মির্জা ফখরুল বললেন
'আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন কমিশন দিয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না'
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন কমিশন দিয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে।
তাই বিএনপি’র দাবি নির্বাচনকালীন সময়ে অবশ্যই দলীয় সরকারকে পদত্যাগ করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে জবাবদিহিমূলক পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে।
বুধবার দুপুরে ঘিওর উপজেলার পাঁচুরিয়া এলাকায় বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কবর জিয়রত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০১১ সালের ১৬ই মার্চ সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলদপুর) আসনের সংসদ্য ছিলেন এবং সংসদীয় দলের চিফ হুইপ ও ২০০৭ সাল থেকে আমৃত্যু মহাসচিবের দায়িত্ব পালনও করেছেন
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নবগঠিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনার নামে ‘নতুন নাটক’ শুরু করেছে ।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো চিন্তাশীল মানুষ যারা দেশকে ভালোবাসেন তারা খুব ভালো করেই জানেন, এখন যেটা প্রয়োজন তা হচ্ছে একটা জনগণের সরকার। নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার লাগবে। আওয়ামী লীগের অধীনে হবে না।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন নির্বাচন কমিশন। ৩০ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, গিয়েছেন মাত্র ১২ জন। সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলছেন, এই তামাশাগুলো কেন করছেন?’ একজন শিক্ষাবিদের মত তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু-অবাধ হবে না, যদি সেখানে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার না থাকে। এটা আমার কথা নয়, এটা শিক্ষকদের কথা, শিক্ষাবিদের কথা।’ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি ভোটের অধিকার ফেরাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন চাল-ডাল নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্যের ঊধর্বগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, হাটে-বাজারের সর্বত্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঠিক তেমনিভাবে ভোটের অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও তার সুচিকিৎসা এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ৩৫ লাখ নেতা-বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য, কারাগারে বন্দি নেতাদের মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে নামতেই হবে।’ #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।