শিক্ষায় ঘুষ সিন্ডিকেট, আতঙ্কে ৬০০ ফেরিওয়ালা
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৮ জানুয়ারি রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ডেডলাইন ৮ ফেব্রুয়ারি- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম
- রায় ঘোষণা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্রের অংশ: ফখরুল- দৈনিক প্রথম আলো
- আদালতের স্বাধীনতায় সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই: কাদের- দৈনিক মানবজমিন
- জুন-জুলাইতে দেশে অনেক অঘটন ঘটবে: শামীম ওসমান- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- কোরআন যারা বুকে ধারণ করে তারা জঙ্গি হতে পারে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব
- শিক্ষায় ঘুষ সিন্ডিকেট, আতঙ্কে ৬০০ ফেরিওয়ালা- দৈনিক মানবজমিন
- ভোলার ভেদুরিয়ায় দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র- দৈনিক সমকাল
- অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি হয় না পুলিশের- দৈনিক যুগান্তর
ভারতের শিরোনাম:
- পশ্চিমবঙ্গে এবার রেকর্ড ফলন: উদ্বৃত্ত চাল চেয়ে মমতার দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় সরকার- দৈনিক বর্তমান
- হিট লিস্টে মোদি, পাকিস্তানে বসে হুঙ্কার জইশ জঙ্গি তালহার – দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- চাপে পড়ে জেটলি এবার কর কমাবেন- দৈনিক আজকাল
- প্যালেস্তাইন সফরে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী- দৈনিক আনন্দবাজার
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
ডেডলাইন ৮ ফেব্রুয়ারি- দৈনিক যুগান্তরের শীর্ষ শিরোনাম

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকিয়ে পুরো দেশ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায় এদিন। সবার নজর থাকবে আদালতে। এ রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলসহ সব অঙ্গনেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। চায়ের কাপে উঠছে ঝড়। কি হবে এদিন! রায়ে সাজা হলে এর পরবর্তী পরিস্থিতি কিভাবে নেবে বিএনপি। কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, তা কিভাবে মোকাবেলা করবে সরকার অথবা সরকারি দল। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।
এ রায়কে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এমনকি রায়ের দিন শোডাউন করারও পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। আর আওয়ামী লীগ বলছে, রায় আদালতের বিষয়। এর ছোঁয়া রাজপথে লাগলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। এক্ষেত্রে রায়ের দিন নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলে রাখারও নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রায়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের নেতাদের যে বাকযুদ্ধ চলছে, তা মাঠে গড়ালে কি ঘটবে- এমন প্রশ্ন অনেকের। তাদের আশঙ্কা, যদি রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হয়, আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে দেশ। বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারপারসনের শাস্তি হলে ছেড়ে কথা বলবেন না। বিএনপি ও তার মিত্ররা সহিংস হয়ে উঠতে পারে। আবার অনেকের ধারণা- খালেদা জিয়ার যদি সাজা হয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি আদৌ কার্যকর অর্থে মাঠে নামতে পারবে কিনা। কারণ গত কয়েক বছরে কোনো ইস্যুতেই দলটির নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে দেখা যায়নি। এবারও যদি তাই হয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি নতুন কোনো কৌশল নিচ্ছে কিনা- তা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন তারা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৮ ফেব্রুয়ারির রায় নানা কারণে প্রধান দুই দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আর দলীয় প্রধানকে জেলে রেখে বিএনপিও নির্বাচনে অংশ নেবে না। ফলে সংঘাত অনিবার্য।
রায় ঘোষণা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্রের অংশ: ফখরুল- দৈনিক প্রথম আলো

