ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮ ০৯:৪৪ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • কেউ না এলেও নির্বাচন হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- দৈনিক ইনকিলাব
  • 'খালেদা জিয়াকে নিয়ে এত আশঙ্কা কেন, ভয় কেন?'- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • খালেদা জিয়া ও তারেক রাষ্ট্রীয় অপরাধী: আদালত- দৈনিক সমকাল
  • ‘দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে’- দৈনিক ইত্তেফাক
  • অবশেষে স্কুল-কলেজের এসকেলেটর প্রকল্প বাতিল- দৈনিক মানবজমিন
  • মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস বিশ্ববাসী এখনো জানে না- দৈনিক প্রথম আলো
  • এবার থেকে প্রাথমিক সমাপনীতে শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্ন- দৈনিক যায়যায়দিন

ভারতের শিরোনাম:

  • আফরাজুলকে মেরে আফসোস নেই, জেল থেকেই বিস্ফোরক ভিডিও শম্ভুলালের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

  • ব্যাঙ্ক লুটেরাদের রক্ষা করছে কেন্দ্র: মমতা- দৈনিক বর্তমান

  • বাড়িতে ডেকে মেহুলকে খাইয়েছিলেন মোদি!‌- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

কেউ না এলেও নির্বাচন হবে: গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- দৈনিক ইনকিলাব

ফাইল ছবি

‘নির্বাচন হচ্ছে মানুষের অধিকার এবং সাংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে নির্বাচন হবে’ অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারও যদি কোনো দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে আমাদের কী করার আছে? বহুদলীয় গণতন্ত্রে কোন দল নির্বাচন করবে, কোন দল নির্বাচন করবে না সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। আপনারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত কথা বলেন সেই দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত নেত্রীকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না? কেউ যদি বলে নির্বাচন করতে দেব না; সেটা তাদের গায়ের জোরের কথা। সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়েই নির্বাচন হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ইতালি সফর’ উপলক্ষ্যে গতকাল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই নির্বাচন হবে। যারা জনগণের ওপর বিশ্বাস করে তারা নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে। বিএনপি গায়ের জোরে বলতে পারে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কারণ তাদের জন্মই হয়েছিল গায়ের জোরে। গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রমূখ। প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তব্যে জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) কার্যক্রম এবং গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ভাষার মাসে বাহান্নোর ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

'খালেদা জিয়াকে নিয়ে এত আশঙ্কা কেন, ভয় কেন?'- দৈনিক নয়াদিগন্ত

I

একাদশ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে সরকার ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দিতে চাইলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেয়ার পর গত রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব এক তাৎণিক প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। এমন কতকগুলো কথা বলেছেন যার সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন নিয়ে উনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা বলছেন, নির্বাচন ঠেকে থাকবে না বলেছেন। এর সাথে তার অভ্যাস আছে, অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন তারা করেছেন সেখানে ৫ শতাংশ মানুষও ভোট দিতে আসেনি। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, খালেদা জিয়া নির্বাচন না করলে এদেশে নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যারা নির্বাচন করতে চান, তারা মূলত একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চান। তারা একতরফা নির্বাচন করতে চান, যা এ দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা আবারো ওই একতরফা-একদলীয় নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছেন এবং সেভাবে একটা নীলনকশা করেছেন। সেই নীলনকশা অনুযায়ী দেশনেত্রীকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে একটা সম্পূর্ণ ভুয়া নথি তৈরি করে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক চাপিয়ে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এভাবে ছলচাতুরী করে দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে আর যাই করা যাক, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

খালেদা জিয়া ও তারেক রাষ্ট্রীয় অপরাধী: আদালত- দৈনিক সমকাল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নামসর্বস্ব জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে দুই কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তর করেছেন। এর দায় তিনি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। সরকারি এতিম তহবিলের টাকা নিয়ম অনুযায়ী এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত ছিল; কিন্তু তা করা হয়নি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রকাশিত আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকাশিত এক হাজার ১৬৪ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ মামলার ছয় আসামি প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন। তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থনৈতিক দুর্নীতি রাষ্ট্রের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে এবং এর খারাপ প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে সংক্রমিত হয়। বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সোমবার প্রকাশের পর গ্রহণ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও মামলার বাদীপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী।

