রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কাজ করবে ঢাকা-আঙ্কারা
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২০ ডিসেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো: বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়- দৈনিক যুগান্তর
- রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কাজ করবে ঢাকা-আঙ্কারা- দৈনিক প্রথম আলো
- নাগরিক অধিকার নিশ্চিত ছাড়া ফিরে যেতে চায় না রোহিঙ্গারা: অক্সফাম- দৈনিক ইত্তেফাক
- তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কী নিয়ে আলোচনা খালেদা জিয়ার- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া- দৈনিক মানবজমিন
- প্রশাসনের উচ্চ ও মধ্যম স্তরে অসঙ্গতি নিম্নস্তরে শূন্যতা- দৈনিক সমকাল
- ভাল্ভ সর্বোচ্চ ২৬ হাজার পেসমেকার ৪ লাখ টাকা- দৈনিক যায়যায়দিন
ভারতের শিরোনাম:
- ভুবনেশ্বরে বসছে বৈঠক: রামমন্দির পরিকল্পনা ঘোষণা বছর শেষে- দৈনিক আনন্দবাজার
- গুজরাতে ৩১ আসনে নামমাত্র ব্যবধানে জয়, উদ্বেগ বাড়ল বিজেপির- দৈনিক বর্তমান
- বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন মোদি: রাহুল- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো: বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়- দৈনিক যুগান্তর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি খসড়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ফ্রান্স, স্পেন, তুরস্ক ও ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এ ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, 'প্রস্তাবটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৪ সদস্যেরই অনুমোদন জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত হয়।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অপমানজনক এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্ব এবং আগ্রাসনকে অনুমোদন দেয়ার শামিল।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন, 'আমরা সবাই যখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ একটি পরিকল্পনার প্রত্যাশা করছিলাম, তখন দেশটি শানি্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার সদ্ধিান্ত নিয়েছে। এটা স্ববিরোধী।'ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানায়, জেরুজালেম সব সময়ই ফিলিস্তিনের রাজধানী থাকবে। ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র এ সত্য কখনই পরিবর্তন করতে পারবে না।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রাঁসোয়া ডেলাট্রেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতার সমালোচনা করে বলেন, 'খসড়া প্রস্তাবটি যুগ যুগ ধরে জেরুজালেম প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মতৈক্যের প্রতিফলনকেই নিশ্চিত করছে।এটা পাস না হওয়াটা দুঃখজনক।' ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মার্কিন সরকার এ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান করতে চায়। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমেদ আবু জেইদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেককে নাড়া দিয়েছে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তে মিসর শোকাহত।
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কাজ করবে ঢাকা-আঙ্কারা- দৈনিক প্রথম আলো

আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থে একযোগে কাজ করা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।দুই নেতা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোসহ দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং পরস্পরকে সমর্থন করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। খবর বাসস।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সফররত তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ। তুরস্কের পক্ষে ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও তুর্কি-বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের কো-চেয়ার বেকির বোজাগ, বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওজতুর্ক প্রমুখ।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম দুই দিনের সরকারি সফরে গতকাল সোমবার বাংলাদেশে আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় তুরস্ক পাশে থাকবে।
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত ছাড়া ফিরে যেতে চায় না রোহিঙ্গারা: অক্সফাম- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারে নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগে ফিরে যেতে চায় না বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রকাশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি জোরপূর্বক নয় বরং স্বেচ্ছায় হতে হবে। মানবাধিকারের শর্ত পূরণ হওয়ার আগে জোরপূর্বক ফেরত পাঠালে রোহিঙ্গাদের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মানবিক সংকট মোকাবেলায় বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থানরত ২০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে অক্সফাম। সংস্থাটির রিজিওনাল ক্যাম্পেইন এন্ড পলিসি ম্যানেজার সুলতানা বেগম বলেন, অক্সফাম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গ্রুপ আলোচনাসহ বিশদভাবে সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
রোহিঙ্গারা বলছে, তাদের কাজ করা ও অবাধে ভ্রমণ করার নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত মিয়ানমার ফিরে যাবে না। রোহিঙ্গারা যেখানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে, সেখানেও তারা যৌন হয়রানিসহ অপহরণের শিকার হচ্ছে। এরপরও তারা উপযুক্ত পরিবেশের আগে রাখাইনে যেতে চায় না। আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কারণ রাখাইনে ধর্ষণ ও প্রিয়জনের মৃত্যুর মতো দুর্বিষহ যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। মানবাধিকারের শর্ত পূরণ হওয়ার আগে জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন করানো হলে রোহিঙ্গারা আত্মহত্যা করবে বলে জানিয়েছে।
তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কী নিয়ে আলোচনা খালেদা জিয়ার- দৈনিক নয়াদিগন্ত

বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিমের সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোয়া ৬টা থেকে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনের জেরুসালেম ইস্যু নিয়েও বৈঠকে কথা হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও ড. এনামুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে কিভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায় সেই ইস্যুতে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং মিয়ানমারের সাথে কথা বলতে এখানে এসেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি কেমন চলছে এ নিয়েও তাদের সাথে আলাপ হয়েছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে কী অবস্থা দাঁড়াবে? এই নির্বাচনে বিএনপির ভুমিকা কী থাকবে? সরকারের ভূমিকা কেমন আছে? দেশ কেমন চলছে? একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে জন্যে কি ভূমিকা পালন করছে সরকার? এই বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পারস্পারিক আলোচনা হয়েছে।
ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া- দৈনিক মানবজমিন

বেপরোয়া ছিনতাইকারীরা। ছুরিকাঘাত, অজ্ঞান ও গুলি করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে তারা হরহামেশা। ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হচ্ছেন, পঙ্গু হচ্ছেন এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। অস্ত্রের পাশাপাশি নানা কৌশলও ব্যবহার করছে ছিনতাইকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তল্লাশির নামে লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা থানা-পুলিশমুখো হচ্ছেন খুবই কম।
যে কারণে পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেশি নেই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের হিসেবে সারা দেশে প্রতি মাসে গড়ে মামলা হয়েছে ৮৩টি।
চলতি ডিসেম্বর মাসেই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে ঢাকায় প্রাণ হারাতে হয়েছে এক শিশু ও একজন চিকিৎসককে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোরে। শরিয়তপুর থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী ঢাকায় এসেছিলেন। উদ্দেশ্য অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করানো। সদরঘাট থেকে শনির আখড়া বোনের বাসায় রিকশাযোগে যাওয়ার পথেই সুস্থ শিশু সন্তানকে হারিয়েছেন এই দম্পতি। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নুরুল আমিন জানান, দয়াগঞ্জ রেললাইনের পূর্ব পাশে এক ছিনতাইকারী টান দিয়ে রিকশাআরোহী আকলিমার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এসময় তার কোল থেকে পড়ে নিহত হয় ছয় মাসের শিশু আরাফাত।
প্রশাসনের উচ্চ ও মধ্যম স্তরে অসঙ্গতি নিম্নস্তরে শূন্যতা- দৈনিক সমকাল

পদ সৃষ্টি না করে বারবার পদোন্নতিতে উচ্চ ও মধ্যম স্তরে কর্মকর্তার সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। দেখা দিয়েছে অসঙ্গতি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিসিএসে নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় নিম্ন স্তরে সৃষ্টি হয়েছে শূন্যতা। জোড়াতালি দিয়ে শূন্যতা পূরণের চেষ্টা চলছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়ন দিতে হচ্ছে নিচের পদে। এ পদে কাজ করতে তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের অনীহা। এমতাবস্থায় প্রশাসনের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রশাসন-সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, গত ২০ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদ না থাকলেও পদোন্নতি, দলীয় লোকদের খুশি করতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং বেসামরিক প্রশাসনে সামরিক কর্মকর্তার নিয়োগ চলছেই।
এদিকে, প্রশাসনের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ওই পদে যারা রয়েছেন, তারা তদবির করছেন কীভাবে বহাল থাকা যায়। অন্যদিকে, ওই পদে নিয়োগপ্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা।
তালিকায় পেছনে থেকে কীভাবে সরকারের নজরে এসে ওই পদে বসা যায়, সেই চেষ্টায়ই ব্যস্ত কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা। আবার সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নিজেদের পছন্দসই কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এসব নিয়োগে কোনো ধরনের মূল্যায়নই আমলে নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, কিছু সিনিয়র কর্মকর্তার আশীর্বাদ পাওয়া গেলে পাওয়া যাচ্ছে ভালো পদ ও পদোন্নতি। ফলে ভারপ্রাপ্ত সচিবদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ সচিবদের দেওয়া হচ্ছে কম গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিভাগের দায়িত্বে।
ভাল্ভ সর্বোচ্চ ২৬ হাজার পেসমেকার ৪ লাখ টাকা- দৈনিক যায়যায়দিন

