জানুয়ারি ২৮, ২০১৯ ০৯:৪২ Asia/Dhaka
  • বিদেশে পলাতক খুনি-অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৮ জানুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনার প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতেই দেখে নেব ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রধান প্রধান বাংলা দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • বিদেশে পলাতক খুনি-অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক।
  • সাক্ষাৎকারে ডা. দীপু মনি: শিক্ষার মানোন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য- দৈনিক সমকাল
  • ‘দুদকের চাপ সহ্যর ক্ষমতা কারও নেই’- দৈনিক প্রথম আলো
  • শপথ না নেয়ার বিষয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ: রিজভী- দৈনিক মানবজমিন
  • শপথ নিচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের সুলতান মনসুর-মোকাব্বির- দৈনিক যুগান্তর
  • মুক্তি পেলেন ব্যারিস্টার মইনুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে ১২১তম- দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • ‘হিন্দু মেয়েদের ছুঁলে হাত কেটে নেব’, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে টুইট-যুদ্ধ- দৈনিক আনন্দবাজার
  • স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি না দেওয়াই ভাল, নীতিন গডকড়ির মন্তব্যে অস্বস্তিতে বিজেপি
  • রামমন্দির মামলা ২৪ ঘণ্টায় সমাধান করে দেব, সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ যোগীর- দৈনিক বর্তমান

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

বিদেশে পলাতক খুনি-অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিদেশে পলাতক দণ্ডিত সব খুনি ও অপরাধীদের সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারে চাপ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে চাপে রাখার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। তারাও চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাক।

সাক্ষাৎকারে ডা. দীপু মনি: শিক্ষার মানোন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য- দৈনিক সমকাল

নতুুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষাখাতে গত ১০ বছরে অনেক বড় কাজ হয়েছে। বড় বড় অর্জন রয়েছে। সেইসব অর্জনকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে শিক্ষাখাতের বিষয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ইশতেহার ধরে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। ইশতেহার মানে জনগণের সঙ্গে সরকারের চুক্তি। এ ব্যাপারে তিনি শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।

সমকালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি শিক্ষা নিয়ে তার পরিকল্পনা ও ভাবনা তুলে ধরেন। নিজ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির ব্যাপারে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, এ মন্ত্রণালয়ও তার বাইরে নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে দুর্নীতি আগের চেয়ে কমেছে। তথ্য অধিকার আইন, তথ্য কমিশন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল- এ সবই দুর্নীতি কমানোর অংশ। গণমাধ্যমেরও ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তাই দুর্নীতি সর্বত্র কমতে বাধ্য। মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালীদের দুর্নীতি দমন কমিশন ডাকবে, আগে এটা কেউ ভাবেননি। এখন দুদক একটা ভয়ের নাম। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে অভিযোগ এলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের চাপ সহ্যর ক্ষমতা কারও নেই- দৈনিক প্রথম আলো

কারও চাপের কাছে মাথা নত না করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, চাপ সহ্য করতে না পারলে চাকরি ছেড়ে চলে যান। তবে দুদকের চাপ সহ্য করার মতো ক্ষমতা কারও নেই। দুদকের কাছ থেকে চাপওয়ালারা বাঁচতে পারবেন না।

আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সভায় মানুষের হয়রানি বন্ধ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, কাস্টমসের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। দুদক মামলার কমিশন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করতে হবে বলে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন তিনি।

শপথ না নেয়ার বিষয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ: রিজভী- দৈনিক মানবজমিন

৩০ ডিসেম্বরের ভোটে নির্বাচিতরা শপথ না নেয়ার বিষয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কোন প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে শপথ গ্রহণ করবে কিনা এমন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে এখনো বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ আছে। যে কোনো বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন,  নির্বাচনী ট্রইব্যুনালে মামলা করবেন প্রত্যেক প্রার্থী। দলীয়ভাবে এটা করা হবে না। প্রত্যেকে তার ইচ্ছামতো সময়ে মামলা করবেন। লিখত বক্তব্যে তিনি বলেন,  জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি।

কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোটারবিহীন ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়েছে। সুতরাং নির্বাচনোত্তর সরকার নিজেকে যে নামেই অভিহিত করুক, সেটি অবৈধ সরকার। এই সরকার রাতের আঁধারের ভোটের সরকার। অথচ আওয়ামী লীগ বলছে-তাদের প্রার্থীরা নাকি লাখ লাখ ভোটে বিজয়ী হয়েছে। প্রকৃত ভোটাররা এই কথায় নিজেদের অধিকার হারিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে। তিনি বলেন,রাষ্ট্র এমন এক ভয়াবহ একদলীয় রুপ ধারণ করেছে যেখানে অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার কোন জায়গা নেই। এত বড় মহাভোট ডাকাতি ও মহাভোট জালিয়াতির নির্বাচন গোটা জাতির সামনে সংঘটিত হলো, অথচ নির্বাচন কমিশন জানালো যে, নির্বাচনে কোন অনিয়ম হয়নি।

