গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার করতেই হবে: জাতিসংঘ
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৭ আগস্ট সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনার প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতেই দেখে নেব ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রধান প্রধান বাংলা দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিরোনাম:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার করতেই হবে: জাতিসংঘ- দৈনিক সমকাল
- আসন বণ্টন নিয়ে কথা নেই ১৪ দলে, শরিকরা সংক্ষুব্ধ- দৈনিক ইত্তেফাকের শীর্ষ শিরোনাম
- মৃত্যুবার্ষিকীতে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা- দৈনিক যুগান্তর
- সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উৎপাটন করব: ওবায়দুল কাদের- দৈনিক ইনকিলাব
- দলের জন্য খালেদার বার্তা- দৈনিক মানবজমিন
- রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল- দৈনিক যুগান্তর
- বিএনপির মূল নেতাদের অন্যায়ভাবে বিপদাপন্ন করার নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে সরকার: ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- সুন্দরবন ও সাগরে দস্যুতা: আত্মসমর্পণেও থামেনি অপহরণ- দৈনিক প্রথম আলো
ভারতের শিরোনাম:
- গোহত্যার ‘অভিশাপ’-এ ভাসছে কেরল! মন্তব্য বিজেপি বিধায়কের-দৈনিক আনন্দবাজার
- অমিত শাহের নিরাপত্তার খরচ জানাতে চাইল না কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন- দৈনিক আজকাল
- আধারের পর ডিএনএ বিল, ক্ষুব্ধ বিরোধীরা- দৈনিক বর্তমান
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার করতেই হবে: জাতিসংঘ- দৈনিক সমকাল
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য দেশটির সেনাপ্রধান এবং আরও পাঁচ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং (তথ্য অনুসন্ধান) মিশনের চেয়ারপারসন মারজুকি দারুসমান তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে সোমবার জেনেভায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'রাখাইন রাজ্যের উত্তরের গণহত্যার তদন্ত করে সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংসহ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।' গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সে সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র 'জাতিগত নিধনযজ্ঞ' বলে অভিহিত করে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ।
রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, রাখাইনে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তবে বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে মিয়ানমার সরকার। বরং তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দমনেই রাখাইনে সেনা অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করে তারা।
আসন বণ্টন নিয়ে কথা নেই ১৪ দলে, শরিকরা সংক্ষুব্ধ- দৈনিক ইত্তেফাকের শীর্ষ শিরোনাম
অক্টোবরে সিডিউল, ডিসেম্বরে ভোট— এমন পথনকশা ধরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্য অনুযায়ী আগামী নির্বাচনের এরকম সময়সীমা ধরে সংসদীয় এলাকাভিত্তিক ভোটের প্রাথমিক তোড়জোড়ও শুরু করেছেন দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে প্রান্তিক নেতাদের ঢাকায় দাওয়াত করে এনে কথাও বলেছে।
তবে ভোটের চার মাসেরও কম সময় থাকলেও ১৪ দলের আসন বণ্টন নিয়ে নিশ্চুপ জোটের নেতৃত্বকারী আওয়ামী লীগ। আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আগে আগে ফয়সালা করার জন্য গত কয়েক মাস ধরে শরিকদের কেউ কেউ তাগাদা দিলেও আওয়ামী লীগ এখনও তা আমলে নেয়নি। এ নিয়ে শরিকরা শুধু অস্বস্তিতেই নয়, সংক্ষুব্ধও। তা ছাড়া শরিকদের কাকে কতটা আসন দেয়া হবে, আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতার অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা শরিকদের অপ্রকাশ্য ক্ষোভে ঘি মেশাচ্ছে।
শরিক জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শনিবার এ নিয়ে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপে বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে ১৪ দলে এখনও আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়েও কোনো কথা হয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের কোনো তালিকাও আদান-প্রদান হয়নি। তবে নির্বাচন জোটবব্ধ করবো— এই সিদ্ধান্ত আছে। আমি মনে করি, আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার, এটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত। যতদ্রুত এটা নিষ্পত্তি হবে, দল ও জোটের সবার জন্যই এটা মঙ্গলকর। তাহলে সবার ভোটের প্রস্তুতিটাও ভালো হবে, আগামীতেও ১৪ দলের বিজয় সহজ হবে। আর আসন বণ্টনের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হলে সেটি একদিকে যেমন ভোটের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটাবে, তেমনি জোটের বিজয়েও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
মৃত্যুবার্ষিকীতে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা- দৈনিক যুগান্তর
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কবির পরিবার, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা। সোমবার ভোরে প্রথমে তার পরিবারের সদস্যরা সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় কবিকে বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার সৃষ্টিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান কবির নাতনি খিলখিল কাজী।
