আগস্ট ২৪, ২০১৮ ০৫:২৯ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৪ আগস্ট শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় আজও ঢাকা থেকে কোনো পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি। তাই আমরা ঢাকার দৈনিকগুলোর অনলাইন সংস্করণ এবং কোলকাতা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকার বিশেষ বিশেষ খবর দিয়ে আজকের আসর সাজিয়েছি। প্রথমেই দৈনিকগুলোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • ঈদের রাজনীতি: ‘গণ’ ছাড়া ভোট ‘জন’ ছাড়া আন্দোলন- দৈনিক প্রথম আলো
  • সংলাপের দরকার নেই, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন –বাণিজ্যমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব
  • বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা- দৈনিক মানবজমিন
  • রাখাইন থেকে এখনও পালিয়ে আসছেন রোহিঙ্গারা- দৈনিক যুগান্তর
  • উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে: ভূমিমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক
  • বিএনপির হাঙ্গামা আসল খুনীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা: ইনু- দৈনিক সমকাল
  • মুক্তি পেলেও শঙ্কায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • দিনে ১ লক্ষ ২০ হাজার! লুঠের দখল ধরে রাখতে গিয়েই কি বিস্ফোরণ নারায়ণগড়ে?- দৈনিক আনন্দবাজার
  • শিক্ষাদপ্তর বাস্তুঘুঘুর বাসা, সচিবকে ধমক মুখ্যমন্ত্রীর- দৈনিক বর্তমান
  • মন্দির, মসজিদ, গির্জার অডিট চায় সুপ্রিম কোর্ট- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

ঈদের রাজনীতি: ‘গণ’ ছাড়া ভোট ‘জন’ ছাড়া আন্দোলন- দৈনিক প্রথম আলো

নেতা–নেত্রীরা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নিজের ও দলের অবস্থান শক্ত করতে ব্যস্ত ছিলেন ঈদের ছুটিতে। অধিকাংশ নেতা-নেত্রী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছেন ভোটারদের সঙ্গে মোলাকাত করতে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেড়–দুই মাসের মধ্যে তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যে নেতা যেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, সেখান থেকে নির্বাচন করেন। আর বাংলাদেশে শতকরা ৮০ ভাগ কিংবা তারও বেশি সাংসদের বাস ঢাকায়; কিন্তু তাঁরা নির্বাচন করেন ঢাকার বাইরে, যাঁর যাঁর পৈতৃক বা বৈবাহিক সূত্রে পাওয়া ঠিকানা থেকে। মন্ত্রীদের এই হিসাব থেকে রেয়াত দেওয়া যায়, সরকারের দায়িত্ব পালন করতে তাঁদের ঢাকায়ই থাকতে হয়।

নির্বাচন আসন্ন বলে নেতা–নেত্রীদের কণ্ঠের জোর বাড়ছে। প্রথমে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বললেন, ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে বিএনপিকে এবার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তিনি নিশ্চয়ই বিএনপি নেতাদের দাঁত ভাঙার কথা বলেননি। সমুচিত জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন।

সংলাপের দরকার নেই, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: বাণিজ্যমন্ত্রী- দৈনিক ইনকিলাব

সংলাপের কোনো দরকার নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যখন সংলাপ করতে চেয়েছি তখন বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন আর সংলাপের প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ভোলা সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের চরসিতারাম স্কুল মাঠে পথসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অবাদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবেই। এতে যদি কোনো দল অংশগ্রহণ না করে তাহলেও আমাদের কিছুই করার নেই।’

বিএনপি নির্বাচনে না এলে নির্বাচন থেমে থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিএনপি পুলিশ, প্রিজাইডিং অফিসার ও মানুষ হত্যা করেছে। বহু মায়ের বুক খালি করেছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি। এবারও তারা সফল হবে না। এ নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা বিএনপির নেই।’

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা- দৈনিক মানবজমিন

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’র (আরসা) হামলার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে এ ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বরাবর বসিয়েছে ১৬০টিরও বেশি পুলিশ আউটপোস্ট। এ খবর দিয়েছে মিয়ানমারের অনলাইন ইরাবতী। উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ শে আগস্ট মংডু, বুথিডাং ও রাথেডাংয়ে ৩০টি পুলিশ আউটপোস্টে হামলা চালায় আরসা। আর এর জের ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর চালায় নৃশংস নির্যাতন।

ওই হামলার প্রথম বার্ষিকী ২৫ শে আগস্ট শুক্রবার। আরসার ওই হামলায় এক ডজনেরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী ও সরকারি কর্মচারী নিহত হন। এমনটা দাবি করে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া। তাদের হিসেবে পরের মাসেই বেসামরিক মিলে নিহতের সংখ্যা ৮০র বেশি বলে স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ। আরসাকে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের নিন্দা জানায় সরকার। রাখাইন রাজ্য পুলিশের কর্নেল অং মায়াত মোই ইরাবতীকেক বলেছেন, শরণার্থীদের রূপ ধরে আরসা সীমান্ত বরাবর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। সে জন্য সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ১৬০ টিরও বেশি পুলিশ আউটপোস্টে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য।

