ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ ১৩:৩৬ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৫ ফেব্রুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনার প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতেই দেখে নেব ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রধান প্রধান বাংলা দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • চট্টগ্রামের পথে বিমান ছিনতাই চেষ্টা: কমান্ডো অভিযানে অস্ত্রধারী যুবক নিহত- দৈনিক ইত্তেফাক
  • বিমানে অস্ত্র নিয়ে কীভাবে উঠল মাহাদি?- দৈনিক প্রথম আলো
  • সারাবিশ্ব বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশের দিকে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • পিলখানা হত্যাকণ্ডের একদশক, প্রকাশ হয়নি পূর্ণাঙ্গ রায়- দৈনিক মানবজমিন
  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল
  • সংবাদ সম্মেলনে রিজভী: খালেদা জিয়ার চারপাশে ‘বিস্ফোরকের ডিপো’- দৈনিক যুগান্তর
  • কেমিক্যাল গুদামের জন্য শিগগিরই জমি অধিগ্রহণ: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:

  • কুম্ভস্নান সেরে দলিতের পা ধুয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী- দৈনিক আনন্দবাজার
  • রাফাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে সন্দেহ ছিল না:‌ প্রতিরক্ষামন্ত্রী- দৈনিক আজকাল
  • পাল্টি খেল পাকিস্তান: দু’দিনের মধ্যে জয়েশের সদর দপ্তর পরিবর্তিত হল মাদ্রাসা ও মসজিদে- দৈনিক বর্তমান

চট্টগ্রামের পথে বিমান ছিনতাই চেষ্টা: কমান্ডো অভিযানে অস্ত্রধারী যুবক নিহত- দৈনিক ইত্তেফাক

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ: চট্টগ্রামের পথে বিমান ছিনতাই চেষ্টার খবরটি আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রায় সবগুলো দৈনিক প্রধান শিরোনামের মর্যাদা দিয়েছে।  এ সম্পর্কে দৈনিক ইত্তেফাক ‘চট্টগ্রামের পথে বিমান ছিনতাই চেষ্টা’ শিরোনামের প্রধান খবরে লিখেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। একজন অস্ত্রধারী বিমানের ক্রু ও যাত্রীদের জিম্মি করে বিমানটি অন্যদিকে নিয়ে যেতে চাইছিলেন। পরবর্তীতে পাইলট বিমানটি চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কমান্ডোরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিমানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অস্ত্রধারী ওই যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বের করে আনেন তারা। পরে যুবকের মৃত্যু হয়। তার নাম মাহাদী বলে জানা যায়। ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বেড়াজাল ডিঙিয়ে অস্ত্র নিয়ে রবিবার বিমানের দুবাইগামী ফ্লাইটে উঠে পড়েন ওই ব্যক্তি। বিমানের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের ‘ময়ূরপঙ্খী’ নামের ওই উড়োজাহাজটিতে ১৪৩ যাত্রী এবং ৫ ক্রু ছিলেন।

সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার ব্রিফিংয়ে জানা যায়, বিকাল ৫টা ১৩ মিনিটে বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। সেখানে কিছু যাত্রী নামিয়ে এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের নিয়ে বিমানটির দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।

বিমানে অস্ত্র নিয়ে কীভাবে উঠল মাহাদি?- দৈনিক প্রথম আলো

দুই দফা নিরাপত্তা তল্লাশি। এরপরই বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ঢুকতে হয় যাত্রীকে। কিন্তু নিশ্ছিদ্র ও নিখুঁত নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে এক ব্যক্তি আজ রোববার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খীতে বসে পড়লেন। উড্ডয়নের পর অস্ত্র বের করে বিমানটি ছিনতাইয়েও চেষ্টা করেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু কীভাবে বিমানবন্দর দিয়ে উড়োজাহাজে ঢুকে পড়লেন লোকটি? এমন প্রশ্ন করছেন যাত্রী, বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