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। পরে বৈঠক চলা অবস্থায় বাইরে এসে বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। বিএনপি মনে করে, এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এবং সকলের অংশগ্রহণে 'অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন' নষ্ট করার জন্য এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার জন্য দ্রুত রায় ঘোষণা, সেই অপচেষ্টার অংশ।
মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে সরকারের আইন-আদালতের নিয়মনীতির বিরুদ্ধ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আহ্বান জানাচ্ছে। ফখরুল ইসলাম বলেন, ২৫ জানুয়ারি বিশেষ জজ আদালতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য হঠাৎ সমাপ্ত করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, এমন ঘটনা শুধু অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত নয়, রহস্যজনক।
আদালতের স্বাধীনতায় সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই: কাদের- দৈনিক মানবজমিন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের আদালত স্বাধীনভাবে দায়িত্বপালন করছেন। সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। যার প্রমাণ সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপি ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীও কারাগারে রয়েছে। গতকাল দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুরে, হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ- সিংগাইর আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সময় আরো বলেন, যদি আদালত স্বাধীন না হতো তাহলে খুনের মামলায় আওয়ামী লীগের এমপি কারাগারে থাকত না। আদালতের স্বাধীনতায় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার কী সাজা হবে এটা আদালতের এখতিয়ার। সাক্ষ্য প্রমাণ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। আদালত কী রায় দেবে সেটাতো আদালতের বিষয়। আদালতের রায়ও বিএনপি মানে না। তারা কার বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। আদালতের বিরুদ্ধে যারা হুমকি দিতে পারে আমরা মনে করি তাদের হাতে দেশ, গণতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থা কোনোটাই নিরাপদ নয়।
জুন-জুলাইতে দেশে অনেক অঘটন ঘটবে : শামীম ওসমান- দৈনিক নয়াদিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ছিল আছে ও থাকবে। এখানে অন্য কেউ কর্তৃত্ব দেখাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধতা প্রমাণে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শহরের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বড় সমাবেশ করা হবে। সেখানে আমি সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দাওয়াত দিলাম। আসেন একত্রে বসি। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখি। গ্রুপিং করতে চাইলে নির্বাচনের পরে করেন। আগে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনেন। যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের সঙ্গে আমার কোনো বিভেদ থাকবে না। কেউ কেউ বলে এ সিটির মালিক তিনি। আমি বলব, এ সিটির মালিক জনগণ।
শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে কর্মী সমাবেশে শামীম ওসমানের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন, জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুতিসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী জুন জুলাইতে দেশে অনেক অঘটন ঘটবে। কিন্তু আশা করি কিছুই করতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি, সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীও এসব প্রতিহত করতে মাঠে থাকবেন। তিনি যদি মাঠে থাকেন তাহলে আমার সঙ্গে কোনো বিরোধ থাকবে না। কিন্তু মাঠে থাকবেন না আর আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন সেটা হবে না। অনেকে বলেন আমি ফ্যাক্টর। কিন্তু মনে রাখতে হবে জনগণ ছাড়া কেউ ফ্যাক্টর না।’
সম্প্রতি হকার ইস্যুর পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে সিটি করপোরেশনের অভিযোগ প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘যাদের নামে অভিযোগ হয়েছে তাদের ধরা তো দূরের কথা। মাথার চুলের আগা ধরলে আগুন ধরিয়ে দিব। আমি প্রশাসনকে বলছি- ডাবল গেম করবেন না। আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে।'
