবে না।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১০