রাখাইন থেকে এখনও পালিয়ে আসছেন রোহিঙ্গারা- দৈনিক যুগান্তর

তিন মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে দুই মাস আগে স্বামীর সঙ্গে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন হামিদা বেগম। তাদের দুই বছর বয়সী আরও একটি সন্তান রয়েছে। পালিয়ে আসার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে তার স্বামী ভয়ে-আতঙ্কে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। সেনাবাহিনী তাকে যে কোনো মুহূর্তে তুলে নিতে পারে সেই শঙ্কা তাকে গ্রাস করে রেখেছিল।

১৮ বছর বয়সী হামিদা বলেন, তার স্বামী উঁচু গাছের মগডালে ওঠে রাত যাপন করতেন। প্রবল বৃষ্টি হলেও তিনি গাছের মাথা থেকে নামতেন না। ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই রাতের পর রাত কাটাতে হয়েছে তাকে। লাল রঙের জামার ওপর হলুদ ওড়না পরা হামিদা বেগম শুষ্ক বাঁশের ঝুপড়ির মেঝে বসে এসব কথা বলছিলেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে গত বছরের আগস্ট থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘ যেটাকে জাতিগত নিধনের জলন্ত উদহারণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মিয়ানমার যদিও বলেছে, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে প্রস্তুত। কিন্তু হামিদা বেগমের মতো বহু রোহিঙ্গা পরিবার নিরাপত্তার অভাবে দেশটি থেকে পালিয়ে আসছে।

বিএনপির হাঙ্গামা আসল খুনীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা: ইনু- দৈনিক সমকাল

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দলের শীর্ষ নেতাদের মামলা থেকে আড়াল করার জন্য বিএনপি ও তার শরিকরা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে হইচই শুরু করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো চক্রান্ত। গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রকাশের আগে বিএনপির হাঙ্গামা আসল খুনীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা।

বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।  'গ্রেনেড হামলায় রায়কে সরকার প্রভাবিত করছে' বিএনপির এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইনু বলেন, যে মামলা ১৪ বছর ধরে প্রকাশ্যে আদালতে চলে আসছে, সেটায় আদালতে হস্তক্ষেপ হয়েছে তা কেউ বিশ্বাস করবে না।

তিনি আরও বলেন, গ্রেনেড হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ ২২ জনকে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সর্বোচ্চ বিচার চাওয়াটা আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ হয় না। যুদ্ধাপরাধীর রায়ের আগে সারাদেশ রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। এটা আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ নয়। বরং চুরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আদালতের সামনে হইহল্লা করাটা আদালত তোয়াক্কা না করার সামিল।

মুক্তি পেলেও শঙ্কায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের জেরে আটক শিক্ষার্থীদের দু-একজন বাদে সবাইকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে মুক্তিপ্রাপ্তদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেছেন, জামিন পেলেও মামলা ঝুলে থাকায় তাদের ক্রমাগত শঙ্কার ভেতরে থাকতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা আপাতত মুক্তি পেলেও যার আটক নিয়ে দেশে বিদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা গেছে সেই আলোকচিত্রী এবং অ্যাকটিভিস্ট শহিদুল আলম এখনো কারাগারে। ঈদের দিন ও পর দিন তার সাথে কারাগারে সাক্ষাতের পর পরিবারের সদস্যরা আলমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এবং তাকে কারাগারের বাইরে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করেছেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আটকদের মধ্যে ৫১ জন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের সকলেই ঈদের আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এমন দু'জন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন,মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় এখনো তাদের মধ্যে ভয় রয়েছে। তাদের কয়েকজনের অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়গুলো নিয়ে আর কথা বাড়াতেই রাজি নন।

উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে: ভূমিমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ সকলকে মিলেমিশে সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদী বাসভবনে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটি এবং অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে তিনি আরো বলেন, ঈদের এই কোলাকুলির মতো সকলে ভাগাভাগি করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সকলকে ধৈর্য্যশীল হওয়ার আহব্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশকে ভালোবাসতে হবে। শেখ হাসিনা সকল মানুষকে সমানভাবে ভালোবাসেন। তাই সকলকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে নৌকা মার্কার জন্য কাজ করা আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, সমাজে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কোনভাবে প্রশ্রয় দিবেন না। দাগি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য সকলের সহযোগিতা চান।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