শপথ নিচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের সুলতান মনসুর-মোকাব্বির- দৈনিক যুগান্তর

৩০ ডিসেম্বরের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রতিনিধি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।তারা হলেন-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান।

ঢাকসু সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সুলতান মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আর সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গণফোরামের মোকাব্বির খান।সুলতান মনসুর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেছেন। আর সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় গণফোরাম নেতা মোকাব্বির ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন নিয়ে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মনসুর শপথ নেয়ার তথ্য তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, সিলেট-২ আসনে নির্বাচিত মোকাব্বির খানও শপথ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ নেয়ার বিষয়ে আমার নেতা ড. কামাল হোসেন সবসময় ইতিবাচক। আমরা দু’জনই (সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির) শপথ নেব।

মুক্তি পেলেন ব্যারিস্টার মইনুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। মানহানির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পর জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি।

গত রাত ৯টায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। ঢাকার জেলার মাহবুবুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মইনুল হোসেন। সেখান থেকেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে উদ্যোগী হওয়ার মধ্যে এক টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে ২০টির মতো মামলা হয়।

এরপর ২২ অক্টোবর রংপুরের এক মানহানির মামলায় মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এর ফলে, তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা। মানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোববার জামিন পেয়েছেন।  

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মোমানহানির অভিযোগে করা ১৫ মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে, তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে ১২১তম- দৈনিক ইনকিলাব

সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বাধীনতার প্রশ্নে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম। ২০১৯ সালের জন্য প্রস্তুত করা সূচকে বাংলাদেশের প্রাপ্ত নম্বর ৫৫.৬। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে সাত ধাপ। নম্বর বেড়েছে বেড়েছে শূন্য দশমিক পাঁচ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের জানিয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর গড় নম্বর (৬০.৬) ও বৈশ্বিক গড় নম্বর (৬০.৮)। যার অর্থ, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা এখনও ‘প্রায় না থাকার সমান’ (মোস্টলি আনফ্রি)। তবে বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় বেড়েছে উৎপাদনশীলতা। ব্যবসা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ আগের চেয়ে কিছুটা সরল হয়েছে। বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ১৯৭৩ সালে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত। হেরিটেজ ফাউন্ডেশন প্রতিবছর ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচক’ প্রকাশ করে থাকে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মাত্রা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, সরকারি আয়-ব্যয়ের পরিমাণ, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নগত দক্ষতা এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলোকে ভিত্তি করে নম্বর হিসেব করা হয়। সংস্থাটির প্রণীত ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম। ভারতের অবস্থান ১২৯তম। পাকিস্তানের ১৩১তম। নেপাল আছে ১৩৬তম অবস্থানে। শ্রীলঙ্কার ১১৫তম। চীনের অবস্থান তালিকায় ১০০তম। প্রথম তিনে আছে যথাক্রমে হংকং, সিঙ্গাপুর ও নিউ জিল্যান্ড। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

হিন্দু মেয়েদের ছুঁলে হাত কেটে নেব, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে টুইট-যুদ্ধ- দৈনিক আনন্দবাজার

উস্কানিমূলক মন্তব্য। তার প্রেক্ষিতে উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন। জবাবে ফের বিতর্কিত মন্তব্য। ধারাবাহিক ভাবে এমনই টুইট যুদ্ধে জড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ে এবং কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও। মন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, “হিন্দু মেয়েদের গায়ে হাত দিলে হাত কেটে নেওয়া হবে।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় টুইট যুদ্ধ। গুন্ডু রাও রাজনৈতিক ভাবে প্রশ্ন তুললেও হেগড়ের পর পর বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে সরগরম কর্নাটকের রাজনীতি।

