রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৭ এপ্রিল শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- খালেদার স্বাস্থ্য ভালো নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না- দৈনিক মানবজমিন
- চিঠি চালাচালিতেই সীমাবদ্ধ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন- দৈনিক যুগান্তর
- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক প্রথম আলো
- ২০ দলীয় জোট: ইসলামী দলে ভাঙনের শঙ্কা বিএনপির- দৈনিক যুগান্তর
- বিএনপিকে ভাঙ্গা দুরের কথা, চিরও ধরানো যাবে না : মির্জা আব্বাস- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- বিএনপি আর দুর্নীতি সমার্থক শব্দ: ওবায়দুল কাদের- দৈনিক ইত্তেফাক
- দুই বাসের পাল্লায় এবার চলৎশক্তি হারাচ্ছেন এক নারী- দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- সমর-খোকনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক, চাকরির আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- অসুস্থ জেটলিকে সরাতে দরবার- দৈনিক আনন্দবাজার
- বিক্ষোভ অনশনে তেরিয়া বিজেপি- দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
খালেদার স্বাস্থ্য ভালো নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না: মির্জা ফখরুল- দৈনিক মানবজমিন

কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল দুপুরে পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয়। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার আরথ্রাইটিসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। তবে তার মনোবল অত্যন্ত শক্ত আছে বলেও ফখরুল জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তার জন্য দুশ্চিন্তা না করতে বলেছেন নেতাকর্মীদের। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্য খুব ভালো নয়। আমরা সেই সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তার আরথ্রাইটিসের সমস্যাটা বেশ বেড়ে গেছে। তার এখন হাঁটতেও কষ্ট হয়। এ ছাড়া স্নায়ুবিক সমস্যা অর্থাৎ নিউরো প্রবলেমও দেখা দিয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় যে চিকিৎসা দরকার, দুঃখজনকভাবে তিনি সেটা এখনও পাচ্ছেন না। তার চিকিৎসা যারা করতেন, সেই ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের এখনও দেখা করতে দেয়া হয়নি বা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেয়া হয়নি। এটা আমরা বার বার বলেছি। আবারো বলছি। অবিলম্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়াটা অত্যন্ত জরুরি। কারণ তিনি এখন সত্যিকার অর্থেই স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েছেন।’
চিঠি চালাচালিতেই সীমাবদ্ধ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন- দৈনিক যুগান্তর

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনও চিঠি চালাচালিতে সীমাবদ্ধ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া খুবই মন্থর হয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের অনীহা, রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করা এবং আন্তর্জাতিক চাপ কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসেই মিয়ানমারের এক মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও বর্ষা মৌসুম শুরুর ফলে পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এখন পর্যন্ত বাস্তবিক কোনো অগ্রগতি নেই। বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠী গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন। জানতে চাইলে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনবিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা এখনও চিঠি চালাচালিই করছি। বাস্তবিক কোনো অগ্রগতি নেই।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে সেদেশে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার রাতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসসকে জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব শুক্রবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন এবং তাঁর সঙ্গে প্রায় ১২ মিনিট কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করেন, তাঁর সরকার আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘ মহাসচিবকে বাংলাদেশে আসার এবং মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানের পর এ দেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত মিয়ানমারের চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারেও জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা কামনা করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতা দেখানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে এ চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহায়তা কামনা করেন।
২০ দলীয় জোট: ইসলামী দলে ভাঙনের শঙ্কা বিএনপির- দৈনিক যুগান্তর

২০ দলীয় জোটে থাকা ইসলামী দলগুলোতে ভাঙনের আশঙ্কা করছে বিএনপি। জোট থেকে বেরিয়ে যেতে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে নানা প্রলোভন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব তৎপরতা চলছে। এজন্য জোটে থাকা পাঁচটি ইসলামী দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিএনপি। ইসলামী দলগুলোকে কৌশলে চলার পরামর্শও দিয়েছে। বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর নীতিনির্ধারক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, ‘জোট ভাঙতে দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভক্তি, ছোট ছোট দলকে জোট থেকে বের করা এসব কাজ যদি রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে হতো তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এখানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নানা শক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে একতরফাভাবে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য যে নীলনকশা তা বাস্তবায়নে এ শক্তিগুলো কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি এ ধরনের অপচেষ্টা দেশের ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। রাজনীতিতে যখন দেউলিয়াপনা হয় তখন এমন চক্রান্তমূলক কর্মকাণ্ড হয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে।’
বিএনপিকে ভাঙ্গা দুরের কথা, চিরও ধরানো যাবে না : মির্জা আব্বাস- দৈনিক নয়াদিগন্ত