রায়ে বলা হয়, খালেদা জিয়াসহ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার ছয় আসামিকে অর্থদণ্ডের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ছয় আসামির প্রত্যেককে সমান অঙ্কে এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, নথি পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়া এ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বীকৃত মতেই সরকারি কর্মচারী। বাকি উপাদানগুলো এই মামলায় উপস্থিত আছে বলে ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে। ফলে খালেদা জিয়ার পক্ষে যে সব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তা বাস্তবতার নিরিখে গ্রহণ করার কোনো কারণ নেই।

মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস বিশ্ববাসী এখনো জানে না- দৈনিক প্রথম আলো

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সঙ্গে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সম্পর্ক কী—বিশ্ববাসী তা এখনো ভালো করে জানে না। ১৮ বছর ধরে দিবসটি পালন হলেও এটি পালনকারী জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেসকো) ওয়েবসাইটে দিবসটির পেছনের ইতিহাস এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের অবদানের কোনো উল্লেখ নেই। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে মাত্র একটি বাক্যে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে এটির যোগসূত্রের কথা বলা আছে।

দিবস চালুর পরপরই ২০০০ সালে এ-সংক্রান্ত তথ্য জানানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে তাগিদ দিয়েছিল ইউনেসকো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জাতিসংঘকে এ বিষয়ে তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব কার, এ বিষয়টিই স্পষ্ট হয়নি।

ইউনেসকোর ১৮৮টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ভোটে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করে। ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্র দিবসটি পালন করছে রফিক, সালাম, বরকতের আত্মদানের কথা না জেনেই।

‘দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে’- দৈনিক ইত্তেফাক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য মমতাজ বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশে ওষুধ প্রাপ্তি মূলত: আমদানীর ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং অনেক উচ্চ মূল্যে জনগণকে ওষুধ ক্রয় করতে হতো। ইতোমধ্যে ওষুধ আমদানিকারী দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ওষুধ সুনাম অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের ইউরোপ আমেরিকাসহ প্রায় ৯২টি দেশে ৭৩৩ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে ১২০টি দেশে ৮১২ কোটি টাকা, ২০১৬ সালে ১২৭টি দেশে ২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা ও ২০১৭ সালে ১৪২টি দেশে ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করেছে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সহযোগিতার ফলে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ ও দেশের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অবশেষে স্কুল-কলেজের এসকেলেটর প্রকল্প বাতিল- দৈনিক মানবজমিন

তুমুল সমালোচনার মুখে স্কুল-কলেজে এসকেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি) প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তির মুখে বিলাসী এ প্রকল্প থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০তলা ভবনের পরিবর্তে ৬তলা ভবন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে এসকেলেটর বাদ দিয়ে প্রয়োজন হলে লিফট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাধ্যমিক ও সরকারি কলেজ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এসকেলেটর বাদ দিয়ে নতুন প্রস্তাবনা তৈরি করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুলে ৩২৩টি সরকারি স্কুল এবং ২০০ সরকারি কলেজ উন্নয়ন প্রকল্পে ১০তলা ভবন করে এসকেলেটর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। একনেকে পাস হওয়ার পর দু’টি প্রকল্পে এসকেলেটর বসানোর জন্য নতুন প্রস্তাবনা দেয়া হয়। এতে সারা দেশে মাধ্যমিকে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানে এসকেলেটর বসানোর জন্য ১১১৬ কোটি টাকা, ২০০ সরকারি কলেজে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৬৭টি কলেজে এসকেলেটর বসানোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৪৫৪ কোটি টাকা। দু’টি প্রকল্পে এসকেলেটরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১৫৭০ কোটি টাকা। দুটি প্রকল্পের এসকেলেটর নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, দুটি প্রকল্পই মূলত শিক্ষার অবকাঠামো ও বিজ্ঞান শিক্ষার সমপ্রসারণের জন্য। বিলাসিতার মতো এখানে এসকেলেটর আনার কী প্রয়োজন। এ ছাড়াও এ প্রকল্পের স্বাস্থ্যগত দিক নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এটা নিয়ে সারা দেশে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর বিলাসী এ প্রকল্প থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবার থেকে প্রাথমিক সমাপনীতে শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্ন- দৈনিক যায়যায়দিন