তিনি বলেন, আজও নজরুল জীবনী ও রচনাবলি ইংরেজিতে প্রকাশ করা হল না এবং বিশ্বের দরবারে তাকে সেভাবে পৌঁছানোই হল না। তাকে শুধু তো বাংলার মধ্যে বেঁধে রাখলে চলবে না। বিশ্বের দরবারে তাকে পৌঁছে দিতে হবে। আর সে জন্যই সরকারসহ আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে অনুবাদের ব্যাপারে।
দিনের শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। একে একে নজরুলের কবরে শ্রদ্ধা জানানো হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে। কবির প্রতি সম্মান জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন সংগঠন। শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা।
সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উৎপাটন করব: ওবায়দুল কাদের- দৈনিক ইনকিলাব
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উৎপাটন করব। এটাই আজকে জাতীয় কবির মহাপ্রয়াণ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।’ আজ সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ওবায়দুল কাদের। পরে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাস এলেই আমাদের বেদনার অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম প্রয়াণ দিবস। আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটিকে স্মরণ করছি।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় কবি অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনায় সমৃদ্ধ ছিলেন। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ এখনো ডালপালা বিস্তার করে আছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উৎপাটনের অঙ্গীকার করেন মন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে প্রিয় কবিকে শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দলের জন্য খালেদার বার্তা- দৈনিক মানবজমিন
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা নয়াপল্টনে তারা সে সমাবেশটি করতে চায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে অনুমতি মেলেনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে বাধা এলে রাজনীতিতে বইতে পারে নতুন উত্তাপ। কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতেও আন্দোলনের হুমকি দিয়ে রেখেছেন দলটির নেতারা। অন্যদিকে জনগণের সম্মিলিত শক্তিকে জোরদার করার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণসংযোগ, জনসভা ও গণসমাবেশের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে যুক্তফ্রন্ট।
শনিবার কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তেমনই বার্তা দিয়েছেন কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ে ৪টি নির্দেশনা দিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দল ও জোটের ঐক্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগে দল ও জোটের ঐক্য ঠিক রাখতে হবে। দল ও জোটের ঐক্য ঠিক রেখেই চলতে হবে জাতীয় ঐক্যের পথে। কারণ বিএনপি ও জোট নেতাদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করবে সরকার। সে ধরনের ফাঁদে যেন কেউ পা না দেয়। এ ব্যাপারে নেতাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দিয়েছেন খালেদা জিয়া।
রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল- দৈনিক যুগান্তর
বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে বিএনপি।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন গেট থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। সোমবার সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন গেট থেকে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি চানখাঁরপুল মোড়ের কাছে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শুরুর সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে পথসভায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বক্তব্য রাখেন। মিছিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন।
বিএনপির মূল নেতাদের অন্যায়ভাবে বিপদাপন্ন করার নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে সরকার: ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত
সরকার ২১ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মূল নেতাদের অন্যায়ভাবে বিপদাপন্ন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আমরা তখনো নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি, এখনো জানাই এবং প্রকৃত দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কিন্তু এ ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার যেভাবে বিএনপির মূল নেতাদের অন্যায়ভাবে বিপদাপন্ন করার জন্য সরকারের পুলিশ, গোয়েন্দা, তদন্ত কর্মকর্তা এমনকি বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে তা কোনো সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
ফখরুল বলেন, ২০১১ সালে পুলিশ রিপোর্ট পেশ হওয়ার আগেই তৎকালীন আইনমন্ত্রী প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত করা হবে। হয়েছেও তাই। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রায় হওয়ার আগেই কি করে বলতে পারেন যে এই মামলার রায় হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। এর অর্থ হলো তিনি জানেন কী রায় হতে পারে।
