ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮ ১১:১৪ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৮ ফেব্রুয়ারি রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • ‘ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন’- দৈনিক যুগান্তর
  • আওয়ামী লীগ ভোটে বিএনপি কোর্টে- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • বিএনপির হামলার পরও পুলিশ ফায়ার করেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক প্রথম আলো
  • আন্দোলন করে খালেদাকে মুক্ত করা যাবে না: হানিফ- দৈনিক ইত্তেফাক
  • খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বড় ভুল করেছে আ' লীগ: অলি- দৈনিক সমকাল
  • ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ১২ মোড়লের সিন্ডিকেট- দৈনিক মানবজমিন
  • রোহিঙ্গারা আগের মতোই নৃশংসতার ঝুঁকিতে : ইউরোপীয় পার্লামেন্ট- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • বাণিজ্য ও খাদ্যমন্ত্রীকে দায়ী করল ক্যাব আবার বাড়ছে চালের দাম- দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • সব দায় মোদীর, চড়া সুর রাহুলের- দৈনিক আনন্দবাজার
  • কী কী চুক্তি হল ভারত ও ইরানের মধ্যে, একনজরে দেখে নিন- দৈনিক আজকাল
  • নিজের হাতে স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার বিজেপি সাংসদের, ভাইরাল ভিডিও- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

‘ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন’- দৈনিক যুগান্তর

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এ সরকারের অধীনে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রশাসন পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন আনুষ্ঠিত হবে। কুমিল্লা ও রংপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে তারা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার হরিপুর এলাকায় পারটেক্স গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পারটেক্স ক্যাবলস লিমিটেডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা হবে। দেশ যদি স্থিতিশীল না থাকে তাহলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। রাজপথে আন্দোলন করে কিছু হবে না বুঝতে পেরে বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ভোটে বিএনপি কোর্টে- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলটির দৃষ্টি এখন কোর্টে। রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য দলের আইনজীবী নেতারা আদালতের দ্বারে ঘুরছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি স্থানে জনসভা করে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান দুই দলের একটি ভোটের জন্য প্রস্তুত। অন্যটি মামলা সামলাতে ব্যস্ত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তাদের তৈরি করতে হবে। বিগত ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন যেন না হয়, সে ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম ছহুল হোসাইন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল বিনা বাধায় পার হতে চায় এটাও ঠিক, আবার বিএনপিও তাদের নেত্রীকে বাইরে রেখে নির্বাচনে যেতে চাইবে না— এটাও স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধাটাকেই প্রাধান্য দেয়। তবে সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠুর সংজ্ঞায় বলা যেতে পারে, সব দলকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো— সব দলকে নিয়ে নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। এটাও ঠিক, তারা কাউকে জোর করে নিয়ে আসতে পারবে না। এটা তাদের কাজও নয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই নির্বাচন হবে অর্থহীন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেখানেও সরকারি দলের কোনো প্রতিপক্ষ     ছিল না। আশা করি, একাদশ নির্বাচনে তা হবে না। সব দলই নির্বাচনে যাবে এবং তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্যও হবে।

বিএনপির হামলার পরও পুলিশ ফায়ার করেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক প্রথম আলো

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সামনে পুলিশকে পিটিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়া হলো। পুলিশের দুটি রাইফেল ভাঙা হলো। তারপরও পুলিশ ফায়ার করেনি।শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরের আত্মজীবনীমূলক বই ‘আমার জীবন স্মৃতি-২’-এর প্রকাশনা উৎসবে সাংবাদিকদের পাঠানো প্রশ্নের জবাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপির কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয় না। কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মিটিং, সেটা রাজনৈতিক হোক, সামাজিক হোক না, কোনো কিছুতেই বাধা দিচ্ছে না সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছুতেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। শুধু আমাদের আবেদন থাকে সমাবেশ, মিটিং শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে।’

২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় সভা, সমাবেশের ওপর জারি করা ডিএমপি কমিশনারের নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার হয়নি। সেটা প্রত্যাহার হলে কোথায় সমাবেশ করলে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে না, তা পুলিশ কমিশনার স্থির করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘সমাবেশ কোথায় বিএনপি করতে চায়, আমার জানা নেই। তবে যেখানে করলে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে না, সেখানেই তারা (বিএনপি) করতে পারবে।’

আন্দোলন করে খালেদাকে মুক্ত করা যাবে না: হানিফ- দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করা যাবে না। একমাত্র আদালতই পারে তাকে মুক্তি দিতে। শনিবার বিকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা রহিমা আফসার মাধ্যমিক বিদালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি আশরাফ হোসেন।

বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আলহাজ শামিমুল ইসলাম ছানা, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলম সিদ্দিক, পবীশ শিক্ষক রুহুল ইসলাম প্রমুখ।

খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বড় ভুল করেছে আ' লীগ: অলি- দৈনিক সমকাল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে 'বন্দি করে' ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গত ৯ বছরের মধ্যে 'সবচেয়ে বড় ভুল' করেছে বলে মনে করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে 'দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন' আয়োজিত 'স্বাধীনতার ৪৭ বছর: গণতন্ত্রের সংকট' শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতাকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা অলি আহমদ বলেন, 'খালেদা জিয়া শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জননন্দিত ব্যক্তি। গত ৯ বছরে আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে বন্দি করে সবচেয়ে বড় ভুল করেছে। তার জন্য দেশের মানুষ নীরবে কাঁদছে। ৭৩ বছরের একজন মানুষকে, যিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তাকে নির্জন কারাগারে রাম-সীতার বনবাসে পাঠিয়ে জনগণের হৃদয়ে আঘাত করেছে বর্তমান সরকার।'

তিনি বলেন, 'সরকার জনগণের কাছে ধরা পড়ে গেছে। তারা খালেদা জিয়াকে বন্দি করে নির্বাচনের মাঠ থেকে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দিয়ে আবারও ক্ষমতা দখল করতে চায়— সেটা জনগণ বুঝে গেছে।' এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, 'জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে এক টাকাও দুর্নীতি হয়নি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান কেউ এক টাকাও মেরে খাননি। পুরো টাকাই ব্যাংকে আছে। দুই কোটি টাকা এখন ছয় কোটি টাকা হয়েছে।'

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নিয়ে কিছু 'পদ্ধতিগত ভুল' ছিল— দাবি করে তিনি বলেন, 'অভিজ্ঞতার অভাব এবং না জানার কারণেই এ পদ্ধতিগত ভুল হয়েছে। পদ্ধতিগত ভুলের জন্য তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হতে পারে না। জনগণ এ সাজা মেনে নেয়নি।'

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ১২ মোড়লের সিন্ডিকেট- দৈনিক মানবজমিন

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে ১২ মোড়ল। দীর্ঘদিন ধরে এ সিন্ডিকেট পুরো বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ করছে। পুরো সিন্ডিকেটের হোতা শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বের হলেও সম্মানজনক পোস্টিং নিয়ে আসেন ঢাকা বোর্ডে। শিক্ষার সব দপ্তরে তার একক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বাবরার উদ্যোগ নিয়েও সম্ভব হয়নি।

মাউশির বর্তমান মহাপরিচালক মাহাবুবুর রহমান বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেননি। এর আগে অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন চেষ্টা করেও তাদের রোষানলে পড়েন। এই অবস্থায় শিক্ষার সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ পোষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এই সিন্ডিকেট সদস্যরা হলেন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার, কলেজ পরিদর্শক আশফাকুস সালেহীন, বিদ্যালয় পরিদর্শক এটিএম মইনুল হোসেন, উপ-কলেজ পরিদর্শক মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অদ্বৈত্য কুমার, উপ-সচিব নাজমুল হক, উপ-সচিব মাসুদা বেগম, তারেক বিন আজিজ, আল মাসুদ করিম, ফজলে এলাহী এবং সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট মনজুরুল কবির। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনেকের বিরুদ্ধে ফলাফল ট্যাম্পারিং করারও অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গারা আগের মতোই নৃশংসতার ঝুঁকিতে: ইউরোপীয় পার্লামেন্ট- দৈনিক নয়াদিগন্ত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝিমিয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি) বলেছে, রোহিঙ্গারা আবারো অতীতের মতো নৃশংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আস্থা রাখা যায় না।

গত ১২ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর শেষে ব্রাসেলস থেকে দেয়া বিবৃতিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক সাব-কমিটির প্রধান পিয়ার অ্যান্তোনিও এ কথা বলেন। ১১ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে অ্যান্তোনিও ছাড়াও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির উরমাস পেইট, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক ডেলিগেশনের মার্স তারাবিলা ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ডেলিগেশন প্রধান জেইন ল্যাম্বার্ড ছিলেন। প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার সফর করে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেছে। এরপর তারা মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এতে মিয়ানমারকে শর্ত সাপেক্ষে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎসাহিত ও অনুৎসাহিত করার নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