হাসপাতালে সরবরাহকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হার্টের ভাল্ভের মূল্য সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর পেসমেকারের দাম ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার সকালে মহাখালীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত্মের কথা জানানো হয়। মোট ১৭টি কোম্পানি এই ভাল্ভ এবং পেসমেকার সরবরাহ করছে। এ সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্ত্মাফিজুর রহমান, হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল)সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় বলা হয়, মূল্য নির্ধারিত না থাকায় রোগীদের কাছ থেকে হার্টের ভাল্ভ ও পেসমেকারের দাম একেক হাসপাতালে একেক রকম নেয়া হতো। এতে খরচ জোগাতে কষ্ট হতো তাদের। তাই রোগীদের সুবিধার্থে এসব কার্ডিয়াক ডিভাইসের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ভাল্ভ ও পেসমেকার এখন থেকে সব হাসপাতালে একই দামে বিক্রি হবে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্ত্মাফিজুর রহমান বলেন, 'সবার সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমেই এসব মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মানুষ যেন হাসপাতালে এসব ডিভাইসের মূল্যের বিষয়ে প্রতারিত না হয় সে কারণেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করেন সবাই এই নিয়ম মেনে চলবে। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এমনকি সবসময় এ বিষয়ে তাদের মনিটরিং চলবে।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
ভুবনেশ্বরে বসছে বৈঠক: রামমন্দির পরিকল্পনা ঘোষণা বছর শেষে- দৈনিক আনন্দবাজার

এখন রাজ্যে যোগী, কেন্দ্রে মোদী। সময়ও সর্বাধিক অনুকূল। ২০১৯-এর পর এমন পরিস্থিতি নাও থাকতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। অন্তত গুজরাত নির্বাচন তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই রাম মন্দির নির্মাণের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করতে আর দেরি করতে চায় না পরিষদ। আগামী ২৫-২৬ ডিসেম্বর ভুবনেশ্বরে কোর কমিটির বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পরিষদ। তার পরেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দেশ-বিদেশের সমস্ত শাখা থেকে আসা প্রায় ৫০০ প্রতিনিধিকে ২৯ ডিসেম্বর তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন বলেন,‘‘উদুপি ধর্ম সংসদেই ঘোষিত হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে মন্দির নির্মাণ শুরু হবে। কৌশলগত কারণেই কী ভাবে হবে, তা এখনই জানাচ্ছি না। ভুবনেশ্বর বৈঠকে কৌশল ঠিক হওয়ার পর ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। প্রথমেই শুরু হবে গ্রামে গ্রামে জনজাগরণের কাজ। পরে প্রয়োজন মতো সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে।’’
পরিষদের এক শীর্ষ কর্তা জানাচ্ছেন, মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আদালত মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিলেও অন্য কোনও পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে তাতে আবার স্থগিতাদেশ চলে আসতে পারে। ফলে আদালতের মাধ্যমে মন্দির সমস্যা মিটবে না। পরিষদ মনে করে, আদালতের বাইরে দুটি রাস্তা-এক, সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা। দুই, কেন্দ্রীয় আইন তৈরি করে মন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত করা। যেহেতু আদালতের বাইরে আলোচনায় মুসলিম সংগঠনগুলি কখনও মন্দির নির্মাণে সহমত হবে না, তাই আইন তৈরিই একমাত্র পথ বলে দাবি পরিষদের। আর সেই পথে কেন্দ্রকে বাধ্য করতে প্রয়োজনে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেতেও পিছপা হবে না ভিএইচপি।
গুজরাতে ৩১ আসনে নামমাত্র ব্যবধানে জয়, উদ্বেগ বাড়ল বিজেপির- দৈনিক বর্তমান

