জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ ০৮:৫০ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৯ জানুয়ারি শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চুক্তি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ- দৈনিক যুগান্তর
  • সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিবে : মির্জা ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • নগর ভবনে হঠাৎ অসুস্থ মেয়র আইভী দ্রুত ঢাকায় প্রেরণ- দৈনিক ইনকিলাব
  • গ্রেপ্তার না হলেও জিডি করেছেন অস্ত্রধারী নিয়াজুল- দৈনিক ইত্তেফাক
  • এটুকু অ্যাসিওরেন্স দিচ্ছি, আমরা কাউকে ছাড়বো না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক
  • এবার আটকে গেল দক্ষিণের ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচনও- দৈনিক মানবজমিন
  • বদলে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর চিত্র- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • শিক্ষক আন্দোলনে দেড় কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত- দৈনিক যায়যায়দিন
  • এই 'অভিজ্ঞতা' দিয়ে কী করবে চট্টগ্রাম বন্দর- দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:

  • পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে হবে: বিএসএফের প্রধান- দৈনিক বর্তমান
  • অগ্নি-৫ ছুড়ল ভারত, অস্বস্তি বাড়ছে চিনের- দৈনিক আনন্দবাজার
  • মোদিই চক্রী: সাফ তোগাড়িয়া- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চুক্তি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ- দৈনিক যুগান্তর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে এক সংবাদ ‌সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, ‌‌‌‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হবে এই মানুষগুলোকে বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া’।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে রোহিঙ্গারা তাদের গ্রামে ফিরতে পারবে নাকি তাদের ক্যাম্পে থাকতে হবে সে বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার বলে মনে করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এছাড়া বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোও এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ঘরে ফেরার পথ করে দিতে মঙ্গলবার মিয়ানমারের সঙ্গে ওই চুক্তি করে বাংলাদেশ। ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তিতে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরতের কথা বলা হয়েছে।

এই চুক্তি হওয়ার দিনই তার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শরণার্থীরা ঘরে ফেরার জন্য কাতর হয়ে আছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিবে : মির্জা ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিন এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করুন। তা না হলে জনগণই আপনাদের বাধ্য করবে।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার এক সভায় বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে দর্শন দিয়েছিলেন, যে দল গঠন করেছেন সে দল আজো এ দেশের মানুষের বুকের মধ্যে। আজকে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুন না, শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ এই বিএনপিকে ভোট দিবে। সুতরাং আপনারা পদত্যাগ করুন, একটি নিরপেক্ষ সরকারেরর অধীনে নির্বাচন দিন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিক’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই ফ্যাসিস্ট সরকার, যারা গণতন্ত্রকে একবার নয় বহুবার ধ্বংস করেছে। তারা আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে আজকে তারা একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবার জন্যে একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে।

নগর ভবনে হঠাৎ অসুস্থ মেয়র আইভী দ্রুত ঢাকায় প্রেরণ- দৈনিক ইনকিলাব

নগর ভবনে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি তার চেয়ারেই ঢলে পড়ে যান। পরে দ্রুত তাকে এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি তার পরিবার থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা নগরবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। মেয়র আইভীর বোন জামাতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, নগর ভবনে অসুস্থ হয়ে যাবার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তিতে এম্বুলেসন্সে তাকে পপুলারে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে দ্রুত ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া পরামর্শ দেন। অম্বুলেন্সে অবস্থানকারী আব্দুল কাদির আরও জানান, তিনি কথা বলতে পারছেন না।

গ্রেপ্তার না হলেও জিডি করেছেন অস্ত্রধারী নিয়াজুল- দৈনিক ইত্তেফাক

প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলাকারী নিয়াজুল ইসলাম খানকে দুই দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নিয়াজুল কোথায় আছেন সে তথ্যও নেই পুলিশের কাছে। তবে পুলিশ খুঁজে না পেলেও বাদী হয়ে গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দাখিল করেছেন নিয়াজুল।

জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অস্ত্রধারী নিয়াজুলকে তাঁরা খুঁজছেন। পেলেই আইনের আওতায় আনা হবে। ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ শামীম ওসমানের চার ক্যাডারের একজন হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসী নিয়াজুলকে আগে থেকেই চিনতেন। প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলার পর এখন আলোচিত নিয়াজুল।

গণমাধ্যমে অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে আর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নগরীর উত্তর চাষাঢ়ার বাড়িতে বা শিবু মার্কেটে নিজের রেস্তোরাঁয়ও ছিলেন না নিয়াজুল।