সুন্দরবন ও সাগরে দস্যুতা: আত্মসমর্পণেও থামেনি অপহরণ- দৈনিক প্রথম আলো
স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পেয়ে গত দুই বছরে সুন্দরবনের ২৬টি দস্যু বাহিনীর বাহিনীপ্রধানসহ ২৭৪ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ছয় বছরে নিহত হয়েছে শতাধিক দস্যু, গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচ শতাধিক। তারপরও সুন্দরবনে থেমে নেই দস্যুতা। প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বাহিনী। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সুন্দরবন। গত তিন মাসে এই এলাকায় অন্তত ৫০ জেলেকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের তথ্য পাওয়া গেছে।
সুন্দরবন উপকূলের জেলে, মহাজন ও বনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, আড়ালে থেকে যাঁরা দস্যুদের মদদ ও অস্ত্র সরবরাহ করছেন, তাঁদের আইনের আওতায় না আনা গেলে উপকূলে দস্যুবৃত্তি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। আবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দস্যুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার যে সুযোগ দিচ্ছে, তার সুযোগও নিচ্ছে কেউ কেউ। দস্যুরা ধারণা করছে, দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আত্মসমর্পণ করলেই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা যাবে। তা ছাড়া পুনর্বাসনের জন্য টাকাও পাওয়া যাবে। ফলে কেউ কেউ সহজেই জড়িয়ে যাচ্ছে দস্যুতায়।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
গোহত্যার ‘অভিশাপ’-এ ভাসছে কেরল! মন্তব্য বিজেপি বিধায়কের- দৈনিক আনন্দবাজার
হিন্দুত্বে আঘাত দিয়ে বছরখানেক আগে প্রচুর গোহত্যা করা হয়েছিল, এখন তারই শাস্তিস্বরূপ জলে ভাসছে কেরল! কী ভাবে কেরলকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টায় ব্যস্ত যখন সকলে, সেই সময় বন্যা বিধ্বস্ত ওই রাজ্য থেকে প্রায় ৬৮৪ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে এই বন্যার ‘প্রকৃত’ কারণ খুঁজে পেলেন এক বিজেপি বিধায়ক।
তিনি কর্নাটকের বিজেপি বিধায়ক বসনগৌড়া পাতিল এতনাল। একটা সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন। রবিবার খুব আশ্চর্যজনক ভাবেই কেরলের বন্যার সঙ্গে তিনি গোহত্যাকে মিলিয়ে দিলেন! ওই বিজেপি বিধায়কের মতে, এক বছর আগে গোমাংসের উৎসব পালন করেছিল কেরল। গোহত্যা এবং গরু পাচারের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে কেরল বিধানসভার ক্যান্টিনে বিধায়কেরা গোমাংস খেয়েছিলেন। এটাই ছিল তাঁদের প্রতিবাদের ভাষা ছিল। এক বছর আগে যে ‘ঔদ্বত্য’ তাঁরা দেখিয়েছিলেন, এখন নাকি তারই হাতেনাতে ফল পাচ্ছে কেরল। বসনগৌড়া বলেন, ‘‘গরু নিধন আসলে হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত দেয়। অন্য ধর্মের ভাবাবেগে কারও আঘাত দেওয়া উচিত নয়। সেই আঘাতের ফল কী হয়েছে তা দেখাই যাচ্ছে। প্রকাশ্যে গোহত্যা করেছিলেন তাঁরা, তার এক বছরের মধ্যেই এই অবস্থা হল কেরলের।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘হিন্দুত্বে আঘাত দিলে এমন শাস্তি পেতেই হবে।’’
অমিত শাহের নিরাপত্তার খরচ জানাতে চাইল না কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন- দৈনিক আজকাল
বিজেপি সভাপতির নিরাপত্তায় খরচ কত হয় তা জানাতে অস্বীকার করল কেন্দ্রীয় সরকার। তথ্য জানার অধিকার আইনে এই খরচের কথা জানতে চেয়েছিলেন দীপক জুনেজা নামে এক ব্যক্তি। এই হাই প্রোফাইল নেতার পিছনে সরকার কত খরচ করে তা অনেকেই জানতে চান। সেই সূত্রেই তথ্য জানার অধিকার আইনে দীপক জুনেজা ওই আবেদনটি করেছিলেন ২০১৪ সালের ৫ জুলাই। কিন্তু আবেদন করে জানতে চাইলেও তাঁকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন জুনেজাকে জানিয়েছে, বিষয়টি ব্যক্তিগত। পাশাপাশি বিষয়টির সঙ্গে অমিত শাহের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তা জানানো যাবে না। জুনেজা আরও জানতে চান, কোনও ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনটি আসলে কী। সেই আবেদনেও সাড়া দেয়নি কমিশন। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
আধারের পর ডিএনএ বিল, ক্ষুব্ধ বিরোধীরা- দৈনিক বর্তমান
আধার সমস্যার পর এবার ডিএনএ টেকনোলজি বিল বিতর্ক নিয়ে দিল্লির দরবারে তোলপাড় শুরু হল। প্রশ্ন একটাই, নতুন করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কি সঙ্কটে পড়তে চলেছে? এই ইস্যুতেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নামছে বিরোধী দলগুলি। সরাসরি দাবি উঠছে, দেশের নাগরিকদের ডিএনএর তথ্য জেনে নিতে চাইছে মোদি সরকার। তথ্যব্যাঙ্কে সাধারণের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করে পরে কাজে লাগাবে কেন্দ্র।
কংগ্রেস তো সাফ অভিযোগ করেছে, এ ধরনের বিল আনার মানেই হল নাগরিকদের ব্যক্তিগত চরিত্র জেনে নিয়ে নজরদারি। প্রয়োজনে ব্ল্যাকমেল। কংগ্রেস জানিয়েছে, ‘আধার তথ্য ফাঁস হওয়ায় মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। একইভাবে এই ডিএনএ বিল পাশ হয়ে গেলে মানবদেহের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্র যে পরবর্তীকালে তার অপ্রয়োগ করবে না, সে গ্যারান্টি কোথায়?’ এই প্রশ্ন কিন্তু শুধু কংগ্রেস নয়, সমগ্র বিরোধীকুলের।
তো শ্রোতাবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসর নিয়ে আবার আমরা হাজির হব আগামীকাল।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৭