কোরআন যারা বুকে ধারণ করে তারা জঙ্গি হতে পারে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব

মাদরাসার সাথে জঙ্গীবাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, যারা বুকে ও মাথায় কোরআন ধারণ করে তারা জঙ্গী হতে পারেনা।
প্রকৃত মুসলমানরা কখনো জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে না, তাদের কেউই এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। গতকাল (শনিবার) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন আয়োজিত মাদরাসা শিক্ষকদের ঐতিহাসিক মহাসম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, প্রথমে বলা হতো মাদরাসার ছেলেরা জঙ্গি। কিন্তু আমি প্রথম থেকেই বলেছি মাদরাসার সঙ্গে জঙ্গিবাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মুসলমানরা কখনো জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে না, তাদের কেউই এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। মাদরাসার আলেমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেন। তাদের নৈতিক-মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেন। কিন্তু একটা শ্রেণি আছে যারা মুসলমান ও ইসলামের প্রতি কালেমা লেপন করার জন্য জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কোনো জঙ্গি নেই। কারণ, আমাদের দেশের মানুষ আজান পড়লেই মসজিদে ছুটে যায়। এর বড় কারণ আপনারা (আলেমগণ)। আপনারা সুশিক্ষা ও ধর্মের শিক্ষা দিয়েছিলেন বলেই আজকে বাংলাদেশ ধর্ম শিক্ষায় আলোকিত। আমার জোর গলায় বলতে পারি অন্যান্য দেশে যে সমস্ত জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের আক্রমণ হয় সে সমস্ত দেশ থেকে বাংলাদেশ আলাদা। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। ষড়যন্ত্র কোথায় দাঁড়িয়েছে- এ বিষয়গুলো খেয়াল না করলে আমরা পথ হারিযে ফেলবো। পৃথিবী ব্যাপি বলা হচ্ছে ‘অল হিউমন আর নট টেরোরিস্ট বাট অল টেরোরিস্ট আর মুসলিম’ (সকল মানুষ সন্ত্রসী নয়, তবে সকল সন্ত্রাসীই মুসলমান) এটা দিয়ে কি বার্তা দেয়া হচ্ছে সেটা আপনাদের বুঝতে হবে। যারা জঙ্গীপনা করছেন তারা ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের ওপর কালিমা লেপন করতেই এসব করছেন।
শিক্ষায় ঘুষ সিন্ডিকেট, আতঙ্কে ৬০০ ফেরিওয়ালা- দৈনিক মানবজমিন
শিক্ষাখাতে ঘুষ-দুর্নীতি এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ৬শ’র বেশি কর্মকর্তা এ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তারাই ‘ঘুষ কালেক্টর’ হিসেবে নিয়োগ দেন তার দপ্তরের অফিস সহকারীদের। মাঝে-মধ্যে শোরগোল হলে বলির পাঁঠা বানানো হয় এসব কর্মচারীকে। আর মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। শিক্ষার এই সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির একাধিক সুপারিশ থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সর্বশেষ শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব ও কর্মচারী নাসির গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষাভবন, এনসিটিবি, শিক্ষাবোর্ড, বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত সব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য ও কত বছর ধরে ঢাকায়- এই তথ্য চাওয়া হয়েছে। এরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে। তালিকা অনুযায়ী, মাউশিতে শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত ১৩১ জন ক্যাডার কর্মকর্তার বেশিরভাগই এক দশক ধরে শিক্ষাভবনে ঘাপটি মেরে আছেন। মাঝেমধ্যে কাউকে বদলি করা হলেও অল্প সময়ে প্রাইজ পোস্টিং নিয়ে অন্য দপ্তরে হাজির হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকর্তা নিজেদের শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের প্রভাবশালী কারও লোক বলে দাপট দেখান। এসব অভিযোগের মধ্যে গত বছরের ২রা অক্টোবর খোদ শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে নোট পাঠান। সেখানে তিনি লেখেন, আমার কাছে সারা দিন (সকাল ৬টা-রাত ১২টা) যত মানুষ আসেন, যত চাপ দেয়া হয়, তা মোট কাজের ৮০ শতাংশ ঢাকায় বদলি, সুবিধাজনক পদায়ন, ভিসি-চেয়ারম্যান ও বড় পদসহ কোনো কর্মকর্তার পদে পদায়ন করার। এছাড়াও আরো বেশকিছু নির্দেশনা ছিল সেই নোটে।
ভোলার ভেদুরিয়ায় দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র- দৈনিক সমকাল