কোথাও ২৫৮। কোথাও ৩২৭। কোথাও আবার ৯০৬। কোথাও আবার তারও কম। শুধু যে সামগ্রিকভাবে বিজেপির প্রাপ্ত আসন ২০১২ সালের তুলনায় ১৬টি কমে ৯৯-তে এসে ঠেকেছে, তাই নয়। বহু আসনেই বিজেপি জিতেছে ৫০০ থেকে ১৮০০ ভোটেরও কম মার্জিনে। বেশকিছু আসনে আবার আড়াই হাজারের ব্যবধানে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। এরকমই নামমাত্র ব্যবধানে হারাজেতা আসনের সংখ্যা সবমিলিয়ে প্রায় ৩১টি। এই ফল থেকেই বোঝা যাচ্ছে এবার গুজরাতের লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। প্রায় কান ঘেঁষে কোনওমতে হার বাঁচিয়েছে মোদির দল। এমন বেশ কিছু আসন রয়েছে যেখানে বিজেপির কাছে কংগ্রেসের সামান্য ভোটে হেরে যাওয়ার প্রধাণ কারণ শারদ পাওয়ার কিংবা মায়াবতীর দলের বড়সড় ভোট দখল।
বিজেপি বিরোধী ভোট যদি ওইসব আসনে বিভাজিত না হত, তাহলে কংগ্রেসই সহজে জয়ী হয়ে যেত ওই আসনগুলিতে। যা নিয়ে গুজরাতে এবং জাতীয় স্তরেও কংগ্রেসের সঙ্গে শারদ পাওয়ার ও মায়াবতীর দলের রীতিমতো তর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস এই দুই দলকে অভিযুক্ত করেছে বিজেপিকে পরোক্ষে সহায়তা করার জন্য। কংগ্রেস বলেছে গুজরাতই হতে পারত আগামীদিনের মহাজোটের একটি সফল লিটমাস টেস্ট। সুতরাং এইসব আসনগুলির ফলাফল থেকেই স্পষ্ট নরেন্দ্র মোদির বিজেপির ক্ষয় গুজরাতে অনেকটাই গভীরে, প্রায় শিকড়ে পৌঁছেছে। কারণ মাত্র ৫০০ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছে এরকম আসনসংখ্যা অনেক। যা যে কোনও সময়ই উলটে যেতেই পারে।
বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন মোদি: রাহুল- দৈনিক আজকাল

তাঁর শরীরী ভাষায় এবং চোখে–মুখে প্রবল আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ছিল। নিজস্ব ঢঙে ঠোঁটের কোণে হাসি চেপে রেখে সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহেরা নিজেদের জয় দেখলেও রাহুলের দৃষ্টিভঙ্গি পৃথক। সাংবাদিকদের প্রশ্ন একটাই, গুজরাট। আত্মবিশ্বাসী রাহুলের দৃঢ় জবাব, ‘গুজরাটে বিজেপি জিতেছে ঠিকই, কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’ দলের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং নিজস্ব বিনয় ও সহনশীলতাকে অস্ত্র করেছিলেন রাহুল। এদিন আরও একধাপ এগোলেন। বললেন, ‘গুজরাট নির্বাচন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। বিরোধী পক্ষ যতই রাগ দেখাক, যতই টাকা ছড়াক, যতই বাহুবল প্রয়োগ করুক না কেন, বিনম্রভাবে তার জবাব দেওয়া সম্ভব।’
মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাহুল। গুজরাটের ফল সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সংবাদমাধ্যম। এক প্রশ্নের উত্তরে হাসিমুখেই বললেন, ‘মাত্র তিন–চার মাস আগেও সবাই বলছিল, অসম লড়াই হবে গুজরাটে। আমরা নাকি বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে উঠব না। কিন্তু, আমরা কঠিন পরিশ্রম করে মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছি। যার ফল আপনারা দেখেছেন। গুজরাটের মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। মোদিজির বিশ্বাসযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে। গুজরাট মডেলের কথা মানুষ আর শুনতে চাইছে না। ওটা আসলে একটা ফানুস। ভেতরটা ফাঁপা। জনসংযোগ এজেন্টের মতো।’
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২০