প্রিয়জন: নব উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে রেডিও তেহরান বাংলা
শ্রোতান্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। নতুন আঙ্গিকে ও বর্ধিত কলেবরে শুরু হওয়া প্রিয়জন অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় আজও আপনাদের সাথে আছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।
আশরাফুর রহমান: প্রত্যেক আসরের মতো আজও একটি বাণী শুনিয়ে আসর শুরু করতে চাই। আমিরুল মোমেনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, ‘জীবনকে প্রয়োজন পূরণের মধ্যে সীমাবন্ধ রাখো, আশা পূরণের জন্য নয়। প্রয়োজন ভিখারীরও পূরণ হয় কিন্তু আশা রাজা-বাদশারও পূরণ হয় না।’
আকতার জাহান: খুব মূল্যবান একটি বাণী শোনালেন আশরাফ ভাই। আমরা সবাই যেন প্রয়োজন পূরণের মধ্যেই জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখতে পারি- এ প্রত্যাশা রেখে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্র ও মতামতের দিকে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বর্ধিত কলেবরে প্রিয়জন প্রচার হওয়ার খবর শুনে ফেসবুকে মেসেঞ্জার গ্রুপে যারা মন্তব্য করেছেন তাদের কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিচ্ছি। কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন লিখেছেন, অনেক অনেক ধন্যবাদ, রেডিও তেহরান কর্তৃপক্ষকে। শ্রোতাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রিয়জনের আসর ১৫ থেকে ১৮ মিনিট করায় আমরা সত্যিই আনন্দিত, গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। আশা করি, সপ্তাহের এই একটি দিন আমরা শ্রোতারা লেখালেখি ও আড্ডায় ভরিয়ে রাখতে পারব।
নাসির মাহমুদ: বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে সাইফুল ইসলাম লিখেছেন, “সত্যি, শ্রোতাদের প্রতি রেডিও তেহরান খুবই আন্তরিক। খুবই ভালো লাগছে যে, 'প্রিয়জন' ১৫ থেকে ১৮ মিনিট শুনতে পাবো। আমার পরামর্শ হলো- প্রিয়জন-এর প্রতিটি আসরেই ইরান সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর, চিঠিপত্রের প্রাপ্তি স্বীকার এবং রিসেপশন রিপোর্টের প্রাপ্তি স্বীকারের পাশাপাশি মাসিক কুইজ ও অনলাইন কুইজের ঘোষণাগুলোও যেন বলে দেয়া হয়। আর শ্রোতাদের প্রতিটি চিঠি পড়ার পর যেন সংক্ষিপ্ত মন্তব্যও করা হয়।
আশরাফুর রহমান: একই বিষয়ে টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের লিখেছেন, রেডিও তেহরান বাংলা শ্রোতাদের প্রত্যেকটি যৌক্তিক দাবি পূরণে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তা অকল্পনীয় ও অভাবনীয়...!!! প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শর্টওয়েভ ব্রডকাস্টিং-এর সকল আন্তর্জাতিক বেতারগুলো যখন ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চলছে অথবা বন্ধ করে দিয়েছে... তখন নব উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে রেডিও তেহরান বাংলা। আমরা কি রেডিও তেহরানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করতে পারি না? অবশ্যই পারি। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছাটাকে বাস্তবায়ন করার সদিচ্ছা।
আকতার জাহান: বর্ধিত আকারে প্রিয়জন প্রচারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আরও কয়েকজন শ্রোতা। আমি তাদের নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি।
- প্রদীপ কুণ্ডু, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত থেকে।
- নাজিমউদ্দিন, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ থেকে
- আনন্দ মোহন বাইন- দুর্গ, ছত্তিশগড় থেকে।
নাসির মাহমুদ:
- বাংলাদেশের কুষ্টিয়া থেকে মুখলেসুর রহমান
- আবদুল কুদ্দুস মাস্টার- কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারি থেকে
- চুয়াডাঙ্গা থেকে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ
- আতাউর রহমান রঞ্জু- রংপুর থেকে
- গাইবান্ধা থেকে আশরাফুল আশেক
- এবং মোঃ ওবায়েদ হুসাইন আল-সামি যশোর থেকে।
আশরাফুর রহমান: প্রিয়জন অনুষ্ঠান সময় দ্বিগুণ করায় আপনারা খুশি হয়েছেন দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে। অনুষ্ঠানটি সুন্দর করে সাজাতে আপনাদের চিঠি, পরামর্শ ও অংশগ্রহণ বাড়াবেন- এ প্রত্যাশায় নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।
আজকের আসরের প্রথম চিঠিটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার বড় মানিকা গ্রাম থেকে মনিরুল ইসলাম ফরাজী। সালাম ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন,
আকতার জাহান: আমি প্রায় এক বছর ধরে রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের একজন নিয়মিত শ্রোতা। এ বেতারের মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সম্পর্কে আমি অনেক তথ্য জেনেছি। যা এর আগে অন্য কোনো মাধ্যমে আমার পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। আমি এর আগে আমাদের দেশের এফএম রেডিওর নিয়মিত শ্রোতা ছিলাম। কিন্তু রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনে মুগ্ধ হয়েছি। এক কথায় আমি রেডিও তেহরানের প্রেমে পড়ে গেছি।
নাসির মাহমুদ: আমাদের কোন কোন অনুষ্ঠান কেমন লাগছে সে সম্পর্কে কি এ শ্রোতাবন্ধু কিছু লিখেছেন?