এটুকু অ্যাসিওরেন্স দিচ্ছি, আমরা কাউকে ছাড়বো না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক

নারায়ণগঞ্জে মেয়র সেলিনা হায়াত্ আইভি ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, ‘যারা অস্ত্র দেখিয়েছে, যারা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খতিয়ে দেখছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে কারা করেছে তাদের ধরার জন্য প্রচেষ্টা নিচ্ছি এবং কি কারণে করল, তার পুরোপুরি একটা ইনকোয়ারি আমরা করছি।’

তিনি বলেন, ‘এটুকু অ্যাসিওরেন্স দিচ্ছি, আমরা কাউকে ছাড়বো না। যেই আইন ভঙ্গ করবে তার ব্যবস্থা অবশ্যই হবে।  প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করা নিয়ে আইভী ও শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

এবার আটকে গেল দক্ষিণের ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচনও- দৈনিক মানবজমিন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ছয় সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ৯ই জানুয়ারি যে তফসিল ঘোষণা করেছিল তা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রুলসহ এ স্থগিতাদেশ দেন। ভোটার তালিকা প্রস্তুত না হওয়া, কাউন্সিলরদের মেয়াদকাল উল্লেখ না থাকা,  ইউপি চেয়ারম্যানের অব্যাহতি সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়ার যুক্তি উল্লেখ করে ডেমরার একজন ভোটার এ রিট আবেদনটি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী পার্থ সারথি মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জায়েদি হাসান খান। পরে আইনজীবী পার্থ সারথি মণ্ডল জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ছয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনের তফসিল হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন।

বদলে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর চিত্র- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

পদ্মা সেতুর ৩ হাজার টন ওজনের দ্বিতীয় স্প্যানটি মাওয়া থেকে জাজিরার ৩৮-৩৯ নম্বর পিলারের কাছে নেওয়া হচ্ছে। ২৪ জানুয়ারি এটি পিলারের ওপর বসানোর কথা রয়েছে। এটি পিলারের ওপর বসলে একসঙ্গে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্য পদ্মা সেতু দেখা যাবে। পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যানটি সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সক্ষমতা যাচাই শেষে রং মেখে প্রস্তুত হয়েছে। পদ্মা নদীর মাওয়া পাড় থেকে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার টন ওজনের এ স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে ৩৮-৩৯ নম্বর পিলারের কাছে নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ শক্তিসম্পন্ন ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ওজন বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রেন। এই ক্রেনের সাহায্যে স্প্যানটি আজ সকালে মাওয়া থেকে জাজিরার দিকে রওনা হচ্ছে। এই ক্রেনটি নদীতে চলার জন্য ৫ মিটার গভীরতা প্রয়োজন হলেও সাধারণত পদ্মায় পানির গভীরতা থাকে ৩ মিটার। তাই এখানে তিনটি ড্রেজারের সাহায্যে পলি অপসারণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচলের বিষয়টিও মাথায় রাখছে কর্তৃপক্ষ। এই ক্রেনটি জাজিরা যেতে দুই দিন লাগবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

৩ হাজার টন ওজনের দ্বিতীয় এই স্প্যানটি মাওয়ার ওয়ার্কশপ ইয়ার্ড থেকে গত সপ্তাহে পদ্মায় নামানোর পর ওয়ার্কশপ জেটিসংলগ্ন স্টকইয়ার্ডে ক্রেনে ধারণ করা হয়েছে। ৩ হাজার ৬০০ টন ক্ষমতার এই ক্রেনের সাহায্যে পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্টে সেতুর ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের কাছে নেওয়া হবে স্প্যানটি। ২৪ জানুয়ারি এটি পিলারের ওপর বসবে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এ উদ্দেশ্যে জাজিরার ৩৮-৩৯ নম্বর পিলারের ওপর সিমেন্টের মিশ্রণ গ্যারোটিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম স্প্যান বসানোর সময় গ্যারোটিং প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর ক্ষেত্রেই এই গ্যারোটিং দিতে হয়েছে। সিমেন্ট, পানি ও কেমিক্যালের মিশ্রণ যথাযথ হওয়ার পরই গ্যারোটিং সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা গতকাল জানান, এখন দ্বিতীয় স্প্যান বসতে আর কোনো সমস্যা নেই। তাই দ্বিতীয় স্প্যান (৭বি) পেন্টিং শপ থেকে বের করে মাওয়া ঘাটে রাখা হয় এবং আজ সকালে তা জাজিরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুই দিন পর ৩৮-৩৯ নম্বর পিলারের পাশে পৌঁছবে এবং এই ক্রেনের সাহায্যে পিলারের ওপর বসানো হবে।

