বাসভাড়া আরেক দফা বৃদ্ধি: জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেন দুই মন্ত্রী
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সমন্বয় করে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া আরো এক দফা বাড়িয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে আজ (রোববার) এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আজ থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গত রাতে (শনিবার) বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সিটি সার্ভিসে প্রতি কিলোমিটারে ভারা বাড়ানো হয়েছে ৩৫ পয়সা। আর দূরপাল্লায় বাড়ানো হয়েছে প্রতি কিলোমিটারে ৪০ পয়সা। আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সার স্থলে ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা। এ ভাড়া বৃদ্ধি গ্যাসচালিত মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
তবে সব ধরনের বাস মিনিবাসে সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়ার চেয়েও অধিক হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। আর এ নিয়ে যাত্রী সাধারণের মাঝে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী আজ রোববার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরতে বাসভাড়া নির্ধারণের সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়ে বারবার আবেদন করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। কিন্তু বাস মালিকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রী প্রতিনিধি ছাড়াই বাসভাড়া নির্ধারণ করে থাকে।
তিনি বলেন, সরকার বাস মালিকদের সুবিধা দিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করলেও কোনো বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হয় না। নির্ধারিত ভাড়ার বেশ কয়েকগুণ ভাড়া আদায় হয়। সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণ করে নতুনভাবে বাসভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
তবে সরকারের মন্ত্রীরাও স্বীকার করেছেন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে জনসাধারণের কষ্ট বেড়েছে এবং কৃষি ও পণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে শেখ হাসিনা সরকার নিরুপায় হয়ে মূল্যবৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস পেলে সরকার আবারও মূল্য সমন্বয় করবে বলেও জানান তিনি।
আজ সকালে নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা ছিল। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২২ পর্যন্ত বিপিসির লোকসান ছিল প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। এ প্রেক্ষাপটেই সরকারকে বাধ্য হয়ে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম একটু অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে, তা অস্বীকার করব না। কিন্তু, দেশটাকে তো আমরা চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারি না। এর জন্য সরকার দায়ী নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যারা বাঁধিয়েছে, তারা দায়ী।’
আজ কুমিল্লায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন উন্নয়ন (বিএডিসি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে ফলদ বাগান, সৌরশক্তি চালিত ডাগওয়েল ও ড্রিপ সেচ প্রদর্শনীর প্লট উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষি সেক্টরে কিছুটা প্রভাব ফেলবে, কিন্তু তাতে কিছু করার নেই।’
এছাড়া, আজ রোববার এফবিসিসিআই এর এক সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিঃসন্দেহে জনগণের কষ্ট বেড়েছে, তবে এটা সাময়িক। ভবিষ্যতের স্বস্তির জন্য দাম বাড়ানো জরুরি ছিল। যারা সমালোচনাকারী তারা সবকিছুতেই আমাদের ভুল দেখে, আমরা সমালোচনা নিয়ে চিন্তিত নই।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান/আশরাফুর রহমান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।