দিনে ১ লক্ষ ২০ হাজার! লুঠের দখল ধরে রাখতে গিয়েই কি বিস্ফোরণ নারায়ণগড়ে?- দৈনিক আনন্দবাজার

একটা কারখানাকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছিল তিনটি অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, শাসক দলের অন্দরের সমীকরণ। শ্রমিকদের মজুরি কেটে নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লুঠ চলছিল প্রতি মাসে। মকরামপুর, পাকুড়সেনী, নারায়ণগড় থেকে অন্তত তেমনই অভিযোগ উঠে আসছে বৃহস্পতিবার সকালের বিস্ফোরণের পরে। ওই অভিযোগকে ঘিরেই জমছিল ক্ষোভের আগুন। পাল্টা বারুদও জমা করা হচ্ছিল বলে খবর। সেই বারুদেই কি উড়ে গেল তৃণমূলের মকরামপুর পার্টি অফিস? জল্পনা তেমনই। দুষ্কৃতীদের যে জড়ো করা হয়েছিল, সে ইঙ্গিত মিলছে স্থানীয় বিধায়কের মন্তব্যেও।

বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকে তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। ঝাঁ-চকচকে পার্টি অফিস মুহূর্তে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সুদীপ্ত ঘোষ নামে এক তৃণমূল কর্মী ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন। আরও চার জন গুরুতর জখম। এক জন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।দু’জনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতায়। আর এক জনকে ওডিশার কটকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর একটি হাত ও একটি পা বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তৃণমূল অবশ্য সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

শিক্ষাদপ্তর বাস্তুঘুঘুর বাসা, সচিবকে ধমক মুখ্যমন্ত্রীর- দৈনিক বর্তমান

বিভিন্ন দপ্তরের কাজ পর্যালোচনা করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষের মুখে পড়লেন শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব অরুণ সেনগুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, শিক্ষা দপ্তর বাস্তুঘুঘুর বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর কথা এই দপ্তরের অফিসাররা শোনেন না। ওই বিশেষ সচিব উঠে দাঁড়িয়ে বলতে গেলে তাঁকে রীতিমতো মুখ্যমন্ত্রীর ‘তোপে’র মুখে পড়তে হয়। শিক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার কাজকর্ম নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। খারাপ রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় তখন বলেন, একটু শুকনো আবহাওয়া পেয়ে গেলে রাস্তা সারানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য পুরদপ্তর, পূর্তদপ্তর, ভূমিদপ্তরের কাজের প্রশংসা করেন। তবে ডেঙ্গু নিয়ে সব দপ্তরের সঙ্গে আরও ভালো সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

গত এপ্রিলে পঞ্চায়েত ভোট হয়। সেই থেকে গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন কাজ থমকে রয়েছে। এর উপর সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঝুলে থাকায় বহু পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করা যায়নি। সেই সব পঞ্চায়েতে সরকারি অফিসাররদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এদিন পঞ্চায়েত দপ্তরের অফিসার ও জেলাশাসকদেরও ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি আগামী দিনের কাজের প্রস্তাব জমা দিতে পাঁচজনের মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মন্দির, মসজিদ, গির্জার অডিট চায় সুপ্রিম কোর্ট- দৈনিক আজকাল

মন্দির, মসজিদ ও গির্জা-সহ দেশের সবক’টি ধর্মীয় স্থান ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের তহবিলে কত টাকা জমা পড়ছে এবং তা কীভাবে, কোন কোন খাতে খরচ করা হচ্ছে, এবার তার হিসেব–নিকেশ চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি আদর্শ কে গয়াল ও বিচারপতি এস আবদুল নাজিরকে নিয়ে গড়া সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, দেশের সব ধর্মীয় স্থান ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মোট পরিমাণ কত, সেগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয় কি না, হলে কীভাবে তার খরচ মেটানো হয়, এসব বিষয়ে নিয়মিত অডিট করাতে হবে। ওই সব জায়গায় কারা আসা-যাওয়া করছেন, মহিলা ও অন্য ধর্মের মানুষদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও নিয়মিত নজর রাখতে বলেছে শীর্ষ আদালত।

দুই বিচারপতি তাঁদের রায়ে বলেছেন, ‘ওই সব ধর্মীয় স্থান ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা কী রকম, সেগুলির পরিচালন ব্যবস্থায় কোনও গলদ রয়েছে কিনা, কিংবা সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে নজর রাখার দায়িত্ব শুধুই কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারগুলির নয়, আদালতেরও সেই দায়িত্ব রয়েছে।’ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ, মন্দিরের সম্পত্তি ও স্বাস্থ্যের হাল নিয়ে আগেই দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

তো শ্রোতাবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসর নিয়ে আবার আমরা হাজির হব আগামীকাল।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৪