আশরাফুর রহমান: হ্যাঁ লিখেছেন। আমি হুবহু তার চিঠি থেকে পড়ে শোনাচ্ছি। ‘রেডিও তেহরানের সাপ্তাহিক ‘পারস্যের প্রতিভা বিশ্বের গর্ব ও ‘ইরান ভ্রমণ’অনুষ্ঠান দু’টি আমার অত্যন্ত প্রিয় অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান দুটির মাধ্যমে ইরানের নানা প্রতিভাবান দার্শনিক, কবি, সুফি, আউলিয়ার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে যেমন জানতে পারি ঠিক তেমনই ইরানের নানা প্রদেশের চমৎকার সব ঐতিহ্য ও নিদর্শনের বর্ণনা শুনেও মুগ্ধ হই। রেডিও তেহরান শুনলে আমার অন্তরে ইরানের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ভেসে আসে।
আকতার জাহান: ভাই মনিরুল ইসলাম ফরাজী, আমাদের অনুষ্ঠান আপনার ভালো লাগছে এবং রেডিও তেহরান থেকে ইরান সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারছেন জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। আশাকরি নিয়মিত চিঠি লিখবেন।
নাসির মাহমুদ: নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদির উৎস ডিএক্স কর্ণার থেকে এইচ এম তারেক পাঠিয়েছেন ছোট্ট এ মেইলটি। লিখেছেন, আজ ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, ফ্রান্সের শার্লি এবদো পত্রিকায় মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা)-কে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করেছে। আমিসহ আমরা ক্লাবের সবাই এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আশরাফুর রহমান: আমরাও ফরাসি ম্যাগাজিনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আসরের পরের মেইলটিও বেশ ছোট। এটি এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মৃধাপাড়া থেকে। আর পাঠিয়েছেন এমদাদুল হক। তিনি লিখেছেন, ১৯৯১ সালে প্রথম রেডিও তেহরান প্রচারিত বাংলা অনুষ্ঠানের সাথে পরিচয়। অদ্যাবধি রেডিও তেহরানের সাথে আছি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও পর্যালোচনার জন্য রেডিও তেহরান সারা পৃথিবী জুড়েই শীর্ষস্থান দখল করে আছে এবং থাকব।
আকতার জাহান: রেডিও তেহরানের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের প্রশংসা করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আশা করি পরের চিঠিতে আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কেও লিখবেন। তো, বেশকিছু শ্রোতার মতামতের পাশাপাশি চিঠি পড়া হলো। এ পর্যায়ে আমরা সরাসরি কথা বলব ভারতে এক শ্রোতাবন্ধু সোহরাব হোসেনের সঙ্গে।
নাসির মাহমুদ: সাক্ষাৎকারের পর আবারো চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের খবরে শুনলাম, মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-কে অবমাননা করে বিকৃত ও অরুচিকর কার্টুন ছেপেছে ফ্রান্সের শার্লি এবদো ম্যাগাজিন। আসলে শার্লি এবদো ফ্রান্সের একটি চরম বিতর্কিত পত্রিকা এবং পত্রিকাটি স্বাধীন মত প্রকাশের নামে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশ করে থাকে। তারা চরম ডানপন্থীদের ব্যঙ্গ করে এবং ক্যাথলিক ক্রিশ্চিয়ান ও ইহুদী ধর্ম এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সময়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। মূলত পত্রিকাটি বিতর্কিত কার্টুনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও প্রসার চায়। আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, ইচ্ছেমতো সব কিছু করা সম্ভব। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাস অনেকের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এটাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা চরম বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি মনে করি, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত পত্রিকাটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, অন্যদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
আশরাফুর রহমান: আপনার মতের সঙ্গে আমরাও সম্পূর্ণ একমত। আশাকরি ফরাসি সরকার বিতর্কিত ম্যাগাজিনটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।
ভারতের অসমের হাইলাকান্দি থেকে বুরহান চৌধুরী লিখেছেন পরের মেইলটি। তিনি অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো মতামত দেননি। কেবল দুটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন। প্রথম প্রশ্নটি হচ্ছে- ইরানে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম কী আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল- ইরানে ইংরেজি ভাষার প্রচলন আছে কিনা?