বাণিজ্য ও খাদ্যমন্ত্রীকে দায়ী করল ক্যাব আবার বাড়ছে চালের দাম- দৈনিক ইনকিলাব

চালের কৃত্রিম সঙ্কট থেকে উত্তরণে এবং চালের দামের লাগাম হাতে রাখতে সরকার আমদানি, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে চাল কেনাসহ নানা উদ্যোগ নিলেও কোন কিছুতেই কাজে আসছে না। গত বছরের শুরু থেকে দেশে চালের দাম বাড়তে থাকে। সরকারের নানা পদক্ষেপে, এতে কিছুটা লাগাম টানা গেলেও, তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। সরকারের ঊর্ধ্বতনদের উসকানিমূলক বক্তব্যে বাড়ছে চালের দাম। এর পেছনে বাণিজ্য ও খাদ্যমন্ত্রীকে দায়ী করছে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। উত্তাপ কমতে না কমতেই ফের বাড়তে শুরু করেছে চালের বাজার।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বোচ্চ দেড় টাকা। তবে সরু চালের দাম বেড়েছে আরেকটু বেশি, কেজিতে তিন টাকা পর্যন্ত। একইভাবে বেড়েছে খুচরা পর্যায়েও। রাজধানীর বাজারে ভারতীয় মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৪ ও দেশি মোটা চাল ৪৫-৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের ভারতীয় চালের দর কেজিপ্রতি ৪৬-৪৮ টাকা। আর দেশি মাঝারি মানের চালের কেজি ৫২-৫৪ টাকা। বিক্রেতারা দেশি সরু মিনিকেট চালের কেজিপ্রতি দর মানভেদে ৬০-৬৩ টাকা ও ভারতীয় মিনিকেট ৫৮ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

এ বিযয়ে ক্যাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এসএম নাজির হুসাইন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে ‘অতি ব্যবসায়ীবান্ধব’ আখ্যায়িত করে বলেন, চাল নিয়ে দুই মন্ত্রীর পরস্পর বিরোধী বক্তব্যই দায়ী-এ বৃদ্ধিও জন্য দায়ী। তারা জনগণের স্বার্থে কথা না বলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বেশি দেখছেন। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। কারসাজিতে জড়িত মিল মালিকদের পক্ষ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এটা চালের দাম বাড়াতে উস্কে দেওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেন ক্যাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

কী কী চুক্তি হল ভারত ও ইরানের মধ্যে, একনজরে দেখে নিন- দৈনিক আজকাল

ইরানের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব দৃঢ় করতে দুই দেশের মধ্যে ৯টি বিষয়ে চুক্তি সাক্ষরিত হল। শনিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি‌র সঙ্গে ফলপ্রসু বৈঠক সারলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি। দুই দেশের সুরক্ষা, শিল্প এবং শক্তি নিয়ে আলোচনা হয় রোহানির সঙ্গে মোদির। এরপর ২টি দেশের মধ্যে কর পরিহার সহ ৯টি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবিশ কুমার টুইট করে বলেন, ‘‌দুই নেতার মধ্যে বাস্তবধর্মী ও ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই একে অপরকে শিল্প, বিনিয়োগ, শক্তি, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে।’‌ যৌথ এক সাংবাদিক সম্মেলনে রোহানি–মোদি দু’‌জনেই জানান, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, জঙ্গি সমস্যা, মাদক পাচার এবং অন্য সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে দুই দেশকে একজোট হয়ে লড়াইয়ে নামতে হবে। রোহানি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা মোকাবিলা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’‌

৯টি চুক্তিতে ছাড়াও দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া যাতে আরও সহজ হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে বলে জানান মোদি। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রপতি ভারতে আসার পর থেকে এই তিনদিনে আলোচনা যেভাবে এগিয়েছে তার পাশাপাশি এগিয়েছে বন্ধুত্বের বন্ধনও৷ শুক্রবারই হায়দরাবাদে রোহানি জানান, ভারতের জন্য উপসাগরীয় দেশ চাবাহর বন্দর ইরান আর আফগানিস্থান, মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ইউরোপ পর্যন্ত ট্রানজিট রুট খোলা হবে। তবে পাকিস্তানের সীমানার উপর দিয়ে এই পথ যাবে না৷ এই অবস্থায় ইরান ও ভারত দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যে আরও দৃঢ় হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। শনিবার মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে রোহানি রাষ্ট্রপতি ভবন যান। মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে রোহানি বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক সারেন।

