অক্টোবর ১২, ২০২০ ১৯:৪৫ Asia/Dhaka

শ্রোতা ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। প্রত্যেক আসরের মতো আজও অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: বর্ধিত কলেবরে শুরু হওয়া প্রিয়জনের আজকের পর্বে শ্রোতাদের চিঠিপত্রের জবাবের পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর, সাক্ষাৎকার, শ্রবণমান রিপোর্ট ও গান প্রচার করা হবে। তবে আজও অনুষ্ঠান শুরু হবে যথারীতি একটি হাদিস শুনিয়ে। শহীদদের নেতা হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন, “শাস্তির ভয় কিংবা পুরস্কারের লোভে যে ইবাদত- তা ব্যবসায়ী বা দাসত্বের ইবাদত। সর্বোত্তম ইবাদত হল- শোকর আদায়ের ইবাদত এবং এই ইবাদত হল মুক্ত মানুষের ইবাদত।”

আকতার জাহান: খুবই মূল্যবান একটি হাদিস শুনলাম। আমরা সবাই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য ইবাদত করব- এ আহ্বান জানিয়ে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে। আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের গাজীপুরের টঙ্গী থেকে। আর পাঠিয়েছেন সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফিরোজ আলম। সালাম ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন-

নাসির মাহমুদ: কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেতার কেন্দ্র। হারিয়েছে শ্রোতা। আধুনিক যুগের মিডিয়ার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে পিছিয়ে পড়েছে রেডিও। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র রেডিও তেহরান। শ্রোতা সংখ্যা কমলেও এখনও আন্তর্জাতিক বেতারের মধ্য বাংলাদেশ ও ভারতে শর্টওয়েভ রেডিওর শ্রোতার সংখ্যা রেডিও তেহরানেরই বেশি। তবে, সুন্দর শ্রবণমান উপহার দিতে পারলে শ্রোতাসংখ্যা আরও বাড়ত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

আকতার জাহান: ফিরোজ ভাই দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন তা হচ্ছে- শ্রোতাদের মূল্যায়ন। ইতোমধ্যে কুইজ আয়োজন শ্রোতাদের লেখা ওয়েবসাইটে প্রকাশ এসব দাবি পূরণ করায় তিনি রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সবশেষে তিনি লিখেছেন- ইরান এক ঐতিহ্যের নাম, ন্যায়ের নাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নাম। পাশাপাশি সঠিক ইসলামকে চেনার পথের নাম রেডিও তেহরান। ছিলাম, আছি, থাকব রেডিও তেহরানের সাথে, এই কামনা ব্যক্ত করে আজকের মত বিদায় নিলাম।

আশরাফুর রহমান: রেডিও তেহরান সম্পর্কে মতামত এবং ইরান সম্পর্কে ফিরোজ আলম ভাইয়ের মতামত জেনে ভালো লাগল। আশা করি নিয়মিত চিঠি লিখবেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থেকে রাজিব দত্ত লিখেছেন পরের চিঠিটি। তিনি লিখেছেন, “আমি প্রায় দিনই ভাবি এই আজকে রেডিও তেহরানে চিঠি লিখবো কিন্তু সময়ের অভাবে লিখতে পারি না। অনুষ্ঠান রীতিমতো শুনছি। আগের তুলনায় এখন বেশ ভালো লাগছে। এজন্যে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

নাসির মাহমুদ: ব্যস্ততা সত্ত্বেও আপনার মনের অনুভূতি আমাদেরকে লিখে জানিয়েছেন এজন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সময় পেলেই লিখবেন আশা করি।”

কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন পাঠিয়েছেন দুটি মেইল। ৩১ আগস্ট পত্রপত্রিকার পাতার অনুষ্ঠান কথাবার্তা শোনার পর পাঠানো মেইলে তিনি লিখেছেন, জনাব সিরাজুল ইসলাম’র বিশ্লেষণগুলো আমাদের খুব ভালো লাগে। তিনি কেমন করে যেন, আমাদের মনের কথা বলে দিতে পারেন। আজ প্রথমেই বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও বেকারদের ভাতা বিষয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতামতটি বিশ্লেষণ করেন। তিনি ঠিকই বলেছেন যে, দেশের যুবকদের কর্মশীলতা জরুরী। কর্মশীলতা কমে গেলে উৎপাদন কমে, উৎপাদন কমলে অর্থনীতি ছোট হয়ে পড়ে। পাশাপাশি, যুবসমাজ কর্মহীন হয়ে পড়লে সমাজে নানামুখী অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়। এটি সমাজের জন্যে আরো বেশি ক্ষতিকর।