এবার থেকে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক বা সৃজনশীল প্রশ্নে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেবে সরকার। ২০১৮ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন করে রোববার আদেশ জারি করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।

 এতে বলা হয়েছে, '২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন জাতীয় কর্মশালার মাধ্যমে চূড়ান্ত্ম করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত্ম মোতাবেক প্রতি বিষয়ে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন হবে।' প্রাথমিক সমাপনীতে সৃজনশীল প্রশ্নের হার গত কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে বাড়িয়েছিল সরকার। ২০১৭ সালে ৮০ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে প্রতি বিষয়ে ৬৫ শতাংশ প্রশ্ন যোগ্যতাভিত্তিক ছিল, বাকি প্রশ্ন ছিল ট্রাডিশনাল।

২০০৯ সালে শুরম্ন হওয়া প্রাথমিক সমাপনীতে ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সৃজনশীল প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে ২৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৩৫ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৫০ শতাংশ সৃজনশীল প্রশ্নে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষা হয়। যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নে চিন্ত্মা করে শিক্ষার্থীদের উত্তর লিখতে হয়। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীই দুই ঘণ্টায় পরীক্ষা শেষ করতে না পারায় ২০১৩ সালে এই পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়।

এবার থেকে প্রাথমিক সমাপনীর সবগুলো প্রশ্ন শতভাগ সৃজনশীল হলেও পরীক্ষার সময় আগের মতোই আড়াই ঘণ্টা রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালের এইচএসসিতে ২৬টি বিষয়ের ৫০টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে হয়। আর চলতি এসএসসির বাংলা দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হচ্ছে। অন্যদিকে জেএসসিতে গত বছর বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র ছাড়া অন্য বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার ফলে পাবলিক পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা কমার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চিন্ত্মা করে উত্তর লেখার দক্ষতা বাড়ছে বলে দাবি করে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

আফরাজুলকে মেরে আফসোস নেই, জেল থেকেই বিস্ফোরক ভিডিও শম্ভুলালের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও। যা দেখে শিউরে উঠেছিল দেশবাসী। গাঁইতি দিয়ে লাগাতার কোপানো হচ্ছে আফরাজুলকে। শরীরে প্রাণ যাতে একটুও না থাকে, নিশ্চিত করতে পেট্রল ঢেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল মালদার প্রৌঢ়কে। সেই দৃশ্য আবার ক্যামেরাবন্দি করেছিল এক নাবালক।

বর্বরোচিত ঘটনাকে ‘লাভ জেহাদ’ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।  কিন্তু আফরাজুল যে এমন কাজ করতে পারেন না। মালদহের বাড়ি থেকে এমনই জোরাল দাবি তুলেছিলেন স্ত্রী-কন্যারা। ভিডিও দেখে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন তাঁরা। দাবি করেন অভিযুক্ত শম্ভুলাল রেগারের ফাঁসি। ঘটনার পর অনেকগুলো দিন কেটে গিয়েছে। গারদের ওপারে শুম্ভুলাল। কিন্তু তার দাপট যে এতটুকু কমেনি। তারই প্রমাণ মিলল সম্প্রতি। জেল বসেই ফের ভিডিও প্রকাশ করেছে আফরাজুলের হত্যাকারী। যা করেছে তার জন্য এতটুকু আফসোস নেই বলেই জানিয়েছে সে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে ভিডিওর কথা জানাজানি হয়। তবে যে ভাষা ভিডিওতে রয়েছে তা সম্প্রচার করার উপযুক্ত নয় বলেই প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, ভিডিওতে শম্ভুলাল জানিয়েছে, নিজের নৃশংস কাজের জন্য এতটুকু অনুতপ্ত নয় সে। নিজের জীবন নষ্ট করে ফেলেছে। হিন্দু মহিলার সম্মানের জন্য এটাই নাকি করা উচিত ছিল। জেহাদের জন্য হিন্দুদের এককাট্টা হওয়ার কথাও বলেছে সে। তবে একটি ব্যাপারে দুঃখিত আফরাজুলের হত্যাকারী। তার এবং ওই মহিলার সঙ্গে যে অবৈধ সম্পর্কের কথা ছড়ানো হয়েছে। তা মিথ্যা বলেই দাবি তার। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসাও শোনা গিয়েছে আফরাজুলের হত্যাকারীর মুখে।