রবিবার কর্নাটকের কোদাউগু জেলার সোমরপেট এলাকার মাদাপুরা গ্রামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হিন্দু জাগরণ বেদিকে নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। সেখানে যোগ দেন উত্তর কর্নাটকের পাঁচ বারের বিজেপি সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ে। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘কেউ হিন্দু মহিলাদের গায়ে হাত দিলে তাঁর হাত কেটে নেওয়া হবে।’’ এর পাশাপাশি তাজমহলেরও বিতর্কিত ব্যাখ্যা দিয়ে হেগড়ে বলেন, ‘‘তাজমহল আগে হিন্দু শিবমন্দির ছিল। রাজা পরমতীর্থ সেই মন্দির নির্মাণ করে নাম দিয়েছিলেন ‘তেজো মহালয়’। সেটাই পরে তাজমহল হয়ে যায়।’’ এর পর মন্ত্রীর উস্কানি, ‘‘এ ভাবে যদি আমরা ঘুমিয়ে থাকি, তাহলে একদিন আমাদের বাড়িঘরের নামও বদলে হয়ে যাবে মসজিদ। রামকে জাহাপনা বলে ডাকা হবে। সীতা হয়ে যেতে পারেন বিবি।’’

স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি না দেওয়াই ভাল, নীতিন গডকড়ির মন্তব্যে অস্বস্তিতে বিজেপি- দৈনিক আজকাল

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকড়ির ভূমিকা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে কয়েক মাস ধরে। তাঁর একাধিক মন্তব্য বিজেপিকে অস্বস্তি ফেলেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। আর রবিবার তিনি যা বললেন সেটাকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বার্তা বলে মনে করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। মুম্বইতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌রাজনৈতিক নেতারা স্বপ্ন দেখান কিন্তু তা পূরণ করতে না পারলে মানুষ তাঁদের জবাব দিতে পারেন। তাই অসম্ভব কোনও কথা না দেওয়াই ভাল। আমি অকারণ স্নপ্ন দেখাই না। আমি যা বলি তাঁর একশো শতাংশই বাস্তব।’‌ এই মন্তব্যের পরই গেরুয়া শিবিরে তাঁকে নিয়ে আলোচনা হতে থাকে।    

এই মন্তব্যের পর আক্রমণ শানায় কংগ্রেসও। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের তরফে টুইটে লেখা হয়, ‘‌প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন নীতিন গডকড়ি। মোদিজি দেশের জনতা আসছে।’‌ কয়েক মাস আগে দেশের ৫টি রাজ্যের মধ্যে তিনটিত হেরে যায় বিজেপি। এই তিনটিতেই দীর্ঘ দিন সরকারে ছিল তারা। সে সময় গডকড়ি বলেছিলেন, ‘‌সাফল্য এলে সবাই তার ভাগ নিতে চায় কিন্ত ব্যর্থতার দায় কেউ নেয় না।’‌ একদিন বাদেই অবশ্য অবস্থান বদলে নেন মোদি মন্ত্রিসভার এই প্রবীণ সদস্য। প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি অভিযোগ করেন বিরোধী দল এবং সংবাদ মাধ্যমের একাংশ তাঁর সঙ্গে  দলের শীর্ষ নেতাদের দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে। তাই জন্য তাঁর মন্তব্যকে বিকৃত করে পেশ করা হচ্ছে।

রামমন্দির মামলা ২৪ ঘণ্টায় সমাধান করে দেব, সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ যোগীর- দৈনিক বর্তমান

সুপ্রিম কোর্টে সাংবিধানিক বেঞ্চে মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কথা ছিল রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে মামলার শুনানি। কিন্তু বিচারপতি এস এ বোবদে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে, তা বাতিল করার কথা রবিবার রাতে জানানো হয়।

কিন্তু তার আগে ফের রামমন্দির ইস্যুতে সরব হলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সরাসরি তিনি সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘শীর্ষ আদালত সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে রাম জন্মভূমি নিয়ে মামলা আমাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করে ফেলব। আমরা ২৫ ঘণ্টাও সময় নেব না’। একটি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলার নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে। এভাবে মামলার শুনানি এগলে মানুষ অধৈর্য হয়ে উঠবেন। প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে মানুষের বিশ্বাসও উড়ে যাবে। তিনি দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির আর্জি জানিয়ে দাবি করেন, ওই স্থানে মন্দির ভেঙে বাবরি মসজিদ গড়া হয়েছিল। এই সংক্রান্ত বহু প্রমাণও তাঁদের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার সমাধান এবং তিন তালাক বন্ধ হয়ে গেলে এনিয়ে ইস্যু করার রাজনীতিতে ইতি পড়বে। ফলে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটবে।

যদিও বছরের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযোধ্যা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। বিষয়টি শীর্ষ আদালতের উপর ছেড়ে দিয়ে এনিয়ে অর্ডিন্যান্স আনার দাবিও উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এবিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে, তখন কেন্দ্রীয় সরকার যা করণীয় তাই করবে।

তো শ্রোতাবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসর নিয়ে আবার আমরা হাজির হব আগামীকাল।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