আকতার জাহান: এরপর ১ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান সম্পর্কে শাহাদত হোসেন ভাই লিখেছেন, ইরানি পণ্য-সামগ্রী অনুষ্ঠানে ইরানের বিদুৎ উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইরানে বহু উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে, যদিও শুরুটা হয়েছিল কয়লা দিয়ে। বর্তমানে ইরান বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাচুর্যের দিক থেকে ইরান বিশ্বের শীর্ষ কুড়িটি দেশের মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইরানের অবস্থান প্রথম পর্যায়ে রয়েছে। এ অঞ্চলে বৃহত্তম বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক রয়েছে ইরানের। তাই ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্মেনিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও আজারবাইজানে বিদ্যুৎ রফতানি করে থাকে। দারুণ ভালো লেগেছে অনুষ্ঠানটি। চমৎকার তথ্যবহুল একটি অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার জন্যে বাংলা বিভাগের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। 

আশরাফুর রহমান: ইরানের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাটি ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আসরের এ পর্যায়ে আমরা কথা বলব ইরানের কোম প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রোতা আশিকুর রহমানের সঙ্গে।  

আকতার জাহান: কারবালা বিপ্লব এবং এ বিপ্লবের মহানায়ক ইমাম হুসাইন (আ.)-কে নিবেদিত কবিতাটি শুনলাম। তো প্রিয়জন অনুষ্ঠানের এই সাক্ষাৎকারপর্বে অংশ নেয়ার জন্য ভাই আশিকুর রহমান আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আশরাফুর রহমান: এতক্ষণ শুনছিলেন ইরানপ্রবাসী শ্রোতা আশিকুর রহমানের সাক্ষাৎকার। শ্রোতারা, আপনারাও কিন্তু প্রিয়জন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন। আগ্রহী হলে আপনার ফোন অথবা মোবাইল নাম্বার আমাদের কাছে ইমেইলে পাঠিয়ে দিন। আমরাই ফোন করে আপনার সাক্ষাৎকার গ্রহণের চেষ্টা করব। আমাদের কাছে ইমেইল করার ঠিকানা- [email protected]

মোহাম্মদ আশিকুর রহমান 

নাসির মাহমুদ: আসরের পরের চিঠিটি এসেছে বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে আর পাঠিয়েছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম। সালাম ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন, ‘ফেসবুক লাইভে নিয়মিতভাবে আপনাদের বাংলা অনুষ্ঠান শুনছি। এ মাধ্যমে অনুষ্ঠান বেশ ভালো এবং স্পষ্ট  শুনতে পাচ্ছি।’

এরপর গত ৩১ আগস্ট ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর শাহাদত বার্ষিকীতে প্রচারিত বিশেষ আলোচনার প্রশংসা করেছেন সাইফুল ভাই। সেইসাথে এ ধরনের অনুষ্ঠান আগামীতেও শোনার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আকতার জাহান: আহলে বাইতের মহান ইমামদের জীবনী নিয়ে আলোচনা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে- ইনশাআল্লাহ। তো চিঠি লিখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আশরাফুর রহমান: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার হাটশিমলা থেকে প্রদীপ বসাক পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “আমি ১৯৯৬ সাল থেকে রেডিও তেহরান শুনছি। মাঝে কিছুদিন আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারিনি। আশা করছি এবার থেকে আপনাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব; বিভিন্ন মতামত ও রিসেপশন রিপোর্ট পাঠাবো। আর হ্যাঁ, আমি কি আপনাদের কুইজ-এ অংশ নিতে পারি? যদি আপনারা অনুমতি দেন তাহলে প্রশ্নের উত্তরগুলো আপনাদের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাতে পারি।”

নাসির মাহমুদ: দীর্ঘদিন পর আবারো যোগাযোগ করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আর রেডিও তেহরান আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় যেকেউ অংশ নিতে পারেন। আপনিও অংশ নিন। ভাগ্যে থাকলে জিততে পারেন পুরস্কারও।

এবারের চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার দশমাইল ‘মুক্তাঞ্চল বেতার শ্রোতা ক্লাব’ থেকে। আর পাঠিয়েছেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল। তিনি লিখেছেন-

আকতার জাহান: ‘আমি রেডিও তেহরানের একজন ক্ষুদে শ্রোতা। চলতি বছরের জুন মাস থেকে আমি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনা শুরু করি এবং নিয়মিত শুনে আসছি। আমার কাছে রেডিও তেহরানের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বেশ ভালো লাগে। ভালো লাগে উপস্থাপকদের মধুর কণ্ঠের উপস্থাপনা এবং বিজ্ঞ শ্রোতাদ‍ের পাঠানো মতামত। আর এসব ভালো লাগে বলেই শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত শুনি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান। আমি আশা করছি রেডিও তেহরানের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’  সবশেষে এ শ্রোতাবন্ধু, ইরানের নববর্ষ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

আশরাফুর রহমান: ইরানি নববর্ষকে 'নওরোজ' বলা হয়।  'নওরোজ'  অর্থ 'নতুন দিন'। নওরোজ ইরানি বর্ষপঞ্জীর প্রথম দিনটির সূচনা করে। এটি সাধারণত ২০ অথবা ২১ মার্চ উদ্‌যাপিত হয়।

ঠিক কবে এবং কে প্রথম নওরোজ উৎসব চালু করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। কবি ফেরদৌসির অমর কাব্য শাহনামা ও ঐতিহাসিক তাবারির বর্ণনা অনুযায়ী ইরানের প্রাচীন কিংবদন্তীতে উল্লেখিত বাদশাহ জামশিদ ছিলেন এ উৎসবের প্রথম আয়োজক। কেউ কেউ বলেন, ইরানের হাখামানেশীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট দ্বিতীয় সাইরাস বা কুরুশ বাবেল বা ব্যাবিলন জয়ের বছর তথা খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ সালে সর্বপ্রথম নওরোজকে জাতীয় উৎসব হিসেবে ঘোষণা ও পালন করেন।  

নাসির মাহমুদ: ইসলামের আবির্ভাবের পর ইরানে নওরোজ উৎসবের রীতিতে পরিবর্তন দেখা দেয়। ইসলামী আচার-অনুষ্ঠান যুক্ত হয় এ উৎসবের সাথে। মুসলমানরা বসন্ত ঋতুতে গাছপালার পুনরায় সবুজ হওয়াকে পারলৌকিক জীবনের প্রমাণ বলে মনে করেন। বিশেষ দোয়া পাঠের মধ্য দিয়ে ইরানি মুসলমানরা নওরোজ বা নববর্ষ শুরু করেন।  ফার্সি প্রথম মাস বা ফারভারদিন মাসের এক তারিখ থেকে শুরু হয় নওরোজ উৎসব এবং শেষ হয় ১৩ তারিখে।

আকতার জাহান: ভাই মোঃ জুয়েল, আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো। আশাকরি আপনার কৌতুহল মিটেছে। আসরের শেষ চিঠিটি এসেছে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার জয়সিং গ্রামের আদর্শ রেডিও শ্রোতা ক্লাব থেকে। আর পাঠিয়েছেন ক্লাব সভাপতি খন্দকার সাজু আহমেদ।

সালাম ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন, “আমি এক সময় রেডিও তেহরানের নিয়মিত এবং ভক্ত শ্রোতা ছিলাম। ব্যস্ততার জন্য বেশ কয়েকটি বছর রেডিও তেহরান শোনা এবং লেখা দুটোই বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ৬ বছর পর রেডিও তেহরানে ফিরে এলাম। তবে এখন থেকে নিয়মিত শুনবো এবং লিখবো। এতদিনে রেডিও তেহরান নিশ্চয় আমাকে ভুলে গেছে। আমি রেডিও তেহরানকে ভুলিনি এবং ভুলবোও না।”  

আশরাফুর রহমান: ভাই খন্দকার সাজু আহমেদ, রেডিও তেহরান আপনাকে ভোলেনি। আর আপনি আমাদেরকে মনে রেখেছেন জেনে আমাদের ভীষণ ভালো লাগছে। আশাকরি নিয়মিতি চিঠি লিখবেন।

নাসির মাহমুদ: আমাদের কাছে আরও যারা মেইল পাঠিয়েছেন আমি তাদের কয়েকজনের চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করছি।

  •  বাংলাদেশের কুষ্টিয়া সদর থেকে নাহিদ
  •  সাঈফ আহমেদ উৎস লিখেছেন নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদি থেকে
  •  লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া থেকে নূর আহমদ।
  •  এবং ভারতের নয়াদিল্লি থেকে জয়ন্ত চক্রবর্তী।

আকতার জাহান: যারা ইমেইল পাঠিয়েছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তো বন্ধুরা, আসরের এ পর্যায়ে রয়েছে একটি নাতে রাসূল। এটি গেয়েছেন বাংলাদেশি নাশিদ শিল্পী ইকবাল হোসাইন জীবন।

আশরাফুর রহমান: আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই চিঠিপত্রের আজকের আসর থেকে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।