আগস্ট ২৭, ২০২০ ১৩:৩২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ২৭ আগস্ট বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • চীনা কোম্পানিকে ট্রায়ালের অনুমতি, জানুয়ারির আগে ভ্যাকসিন পাবে না বাংলাদেশ- দৈনিক ইত্তেফাক
  • সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ভারতে 'আলিবাবা' নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত চীনের-বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • ফুলে ফুলে ভরল জাতীয় কবির সমাধি- কালের কণ্ঠ
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি -দৈনিক প্রথম আলো
  • শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নয়, প্রমোশনের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন
  • ৩১ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর

ভারতের শিরোনাম:    

  • ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ হাজার নতুন সংক্রমণ, মোট মৃত্যু ৬০ হাজার ছাড়াল-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • পুলওয়ামা কাণ্ডের টাকা এসেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক থেকে, বলছে এনআইএ–র চার্জশিট-দৈনিক আজকাল
  • দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন নজরদারি বিমান, হুঁশিয়ারি দিয়ে মিসাইল ছুঁড়ল লালফৌজ-সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা ! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। 

বিশ্ব করোনা পরিস্থিতি

প্রথমে বিশ্ব করোনার সর্বশেষ খবর:  ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী করোনায় এখন পর্যন্ত বিশ্বে মৃত্যু ৮ লাখ  ৩০ ছাড়াল এবং আক্রান্তও ২ কোটি ৪৩ লাখ ৬৩ হাজার ২৪২ । মোট সুস্থ্য হয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ।

ভারতে করোনার সর্বশেষ খবরে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ হাজার নতুন সংক্রমণ, মোট মৃত্যু ৬০ হাজার ছাড়াল। এ সময় মারা গেছেন ১০২৩ জন। মোট আক্রান্ত ৩৩ লাখ ছাড়াল। সেখানে করোনা পরীক্ষা বেড়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

তিন মাসের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন করোনা শনাক্ত-প্রথম আলোর এ খবরে লেখা হয়েছে,দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৩৬ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ।পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ। গত তিন মাসে এটি সর্বনিম্ন।এর আগে ২০ মে শনাক্তের হার ছিল ১৫ দশমিক ৮৪। গত কয়েক দিন ধরেই সংক্রমণ শনাক্তের হার কমছে।

সব মিলিয়ে দেশে ৩ লাখ ৪ হাজার ৫৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হলো। শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৪৫ জন। সব মিলিয়ে করোনায় সংক্রমিত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ৪ হাজার ১২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা বাড়লেও শনাক্তের সংখ্যা কমেছে।

করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আজকের প্রায় সব দৈনিকে খবর পরিবেশিত হয়েছে। ইত্তেফাকসহ প্রায় সব দৈনিকে লেখা হয়েছে, করোনার সংক্রমণের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ  ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নয়, প্রমোশনের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হবে না। করোনাকালীন ও পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এসব খবরে আরো লেখা হয়েছে, এইস এসসিসহ সব পরীক্ষার বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।

দৈনিক কালের কণ্ঠের শিরোনাম-বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা ফি সাধারণ মানুষের সমান করার প্রস্তাব

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা ফি সাধারণ মানুষের সমান করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ নাগরিকরা যেই ফি দিয়ে পরীক্ষা করাতে পারছেন, বিদেশগামীরা বা প্রবাসীদের জন্য একই ফি নির্ধারণ করা উচিত। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবার ক্ষেত্রেও অন্যদের মতো সমান সুযোগ তাদেরও থাকা উচিত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ) সকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

স্বাস্থ্যের মাফিয়ারা এখনো বাইরে-দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত

স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়ারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছেন। মাঝেমধ্যে আবজাল হোসেনের মতো কিছু চুনোপুিট ধরা পড়ে কারাগারে গেলেও মাফিয়ারা সব সময়ই থাকেন বহাল তবিয়তে। আবজাল যদি কয়েক শ কোটি টাকার মালিক হন, তাহলে তার আশ্রয়দাতা মাফিয়ারা কী পরিমাণ অর্থ লুট করেছেন—এমন প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। দুর্নীতির দুষ্টচক্রে পড়েছে স্বাস্থ্য খাত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি দেশের চিকিত্সাব্যবস্থাকে নাজুক করে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—এভাবে পুরো স্বাস্থ্যকাঠামোতে গড়ে উঠেছে দুর্নীতিবাজদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ কারণে প্রতি বছর স্বাস্থ্য খাতে সরকার বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিলেও তার সিংহভাগ লুটেরা চক্রের পকেটে যায় এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। দুর্নীতির নিকৃষ্ট জীবেরা যে স্বাস্থ্যব্যবস্থা পঙ্গু করে ফেলেছে, সেই সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে করোনাকালে। প্রতারণার আখড়া ভুয়া হাসপাতালকে করোনা টেস্ট ও চিকিত্সার অনুমতি দেওয়ার কৃতিত্বও দেখিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জেঁকে বসা আরব্য উপন্যাসে বর্ণিত থিফ অব বাগদাদের চেয়েও বড় চোরেরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবজালের মতো আরো ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু আবজাল ছাড়া আর কারোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অনেকে পেয়েছেন পদোন্নতি। দুদকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের একজন পরিচালককে বদলি করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এভাবে দুর্নীতিবাজদের উত্সাহিত করা হচ্ছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন, তাকে বদলি করা হলেও যান না। কথায় কথায় টাকা পাওয়া যায় বলে এখানে থাকেন। মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণির কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় তাদের কিছুই হয় না। আর তাই আবজালদের সম্মুখে দেখা যায়। তাদের পেছনে যারা আছেন তাদের দেখা যায় না।

চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকে না : সেতুমন্ত্রী-দৈনিক কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে কখন কী ঘটে বলা যায় না। এ জন্য তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের ক্ষমতার দাপট না দেখানোর জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দল করেন তারা মনে রাখবেন দলে যদি ঐক্যকে গুরুত্ব না দেন, নিজেদের মধ্যে কলহ-কন্দোল থাকে তাহলে দুঃসময়ে প্রতিপক্ষ কোন্দলের ওপর আঘাত হানবে। এ দেশে কখন কী ঘটে বলা যায় না। চিরজীবন আমরা ক্ষমতায় থাকবো এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাবেন না, আমরাও ভাবি না। চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকে না। চোখের পলকে বাংলাদেশে ১৫ আগস্ট ঘটে গেছে। হঠাৎ করে ২১ আগস্ট। ক্ষমতায় থেকে যে যেখানে আছেন ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে বলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা বিচার বহির্ভূত হত্যার কথা বলেন তারা যেন নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখে নেন।

অসাম্প্রদায়িক কবি নজরুল- এ শিরোনাম দৈনিক ইত্তেফাকের। আর কালের কণ্ঠ লিখেছে- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম প্রয়াণ দিবসে  ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে কবির সমাধি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অবস্থিত আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে কবি পরিবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সকালে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে কবির নাতনি খিলখিল কাজী সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি বলেন, 'নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি তা সরকারিভাবে গেজেট এখনো করা হয়নি।

বিশ্বময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, অরাজকতা, নৈরাজ্য ও ধর্মের নামে রক্তপাত আর চলছে মাজহাবি যুদ্ধ। নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের দোহায় দিয়ে অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো মনে হয় এক ধরনের অলিখিত প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব থেকে মুক্ত হতে আজীবন যিনি সংগ্রাম করেছেন তিনি হলেন মানবতার কবি, অসাম্প্রদায়িক কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং ঈসনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন যা বিশ্বের ইতিহাসে চির স্মরণীয় হয়ে আছে।

তিনি কাব্যে যেমন বিদ্রোহী ছিলেন বাস্তবেও ছিলেন তেমনি বিদ্রোহী। মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা আর নারী-পুরুষ তথা সমাজের সাম্য রক্ষা তার কবিতায় প্রতিফলিত হয়।

তিনি বাংলা সাহিত্যের এক দিকপাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন এবং থাকবেন। নজরুল শুধু ভাবাবেগের দ্বারা ইসলামি ভাবধারায় কবিতা বা গান লেখেননি। তিনি চেয়েছিলেন মাতৃভাষায় সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে ধর্মকে বা ধর্মের প্রকৃত বাণীকে সর্বসাধারণের কাছে গল্পের মতো পৌঁছে দিতে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত: 

ফেসবুক ইন্ডিয়ায় রাজনৈতিক প্রচারে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে বিজেপি, অঙ্কটা জানলে চমকে যাবেন –দৈনিক আজকাল

বিজেপি

ফেসবুকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ধরলে ১৮ মাসে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাবদ বিজেপি খরচ করেছে ৪.‌৬১ কোটি টাকারও বেশি। সামাজিক বিষয় ছাড়াও নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রচারের পিছনেই খরচ হয়েছে এই টাকা। সেখানে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস খরচ করেছে ১.‌৮৪ কোটি টাকা। গত ২৪ আগস্ট অবধি পরিসংখ্যান ঘাঁটলে এই তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ফেসবুকে বিজেপির বিজ্ঞাপন

যাঁরা ফেসবুকে এই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, সেই বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে চারটি সংস্থার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বিজেপির সঙ্গে। ‘মাই ফাস্ট ভোট ফর মোদি’–র প্রচারের জন্য ব্যয় করা হয়েছে ১.‌৩৯ কোটি টাকা। ‘ভারত কি মন কি বাত’ প্রচারের পিছনে ব্যয় হয়েছে ২.‌২৪ কোটি টাকা। খবর সংক্রান্ত পেজ ‘নেশন উইথ নমো’–র জন্য খরচ করা হয়েছে ১.‌২৮ কোটি টাকা। এছাড়া বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ আর কে সিনহার একটি ফেসবুক পেজের পিছনে খরচ হয়েছে ৬৫ লক্ষ টাকা।  

ফেসবুকে শীর্ষ দশ বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচারের হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে বিজেপিই সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে। যা প্রায় ৬৪ শতাংশ।

পুলওয়ামা কাণ্ডের টাকা এসেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক থেকে, বলছে এনআইএ–র চার্জশিট-দৈনিক আজকাল

