শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে লেখা-পড়ায় মনোযোগী হতে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর না করতে ছাত্রদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তাদেরকে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে লেখা-পড়ায় মনোযোগী হতে পরামর্শ দিয়েছেন। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রেক্ষিতে যারা গাড়ি ভাঙচুর করছে, আগুন দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রশ্ন করেন, একটা গাড়িতে অ্যাক্সিডেন্ট হলো, একটা মানুষ মারা গেল বলে আরও ১৫টা গাড়ি ভাঙা এবং সেখানে আগুন দেওয়া, সে ভাঙারফলে ও আগুন দেওয়ার ফলে গাড়িতে যাত্রী-ড্রাইভার তারা যারা আহত হয়, অথবা কেউ নিহত হয় সে দায়িত্বটা কারা নেবে?’
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বলেন, রাস্তায় নেমে হঠাৎ করে দৌড় দেবে, তার পর অ্যাক্সিডেন্ট হবে, আর অ্যাক্সিডেন্ট হলেই রাস্তায় গাড়িভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া, গাড়ি পোড়ানো- এটি কী ধরনের কথা। চালকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আমি বলব- তাদেরও সতর্কতারসঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে। অনেক জনসংখ্যা বেশি আমাদের। স্বাভাবিকভাবে সেখানেগাড়ি চালাতে গেলে সেখানে সঠিক প্রশিক্ষিত হতে হবে।
বিএনপি জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে সরকার। ওদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রামপুরায় বাসচাপায় কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় বিএনপি জামায়াতের অতীত সহিংস অপকর্মের পুনরাবৃত্তি কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।
আজ বুধবার আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত একসেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সড়ক-সেতু মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যমতে দুর্ঘগটনাটি ঘটে রাত পৌনে ১১টায়। এর ১২ মিনিট পর ১০ টা ৫৭ মিনিটে নিরাপদসড়ক চাই ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ওই স্থান থেকে লাইভ করা হয়। রাত ১১টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেল খবটি প্রচার করে এবং দুর্ঘটনার স্থানথেকেই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। আর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১৫টি বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং অসংখ্য গাড়িভাঙচুর করা হয়। এটা কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পূর্ব পরিকল্পিত। একই প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর একই রকম প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ডঃ হাছান মাহমুদ।
আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদেরসঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন দুর্ঘটনার ১২ মিনিটে নিরাপদসড়ক চাইয়ের অ্যাডমিন কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন? ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেকীভাবে ১০ থেকে ১২টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হলো? ছাত্ররা তো আগুন দেয়নি।কারণ, ঘটনার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এত ছাত্র সেখানে পৌঁছায়নি। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ফেসবুক পেজে লাইভ দিয়েছে, তারা ঘটনা সম্পর্কে আগেথেকেই অবহিত ছিল কি না?হাছান মাহমুদ বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনে ভর করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলাসৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গত পরশু রাতের ঘটনা থেকে তা স্পষ্ট। ছাত্রদেরগায়ে কালিমা লেপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে রামপুরায় বাসের চাপায় মারা যায় মাইনুদ্দিনইসলাম (১৭)। সে রামপুরার একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিপরীক্ষা দিয়ে ফলের অপেক্ষায় ছিল। মাইনুদ্দিন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওই রাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ১২টি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
মায়ের মামলা দায়ের
মাইনুদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় তার মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে অনাবিলপ রিবহনের বাসচালকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মামলায় চালকের নামউল্লেখ করা হয়নি। মামলায় চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে অবহেলা জনিত মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।অন্যদিকে, মাইনুদ্দিন নিহত হওয়ার জেরে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ‘উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও জনতা’র নামে পৃথক দু’টি মামলা রুজু হয়েছে। এ মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত
নিরাপদ সড়কের ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আজ বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারী একদল শিক্ষার্থী । রামপুরা ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে দেখছেন। তবে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেননি। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়ক দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলছে। ফলে সড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতেবাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয় পরিবহন মালিক সমিতি।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপদ সড়কের জন্য তাঁদের ৯ দফার মধ্যে একটি দাবি হচ্ছে অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা। বাকি দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ ছাড়া অর্ধেক ভাড়ার ঘোষণা, সেটা কেবল রাজধানীর জন্য। সারা দেশে কার্যকর করার দাবিও রয়েছে। আবারো সাভারের রাস্তায় ছাত্রের সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অজ্ঞাত পরিবহনের চাপায় এক স্কুল শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পাকিজা গার্মেন্টসের সামনে প্রায়ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসের সড়ক ছেড়ে দেন তারা। অবরোধ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকটি গাড়ির লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে মর্নিং গ্লোরি স্কুলের ছাত্র আতিককে অজ্ঞাত একটি পরিবহন চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের ভেতর ছড়িয়ে গেলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সবাই সড়কে নেমে আসে। এ সময় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে বসে থাকলে পুলিশ এসে তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচলে স্বাভাবিক করে। এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ পর্যন্ত সড়কে দুর্ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা কেউমারা গেলেও কোনো বিচার হয়নি। আমাদের এক বন্ধুকে আজ এক গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। আমাদের কি নিরাপত্তা আছে। সেই গাড়ি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথা আমরা আরও বড় কর্মসূচিতে যাবো।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।