জুন ২৮, ২০২০ ১২:০৫ Asia/Dhaka

নাসির মাহমুদ: সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। আজকের আসরে যথারীতি আপনাদের সাথে আছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: প্রত্যেক আসরের মতো আজও আমরা একটি হাদিস শুনিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করব। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, 'কোনো ব্যক্তি তোমাদেরকে উপকার করলে তাকে তার বিনিময় দেবে। আর যদি তোমাদের কিছু না থাকে তাহলে প্রশংসা করো। কেননা নিশ্চয় প্রশংসা হলো প্রতিদান।'

আকতার জাহান: চমৎকার একটি হাদিস শুনলাম। আমরা সবাই উপকারী ব্যক্তিকে প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করব- এ প্রত্যাশায় চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের বগুড়ার চাঁদনি বাজার থেকে। আর লিখেছেন মো. সাইফুল ইসলাম। সালাম ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন-

নাসির মাহমুদ: 'আমি আপনাদের রেডিও তেহরানের একজন পুরোনো শ্রোতা। এক সময় প্রচুর লেখালেখি  করতাম। বর্তমানে আপনাদের অনুষ্ঠান ওয়েব সাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই শুনতে পাচ্ছি। আশা করছি এখন থেকে আপনাদের অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে শুনব এবং ই-মেইল করব'

চিঠির একাংশে এ শ্রোতাভাই জানিয়েছেন- পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, বিশ্বসংবাদ ও সংবাদ ভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত তার বেশ ভালো লাগে।

আশরাফুর রহমান: ভাই সাইফুল ইসলাম, দীর্ঘদিন পর আবারো চিঠি লেখা শুরু করেছেন এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন দেখে ভালো লাগছে। আশা করি নিয়মিতই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ হবে।

আকতার জাহান: আসরের পরের চিঠিটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের নওপাড়া শিমুলিয়া থেকে। আর লিখেছেন এস এম জাকির হোসেন। তার চিঠিটি আমি হুবহু পড়ে শোনাচ্ছি-

"আমি রেডিও তেহরানের ৯০ দশকের শ্রোতা। আমি আপনাদের অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনতাম। কিন্তু বতমানে বিভিন্ন কাজের চাপে অনুষ্ঠান শোনা হয়ে ওঠে না। এখন অনলাইনে আসার পর থেকে আবারও নতুন উদ্যমে অনুষ্ঠান শুনতে শুরু করেছি। অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতা ঘোষণা করেছেন দেখে ভালো লাগল।  

নাসির মাহমুদ: নতুন উদ্যোমে অনুষ্ঠান শোনা শুরুর পাশাপাশি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আসরের এবারের চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার ঘোড়াদাইড় ‘মধুমতি বেতার শ্রোতা সংঘ’ থেকে। আর লিখেছেন তাছলিমা খানম সুমী।  তিনি লিখেছেন- ২ জুন 'ইরানি পণ্য-সামগ্রী' অনুষ্ঠানে ইরানে 'ডুমুর' এর ব্যাপক উৎপাদন ও এর উপকারিতা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জেনেছি। পরবর্তী পর্বে ইরানি 'জিরা' উৎপাদন বিষয়ে জানানোর অনুরোধ করছি। 

আশরাফুর রহমান: 'ইরানি পণ্য-সামগ্রী' অনুষ্ঠানে ইরানি জিরা নিয়ে আলোচনা এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। আপনি ইচ্ছে করলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অনুষ্ঠানটি শুনতে পারেন। তবে, আপনার কৌতুহল মেটাতে সংক্ষেপে শুধু এটুকু বলতে চাই যে, ইরানি জিরার সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়েবিশ্বের অন্তত চল্লিশ ভাগ জিরা ইরানেই উৎপাদিত হয়। ইরানে জিরা চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করা এখানে অনেক দিন থেকেই ব্যাপক মাত্রায় জিরা চাষ হচ্ছে।

আকতার জাহান: বেশকিছু চিঠির জবাব তো দেয়া হলো এবার নাহয় এক শ্রোতাবন্ধুর সঙ্গে কথা বলি!

নাসির মাহমুদ: ভালো কথা মনে করেছেন আপনি। আজ আমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য টেলিফোনের অপর প্রান্তে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশি শ্রোতা মো. লাল মিয়া। তার সাক্ষাৎকারটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন।  

আশরাফুর রহমান:  ভাই লাল মিয়া, আপনার সঙ্গে কথা বলে আমাদের ভালো লাগল। আশা করি নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন।

আকতার জাহান: ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জের প্রত্যাশা বেতার শ্রোতা সংঘের সভাপতি মোহাম্মদ ছবেদ আলী মাস্টার লিখেছেন এবারের চিঠিটি। 'প্রিয়জন' অনুষ্ঠানকে নতুন রুপে সাজানো ও কুইজ চালুর কারণে রেডিও তেহরান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই চিঠিটি লিখেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি একটি প্রশ্নও করেছেন। জানতে চেয়েছেন- রমজান মাসে আমরা সন্ধ্যা সময় ইফতার করি। কিন্তু ইরানিরা রাত ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে কেন? কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই।

নাসির মাহমুদ: চমৎকার একটি প্রশ্ন করেছেন ভাই ছবেদ আলী। এ প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন ইরানের কোম নগরীতে অবস্থানরত বাংলাদেশি গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ জনাব মুহাম্মদ মুনীর হোসাইন খান  