বিএনপিকে ভাঙ্গার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তা বিলুপ্তির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।তিনি বলেন, মামলা মোকদ্দমা যতই হোক বিএনপিকে ভাঙ্গা তো দুরের কথা, ফাটল, চিরও ধরানো যাবে না। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের সাজা বাতিল ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত সভায় মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন। ৯০ এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ওই সভার আয়োজন করে।
সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টা সেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে। কয়েক বার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও চেষ্টা করা করে তারা (আওয়ামী লীগ) ব্যর্থ হয়েছে। তা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিকে ভাঙতে না পেরে এখন তারা বিএনপিকে বিলুপ্ত করে দেয়ার চেষ্টায় আছে। যা সম্ভব না। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিএনপির কর্মী তৈরি হয়ে গেছে। সুতরাং এই বিএনপিকে বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। যারা চেষ্টা করছেন, করতে থাকেন। একদিন ক্লান্ত হয়ে যাবেন। বিএনপি আবার তৃনমূল থেকে উপরে উঠে যাবে, আপনাদের ক্ষমতায় থেকে অবশ্যই সরিয়ে আবার ক্ষমতায় যাবে।
বিএনপি আর দুর্নীতি সমার্থক শব্দ: ওবায়দুল কাদের- দৈনিক ইত্তেফাক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন আদালতের নির্দেশে। তার মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি আদালাতের এখতিয়ার। এবিষয়ে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ করছেনা। বিএনপি আর দুর্নীতি সমার্থক শব্দ। তারা তাদের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা রাতের আঁধারে বাদ দিয়েছেন। কারণ ৭ ধারায় বলা ছিল কোন দুর্নীতিবাজ দলের এমপি বা দলের কোন নেতা হতে পাবেন না। খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার ১০দিন আগে তারা ৭ ধারা গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দিয়েছে। বর্তমানে যাকে দলের শীর্ষ পদে বসিয়েছে তিনিও সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির ক্ষমতার উৎস হচ্ছে বন্দুকের নল। তারা সামরিক শাসন জারি করে, সামরিক শাসক থাকা অবস্থায় দল গঠন করেছেন তার পর রাজনীতির নামাবলি গায়ে জড়িয়েছেন। তাদের ক্ষমতার উৎস হলো বন্দুকের নল।
তিনি বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস। মাটি ও মানুষই আওয়ামী লীগের শক্তি। শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেপুরে নির্মাণাধীন রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী মহাসড়কের রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে প্রথম ফেসের কাজ শেষ হবে এবং দ্বিতীয় ফেসের কাজ আগমী জুন মাসে শেষ হলে তখন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করছেন।
দুই বাসের পাল্লায় এবার চলৎশক্তি হারাচ্ছেন এক নারী- দৈনিক সমকাল
রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে এবার দুই পায়ের শক্তি হারাতে বসেছেন আয়েশা খাতুন (২৫) নামের এক নারী। তিনি ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আয়েশার স্বামী তানভীর আহমেদ তাহের চিকিৎসকের উদ্বৃতি দিয়ে সমকালকে বলেন, তার স্ত্রীর মেরুদণ্ডের দুটি হাড় ভেঙে গেছে ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি হয়েছে। এ কারণে তিনি দুই পায়ের শক্তি হারিয়েছেন। তিনি বসতে ও হাঁটতে পারছেন না। চিকিৎসক বলেছেন, তার পায়ের শক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
গত বৃহস্পতিবার সকালে নিউমার্কেট এলাকায় আয়েশা ও তার সাড়ে ছয় বছরের মেয়ে আহনাবকে বহনকারী রিকশাটিকে দুটি বাস দু'দিক থেকে চাপ দেয়। এতে রিকশাচালকসহ মা-মেয়ে আহত হন। তবে আহনাব ও রিকশাচালকের আঘাত গুরুতর নয়। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। একটি বাসের চালককে গ্রেফতার করে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। অন্য বাসের চালক পালিয়ে যায়।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
সমর-খোকনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক, চাকরির আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

খোকন শিকদার ও সমর টিকাদার। রুজিরুটির সন্ধানে ইরাকে পাড়ি দিয়েছিলেন নদিয়ার দুই যুবক। মসুলে আরও কিছু ভারতীয়র সঙ্গে তাঁদেরও তুলে নিয়ে যায় আইএস জঙ্গিরা। শেষ তিন বছর তাঁদের কোনও খবর মেলেনি। আশা নিরাশার দোলাচলে ছিল পরিবার। আচমকাই দুঃসংবাদ দিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। জানিয়ে দিলেন, ওই ৩৯ জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল শিকদার-টিকাদার পরিবারে। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্পূর্ণ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই কথাই রাখলেন শুক্রবার। নবান্নে এসেছিলেন দীপালি টিকাদার ও নমিতা শিকদার। তাঁদের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। দু’জনকেই দিলেন চাকরির আশ্বাস।
এদিন স্থানীয় প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে এদিন নবান্নে এসেছিলেন দীপালি-নমিতা। দীপালির সঙ্গে ছিল কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। আর নমিতার ছোট ছেলে। অশৌচ এখনও কাটেনি। কাছের মানুষদের হারানোর দুঃখ এখনও জড়িয়ে আছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে চেক নেওয়ার সময় সদ্য বিধবাদের চোখে জল। পঞ্চায়েত ভোটের পর দু’জনকেই চাকরির আশ্বাস দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিশুদের পড়াশোনার দিকেও নজর রাখা হবে বলে জানালেন। তারপর নিজে নেমে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহারে, তাঁর আশ্বাসে অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন। ফিরে যাওয়ার আগে জানিয়ে গেল নমিতা-দীপালি।
অসুস্থ জেটলিকে সরাতে দরবার- দৈনিক আনন্দবাজার