ভোলার ভেদুরিয়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাপেপ। শনিবার সকালে গ্যাস উপস্থিতির নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা (ডিএসটি) শুরুর পর দুপুরে পরীক্ষামূলক গ্যাস তোলা শুরু হয়। এর পরই বাপেপ এটিকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র বলে ঘোষণা করে। এটি হবে দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। এখান থেকে বরিশাল ও খুলনায় গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ভোলায় শাহবাজপুর এবং ভেদুরিয়া মিলিয়ে মজুদ গ্যাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।
গ্যাসক্ষেত্রটির আনুষ্ঠানিক কোনো নামকরণ করা হয়নি। তবে খননকৃকত কূপটির নাম ভোলা উত্তর-১। নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রটি ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ভোলায় গ্যাস পাওয়ার কথা জানান।
বাপেপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম শনিবার বিকেলে জানান, এই কূপে তিনটি 'স্যান্ড লেয়ার' পেয়েছেন। শনিবার সবচেয়ে নিচের লেয়ারটির ডিএসটি শুরু হয়েছে। এই স্তরটি মাটির তিন হাজার ৩৪৮ ফুট নিচে। ১২ মিটারের এই স্তর থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস তোলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কূপের ওপর (ওয়েলহেড) চাপ আছে তিন হাজার ৭০০ পিএসআই এবং নিচে চাপ আছে ৪ হাজার ৮০০ পিএসআই। এই একটি কূপের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছেন, এখানে ৬০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। ডিএসটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বলা সম্ভব হবে। এ জন্য আরও আট/দশ দিন সময় লাগবে। এই কূপ থেকে দিনে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নওশাদ ইসলাম।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, তারা এখন বরিশালে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করছেন। এর পর সেখান থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে পাইপলাইন নির্মাণ বিষয়ে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বরিশালে ভোলার গ্যাস দিতে হলে অন্তত ৩৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। আর খুলনা পর্যন্ত গ্যাস দিতে হলে দরকার হবে আরও ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন। এর মধ্যে কয়েকটি নদীও রয়েছে।
গত ৯ ডিসেম্বর ভোলা উত্তর-১ নামের কূপটি খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।
অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি হয় না পুলিশের- দৈনিক যুগান্তর

গুরুতর অপরাধেও দেয়া হয় লঘু দণ্ড। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধ করেও শাস্তি পেতে হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিভাগীয় শাস্তির নামে যেসব শাস্তি দেয়া হয়, বিশেষজ্ঞদের মতে তা আসলে কোনো ধরনের শাস্তিই নয়। এমনটাই ঘটছে পুলিশ সদস্যদের অপরাধের ক্ষেত্রে। এছাড়া পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের বিধান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা কার্যকর হচ্ছে না।
অনেক ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের বিচারও করা হয় বিভাগীয় আইনে। এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ‘বিভাগীয় শাস্তির আওতায়’ আনার কথা বলে আড়াল করার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত এবং বিচারও করে পুলিশ। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে আলাদা কমিশন করে তার বিচার করা হয়। বাংলাদেশেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন বা নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন কমিশন গঠনের ব্যাপারে মত দিয়েছেন তারা। এতে অপরাধ অনেকাংশে কমবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি-১৮৬১) অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির বিধান রয়েছেÑ একটি লঘু, অন্যটি গুরুদণ্ড। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিতকরণ ও বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ, বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করা হয়। গুরুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ছোট ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইন্স বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদণ্ড দেয়া হয়।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