ব্যাঙ্ক লুটেরাদের রক্ষা করছে কেন্দ্র: মমতা- দৈনিক বর্তমান

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (পিএনবি) হাজার হাজার কোটি টাকার লুটেরাদের কেন্দ্রীয় সরকার প্রশয় ও নিরাপত্তা দিয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ‘ছাতা’ হয়ে নিরাপত্তা দেওয়াই নয়, মহালুট পর্বের এই আয়োজন পূর্ব পরিকল্পিত বলেও তাঁর অভিযোগ। একইসঙ্গে আরও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে যে এরকম ‘লুটপাট’ হয়েছে, সেই আভাসও সোমবার দিয়েছেন মমতা। এদিন বহরমপুর স্টেডিয়াম মাঠে সরকারি পরিষেবা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যাঙ্কে টাকা থাকলে মেরে দিচ্ছে। জনগণের সেই টাকা দিয়ে স্ফূর্তি চলছে। স্ফূর্তিবাজদের সরকার লুটেরাদের প্রোটেকশন দিচ্ছে। সভাস্থল জুড়ে তখন বিজেপির নামে মুর্দাবাদ ধ্বনির পাশাপাশি নেত্রীর নামে তুমুল জয়ধ্বনি। গেরুয়া শিবির বিরোধী সেই মুডকে আরও তাতিয়ে দিলেন মমতা।

অভিযোগ করলেন, শুধু পিএনবি নয়, আরও অনেক ব্যাঙ্ক আছে। যাদের মাথা আছে, ছাতা আছে। তারা কারা, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়বে। এসবের তদন্ত হওয়া উচিত। সমস্বরে সায় দিল মাঠভর্তি মানুষ। মমতার কটাক্ষ, ভারতবর্ষের দুর্ভাগ্য, বিজেপির মতো একটা দল ক্ষমতায় রয়েছে।

বাড়িতে ডেকে মেহুলকে খাইয়েছিলেন মোদি!‌- দৈনিক আজকাল

পিএনবির ১১৫০০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগের মাঝেই উঠে এল আর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর্থিক তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত পলাতক গুজরাটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির সঙ্গে পরিচয় ছিল নরেন্দ্র মোদির। একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর অস্বস্তি বাড়বেই। ভিডিওটি ২০১৫–র। যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭ কল্যাণ মার্গে একটি অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের মধ্যে রয়েছেন মেহুল চোকসি। গীতাঞ্জলি গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও এমডি যে মোদির পরিচিত ছিলেন তা ভিডিওয় পরিষ্কার। ২০১৫–র ৫ নভেম্বর মোদির বাসভবনে অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। যেখানে গোটা দেশের বড় বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সে অনুষ্ঠানে মোদি দেশে সোনার চাহিদার কথা মাথায় রেখে তিনটি স্কিম চালু করার কথা বলেছিলেন। মোদি বলেছিলেন, ‘দেশকে স্বর্ণযুগে নিয়ে যেতে হলে এই সুবিধাগুলি চালু করা দরকার। মানুষ তা গ্রহণ করবে। যে কোনও বড় ক্রেতা বড় দোকান থেকেই সোনা কেনে। তারপর পারিবারিক পরিচিতি রয়েছে এরকম দোকান থেকে তা আসল না নকল পরীক্ষা করিয়ে নেন। মেহুল ভাই এখানে বসে রয়েছেন। তাঁর কাছেও অনেকে আসেন। সোনা আসল না নকল তা জেনে নেওয়ার জন্য।’ এরপরই ভিডিওতে হাসতে দেখা যায় মোদিকে।  ‌‌

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই।  এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২০