প্রিয়জন : "মধ্যপ্রাচ্যে রাজতন্ত্র নিপাতের সুর বেজে উঠেছে"
প্রতি আসরের মতো আজও আলোচনা শুরু করবো একটি হাদিস শুনিয়ে। ইমাম আলী ইবনে মুসা রেজা (আ.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে জনগণকে কখনোই সন্তুষ্ট করতে পারবে না। তাই তাদেরকে মিষ্টিমুখে এবং সদাচরণ দিয়ে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করবে।
আসরের শুরুতেই যে ইমেইল হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে বাংলাদেশ থেকে। নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর শিবের কান্দা থেকে এটি লিখেছেন, “সবার জন্য শিক্ষা” টিচার্স রেডিও ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম মাস্টার। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরান থেকে প্রচারিত সকল অনুষ্ঠান আমাদের ভালো লাগে। বিশেষ করে বিশ্বসংবাদ,শ্রোতাদের চিঠি-পত্রের আসর প্রিয়জন খুব ভালো লাগে। এরপর তিনি জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন। ফ্রেণ্ডশীপ ইন্টান্যাশনাল রেডিও লিসেনার্স ক্লাব নামে তাদের একটা সংগঠন ছিল,এটির নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে “সবার জন্য শিক্ষা” টিচার্স রেডিও ক্লাব রাখা হয়েছে।
বহলুল: আচ্ছা নামটি পরিবর্তন করা হলো কেনো মানে তা নিয়ে কোনো কথা তিনি বলেছেন কি?
হ্যা চিঠিতে তারও ব্যাখা দিয়েছেন ভাই মোহাম্মদ ইব্রাহিম মাস্টার। তিনি লিখেছেন, সবার জন্য শিক্ষা নামটি আমরা এজন্য দিয়েছি কারণ রেডিওর মাধ্যমে সব বয়সের সব ধরনের মানুষ, শিক্ষিত কি নিরক্ষর ,সকলে তা শুনে শিক্ষা লাভ করতে পারে।

বহলুল: চমৎকার মানে নামটি বড়ই চমৎকার হয়েছে।
নতুন নামকরণ কেমন হয়েছে তা জানতে চেয়েছিলেন ভাই ইব্রাহিম। বহলুল ভাই তো সে প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিলেন। সত্যিই নতুন নামটি আমারও পছন্দ হয়েছে। হ্যাঁ ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানাবেন বলে আশা করছি।
বহলুল: এবার তাহলে তপন বসাকের কথা শুনবো।
বহলুল ভাই হেঁয়ালিতে ভরিয়ে দিলেন আমাদের জীবন। একটু খুলে না বললে কেউ কিছু বুঝতে পারবেন না। হ্যাঁ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রোতা ভাই তপন বসাক আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আসরের এ পর্যায়ে তার সেই কথোপকথন শুনবো। আর আমাদের পশ্চিমবঙ্গের পুরনো শ্রোতাবন্ধু নাজিমুদ্দিন এ সাক্ষাৎকার গ্রহণে সহায়তা করেছেন। তাহলে এবারে শুনি তপন বসাকের কথা .....
বহলুল: ১৮ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। তা এতোদিন রেডিও তেহরানের সঙ্গে কেনো আছেন সে কথাও জানতে ইচ্ছা হচ্ছে ভাই তপন বসাক।....
এতোক্ষণ রেডিও তেহরানের পশ্চিমবঙ্গের পুরনো শ্রোতা ভাই, তপন বসাকের কথা শুনছিলেন। ধন্যবাদ ভাই তপন বসাক। ভবিষ্যতে আরো কথা শুনবো।
এবারে তাহলে রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপ এবং ওয়েবসাইটের খবরে যে সব মন্তব্য হয়েছে সে দিকে নজর দেবো। খাশোগিকে হত্যা করলে সৌদি আরবকে মারাত্মক শাস্তি পেতে হবে শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৩ অক্টোবর। এ খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেছেন,যদি প্রমাণ হয়,ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে সৌদি আরব হত্যা করেছে তাহলে দেশটিকে মারাত্মক শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
ফেসবুকের গ্রুপে এ খবরে মোহাম্মদ আদেল মাহি খান যে মন্তব্য করেছেন তা আকারে একটু বড়। তবে এখানে তার পুরো বক্তব্য তুলে ধরছি। তিনি লিখেছেন, আমেরিকা এই নাটক করছে একথা বোঝানোর জন্য যে, সবকিছু নিরপেক্ষভাবে হচ্ছে। হয়তো সৌদি যদি জড়ায়ও তবে এই ইস্যু করে ট্রাম্প সৌদি আরবের কাছ থেকে আরো বেশি ছাড় আদায় করবে। এবং হয়তো কথার যুদ্ধ হবে মুসলিম বিশ্বে সৌদির ইমেজটা ফিরিয়ে আনার জন্য। অথবা হয়তো আমেরিকা চাইছে সৌদির প্রয়োজনীয়তা শেষ তাই এটাকে কেন্দ্র করে সৌদিকে ধরতে....পিকচার আবি ভি বাকি হ্যয় বস!
বহলুল: ঠিক বলিয়াছেন, রংঢং এখনো অনেক বাকি... ঠিকই বলেছেন।

"আরব দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির জন্য ‘ইরান-আতঙ্ক’ ছড়াচ্ছে আমেরিকা" শীর্ষক খবরটিও ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছে। এ খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ’র মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন,মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর কাছে সমরাস্ত্র বিক্রির জন্য এ অঞ্চলে ‘ইরান-আতঙ্ক’ ছড়াচ্ছে আমেরিকা।
এ খবরে আমাদের পুরনো শ্রোতা ও পাঠক বন্ধু মানসুর ঘোরী মন্তব্য করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে রাজতন্ত্র নিপাতের সুর বেজে উঠেছে। অন্যদিকে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাকিল আহমেদ লিখেছেন ঠিকই বলেছেন তিনি।
এদিকে ভারত আমাদের সম্মানজনক প্রতিদান দিচ্ছে না শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১১ অক্টোবর। এ খবরে বলা হয়েছে, পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুর মতো ঢাকার দু'টি বড় উদ্বেগ নিরসনে ভারতকে সত্যিকারের প্রচেষ্টা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানীর ঢাকার একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: ভবিষ্যতের পূর্বাভাস’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
ওয়েবসাইটের খবরে এতে মন্তব্য করেছেন মো সাইফুর হক। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রত্যাশার চাইতেও শত গুণ বেশী পেয়েছে ভারতীয়রা। বিনিময়ে আমরা শুধু আশ্বাসই পেয়েছি ভুঁরিভুঁরি। ভারত প্রতিবেশীর ন্যায্য অধিকারকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের পাওয়াটাকেই বড় করে দেখছে।
বহলুল: অনেক সময় কিছু কথা থাকে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশই খুঁজে পাওয়া যায় না। এদিকে আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে।
হ্যা। এবার বিদায় নিতে হবে। পৃথিবীতে নতুন ভোর আর্বিভূত হোক এই কামনা করে বন্ধুরা আজ এখানেই বিদায় চাইছি।#
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন