এবার গাজীপুরে চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ, হেলপারসহ আটক ৫
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i111586-এবার_গাজীপুরে_চলন্ত_বাসে_দলবদ্ধ_ধর্ষণ_হেলপারসহ_আটক_৫
টাঙ্গাইলে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত বাস থেকে স্বামীকে ফেলে দিয়ে এক নারীকে (২১) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাসের হেলপারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ০৭, ২০২২ ১১:০৫ Asia/Dhaka
  • গ্রেফতার ৫
    গ্রেফতার ৫

টাঙ্গাইলে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত বাস থেকে স্বামীকে ফেলে দিয়ে এক নারীকে (২১) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাসের হেলপারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় তাকাওয়া পরিবহনের একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেয়ে গাজীপুর গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জব্দ করা হয়েছে বাসটিও। এ ছাড়া, যাত্রীদ্বয়ের কাছ থেকে  লুণ্ঠিত ১০ হাজার টাকা, দুটি ব্যাগ ওন্যান্য মালামাল মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রী দুজনই পোশাক কারখানার শ্রমিক। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন তাঁরা।

শুক্রবার গভীর রাতে এ দম্পতি বাসে করে নওগাঁ থেকে এসে মহানগরীর ভোগড়ায় পৌঁছান। সেখান থেকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় যাওয়ার জন্য গাজীপুরের তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তাঁরা। বাসটি মাওনা এলাকায় পৌঁছালে চালক- হেলপারসহ অন্য সহযোগীরা ওই নারীকে আটকে রেখে তাঁর স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেন। পরে বাসটি ঘুরিয়ে চালক ফের গাজীপুরের দিকে চালাতে থাকেন। ওই সময় চলন্ত বাসে চালক ও হেলপারসহ অন্য সহযোগীরা ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ওই নারীর ব্যাগ ও নগদ টাকা রেখে দিয়ে হোতাপাড়ায় একটি নির্জনস্থানে তাকে ফেলে রেখে বাসটি পালিয়ে যায়। 

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে গতকাল শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। নির্যাতনের শিকার নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগে তাকওয়া পরিবহনের হেলপারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ আগস্ট) দিনভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মো. রাকিব মোল্লা (২৩) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দরিপাড়া এলাকার আলী আকবরের ছেলে, সুমন খান (২০) নেত্রকোনা সদরের মৃত সানোয়ারের ছেলে, মো. সজিব (২৩) ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাঁঠালকাচারি এলাকার মৃত কফিলের ছেলে, মো. শাহিন মিয়া (১৯) হালুয়াঘাট ‍উপজেলার বিলডোলা এলাকার তুলা মিয়ার ছেলে ও মো. সুমন হাসান (২২) খুলনার রুপসা উপজেলার খানমোহাম্মদপুর এলাকার মৃত নুর আলমের ছেলে।

ওদিকে, কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল পরিবহনের চলন্ত বাসে টাঙ্গাইলে মহাসড়কে ডাকাতি ও নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গতকাল তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন রাজা মিয়া, মো. আউয়াল ও নূরনবী। তারা সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সদস্য। তারা সাধারণত বিভিন্ন জায়গা থেকে ডিম ও সিলিন্ডার বোঝাই গাড়ির মালামাল লুট করে ছেড়ে দিত। ঈগল পরিবহনের বাসটির যাত্রীদের কাছ থেকেও এ ডাকাতদল মালামাল লুট করেন বলে স্বীকার করেছেন আউয়াল ও নূরনবী। তবে বাসটির এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন রাজা মিয়া। রাজা মিয়া ও মো. আউয়াল টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট মো. শামছুল আলমের আদালতে ও রাজা মিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমি খাতুনের আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। গতকাল সন্ধ্যা থেকে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে প্রেরণ করা হয়।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান/আশরাফুর রহমান/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।