"ইরানিরা পবিত্র কুরআনের সূরা - ই বাকারার ১৮৭ নং আয়াত : অত:পর তোমরা রাত পর্যন্ত রোযা পূর্ণ কর : ثُمَّ أَتِمُّوْا الصِّیَامَ إِلَی اللَّیْلِ এবং মহানবীর (সা.)  পবিত্র আহলুল বাইতের (আ.) শিক্ষা , আদেশ ও রীতি নীতি অনুসরণ করার কারণে রাত হওয়া পর্যন্ত ইফতার করে না অর্থাৎ রাত পর্যন্ত রোযা পূর্ণ করেন ; অত:পর রাত হলে তারা ইফতার করে । সূর্য্য অস্ত গেলে অর্থাৎ সূর্য্য পশ্চিমে  আদিক চক্রবাল রেখার নীচে অদৃশ্য হয়ে গেলেই কি তখন ইফতারের সময় হয়ে যায়? আহলুল বাইতের (আ.) মতে এ সময় মাগরিবের নামাজ ও ইফতারের ওয়াক্ত (সময়) হয় না। বরং সূর্য্যাস্ত হলে পূর্ব দিগন্তে (পূব আকাশে ) এক লালিমা দৃষ্ট হয় তা কিছু ক্ষণ অর্থাৎ ১২ মিনিট পরে বিলীন হয়ে যায় এবং ফিকহী পরিভাষায় এই লালিমা হচ্ছে পূর্ব দিগন্তের (পূব আকাশের) লালিমা

( الحمرة المشرقیة )

আর পূব আকাশের এ লালিমা মিটে গেলেই শরয়ী সূর্যাস্ত হয়ে যায় এবং পশ্চিম আকাশে যে লালিমা দৃষ্ট হয় তা হচ্ছে পশ্চিম আকাশের লালিমা বা শাফাক। আর সূর্য্যাস্তের ১ ঘন্টা পরে এই শাফাক (পশ্চিম আকাশে লালিমা) সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। আহলুল বাইতের (আ.) বর্ণিত হাদীস সমূহ অনুযায়ী যখন পূব আকাশে লালিমা বিলীন হয়ে যাবে ঠিক তখনই ইফতারের ওয়াক্ত হবে। আর এই লালিমা বিলীন হওয়ার আগে ইফতার জায়েয হবে না।

শুধু আহলুল বাইতের (আ.) মাযহাবের অনুসারীরাই নয় এমনকি ২য় খলীফা হযরত উমর (রা.) এবং ৩য় খলীফা হযরত উসমান (রা.)ও উভয়ে মাগরিবের নামাজ পড়তেন এমন সময় তখন তাঁরা রাতের আঁধার দেখতে পেতেন। আর তা হত ইফতার করার আগে। অতঃপর তাঁরা ইফতার করতেন। আর এটা হতো রমযান মাসে । (দ্র : মুয়াত্তা ইমাম মালিক, খ: ১, পৃ: ৩৫৮)

 সংক্ষিপ্ত এ আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে রাত হলে অর্থাৎ পূব আকাশের লালিমা বিলীন হয়ে গেলেই ইফতারের প্রকৃত ও সঠিক সময়ের আগমন ঘটে ।

আশরাফুর রহমান: জনাব মুহাম্মদ মুনীর হোসাইন খানের কাছ থেকে প্রশ্নটির উত্তর জানা হল। আশা করি ছবেদ আলী ভাইয়ের কৌতুহল মিটেছে।

আসরের পরের ইমেইলটি এসে ঢাকার গুলশান থেকে। আর লিখেছেন, ভয়েস অব ডি-এক্সিং ক্লাবের প্রধান- প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল আলম রিপন। ক্লাবের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ভয়েস অব ডি-এক্সিং হলো রেডিও শ্রোতা ক্লাব সমূহের দক্ষতা বিনির্মাণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান বিষয়ক একটি রেডিও লিসেনার্স ক্লাব প্লাটফরম।

আকতার জাহান: রিপন ভাই আরো লিখেছেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে বেশ কিছু ক্লাব কোভিড-১৯ ওপর সচেতনতামূলক কাজ এবং গরীব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সকল ক্লাবকে উৎসাহী করে তুলতে ভয়েস অব ডি-এক্সিং “Fighting with COVID-19 Radio Listeners’ Club Award 2020” আয়োজন করেছে। সবশেষে তিনি আমাদের দোয়া আর ভালোবাসা প্রত্যাশা করেছেন।

নাসির মাহমুদ: প্রকৌশলী রিপন ভাই, কোভিড-১৯ ভাইরাসের এই ক্রান্তিকালে আপনারা যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আপনাদের প্রচেষ্টা সফল হোক আমরা এ দোয়াই করছি।

আশরাফুর রহমান: দেখতে দেখতে আমরা আসরের শেষের দিকে চলে এসেছি। আমাদের কাছে আরও যারা চিঠি লিখেছেন এবারে তাদের কয়েকজনের চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করছি যাক:

  • বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার ঘোড়াদাইড় মধুমতি বেতার শ্রোতা সংঘ  ফয়সাল আহমেদ সিপন ও ফারিয়া আহমেদ সুপ্তি
  • মোঃ আকতার হোসেন বাহাদুর লিখেছেন নরসিংদী জেলার বেলাব থানার
    ভাবলা থেকে।

আকতার জাহান:

  • আমিনুল ইসলাম রানা লিখেছেন, গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার
    নিরাপদ সড়ক চাই বেতার শ্রোতা ক্লাব থেকে।
  • মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার ইমামপুর ‘গন্তব্য শ্রোতা সংঘ থেকে ফলারি খানম মুমু
  • এইচ, এম, তারেক লিখেছেন নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদির উৎস ডিএক্স কর্ণার থেকে।

নাসির মাহমুদ: তো যারা কষ্ট করে চিঠি লিখে মতামত জানিয়েছেন তাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আশরাফুর রহমান: কথা হবে প্রিয়জনের আগামী আসরে।

আকতার জাহান: ততক্ষণ আপনারা সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন।