বেড়েছে মিল্কভিটা দুধের দাম; সরকার মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে: মন্ত্রী
সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। বাজারে বেড়েছে গো-খাদ্যের দাম। পণ্য প্যাকেজিং খরচও বেড়ে গেছে। বেড়েছে পরিবহন খরচ। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা তাদের উৎপাদিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আশঙ্কা করা যাচ্ছে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদক অন্যান্য বাণিজ্যিক সংস্থাও তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার মিল্কভিটার ওয়েবসাইটে পণ্য মূল্য তালিকায় ১ লিটার প্যাকেট দুধের দাম ৮০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। যা আগে ছিল ৭৫ টাকা। এছাড়া ১/২ লিটার প্যাকেট দুধের দাম দেখা গেছে ৪৫ টাকা যা বিক্রি হতো ৪০ টাকায়। ২৫০ মিলিলিটার প্যাকেটের দাম হয়েছে ২৫ টাকা যা ছিল ২২ টাকা। প্যাকেট দুধসহ দুগ্ধজাত কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়েছে মিল্ক ভিটা। দুধ ছাড়াও মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ, ননিবিহীন গুঁড়া দুধ, ঘি , মাখন ,দই, আইস ক্রীম, মিষ্টি, চকোলেট এবং কেকসহ ২২ ধরনের পণ্য ।
এর আগে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, মেধাবী জাতি বিনির্মাণে দুধের চেয়ে ভালো খাবার হয় না । দেশে দুধের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দুধের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অত্যন্ত চমৎকার। সরকার মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য বঙ্গবন্ধু বিদেশ থেকে গবাদিপশু এনেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পরে পিতার অসমাপ্ত কাজ সফল করার জন্য বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ খাতকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ এবং যেখানে যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন, আমরা দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারিনি, কিন্তু মাছ, মাংস ও ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। অনেক শিক্ষিত মানুষ এখন প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করছে। তারা নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করছে। বেসরকারি খাত ছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন সম্ভব হতো না।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বিদেশ থেকে গুঁড়োদুধ আনতে চাইনা। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এক্ষেত্রে এগিয়ে আসুন। দেশে প্রয়োজন হলে গুঁড়োদুধ তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠায় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। দুধ থেকে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে এ খাতকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দুগ্ধ খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য উল্লাপাড়ার ঘোল ব্যবসায়ী আব্দুল মালেককে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। মালেককে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। প্রসঙ্গত, আব্দুল মালেকের উৎপাদিত ঘোলের স্বাদে মানে অনন্য হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে এর প্রচুর সুনাম রয়েছে। করোনাকালেও মালেক খামারিদের নিকট থেকে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার লিটার দুধ কিনে ঘোল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেছেন। আর এতে সেই দুঃসময়ে উপকৃত হয়েছেন এলাকার গরু খামারিরা। এসব কারণেই এ বছর জাতীয় পুরস্কারের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ আব্দুল মালেকের নাম প্রস্তাব করে।
এ ছাড়া এবারই প্রথমবারের মত চার ক্যাটাগরিতে ৩৯ জন খামারি ও উদ্যোক্তাকে 'ডেইরি আইকন' পুরস্কার দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে প্রত্যেক উদ্যোক্তা পেয়েছেন ১ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় দুগ্ধ মেলা। মেলার উদ্যোক্তাদের স্টলে শোভা পেয়েছে নানা রকম দুগ্ধজাত পণ্য। ঘি, ছানা, রসমালাই, সর মালাই, ক্ষীরপুলিসহ নানা ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয় দিনভর। পণ্য কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
পরে মন্ত্রী ডেইরি আইকন ২০২১ পুরস্কারপ্রাপ্ত খামারি ও উদ্যোক্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএও'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন, বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান বার্জার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুর রহিম।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।