হিট লিস্টে মোদি, পাকিস্তানে বসে হুঙ্কার জইশ জঙ্গি তালহার – দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ফের বিষোদ্গার করল জইশ-ই-মহম্মদ। এবার সরাসরি ভারত ও নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান শত্রু ঘোষণা করেছে পাক মদতপুষ্ট জেহাদি সংগঠনটি।
সদ্য পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে একটি মিছিলে ভাষণ দেয় জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের ভাই মৌলানা তালহা সিয়াফ। লারকানায় ওই মিছিলে ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান শত্রু বলে ঘোষণা করে ওই জঙ্গিনেতা। মুসলমানদের জেহাদের পথে হাঁটার আবেদন জানায় জঙ্গি তালহা। একমাত্র জেহাদের পথেই জীবনে শ্রেষ্ঠ কিছু লাভ করা যায় বলে দাবি ওই জঙ্গির। ভারতের বিরুদ্ধে বিষ উগরে ওই জঙ্গিনেতা বলে, এই অঞ্চলে ৬০ বছর ধরে সমস্যা তৈরি করছে ভারত। মিনি সুপার পাওয়ার হলেও, কাশ্মীরে বেকায়দায় পড়েছে ভারত। উপত্যকায় ভারতীয় সেনার ৬ লক্ষ জওয়ান ফেঁসে গিয়েছে। কাশ্মীরের মা, বোনেরা এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানিদের ডাকছে কিন্তু আমরা দাসেরা অবিশ্বাসীদের সীমান্ত পার হতে পারছি না। এবার স্বাধীন মুজাহিদিনরা সীমান্ত পার করবে।
বক্তৃতায় রামমন্দির প্রসঙ্গ তুলে আনে জঙ্গি তালহা। সে বলে, বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ করার চেষ্টা করছে ভারত সরকার। তবে কোনওভাবেই বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির তৈরি করতে দেওয়া হবে না, বলে জানিয়ছে মৌলানা মাসুদ আজহার। উল্লেখ্য, পাঠানকোট হামলার মূলচক্রী মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ ঘোষণা করার ভারতের চেষ্টা বারবার বিফল করেছে চিন। গত বছর মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ ঘোষণা করার জন্য রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাব পেশ করে আমেরিকা। ওই প্রস্তাবকে সমর্থন করে ফ্রান্স ও ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশ। তবে চিনা ‘ভেটো’য় ভেস্তে যায় সেই চেষ্টা।
চাপে পড়ে জেটলি এবার কর কমাবেন- দৈনিক আজকাল

পণ্য পরিষেবা কর (জিএসটি) খুব কম সময়ের মধ্যে স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছে গেছে বলে দাবি করলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে আগামী দিনে করভিত্তি আরও প্রসারিত করার এবং এর কাঠামোকে আরও যুক্তিসঙ্গত করে তোলার। তাঁর ইঙ্গিত অবশ্যই করের হার আরও কমানোর দিকে। এখন করের হার রয়েছে ৪ রকম— ৫, ১২, ১৮ ও ২৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে জিএসটি বাবদ কর আদায় হয়েছিল ৯২,১৫০ কোটি টাকা। নভেম্বরে ২০০ পণ্যের ওপর কর কমানোর পর আদায় তলানিতে পৌঁছেছিল। এরপর ডিসেম্বরে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৮৬,৭০৩ কোটি টাকা। জেটলি আজ বলেন, অল্প কিছু লোকের থেকে উঁচু হারে আয়কর নেওয়ার বিষয়টি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
এবারের বাজেটে তা আরও কমানো হবে কিনা তা অবশ্যই তিনি ভেঙে বলেননি। তা জানা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যবসা–বাণিজ্যের স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রথম ৫০–এর মধ্যে উঠে আসার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। যদি কর বিভাগ–সহ সবাই এখনও পিছিয়ে থাকা তিনটি সূচকের ওপর নজর দেন, তাহলে এই লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব। বিশ্ব ব্যাঙ্ক যে দশটি সূচক তৈরি করেছে, তার মধ্যে তিনটি ক্ষেত্রে ভারত পিছিয়ে আছে। এই তিনটি ক্ষেত্র হল জমি–বাড়ি পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরসভার অনুমোদন, সীমান্তের এপার–ওপারে ব্যবসা এবং চুক্তি ঠিকমতো কার্যকর করা।
প্যালেস্তাইন সফরে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী- দৈনিক আনন্দবাজার

ইজরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সঠিক পথেই রয়েছে। এ বার প্যালেস্তাইনের সঙ্গে সুসম্পর্কেও আরও মজবুত করতে চায় ভারত।