আকতার জাহান: এ প্রশ্নটির উত্তর দিচ্ছেন রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক ড. সোহেল আহম্মেদ।
নাসির মাহমুদ: ভাই বুরহান চৌধুরী, প্রশ্নের জবাব পেয়েছে নিশ্চয়ই আপনার কৌতুহল মিটেছে। আসরের শেষ চিঠিটি এসেছে কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে। আর লিখেছেন শরিফা আক্তার পান্না। কুরআনের আলো অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানাতে গিয়ে তিনি লিখেছেন-
গত ২ সেপ্টেম্বর, বুধবার ‘কুরআনের আলো’ অনুষ্ঠানে সুললিত কণ্ঠে কুরআন পাঠ ও চমৎকার তরজমা আমাদের খুব ভালো লেগেছে। এ পর্বে সূরা ফুসসিলাতের ২৪ থেকে ২৮ নম্বর আয়াতের তেলওয়াত ও তাফসির নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রথম দুই আয়াতে খারাপ বন্ধুর কারণে মানুষের যে পরিণতি হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। খারাপ বন্ধুর কারণে কোনো ব্যক্তি যে শুধু আজকের দিনটি নষ্ট করে তা নয়, বরং তার সারা জীবন বেদনায় ভরে যায়, তাদের জাহান্নামের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। যারা খারাপ কাজের প্রশংসা করে, তারা সঠিক বন্ধু নয়।
পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যাগুলো আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আর সেজন্যে আমরা রেডিও তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞ।
আশরাফুর রহমান: কুরআনের আলো অনুষ্ঠান সম্পর্কে সুন্দর মতামতের জন্য বোন শরিফা আক্তার পান্না আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমি কয়েকজন শ্রোতার নাম-ঠিকানা জানিয়ে দেবো যারা আমাদের অনুষ্ঠান শোনার পর শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
• সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য, বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত থেকে।
• আনন্দ মোহন বাইন ছত্তিশগড়ের দুর্গ থেকে
• প্রদীপ বসাক, হাটশিমলা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে
• পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে শিবেন্দু পাল ও উত্তর দিনাজপুর থেকে এস এম নাজিমউদ্দিন
• এবং বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার খোশবাড়ি থেকে শাওন হোসাইন।
আকতার জাহান: শ্রোতাদের চিঠি ও প্রশ্নের জবাবের পর যারা রিসিপশন রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তাদের পরিচয়ও তুলে ধরা হলো। এবার একটা গান শুনলে কেমন হয়?
নাসির মাহমুদ: গান শুনতে পারলে তো ভালোই হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠান শোনার যে ক্লান্তি তা দূর করতে পারে ভালো একটি গান।
আশরাফুর রহমান: তাহলে আমরা বাংলাদেশের ইসলামী নাশীদের জনপ্রিয় শিল্পী মাহমুদ ফয়সালের গাওয়া একটি গান শুনি। কাতারপ্রবাসী মাহমুদ ফয়সাল মা-কে নিয়ে গানটি নিজেই লিখেছেন এবং সুর করেছেন।
আকতার জাহান: তো শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই চিঠিপত্রের আজকের আসর থেকে। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।