তাঁদের মতে, যদি সত্যিকারের অস্ত্র নিয়ে তিনি ঢুকে যান বিমানে, তাহলে এটা পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ঘাটতির কারণেই হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের যাত্রী নিয়েই আজ বিকেলে বিমানটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রওনা হয়। এভাবে বিমান ছাড়াও দেশের অন্যান্য বেসরকারি বিমান সংস্থাও যাত্রী বহন করে থাকে। আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল দিয়ে দুই দফা তল্লাশির পর বোর্ডিং ব্রিজ দিয়ে উড়োজাহাজে ঢুকতে পারেন। অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের এক দফা তল্লাশি করা হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল দিয়ে ঢুকে তল্লাশির পর উড়োজাহাজে যেতে হয়। বাংলাদেশে পুরো তল্লাশির কাজটি করে থাকে এভসেক। আগে যাত্রীদের তল্লাশির কাজটি করত সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এভসেক রয়েছে বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।

সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম নাইম হাসান সাংবাদিকদদের বলেন, ‘আমরা তদন্ত করলে সবই চলে আসবে। আমরা তদন্ত করব। সিসিটিভি আছে, সেটি চেক করব। আমাদের মেশিনে সিসিটিভি আছে, সবগুলো চেক করব। কারণ, এই মেশিনের ভেতর দিয়ে যদি নেইল কাটার, খেলনা পিস্তল, ছুরি ধরা পড়তে পারে, তাহলে এগুলো ধরা হবে না—জিনিসটা খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। তদন্ত হোক তাহলে দেখা যাবে।’

সারাবিশ্ব বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশের দিকে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক নয়াদিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফূলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বহুল প্রতীক্ষিত কর্ণফুলী টানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধনকালে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলবেন যেন সমগ্র বিশ্ব অবাক হয়ে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলবো, যেন সারাবিশ্ব বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে বাংলাদেশের দিকে। এটাই আমার চাওয়া, আর কিছু না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার অপরাহ্নে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (সুড়ঙ্গ পথের) নির্মাণের বোরিং (খনন) কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে একথা বলেন। শেখ হাসিনা যোগ করেন, ‘কোন নামও চাই না, কোন ধন-সম্পদও চাই না, কিচ্ছু চাই না। বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে, এটাই আমার চাওয়া। সে কারণেই চেষ্টা করি নতুন নতুন কিছু করার যেন বাংলাদেশের মানুষ সম্মানের সাথে চলতে পারে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে চিনের রাষ্ট্রদূত জ্যাং জোউ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে টানেলের নির্মাণ কাজের কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিসিসি) পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে টানেলের একটি রিপ্লিকা উপহার দেয়া হয়।

পিলখানা হত্যাকণ্ডের একদশক, প্রকাশ হয়নি পূর্ণাঙ্গ রায়- দৈনিক মানবজমিন

২০০৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহে নৃশংসভাবে নিহত হন উর্ধ্বতন ৫৭ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন। সেই হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট আংশিক রায় ঘোষণা করলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি এখনও। পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেতে আরও বিলম্ব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় দায়রা জজ আদালত ১৫২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পায় ১৫৯ আসামি। পাশাপাশি ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পায় ২২৮ আসামি।

২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ রাইফেলস এর সদস্যরা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা পিলখানা এলাকায় অবস্থিত বিডিআর সদরদপ্তরে বিডিআর থেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের কর্তৃত্বের অবসান, রেশন ও বেতনবৈষম্য দূর করাসহ বেশ কিছু দাবিতে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহে উর্ধ্বতন ৫৭ জন কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়, যা সারা দেশকে আতঙ্কিত করে তোলে। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও রাশিয়া আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এর ফলে এ অঞ্চলের বৃহত্তর স্বার্থে এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সহজ হয়েছে।রোববার রাজধানীর এফডিসি মিলনায়তনে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকের ধারণা, জাতিসংঘে কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করলেই তার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু অতীতে অনেক ঘটনা আছে, যেগুলোর সুরাহা জাতিসংঘ করতে পারেনি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের উদ্যোগ রয়েছে। আর বাংলাদেশ এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

আব্দুল মোমেন বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান (সেফ জোন) প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। এ ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকারও পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে এ সংকট শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া আরও সহজ হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী: খালেদা জিয়ার চারপাশে বিস্ফোরকের ডিপো- দৈনিক যুগান্তর

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের কাছেই অবস্থিত নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে বিএনপি।রোববার নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের সঙ্গে বলছি, আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা খালেদা জিয়াকে যে পরিত্যক্ত কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তার চারপাশে রাসায়নিক বিস্ফোরকের ডিপো।’