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় রক্ষীদের কনভয় লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা হয়। শহিদ হন অন্তত ৪০ জন জওয়ান। সেই হামলার ছক হয়েছিল পাকিস্তানেই। শুধু ছক নয়, টাকার জোগানও এসেছিল পাকিস্তান থেকেই। জুগিয়েছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ–এ–মহম্মদ। একথা বলছে এনআইএ–র পেশ করা চার্জশিট। 

হামলার সময় এবং ঠিক আগে ও পরে ৩৫০টি ভয়েস মেসেজ চালাচালি হয় জইশ জঙ্গিদের মধ্যে। পাকিস্তানে বসে থাকা জইশ চক্রীদের ঘটনার খুটিনাটি জানিয়ে সেই ভয়েস মেসেজগুলো করেছিল হামলাকারীরা। ওপার থেকে এসেছিল নির্দেশ। সেই মেসেজ পড়েই এসব তথ্য এসেছে এনআইএ–র হাতে। মঙ্গলবার জম্মুর আদালতে ১৩,৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। তাতেই সমস্ত তথ্য তুলে ধরেছে।

জিনপিং নয়, ৫০ শতাংশ চিনা নাগরিকের পছন্দ মোদি সরকার, দাবি সমীক্ষায়

ভারত-চিন সম্পর্ক বরাবরই অম্লমধুর। গালওয়ান উপত্যকায় চিনের আগ্রাসন নীতির পর তা অবনতির দিকেই ধাবিত হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) চিনের রক্তচক্ষুর পালটা জবাব দিয়েছে ভারতও। ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে ইগলা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এমন পরিস্থিতিতেও প্রতিবেশী চিনের অর্ধেক মানুষের পছন্দের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন সরকার। দাবি সেদেশের সরকারি মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমসের (Global Times)।

ভারত ও চীনের মধ্যে কোন দেশের সরকার বেশি পছন্দ চিনের জনগণের? এই প্রশ্নের উত্তর পেতেই সমীক্ষায় আয়োজন করেছিল গ্লোবাল টাইমস। তাতেই প্রকাশ্যে এসেছে এই তথ্য। সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৫০ শতাংশ চিনা নাগরিকই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বাকি নাগরিক নিজের দেশের সরকারের (Chinese government) প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন। সমীক্ষায় আরও কয়েকটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। তাতে জানা গিয়েছে, চিনের ৭০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন বিগত কয়েকদিনে ভারত-চিন সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। চিনের প্রতি ভারতীয় নাগরিকরা বেশি ক্ষুন্ন হয়েছেন। আবার ৩০ শতাংশ চিনা নাগরিকের বিশ্বাস ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্ক ভালো হওয়ার আশা রয়েছে। যদিও ৯ শতাংশ নাগরিকের ধারণা, ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক ভাল হলেও তা খুব বেশিদিন টিকবে না। কিন্তু ২৫ শতাংশ মানুষের আবার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে ভারত ও চিনের সম্পর্ক মজবুত হবে।

গালওয়ান উপত্যকার ঘটনার পরই ভারতে চিনা দ্রব্য বয়কটের ডাক জোরালো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এর প্রভাব চিনের অর্থনীতে বেশ ভালভাবেই পড়েছে। ভারতের মতো বিশাল দেশের বাজার হারাতে হয়েছে শি জিনপিং (Xi Jinping) সরকারকে। তার ফলে চিনের সাধারণ নাগরিকদের মনে সরকারের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারই প্রতিফলন গ্লোবাল টাইমসের সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন নজরদারি বিমান, হুঁশিয়ারি দিয়ে মিসাইল ছুঁড়ল লালফৌজ

চীন ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল 

কার্যত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে জোড়া মিসাইল উৎক্ষেপণ লালফৌজের। এর আগে ওই অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি বিমানের আনাগোনা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল বেজিং। এহেন পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েই যে মিসাইল ছুঁড়েছে চিন তা স্পষ্ট।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত জলরাশিতে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে লালফৌজ। ফলে ওই অঞ্চলের আকাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ‘নো ফ্লাই জোন’ বা বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা। চিনের অভিযোগ, মঙ্গলবার ‘নো ফ্লাই’ জোনে প্রবেশ করে একটি মার্কিন U-2 নজরদারি বিমান। ২৪ ঘণ্টা পর চিনা ফৌজের গতিবিধি জানতে একই অঞ্চলে আবার টহল দেয় আমেরিকার একটি RC-135S নজরদারি বিমান। তারপরই, আমেরিকার কাছে কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিবাদ জানায় চিন। কিন্তু এতেই ক্ষান্ত না থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন ফৌজকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দুটি অত্যাধুনিক মিসাইল ছুঁড়ে লালফৌজ। জানা গিয়েছে, মিসাইল দু’টির একটি হচ্ছে DF-26। এই ব্যালিস্টিক মিসাইল ৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। স্থলে ও জলে আণবিক অস্ত্র নিয়েও হামলা চালাতে পারে এই মিসাইলটি। চিনের ছোঁড়া অন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি হচ্ছে, DF-21। এটি ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হামলা চালাতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এটিকে তৈরি করেছে লালফৌজ।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৭