খালেদা জিয়ার লিভার প্রায় তছনছ হয়ে গেছে: ব্যক্তিগত চিকিৎসক
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i100578-খালেদা_জিয়ার_লিভার_প্রায়_তছনছ_হয়ে_গেছে_ব্যক্তিগত_চিকিৎসক
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। লিভার সিরোসিসের কারণে যেকোনো সময় রক্তক্ষরণের শঙ্কা প্রকাশ করে এজন্য যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশের কথাও জানান তাঁরা।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ২৮, ২০২১ ১৭:০২ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলন করছেন বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড-এর চিকিৎসকেরা
    সংবাদ সম্মেলন করছেন বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড-এর চিকিৎসকেরা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। লিভার সিরোসিসের কারণে যেকোনো সময় রক্তক্ষরণের শঙ্কা প্রকাশ করে এজন্য যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশের কথাও জানান তাঁরা।

আজ রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসার সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী এসব তথ্য তুলে ধরেন।  ডা. সিদ্দিকী বলেন, "আমরা আমাদের সাধ্যমতো দেশের সবচেয়ে সেরা চিকিৎসকদের দিয়ে ম্যাডামের চিকিৎসা করে যাচ্ছি। কিন্তু তার যে চিকিৎসাটি প্রয়োজন, সেটি দেশে সম্ভব নয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশ তো বটেই, সিংগাপুর-ব্যাংককেও এ ধরনের চিকিৎসা নেই। এটি বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি অ্যাডভান্সড সেন্টারেই অত্যন্ত দক্ষ কয়েকজন চিকিৎসক করে থাকেন।"

ডা. সিদ্দিকী বলেন, ১২ নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বাসায় চলে গিয়েছিলেন। কয়েকদিন ভালোও ছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ করে আমরা ইনফরমেশন পেলাম তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন, কয়েক কদম হাঁটতে গিয়েই হাঁপিয়ে পড়ছিলেন। তখন আমি ডা. এ জেড জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, তিনি অত্যন্ত ফ্যাকাসে ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার রাতেই ২টার সময় বাসা থেকে তার রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সকালে রিপোর্টে আমরা দেখলাম, তার হিমোগ্লোবিন ড্রপ করেছে। তাৎক্ষণিকভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর খালেদা জিয়ার জীবন বাঁচানোর জন্য যেসব চিকিৎসা দেওয়া হয়, তার বিবরণ ধাপে ধাপে তুলে ধরেন ডা. সিদ্দিকী। তিনি বলেন, তার জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা নানা ধরনের ফ্লুইড দিয়েছি। তার লিভারের সমস্যা মাথায় ছিল। এ ধরনের রোগীদের হেমোরেজ (রক্তক্ষরণ) হলে যেকোনো সময় মৃত্যুঝুঁকি থাকে। সে কারণে আমরা দ্রুত তার জন্য কিছু লাইফ লাইন চালু করি। তাকে দুই ব্যাগ পিআরবিসি (প্যাকড রেড ব্লাড সেল, কনসেন্ট্রেটেড আরবিসি) দেই। এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে তার রক্তক্ষরণের উৎস বের করার উদ্যোগ নেই। ডিপ সিডেশন (সম্পূর্ণভাবে অচেতন) না করে এই এন্ডোস্কোপি করা সম্ভব না। সে কারণে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে রাত ২টার দিকে তার ব্লাড প্রেশার ও পালস কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকলে ডা. আরেফিন তার এন্ডোস্কোপি করেন।

হাসপাতালে খালেদা জিয়া

ডা. সিদ্দিকী জানান, এরপর বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, আবার অবনতি হয়েছে। তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার পর আবার শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা জানতে পেরেছেন, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। তবে একাধিকবার এন্ডোস্কোপি করেও তার রক্তক্ষরণের উৎস তারা জানতে পারেননি। তবে খালেদা জিয়ার কোলনের পুরোটাতেই রক্ত জমাট বেঁধেছিল। সেটি তারা পরিষ্কার করেছেন। তবে যথাযথ চিকিৎসা না হলে খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে সেটিও বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা বলেন, টানা তিনদিন যাবৎ খালেদা জিয়ার ব্লিডিং হয়েছে। এখন একটা পর্যায়ে ব্লিডিংটা বন্ধ আছে। ওনার যে পরিস্থিতি রয়েছে ব্লিডিং আবার হবে, হতে পারে এটাই স্বাভাবিক। আমরা অসহায় বোধ করছি। কারণ ওনার থার্ড টাইম ব্লেডিং হয়েছে। ডায়াবেটিস, লিভারসহ সমস্যাগুলি নিয়ে এরপর ব্লিডিং হলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে, বিষয়টা আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ পরিবারকে জানিয়েছি। একটা সময় আসতে পারে একটা টাইম আসতে পারে তাঁকে আর স্থানান্তরিত করাও যাবে না। 

চিকিৎসকরা বলেন, চার মাস আগে বিদেশ গেলে এই ব্লিডিং হতো না। পরিবারকে রিক্স বলেছি, ভয়ের বিষয়টা বলতে পারি না। লিভার প্রায় তছনছ হয়ে গেছে।

খালেদা জিয়া গত ১৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়া সরকারি আদেশে মুক্ত থাকার মধ্যে এখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে চায় বিএনপি। কিন্তু সরকারের সায় এখনও পায়নি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে ফিরলে তার বিদেশ যাত্রার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।'#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।