সব দায় মোদীর, চড়া সুর রাহুলের- দৈনিক আনন্দবাজার

ব্যঙ্গের মোড়কে নরেন্দ্র মোদীকে খোঁচা দিয়ে যাচ্ছিলেন গোড়া থেকেই। আজ বিঁধলেন সাম্প্রতিক কালের সব চেয়ে চাঁছাছোলা আক্রমণে। রাহুল গাঁধী অভিযোগ করলেন, নীরব-কাণ্ডের দায় প্রধানমন্ত্রীরই। এ ব্যাপারে সবই জানত প্রধানমন্ত্রীর দফতর। সরকারের উপর মহলের রক্ষাকবচ ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব ছিল না।

শনিবার দলীয় বৈঠকের পরে কংগ্রেস সভাপতি দাবি তোলেন, মুখ খুলতে হবে মোদীকে। দেশবাসীকে জানাতে হবে, কেন, কী ভাবে এমন ঘটল? বলতে হবে, এখন তিনি কী করবেন? রাহুল বলেন, ‘‘নোটবন্দিতে নরেন্দ্র মোদী সকলের পকেটের টাকা ব্যাঙ্কে জমা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এখন সেই ব্যাঙ্কের ২২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছেন নীরব মোদী। বাচ্চাদের পৌনে দু’ঘণ্টা ধরে পরীক্ষার পাঠ পড়াতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু নিজের বন্ধু শিল্পপতিদের লুঠ নিয়ে কিছু বলছেন না। প্রধানমন্ত্রীই নষ্ট করছেন দেশের অর্থনীতিকে।’’

রাফাল বিতর্কের পরেই নীরব মোদীর ঘটনায় দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ার প্রতিশ্রুতি যে তছনছ হয়ে যাচ্ছে, বুঝতে পারছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ তিনি ‘নীরব’। নোটবন্দি থেকে জিএসটি-র সময়ে তাঁর ‘সঙ্কটমোচক’ অরুণ জেটলিও চুপ। বদলে যুক্তি দিতে আসছেন অন্য মন্ত্রীরা। আজ যেমন এলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই প্রসঙ্গেও রাহুল বলেছেন, ‘‘গোটা ঘটনার দায় যাঁদের, সেই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এখনও চুপ। সামনে আসছেন শুধু সামাজিক ন্যায়, প্রতিরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীরা।’’ সরকারি সূত্রের খবর, আজ রিয়াধ যাচ্ছেন জেটলি। ফিরবেন সোমবার। জালিয়াতির মোট অঙ্ক স্পষ্ট হলে তিনি সামনে আসবেন।

নিজের হাতে স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার বিজেপি সাংসদের, ভাইরাল ভিডিও- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

এ যেন স্বচ্ছ ভারতের দু’রকম মুখ। একদিকে এক রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত শিকেয় তুলে প্রকাশ্যেই প্রস্রাব করছেন। অন্যদিকে সেই একই দলের অপর সাংসদ নিজের হাতে একটি স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার করছেন। প্রথম কাজের জন্য বিস্তর সমালোচিত রাজস্থানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয় কাজের জন্য দেদার প্রশংসা কুড়োচ্ছেন বিজেপি সাংসদ জনার্দন মিশ্র।

মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার নেতা জনার্দন মিশ্র। মনেপ্রাণে স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে বিশ্বাস করেন। শুধু দলীয় কার্যক্রমই নয়, নেতার ভূমিকার বাইরে গিয়েও এই বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেন। একাধিকবার তার প্রমাণ মিলেছে। দিনকয়েক আগে রেওয়ারই এক অঞ্চলের রাস্তা পরিষ্কার করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ঝাড়ু হাতে সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে সে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অপর একটি ঘটনায় জানা গিয়েছিল, স্কুল পড়ুয়াদেরও প্রচন্ড ভালবাসেন নেতা। গিয়েছিলেন এক স্কুল পরিদর্শনে। দেখেন, অধিকাংশ বাচ্চাকাচ্চাই স্নান না করে স্কুলে এসেছে। ব্যস, সেখানেও একেবারে অভিভাবকের ভূমিকায় নেমে পড়লেন তিনি। নিজের হাতে স্নান করাতে শুরু করেছিলেন পড়ুয়াদের। দুটি ভিডিওই ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বোঝা গিয়েছিল, স্বচ্ছ ভারত অভিযান তাঁর কাছে স্রেফ স্লোগান নয়। বরং হাতে-কলমে করে দেখানোর বিষয়। সেই কাজ যে টয়লেট পরিষ্কারও হতে পারে, তাও করে দেখালেন তিনি।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই।  এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৮