অল্প দূরত্বে এমন একটি পরিবেশে নির্ঘুম উৎকণ্ঠায় রাত কেটেছে চরম অসুস্থ খালেদা জিয়ার।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘২০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শহীদ মিনারে যাওয়া উপলক্ষে রাত ১০টা থেকে আশপাশের রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দেয়ায় পুরান ঢাকার উর্দু রোড, চানখাঁরপুল, নাজিমউদ্দিন রোডে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়েছিল।

এত জীবনহানিতে গভীর মর্মবেদনা ও দুঃখের কারণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল শহীদ মিনারের কর্মসূচির কিছুটা পরিবর্তন করে প্রশাসনকে আগুন নেভানোর কাজে সর্বাত্মক চেষ্টার নির্দেশ দেয়া। তাদের এহেন দায়িত্বহীন আচরণের কারণে মানুষের মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে।’

কেমিক্যাল গুদামের জন্য শিগগিরই জমি অধিগ্রহণ: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী- দৈনিক সমকাল

রাজধানীতে থাকা কেমিক্যাল গুদামগুলো সরানো হবে কেরানীগঞ্জে। এ জন্য তিন মাসের মধ্যে কেরানীগঞ্জে ৫২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়  রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. এনামুর বলেন, চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখভালের জন্য মন্ত্রণালয়ের ৬টি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশগুলো বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে ২০১০ সালের নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে ১৭টি সুপারিশ এসেছিল সেগুলোর সঙ্গে এর মিল রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্প ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদনগুলো যাতে যথাসময়ে আসে সে বিষয়েও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অগ্নিনির্বাপণের জন্য রাজধানীতে পৃথক পানির লাইন স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন এলাকার পুকুর ও খালগুলো খনন করা হবে। চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পানি পাননি। পরে তারা কেন্দ্রীয় কারাগার ও বিভিন্ন বাসা থেকে পানি এনেছেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে ২২০ কোটি টাকার অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে আরও আধুনিকায়ন করার জন্য শিগগির এক হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দেওয়া হবে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

কুম্ভস্নান সেরে দলিতের পা ধুয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী- দৈনিক আনন্দবাজার

কিছু ক্ষণ আগেই কুম্ভের সঙ্গমে ডুব দিয়ে এসেছেন। মাথায় সাদা চন্দন লেপা। পরনে গেরুয়া কুর্তা। একটা নিচু টুলে বসেছেন নরেন্দ্র মোদী। সামনে চেয়ারে বসে পেয়ারে লাল, ছবি, হোরি লাল, নরেশ কুমার, জ্যোতি। পাঁচ জনেই সাফাই কর্মচারী। কুম্ভে ঝাড়ু হাতে, আবর্জনা সাফাইয়ে ব্যস্ত ছিলেন এ ক’দিন। এ তাঁদের নিত্যদিনের কাজ।

আজ থেকে তাঁদের দিনটাই বদলে গেল! এ দিন কুম্ভে স্নান সেরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পা ধুইয়ে দিলেন যে! প্রথমে ঝকঝকে নতুন পাত্রে রাখা জল ঢেলে পা ধুইয়ে দিলেন। তার পর নতুন তোয়ালে দিয়ে সকলের পা মুছিয়ে দিলেন অতি যত্নে। তার পরে গলায় পরিয়ে দিলেন অঙ্গবস্ত্র।

পুরোটাই টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হল। ‘ফ্ল্যাশব্যাক’-এ অনেকের স্মৃতিতে ফিরে এল, এক সময় মহাত্মা গাঁধীও এ ভাবেই সাফাই কর্মচারীদের সম্মান জানাতেন। গাঁধীর নামে ভর দিয়েই মোদী ক্ষমতায় এসে শুরু করেছিলেন স্বচ্ছতা অভিযান। নিজে হাতে ঝাড়ু দিয়েছিলেন রাজপথে। আজ সাফাইকর্মীদের পা ধুইয়ে তিনি একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন। অনেকে বলছেন, কখনও গাঁধী, কখনও পটেল, কখনও নেতাজি— নানা রূপে মোদী নিজেকে মনীষী প্রতিপন্ন করারই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাফাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে সন্দেহ ছিল না:‌ প্রতিরক্ষামন্ত্রী- দৈনিক আজকাল

রাফাল বিতর্কের প্রথম থেকেই কংগ্রেস অভিযোগ করছে বিমানের সংখ্যা কমিয়েছে এনডিএ সরকার। ইউপিএ আমলে যখন চুক্তি হয় তখন ঠিক ছিল ১২৬টি বিমান কেনা হবে। কিন্তু এনডিএ সরকার ৩৬টি বিমান কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। রবিবার ফের এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তিনি বলেন, ‘‌যুদ্ধ বিমানের প্রয়োজন সব সময় একরকম থাকে না।’‌ আমেদাবাদে নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আলোচনায় রাফাল চুক্তি নিয়ে বক্তব্য রাখার পর সাংবাদিকদের নির্মলা এই কথা জানান। তাঁর কথায় ২০০১ সালে ১৩৬টি যুদ্ধ বিমানের প্রয়োজন ছিল। এখন আর তা নেই। এখন আননেমড এরিয়াল ভেহিক্যাল আছে। প্রশিক্ষিত সৈনিককে যুদ্ধ বিমান নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমেছে। এটার থেকেই বোঝা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন বদলে যায়। যদিও এটাকে অবাস্তব যুক্তি বলছেন বিরোধীরা।

রবিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌ইউপিএ আমলের চুক্তি অনুযায়ী ফ্লাইওয়ে কন্ডিশনে মাত্র ১৮টি যুদ্ধবিমান আসত। কিন্তু আমরা ওই অবস্থায় ৩৬টি বিমান আনার চুক্তি করছি। নতুন চুক্তির কার্যকারিতা অনেক বেশি। সেপ্টেম্বর মাসেই আসবে প্রথম যুদ্ধবিমান। তাঁদের সরকারকে হ্যালকে ৮৩টি কম ওজনের যুদ্ধবিমান তৈরির বরাত দিয়েছে।’‌ রাফাল কেনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কোনও ভূমিকা পালন করেছিল কিনা তা নিয়ে জলঘোলা হয়েছে। যা খারিজ করে দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি এবং তাঁর আগে দায়িত্বে থাকা দুই বিভাগীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং মনোহর পার্রিকর কারও সন্দেহ নেই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে। কোনওদিন ছিলও না।

পাল্টি খেল পাকিস্তান: দুদিনের মধ্যে জয়েশের সদর দপ্তর পরিবর্তিত হল মাদ্রাসা ও মসজিদে- দৈনিক বর্তমান

সন্ত্রাস দমনে পদক্ষেপের কথা বলে দু’দিনে মধ্যে পাল্টি খেল পাকিস্তান। গত শুক্রবার ভাওয়ালপুরে জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের দুটি সদর দপ্তর প্রশাসন দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন সেদেশের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। সেই বক্তব্য থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে শনিবার তিনি বলেন, মাদ্রাসাতুল সাবির ও জামিয়া-ই-মসজিদ শুভনআল্লাহ হল মাদ্রাসা ও মসজিদ। এরপরই পাকিস্তান দাবি করে, ভারত ষড়যন্ত্র করে এগুলিকে জয়েশের সদর দপ্তর বলে চালাচ্ছে। এইগুলির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। উল্লেখ্য, পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় চল্লিশের বেশি সেনা শহিদ হওয়ার ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল এই জঙ্গি গোষ্ঠী।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে বৈঠকে বসে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সেই বৈঠকে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকার জয়েশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই জঙ্গি সংগঠনের সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিতি মাদ্রাসাতুল ও জামিয়া-ই-মসজিদ দখল নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্যমন্ত্রী সেকথা জানিয়েও দেন।

শনিবার, মাদ্রাসা ও মসজিদটির সঙ্গে জয়েশের যে কোনও সম্পর্ক নেই, তা প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগে পাকিস্তান। স্থানীয় পুলিস বেশ কিছু সাংবাদিককে ভাওয়ালপুরের মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। পুলিস দাবি করে, এই মাদ্রাসার ৬০০-র মতো পড়ুয়া পড়াশুনো করে। ৭০ জন শিক্ষক রয়েছেন এতে। তাদের কেউই কোনওরকম জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নয়। সাংবাদিকরা পড়ুয়াদের জয়েশ, মাসুদ আজহারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তারা কেউই এদের ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানিয়েছে। তবে পড়ুয়াদের আগে থেকেই এই বিষয়ে শিখিয়ে-পড়িয়ে রাখা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন এক সাংবাদিক।

তো শ্রোতাবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসর নিয়ে আবার আমরা হাজির হব আগামীকাল।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৫