বাংলাদেশ বিমানের আরো দু'টি হজ ফ্লাইট বাতিল; ৫ এজেন্সিকে শোকজ
হজ ব্যবস্থাপনায় কাজে আসছে না কোনো উদ্যোগই। পরস্পরকে দোষারোপ করেই নিজেদের দায় এড়াতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা। একের পর এক ফ্লাইট বাতিলে হজে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন হজযাত্রীরা।
আজ (বৃস্পতিবার) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরও দু’টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৮ দিনে তাদের ২১টি হজ ফ্লাইট বাতিল হলো। এছাড়া সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্য :
যাত্রী সংকটে ফ্লাইট বাতিলের জন্য আবারও হজ এজেন্সিগুলোকেই দায়ী করেছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায়, এজেন্সিগুলোকে দোষারোপ করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি যাই হোক, সবাইকে নিয়েই হজ করার আশাবাদ জানান ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "৯৯ হাজার ৪৪৫ ভিসা পাওয়া গেছে। আর এরই মধ্যে ৫১ হাজার ২১৬ জন সৌদি আরবে চলে গেছে। যে ফ্লাইটগুলো বাতিল হইছে তা শুধু এজেন্সির কারণে। আমাদের কোনো ত্রুটি নাই। বিমানেরও কোনো ত্রুটি নাই। এজেন্সিরা টাকা বাঁচানোর জন্য এইসব করছে। এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।"
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, "এখন থেকে আর কোনো হজ ফ্লাইট বাতিল হবে না। নিয়মিত হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেবে। আমি একজন হজযাত্রী রেখে সৌদি আরব যাব না।"
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শোকজ:
ভিসা প্রক্রিয়ায় গাফিলতির জন্য ৫টি হজ এজেন্সিকে শোকজ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ৪৮ এজেন্সিকে ভিসা লজমেন্টের জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে ৪৩টি এজেন্সি ভিসা লজমেন্ট করেছে। বাকি ৫টি নির্দিষ্ট সময় কাজ শুরু না করায় তাদের শোকজ করা হয়েছে। এসব এজেন্সির হজযাত্রীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন যুগ্ম সচিব।
বিমানমন্ত্রীর বক্তব্য:
যাত্রী না পেলে বিমানের কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। আজ (বৃহস্পতিবার) দপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা উদ্বোধনের পর, সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমানের কোনো অসুবিধা দেখি না। বিমান যাত্রীর জন্য বসে আছে। এখন এজেন্সি যদি যাত্রী না দেয় তাহলে কী করার আছে? এরপরও বিকল্প উপায় হজ যাত্রী নেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।
চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশি হজ পালন করতে সৌদি আরব যাবেন। গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ বিমানের হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইটটি যাবে ২৮ আগস্ট। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১০