শিক্ষক আন্দোলনে দেড় কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত- দৈনিক যায়যায়দিন

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে দেশের মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, এ সংকট দ্রম্নত সামাল দেয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আর শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া মেনে নিতে হলে সরকারকে প্রতি বছর বিশাল অংকের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। যা জোগান দেয়াও সরকারের পক্ষে সত্যিকার অর্থেই কষ্টকর। তাই এ ইসু্যতে সরকার গাছাড়া ভাব দেখিয়ে নানা কৌশলে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করছে।

তবে শিক্ষা সংশিস্নষ্টরা বলছেন, আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি মেনে না নিয়ে যে কোনোভাবে তাদের কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো হলেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি শীতল হতে বেশখানিকটা সময় লাগবে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যদানেও শিক্ষকরা অমনোযোগী হবেন। শিক্ষাব্যবস্থার অন্যান্য কার্যক্রমও তারা দায়সারাভাবে চালাবেন।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরাও তাদের চাপা ক্ষোভ এবার সরাসরিই প্রকাশ করছেন। তারা জানিয়েছেন, স্বল্প বেতন উচ্চমূল্যের এ বাজারে টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তাই নানাভাবে বঞ্চিত ও অবমূল্যায়িত হয়ে তাদের পক্ষে কর্মস্থলে মনোযোগী হওয়া সম্ভব নয়। সমাজে অমর্যাদাকর অবস্থানও তাদের নানাভাবে পীড়া দিচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এই 'অভিজ্ঞতা' দিয়ে কী করবে চট্টগ্রাম বন্দর- দৈনিক সমকাল

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবালকে বদলি করা হয় গত ২ জানুয়ারি। কিন্তু এখনও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। উল্টো বন্দরের টাকায় বিদেশ গিয়ে 'অভিজ্ঞতা সঞ্চয়' করছেন তিনি! দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও মরক্কোর টানজিরমেড সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনরত ১৫ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে আছেন তিনিও। ফিরবেন ২৪ জানুয়ারি। ৩০ জানুয়ারি নতুন চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করার কথা তার। এ হিসেবে তিনি সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন বড় জোর ছয় দিন।

শুধু বন্দর চেয়ারম্যান নন; 'অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের' নামে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থ গচ্চা দিচ্ছেন অন্যরাও। সফরে চট্টগ্রাম বন্দরের এমন দুই কর্মকর্তাও রয়েছেন, বন্দর পরিচালনার কাজে যাদের কোনো দায়িত্ব নেই। তাদের একজন বন্দরের সচিব ওমর ফারুক, আরেকজন বন্দর হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার মোশাররফ হোসেন। আছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও সংসদীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মমতাজ বেগমের ছেলেও। ১৫ সদস্যের এই দলের বিদেশ সফরে চট্টগ্রাম বন্দরের খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে হবে: বিএসএফের প্রধান- দৈনিক বর্তমান

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে এখন যুদ্ধের পরিস্থিতি। ওদের কোনওরকম ক্ষমা প্রদর্শন নয়। এবার গুলির জবাব গুলিতেই হবে। পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিয়েই ছাড়ব। জম্মু সীমান্তে ফের পাক গোলায় এক বিএসএফ জওয়ান ও কিশোরীর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ বিএসএফ প্রধান কে কে শর্মা এভাবেই তোপ দাগলেন ইসলামাবাদের উদ্দেশে।