প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামী মাসেই প্যালেস্তাইন সফর করবেন নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী ৯ থেকে ১২ফেব্রুয়ারি প্যালেস্তাইন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমান সফর করবেন মোদী। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির প্যালেস্তাইনের রামলায় যাবেন তিনি। গত বছরই ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আর, গত সপ্তাহেই ভারতে এসেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেজ্ঞামিন নেতানইয়াহু।
গত বছরই প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন মোদী। তার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পা রাখতে চলেছেন প্যালেস্তাইনে। স্বাভাবিক ভাবেই এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
গত বছর ইজরায়েল সফরে গেলেও প্যালেস্তাইনের পথ মাড়াননি মোদী। সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল, ইজরায়েলের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের রসায়ন গড়তেই কি প্যালেস্তাইনকে এড়িয়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী? প্যালেস্তাইন সেন্টার পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চের ডিরেক্টর খালিল শিকাকি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে প্যালেস্তাইনকে বন্ধু হিসেবে আলিঙ্গন করে ভারত। ’৭৪-এ প্যালেস্তাইনের মুক্তি আন্দোলন (পিএলও)-কেও স্বীকৃতি পেয়েছিল ভারতের হাত ধরে। তা হলে এখন এত বৈষম্য কেন? মন্তব্য খালিলের। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্যের স্বার্থে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনে হয় পশ্চিমের সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপনে বেশি উৎসাহী। এখন তো মনে হচ্ছে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার আর কোনও আশাই নেই প্যালেস্তাইনের।’’
পশ্চিমবঙ্গে এবার রেকর্ড ফলন: উদ্বৃত্ত চাল চেয়ে মমতার দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় সরকার- দৈনিক বর্তমান

চালের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দ্বারস্থ হল কেন্দ্রের মোদি সরকার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরকারি উদ্যোগে সংগৃহীত চাল ভিন রাজ্যে পাঠানোর জন্য এই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হল। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এফসিআই) চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর যোগেন্দ্র ত্রিপাঠি রাজ্যের ফুড কমিশনার মনোজ আগরওয়ালকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন। এফসিআই চাইছে, এ রাজ্য থেকে তামিলনাডু, কেরল এবং ঝাড়খণ্ডে চাল পাঠানো হোক। শনিবার খাদ্য ভবনে খাদ্যসাথী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি কর্তারা দাবি করেন, কেন্দ্রের এই চিঠি প্রমাণ করে দিচ্ছে, সরকারি উদ্যোগে চাষিদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ ও তার থেকে চাল উৎপাদনে রাজ্য কতটা সফল। এবার আড়াই কোটি টনের বেশি ধান উৎপাদন হতে চলেছে রাজ্যে।
খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, উদ্বৃত্ত চাল ভিন রাজ্যে পাঠাতে কোনও অসুবিধা নেই। রেশন ব্যবস্থা, স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্প প্রভৃতি চাহিদা মেটানোর পরও রাজ্যের ভাঁড়ারে অতিরিক্ত চাল থেকে যাবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েই ভিন রাজ্যে চাল পাঠানো হবে কি না, সেব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এফসিআই-এর চিঠিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ চাল উৎপাদক রাজ্য। এখানে কী পরিমাণে চাল সংগ্রহ হচ্ছে, তার উপর প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকেও নজর রাখা হয়।
তবে চাল সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় এফসিআই-এর ভূমিকায় রাজ্য যে সন্তুষ্ট নয়, তা এদিনের অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। এফসিআই-এর অনুরোধে মুখ্যমন্ত্রী সাড়া দেওয়ায় মিড ডে মিল প্রকল্পের জন্য তাদের চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এফসিআই-এর গোডাউনে চাল সরবরাহ করতে সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে থানায় এফআইআর পর্যন্ত হয়েছে।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