রোহিঙ্গা সমস্যা: বাংলাদেশ সরকারের 'দুর্বল' কুটনীতিকে দায়ী করলেন খালেদা জিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i44958-রোহিঙ্গা_সমস্যা_বাংলাদেশ_সরকারের_'দুর্বল'_কুটনীতিকে_দায়ী_করলেন_খালেদা_জিয়া
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ২৮, ২০১৭ ১১:১৩ Asia/Dhaka
  • বেগম খালেদা জিয়া
    বেগম খালেদা জিয়া

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আজ (সোমবার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-রোহিঙ্গাদের জীবন ও বসবাসের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের ওপর রক্তাক্ত সহিংসতার পূনরাবৃত্তি বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার প্রাজ্ঞ ও দুরদর্শী নীতি নিয়ে অগ্রসর হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, "রোহিঙ্গারা বসতবাড়ি, সহায় সম্বল হারিয়ে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে গ্রামের পর গ্রামে আগুন জ্বলছে। প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা দিকবিদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, গহীন অরণ্যে ঢুকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের ওপরও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অবিরাম গুলিবর্ষণ করে যে নারকীয় পরিবেশ তৈরী করেছে তা বর্ণনাতীত। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত রোহিঙ্গা যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হয়েছে তাদের অনেকেই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এবং কারো কারো মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার এলাকায় রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নাফ নদীর বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তীরে বসে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তায় প্রহর গুণছে। এই দৃশ্য অমানবিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।"

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ। সুপ্রাচীনকাল থেকে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে যাওয়ার সিংহ দুয়ার হচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। এই দুয়ার দিয়েই দুই বিস্তৃত অঞ্চলের মধ্যে ভাব, ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কুটনৈতিক আদান-প্রদান উত্তরোত্তর ক্রমবর্ধমানভাবে বিকশিত হয়েছে। আবহমানকাল ধরে দুদেশের সম্পর্ক সমমর্যাদায় অভিষিক্ত। আমি বিশ্বাস করি-সমমর্যাদার এই ঐতিহ্যকে সম্মান দেখিয়ে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা সমাধানহীন একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্রমাগতভাবে অবনতিশীল হতে থাকবে এবং এতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঐতিহ্যগত স্থিতিশীলতায় বিরুপ প্রভাব ফেলবে। সুসম্পর্কের আবহমানধারা যাতে কোনভাবেই বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে মিয়ানমার সরকারকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হয়ে রোহিঙ্গা সংকটের জরুরি অবসান ঘটাতে আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যে কোনো সংকট আরও ঘনীভূত হয়। যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হচ্ছে, ভূমিচ্যুত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিতে আসছে প্রধানত: সীমান্তবর্তী বাংলাদেশে। এছাড়া আরও কিছু দেশেও রোহিঙ্গারা উদ্বাস্ত হয়ে জীবনযাপন করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার যুগে জাতি, বর্ণ, ধর্ম সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নির্মূল করতে সহিংসতা সৃষ্টি অচিন্তনীয় ও বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে স্পর্শ করে। কোনো পক্ষেরই প্রাণহানি কাম্য নয়।

খালেদা জিয়া বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-রোহিঙ্গাদের জীবন ও বসবাসের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের ওপর রক্তাক্ত সহিংসতার পূণরাবৃত্তি বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার প্রাজ্ঞ ও দুরদর্শী নীতি নিয়ে অগ্রসর হবে।

বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে আরও বলেন, "জীবন ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুদের বাংলাদেশে আশ্রয় এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আমি দায়িত্বরত বাংলাদেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া উল্লেখ করেন, "রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে অমনোযোগী বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল কুটনৈতিক তৎপরতার কারণেই পরিস্থিতি শোচনীয় রুপ ধারণ করেছে।" তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।#

পার্সটুডে/এআর/২৮