বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন
কূটনীতিকদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ নির্বাচনে আদৌ প্রভাব ফেলবে কিনা, সংশয় তৃণমূল রাজনীতিবিদদের
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিকদলগুলো সরব রাজনীতির মাঠে। পাশাপাশি চলছে তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী বৈঠক। থেমে নেই রাজনীতিতে কূটনীতিকদের সম্পৃক্ততাও।
গত ২২ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আমন্ত্রণে তার বাসায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। এর আগে গত ১৬ মার্চ বারিধারায় ভারতের হাইকমিশনারের আমন্ত্রনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার দেওয়া নৈশভোজের আমন্ত্রণে অংশ নেন বিএনপির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এরআগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারিও আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাতটি দেশের কূটনীতিকরা। ওই বৈঠকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল দল অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগও চায় একটি ভালো, ত্রুটিমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এ বৈঠক তিনটিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান কী, ইত্যাদিসহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এমন খবরই বেড়িয়েছে দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের মন জয়ের চেষ্টা করছে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দল দুটি আগামী নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আর কূটনৈতিক পাড়ায়ও জোরদার হচ্ছে ভোটের সংলাপ। আর এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে দেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি , জাতীয় পার্টি। এছাড়া অন্যান্য ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোও বিচ্ছিন্ন ভাবে কূটনৈতিক পাড়ায় দৌড়ঝাপ করছে তাদের মন জয়ে।
শুধু আওয়ামী লীগ, বিএনপি নয় জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও কূটনৈতিকদের মন জয় করতে দৌড়ঝাঁপ করছেন বেশ কয়েক মাস ধরে। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের উত্তরার বাসভবনে গিয়ে স্বাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন পরাশক্তিধর রাষ্ট্রের কূটনৈতিকরা।
এছাড়া জিএম কাদেরও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। আগামী ২ এপ্রিল হোটেল রেডিসনে কূটনৈতিকদের সম্মানে তিনি ইফতার পার্টিও দিয়েছেন। বিএনপিও কূটনৈতিকদের সম্মানে ইফতার পার্টির আয়োজন করছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বড় দলগুলোর এমন তৎপরতা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান নিজেদেরই করার পরামর্শ তাদের। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকসহ দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যেও রয়েছে নানা আলোচনা।
আর সম্প্রতী ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রকাশ বাংলাদেশের রাজনীতির আভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে কোন কূটনীতি করছে কিনা। এ প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম মনে করেন, ভোটাধিকার মানবাধিকার কখনো কোন দেশের আভ্যন্তরীন ইস্যু না। এটা মানুষের অধিকারের বিষয়। আর আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরজাহান বেগম বলেন, এধরনের প্রতিবেদন করে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা আসলে কোন কাজে আসবে না। কারন এদেশের রাজনীতিতে কুটনীতিকদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নাই। যদিও আগের প্রায় সব নির্বাচনের আগেই এমনটা হয়েছে। কিন্তু বিদেশি কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপে কখনোই সমস্যার সমাধান হয়নি। মানবাধিকার ও নির্বাচনের কাঠামো বাইরের একটি শক্তি এসে ঠিক করে দিয়ে যাবে এমনটা হয় না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।