অরুণ জেটলির অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে কোমর বেঁধে নেমেছে শিল্পমহলের একাংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। কিডনির অসুখ ও সংক্রমণে অসুস্থ জেটলি আজ সন্ধ্যায় দিল্লির এইমসে ভর্তি হয়েছেন। কাল তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে তাঁকে প্রায় তিন মাস সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। এর আগে সুষমা স্বরাজের যখন কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল, তখন তাঁকে বিদেশমন্ত্রীর পদ থেকে সরাননি মোদী। কিন্তু শিল্পমহলের একাংশ চাইছে জেটলিকে সরানো হোক, এবং পাকাপাকি ভাবেই।
সূত্রের খবর, এই দাবির পিছনে রয়েছে টেলিযোগাযোগ দুই শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ। মোবাইলের কল-রেট, ডেটা-প্ল্যান নিয়ে তাদের মধ্যে বহু দিন ধরেই বিবাদ চলেছে। আর তাতে জেটলির ভূমিকায় অখুশি শিল্পমহলের একাংশ। শিল্পমহলের কারও কারও মতে, একটি সংস্থা যে ভাবে যথেচ্ছ হারে মোবাইলের কল-রেট কমিয়ে দিচ্ছে, তাতে বাকিদের ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ শিল্পও বিপদে পড়তে পারে। জেটলিও সেই মতের শরিক বলে খবর।
প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির কাছে জেটলির পাঠানো একটি নোট প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে ভোডাফোন-সহ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে বিদেশে চলা মামলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেটলি বলেছেন, ওই সংস্থাগুলির কাছে কেন্দ্রের কোটি কোটি টাকা পাওনা। তাই বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় জরুরি। সরকারের একাংশের যুক্তি, জেটলির অনুপস্থিতিতে অর্থসচিব হাসমুখ আঢিয়াই কাজ সামলে নিতে পারবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। কিন্তু জেটলিকে সরাতে মরিয়া শিল্পমহলের ওই অংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে এক জন মন্ত্রীর অবশ্যই প্রয়োজন।
বিক্ষোভ অনশনে তেরিয়া বিজেপি- দৈনিক আজকাল

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শাসক দলের সাংসদ, সবাই প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সংসদ চত্বরে! এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি। শুক্রবার লোকসভা ও রাজ্যসভা অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার পরেই সংসদ চত্বরে গান্ধীমূর্তির সামনে জড়ো হন বিজেপি সাংসদরা। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়পর্ব অচল হওয়ার দায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপিয়ে চলল বিক্ষোভ। পাল্টা বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসও। শুক্রবার অধিবেশনের শেষদিনে লোকসভার অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজনের চায়ের নিমন্ত্রণ বয়কট করেছে কংগ্রেস। এটাও নজিরহীন বটে। সংসদ অচল করার দায় কংগ্রেসর ওপর চাপাতে মরিয়া বিজেপি। দেশজুড়ে ভোটদাতাদের কাছে এই প্রচারকে নিয়ে যেতে নিয়েছে অনশনের কর্মসূচি।
আগামী ১২ এপ্রিল দলের সাংসদরা নিজ নিজ নির্বাচন–কেন্দ্রে অনশন পালন করবেন। মরিয়া ভাব ফুটে ওঠে এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠেও। তাঁর দাবি, সরকারের বিরোধিতা ক্রমেই আরও বেশি ‘হিংসাত্মক’ হয়ে উঠছে। এর একটি কারণ, বিজেপি–র শক্তি বাড়ছে, আরেকটি কারণ, ‘একজন গরিব মায়ের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এটা ওরা মেনে নিতে পারছে না। মেনে নিতে পারছে না, অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষও দেশের সর্বোচ্চ পদে বসতে পারেন।’ বিজেপি–র প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার মোদি অ্যাপের মাধ্যমে দলের কর্মকর্তা–কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই টেনে আনেন জাতপাতের কথা। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়ার কথা। অতীতেও এই আবেগ কাজে লাগিয়েছেন তিনি। এবারে উত্তর ভারতের দলিত অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি তাৎপর্য পাচ্ছে তাঁর মন্তব্য।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৭