বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতির শ্রদ্ধা
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৭ মার্চ শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতির শ্রদ্ধা- দৈনিক প্রথম আলো
- আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র : ওবায়দুল কাদের- দৈনিক ইত্তেফাক
- দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই- দৈনিক মানবজমিন
- মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল বাড়ছে বড় দুই দলে- দৈনিক যায়যায়দিন
- রুদ্ধশ্বাস জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ- দৈনিক ইত্তেফাক
- ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাকিব, কেন?- দৈনিক যুগান্তর
- নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়ালেন সাকিব- দৈনিক প্রথম আলো
ভারতের শিরোনাম:
- জোটের জোরেই মেরুকরণ ফিকে, বিপদে বিজেপি- দৈনিক আনন্দবাজার
- গুরুং মামলায় রাজ্যের জয়, স্বাগত মমতার-দৈনিক আজকাল
- এনডিএ ছেড়েই মমতাকে ফোন চন্দ্রবাবুর, জোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে- দৈনিক বর্তমান
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতির শ্রদ্ধা- দৈনিক প্রথম আলো
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন করছে জাতি। দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধিদলের টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।
বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপন করা হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের রেকর্ড বাজানো হয়। মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা হয়।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।কাল রোববার বেলা তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র : ওবায়দুল কাদের- দৈনিক ইত্তেফাক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আমরা আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের জনগণের মন জয় করেছি। দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা ও পরিশ্রমী নেতৃত্বের জন্য খুশি। আগামী নির্বাচনে আমাদের বিজয়ের বিষয়ে কোনো সংকোচ ও দ্বিধা নেই।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-পরিষদের উদ্যোগে অসহায় মানুষের মধ্যে রিকশা ও ভ্যান গাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের আন্দোলনে দেশের মানুষ যেমন সাড়া দেয়নি, তেমনি আগামী নির্বাচনেও তাদেরকে (বিএনপি) প্রত্যাখ্যান করবে। তারা (বিএনপি) জনগণের দ্বারা প্রত্যাখাত হয়ে দেশি-বিদেশি শক্তির সহায়তায় দেশকে অস্থিতিশীল করে আগামী নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।
দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই- দৈনিক মানবজমিন
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। সরকারের তৈরি করা যে নির্বাচন কমিশন রয়েছে তাদের লক্ষ একটাই, আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসানো এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা। এই নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছাগুলোর প্রতিফল ঘটাবে এটাই আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট।
শুক্রবার দুপুরে তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৭ম মুত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ৫টি সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের কোনো অধিকার নেই। এই বিষয়গুলো এড়িয়ে শুধু নির্বাচন করলেই গণতন্ত্র হবে না। এই নির্বাচন মানেই আওয়ামী লীগকে আরো পোক্ত করা।সুতরাং এই নির্বাচনে জনগণের সমর্থন থাকবে না। আমরাও এই নির্বাচনে অংশ নেবো কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। কারণ দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।
মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল বাড়ছে বড় দুই দলে- দৈনিক যায়যায়দিন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দল বাড়ছে। দল দুটির মনোনয়নপ্রত্যাশী হেভিওয়েট প্রার্থীদের দ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ সুযোগ কাজে লাগাতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডনরা তাদের ক্যাডারদের নিয়ে মাঠ দাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের ঘিরে রাজনৈতিক সংগঠনেও গড়ে উঠেছে নতুন বলয়। অথচ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বড় দুই দলের কেউই কোন্দলকারীদের বিরম্নদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ অবস্থায় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে পালস্না দিয়ে অভ্যন্ত্মরীণ সংঘাত-সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নেবে- রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এমন আশঙ্কা করছেন।
এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী তৎপরতা শুরম্ন করলেও এ প্রসঙ্গে আগ বাড়িয়ে মন্ত্মব্য করা থেকে আপাতত বিরত রয়েছেন। তবে মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা আড়াল করছেন না কেউ।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনুসারীদের মধ্যে এরই মধ্যে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের সিনিয়র নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝেরেছেন। আগামী ৬ মাসের মধ্যে দলীয় কোন্দল কমিয়ে আনতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গুটিকয়েক জেলার প্রকাশ্য বিরোধ কিছুটা মেটাতে পারলেও অধিকাংশ এলাকায় চাপা অন্ত্মর্দ্বন্দ্ব রয়েই গেছে। যা মনোনয়নপ্রাপ্তির ইসু্যতে ক্রমেই চাঙ্গা হয়ে উঠছে। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হেভিওয়েটরা নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিতে পরস্পর সংঘাত-সহিংসতায় জড়াচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দল মেটানো। দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে দল ক্ষমতায় থাকায় দলীয় কর্মসূচির চেয়ে সুযোগ-সুবিধা পেতে কর্মীরা বেশি ব্যস্ত্ম ছিল। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম করার সুযোগ ছিল কম। তাই সুবিধাভোগী ও সুবিধা বঞ্চিতদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে এটি হানাহানিতে রূপ নিচ্ছে।
রুদ্ধশ্বাস জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ- দৈনিক ইত্তেফাক
মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে বলটা স্কয়ার লেগ দিয়ে উড়ে গেছে সীমানার বাইরে। বুনো উল্লাস, বাঘের গর্জনে কেঁপেছে প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। ডানা মেলে উড়তে শুরু করেছেন মাহমুদউল্লাহ। যার হাতে বাংলাদেশের জিয়নকাঠি। মাহমুদউল্লাহর মতোই হয়তো দুই হাজার কিলোমিটার দূরে বাংলার ঘরে ঘরে স্বপ্নিল জয়ের আবেশে ডানা মেলে উড়েছেন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।
বীররসে পূর্ণ মাহমদুউল্লাহর ব্যাট রূপকথার ন্যায় অসামান্য এক জয় এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে। গতকাল স্নায়ুক্ষয়ী শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে দুই উইকেটে হারিয়ে নিদাহাস কাপের ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। আর তখনই শ্মশান নীরবতায় ঢেকে গেছে প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম।
প্রথমে ব্যাট করে সাত উইকেটে ১৫৯ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে অবিশ্বাস্য সব নাটকীয়তা ভরা ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর অকল্পনীয় ব্যাটিংয়ে এক বল আগে আট উইকেটে ১৬০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ১৮ বলে ইতিহাস গড়া অপরাজিত ৪৩ রানের (৩ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লাহ ম্যাচ সেরা হন।
ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাকিব, কেন?- দৈনিক যুগান্তর
টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে মাত্র একটি বাউন্সার দেওয়া যায়। ইনিংসের শেষ ওভারে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক ওই সময় ঝামেলাটা সৃষ্টি করেছেন শ্রীলঙ্কান আম্পায়ারই। লেগ আম্পায়ার দ্বিতীয় বাউন্সারকে নো-বল দেখিয়েছিলেন কিন্তু মূল আম্পায়ার সেটা অগ্রাহ্য করেছেন। ওই সময়ে একটি বাড়তি রান, বাড়তি বল ও ফ্রি হিটের মূল্য যে অপরিসীম।
রিপ্লেতেও দেখা দ্বিতীয় বলটি প্রথম বাউন্সারেরও ওপর দিয়ে গিয়েছে। পরপর দুটি বাউন্সারকে আম্পায়ার বৈধতা দিয়ে দেন। এতেই শুরু হয় বিপত্তি। ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে টাইগার শিবির। বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে গেল অধিনায়ক সাকিবসহ পুরো দল। সাকিব অভিযোগ তুললেন তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। মাঠে মাহমুদউল্লাহও তখন ফিল্ড আম্পায়ারকে বিষয়টা বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। কেউ কোন কথা কানে তুলছে না। অথচ ভিডিও ফুটেজ বলছে, সেটা আসলেই নো বল ছিল। তাই এক পর্যায়ে সাকিব মাঠ থেকে চলে আসার জন্য দুই ব্যাটসম্যানকে ইশারা করেন।
সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। ৪ বলে ১২ রান দরকার, এমন অবস্থায় কি তবে ম্যাচ থেমে যাবে? শেষ ওভারে আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশ কি আসলেই মাঠে ছেড়ে উঠে আসার ঘটনা ঘটাবে? তাহলে যে ডিসকোয়ালিফাইড হবে বাংলাদেশ। এই বিতর্ক গড়াবে আরও বহুদূর। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটেই ম্যাচ বয়কটের ঘটনা আছে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, যেটি আজও আলোচিত হয়। শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও দাগ থেকে যেত সন্দেহ নেই।
পরে কোচ ওয়ালশ ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের হস্তক্ষেপে খেলা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই মাহমুদউল্লাহ’র বীরোচিত ইনিংসে ভর করে ১ বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ।
নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়ালেন সাকিব- দৈনিক প্রথম আলো
দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন...সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা শেষ হতে দিলেন না সাকিব আল হাসান, ‘ওটা তো ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিতও হতে পারে! দুইটাই বোঝায়।’ ম্যাচের শেষ ওভারে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে, যে কথার লড়াই, সেটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠ ছেড়ে চলে আসার পরিস্থিতি তৈরি হওয়া—সাকিবের সামনে নিষেধাজ্ঞার হুমকিই ছিল।
স্বস্তির খবর, তেমনটা হয়নি। শুক্রবার রাতে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড সাকিবকে ২৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা আর একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছেন। ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন একাদশের বাইরে থাকা নুরুল হাসান।
উত্তেজনার মুহূর্তে নুরুলের সঙ্গে কথার লড়াই হয়েছিল শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য জানালেন, ম্যাচ রেফারি বুঝতে পেরেছেন ঘটনার উৎপত্তি আসলে আম্পায়ারের ভুলে! যেহেতু আম্পায়ারদের ভুলের কারণেই এত কিছু, সাকিব-নুরুলকে বেশি জরিমানা গুনতে হয়নি।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
গুরুং মামলায় রাজ্যের জয়, স্বাগত মমতার- দৈনিক আজকাল
রুং–মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জয় হল রাজ্যের। বড়সড় ধাক্কা খেলেন বিমল গুরুং। এবার তঁার গ্রেপ্তারি এড়ানো মুশকিল হবে। শুক্রবার রাজ্যের বিরুদ্ধে দায়ের–করা গুরুংয়ের মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হল, পাহাড়ে আদৌ ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেনি রাজ্য সরকার। এর ফলে তঁার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আর কোনও বাধা থাকল না। এদিন বিচারপতি এ কে সিক্রির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, পাহাড়ে রাজ্য সরকার যা করেছে, তা সাংবিধানিক ও আইনি সীমারেখা মেনেই করা হয়েছে। কোনও ভাবে ক্ষমতার কোনও অপব্যবহার হয়নি। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মামলা স্থানান্তরিত করার আবেদনও খারিজ হয়ে গেল। সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের যে–অভিযোগ গুরুংয়ের তরফে তোলা হয়েছিল, তাও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শিলিগুড়িতে আজ উত্তরকন্যা–য় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। দার্জিলিঙের উন্নয়নের কাজ যেমন চলছিল, তেমনই চলবে।’ গুরুংকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, এ প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি মুখ্যমন্ত্রী। শুধু বলেছেন, ‘পাহাড়ের উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। সেই কাজ চলবে।’ এদিকে, জিটিএ চেয়ারম্যান বিনয় তামাংও আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিন দার্জিলিঙে তিনি বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রমাণ করে দিল, আমরা ঠিক জায়গায় আছি। বিমল গুরুংরা আইনের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন।
এনডিএ ছেড়েই মমতাকে ফোন চন্দ্রবাবুর, জোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে- দৈনিক বর্তমান
সোনিয়া, শারদ পাওয়ার, লালু যাদব, নবীন পট্টনায়ক, চন্দ্রশেখর রাও, অখিলেশ যাদব, জগনমোহন রেড্ডি তো ছিলেনই। এবার শাসক এনডিএ ছাড়ল টিডিপি। এদিন এনডিএ ছেড়েই মমতাকে ফোনও করলেন টিডিপি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু। প্রত্যেকেরই এক কথা, মোদিকে চেপে ধরতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লড়াকু নেত্রী দেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। তাই সংসদে হোক বা সড়কে মোদি-বিরোধী লড়াইয়ে মমতা ও তাঁর দল তৃণমূলকে সঙ্গে রাখতে চাইছে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই।
সেই মতো ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, মহাজোট বাঁধার লক্ষ্যে ততই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধী দলগুলি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতানেত্রীই শুধু নন, বিশিষ্ট আইনজীবী তথা রাজ্যসভায় আরজেডি’র ৯৪ বছরের এমপি রাম জেঠমালানিও মমতাকেই বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, একমাত্র মমতাই বিজেপিকে শেষ করতে পারে।
তাছাড়া মমতাই যেহেতু কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ জোটের বদলে তৃতীয় একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ফ্রন্টের কথা তুলেছেন, তাই যেসব রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এবং বিজেপি, উভয়ের বশ্যতা মানতে নারাজ, তারা এই নতুন ফ্রন্ট গঠনে জোর দিতে চাইছে। যদিও তারা মানছেন, সেই ফ্রন্টে কংগ্রেসকে অবশ্যই লাগবে। তবে রাহুলের নেতৃত্বে জোটের বদলে সেটা যদি মমতাকে মধ্যমণি করে করা যায়, তারও চেষ্টা চলছে। সেই মতো এ মাসের শেষে শারদ পাওয়ার দিল্লিতে মমতাকে বৈঠকের জন্য ডেকেছেন। এখনও পর্যন্ত খবর, মমতা আসছেনও।
জোটের জোরেই মেরুকরণ ফিকে, বিপদে বিজেপি- দৈনিক আনন্দবাজার
হিন্দুত্বের রেশ কাটলেই শুকনো লাগছে পদ্মফুলকে। ২০১৪-য় কংগ্রেস বিরোধী জিগির ছিল। এখন আর সে সুযোগ নেই। তাই মেরুকরণ যতক্ষণ তীব্র, ততক্ষণই অপ্রতিরোধ্য বিজেপি। নজর যে-ই ঘুরছে অন্যান্য ইস্যুতে, সংখ্যাগুরু বনাম সংখ্যালঘুর লড়াই সরে গিয়ে যখনই মাথা তুলছে মণ্ডল বনাম কমণ্ডল, তখনই জোর ধাক্কা খাচ্ছে গেরুয়া রথ। দেখিয়ে দিল উত্তরপ্রদেশ-বিহারের উপনির্বাচন। অখিলেশ-মায়াবতীর অসামান্য রণকৌশল শিক্ষা দিয়ে গেল রাহুল গাঁধীকেও।
২০১৪-র নির্বাচনে যেমন ব্যবধানে জয় হয়েছিল গোরক্ষপুর এবং ফুলপুর লোকসভা কেন্দ্রে, ২০১৮-র উপনির্বাচনে তার চেয়েও বেশি ব্যবধানে জিতবে বিজেপি। ভোটগ্রহণ চলাকালীন দাবি করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রী তথা কট্টর হিন্দুত্বের পোস্টারবয় যোগী আদিত্যনাথ। ভোটের ফল বলছে, মসনদে বসে থাকা যোগী আঁচ করতেই পারেননি, পাটিগণিত কতখানি বদলে গিয়েছে মাটিতে।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৭