বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবি'র: বিরোধিতা করেছে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সংগঠন
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i108224-বিদ্যুতের_দাম_বাড়ানোর_প্রস্তাব_পিডিবি'র_বিরোধিতা_করেছে_ব্যবসায়ী_ও_ভোক্তা_সংগঠন
সরকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে। বুধবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পিডিবির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন করে। তাদের টেকনিক্যাল কমিটি ভর্তুকি ছাড়া এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম বর্তমান দামের অর্ধেকের বেশি বাড়িয়ে ৮ টাকা ১৬ পয়সা করার পক্ষে মত দিয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মে ২১, ২০২২ ১৪:৩১ Asia/Dhaka
  • বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবি'র: বিরোধিতা করেছে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সংগঠন

সরকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে। বুধবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পিডিবির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন করে। তাদের টেকনিক্যাল কমিটি ভর্তুকি ছাড়া এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম বর্তমান দামের অর্ধেকের বেশি বাড়িয়ে ৮ টাকা ১৬ পয়সা করার পক্ষে মত দিয়েছে।

এর বিরোধিতা করেছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণ করে দেখিয়েছেন, বিভিন্ন খাতে অপচয় বন্ধ করলে ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পুষিয়েও ৩ হাজার কোটি টাকা লাভে থাকবে পিডিবি। ব্যবসায়ীরা এও বলেছেন, ফের গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁদের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা হবে কঠিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা-উত্তর পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিসহ দৈনন্দিন জীবনে এমনিতেই নানামুখী চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ যেহেতু অর্থনীতিসহ জনজীবন সচল রাখার অন্যতম প্রধান বিষয়, তাই এ খাতে দেওয়া ভর্তুকিকে নিছক খরচ হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখাটাই উত্তম। তাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব থেকে সরকারের সরে আসা উচিত

এদিকে, ব্যবসায়িদের শীর্ষ সঙ্গঠন এফবিসিসিআই আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে আশংকা ব্যক্ত করেছেন, কেবল  সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে সরকারের উচিত হবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আমূল সংস্কার করা। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।

আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, করোনা মহামারি কাটিয়ে সবাই যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ঠিক তখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন দাম বাড়ানো হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, কুইক রেন্টালের এক সময় প্রয়োজন ছিল। এখন আর তার প্রয়োজনীয়তা নেই। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা উচিত। অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা উচিত। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। সরকার সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারের ভুল পরিকল্পনার খেসারত শিল্প খাত বহন করতে পারে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম বলেন, ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। দেশে এখন ডলার–সংকট চলছে। এ অবস্থায়  যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়  তবে  উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা সাধরনের  ওপর।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।