বৃহস্পতিবার বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) বলেন, দিনের পর দিন সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে পাক বাহিনী। যে কারণে সীমান্তে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ‘পুরো শক্তি’ দিয়ে প্রত্যাঘাতের নির্দেশ দিয়েছি। এদিকে ডিজির নির্দেশ পাওয়া মাত্রই জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফ জওয়ানরা গুলি চালাতে শুরু করে দিয়েছেন। পাক রেঞ্জার্সের সমান কিংবা অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র দিয়েই এই জবাব দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার গভীর রাতে জম্মুর সাম্বা জেলায় পাক রেঞ্জার্সের গুলিতে ১৭ বছরের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। তাদের গুলিতে শহিদ হয়েছেন বিএসএফের এক হেড কনস্টেবল। জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর আর এস পুরা, আর্নিয়া এবং রামগড় সেক্টরে গুলি চালাতে শুরু করে পাক রেঞ্জার্স। তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল বিএসএফের বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) এবং সীমান্তের গ্রামগুলি। পাক রেঞ্জার্সের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে জখম হন আরও ৬ জন। তাঁদের মধ্যে বিএসএফের এক জওয়ান রয়েছেন। হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, নিহত জওয়ানের নাম এ সুরেশ। তিনি ৭৮ ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল। সুরেশের বাড়ি তামিলনাড়ুতে। তিনি একটি ছোট বাঙ্কারের মধ্যে বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় আটকে পড়েন। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে পাক গোলায় নিহত কিশোরীর নাম নীলম দেবী। সীমান্তবর্তী একটি গ্রামেই তাঁর বাড়ি। এদিন পালৌরাতে বিএএফের সদর দপ্তরে শহিদ হেড কনস্টেবলকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কে কে শর্মা।

অগ্নি-৫ ছুড়ল ভারত, অস্বস্তি বাড়ছে চিনের- দৈনিক আনন্দবাজার

দীর্ঘতম পাল্লার ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ হল ওডিশা উপকূলের আবদুল কালাম আইল্যান্ড থেকে। বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম বারের জন্য অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়ল ভারত। ৫৫০০ থেকে ৫৮০০ কিলোমিটার দূরে পরমাণু আক্রমণে সক্ষম ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্র।

এ বারের উৎক্ষেপণের সঙ্গে আগের উৎক্ষেপণগুলির পার্থক্য রয়েছে। এর আগের চার বারের উৎক্ষেপণ ছিল ‘এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট’ অর্থাৎ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। নির্মাতা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) সূত্রের খবর, সেই পর্যায় পেরিয়ে গিয়েছে অগ্নি-৫। এ বারের উৎক্ষেপণ ছিল ‘ইউজার ট্রায়াল’। অর্থাৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্তর পেরিয়ে এসে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কম্যান্ডের (এসএফসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পরমাণু অস্ত্রাগারে মোতায়েন হওয়ার দিকে অগ্নি-৫ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

অগ্নি-৫ হল ভারতের হাতে থাকা একমাত্র ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম)। ৫,৫০০ কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি দূরবর্তী স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম যে সব ক্ষেপণাস্ত্র, সেগুলিকেই আইসিবিএম গোত্রে ফেলা হয়। ৫০ টন ওজনের এই ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের পরমাণু অস্ত্র বহন করতে পারে।

মোদিই চক্রী: সাফ তোগাড়িয়া- দৈনিক আজকাল

আর কোনও রাখঢাক নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই তাঁকে খুনের চক্রান্তের মূল হোতা বলে জানালেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া। অভিযোগ করলেন, মোদির ইশারাতেই গুজরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চের জয়েন্ট কমিশনার জে কে ভাট তাঁকে এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয়তাবাদী কর্মীদের হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। তোগাড়িয়ার দাবি, অতীতেও অনেকবার মোদির কথায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। প্রসঙ্গত, অচৈতন্য অবস্থায় কয়েকদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গতকালই ছাড়া পেয়েছেন তোগাড়িয়া। কিন্তু তিনি হাসপাতাল ছাড়ার আগেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ঘনশ্যামভাইকে গুজরাট পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায়। পুলিশের মতে, পরিচিতের বাড়িতে বসে নিখোঁজ হওয়ার নাটক করেছিলেন এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা।

কিন্তু পুলিশ এভাবে ঘনশ্যামভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় বেজায় চটেছেন তোগাড়িয়া। অভিযোগ করেছেন, ঘনশ্যামভাইয়ের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে। তাঁর বিরুদ্ধে মোদির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার কী প্রমাণ রয়েছে এই প্রশ্নের জবাবে তোগাড়িয়া বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম টেলিফোনে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিক জে কে ভাটের মধ্যে। ভাটের কল লিস্ট পরীক্ষা করলেই জানা যাবে সত্যটা। তোগাড়িয়ার ইঙ্গিত, নিজের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে ওই কল রেকর্ড পাওয়ার জন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তবে গুজরাট পুলিশের বক্তব্য, ঘনশ্যামভাইয়ের বয়ানের সঙ্গে তাঁর মোবাইলের লোকেশন মিলছে না। এরপর তোগাড়িয়াকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই।  এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৯