নিরাপদ অভিবাসনই এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: মনে করেন বিশেষজ্ঞরা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i117360-নিরাপদ_অভিবাসনই_এখনো_বাংলাদেশের_জন্য_বড়_চ্যালেঞ্জ_মনে_করেন_বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দেশের শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু বিপুল এই জনগোষ্ঠীর জন্য সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ১৮, ২০২২ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দেশের শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু বিপুল এই জনগোষ্ঠীর জন্য সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

নতুন শ্রমশক্তির মধ্যে মাত্র সাত লাখ দেশে কাজ করে আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আয় করতে পারছেন। বাকিরা যে কোনো উপায়ে জীবন ধারণের পথ খোঁজেন। দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় এর বড় অংশই কাজের জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। এরাই প্রবাসী, এরাই রেমিটেন্স যোদ্ধা। যাদের শ্রমে ঘামে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি প্রবহমান গতির সঞ্চার করছে।

কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অভিবাসন খাতে এখনো চলছে নানামুখী প্রতারণা। একদিকে দালাল চক্র, অন্যদিকে সরকারি সেবায় অব্যবস্থাপনা-সব মিলিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন কাজের জন্য অভিবাসনে আগ্রহীরাও। এমনিতেই বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তার ওপর আছে টাকা দেওয়ার পর দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা। এখানেই শেষ নয়, ভিন দেশে পাড়ি জমানোর পরও নানা সংকটে দিন কাটান প্রবাসী কর্মীরা। এ অবস্থায় বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নিরাপদ অভিবাসনই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে কেমন আছেন প্রবাসের রেমিটেন্স যোদ্ধারা আর কতখানি নিশ্চিত হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন, এবিষয়ে জানতে কথা হয় সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের প্রেরণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণেই মূল সমস্যার সৃষ্টি হয়। এরপরে পাঠানো কর্মীদের ঠিকমত প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে পারে না হাইকমিশন কিংবা দূতাবাসগুলো।

বায়রার মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেছেন, রিক্রুটিং এজেন্ট ব্যবসায়ীদেরকেও শুধু ব্যবসা না এটাকে সেবা মনে করতে হবে। একই সাথে সমাজে এখন আর এটাকে আদম ব্যবসা না ভেবে এই ব্যবসায়ীদের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টিও ভাবতে হবে।

আর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডিজি শহিদুল আলম এনডিসি বলেছেন,  ১৯৭৬ থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮২ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে কাজ নিয়ে বিদেশে গেছেন। সেইসঙ্গে ভ্রমণ ভিসাসহ নানা প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে গিয়ে কাজ করেছেন আরও এক কোটি বাংলাদেশি। এদের সবার কথা চিন্তা করেই সরকার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে আরো সক্রিয় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে যা আগামীতে আরো সেবা নিশ্চিত করবে প্রবাসী কর্মীদের জন্য। #

পার্সটুডে/নিলয় রহমান/রেজওয়ান হোসেন/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।