মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরেছেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i47680-মিয়ানমার_থেকে_শূন্য_হাতে_ফিরেছেন_জাতিসংঘ_কর্মকর্তারা_বাংলাদেশে_প্রতিক্রিয়া
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্ত ছাড়াই মিয়ানমারে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের পাঁচদিনের সফর শেষ হয়েছে। রাখাইন সফরকারী জাতিসংঘ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের সফরে ‘কোনো সাফল্য অর্জিত’ হয়নি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ১৭:০৩ Asia/Dhaka

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্ত ছাড়াই মিয়ানমারে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের পাঁচদিনের সফর শেষ হয়েছে। রাখাইন সফরকারী জাতিসংঘ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের সফরে ‘কোনো সাফল্য অর্জিত’ হয়নি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস লিখেছে, জাতিসংঘ কর্মকর্তারা মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চি এবং সেনাপ্রধান মিং অন-এর সঙ্গে বৈঠক করলেও সেই দুই আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

এএফপির খবর অনুযায়ী, জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেফ্রে ফেল্টম্যান বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি ও সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, ‘পাঁচ দিনের সফরে জেফ্রে ফেল্টম্যান মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের কাছে মহাসচিব গুয়েতেরেসের আহ্বান পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আক্রান্ত এলাকায় মানবিক সাহায্যকর্মীদের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসন দাবি করেছেন।

সফরকালে বিমানে করে জেফ্রে ফেল্টম্যানকে নিয়ে যাওয়া হয় রাখাইনে। বিমান থেকেই তিনি আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্রামের পর গ্রাম দেখতে পান। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, রাখাইনে কেন সাহায্য পৌঁছে দিতে সাহায্যকর্মীদের এখনও বাধা দিচ্ছে মিয়ানমার। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা একটা মূল্যবান প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মিয়ানমার সরকারের কাছে করতে হবে। আমরা দেখতে চাই যত দ্রুত সম্ভব সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর জেনেভায় বলেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে আছে ১০ থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র আন্দ্রে মাহিকিক বলেছেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার অথবা হত্যার হুমকি থাকা সত্ত্বেও অনেক রোহিঙ্গা এখনও তাদের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তবে যখন তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তখনই তারা দেশ ছাড়ছেন, পালাচ্ছেন।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। তারা একে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী অন্য দেশও তাদের দেশ থেকে মুসলমানদের এ দেশে ঠেলে পাঠাতে উৎসাহ পাবে। তিনি মনে করেন রাখাইনে স্বতন্ত্র মুসলিম রাষ্ট্র গঠন করেই এ সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।

ওদিকে, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের গণহত্যার বিষয়টি ১৩৭তম ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে চলমান আইপিইউ সম্মেলনের সাধারণ সভায়  রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয় বলে বুধবার জাতীয় সংসদের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
আইপিইউ সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে বাংলাদেশের কোনো প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম।

আইপিইউ সম্মেলনে ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি।

ওদিকে আইপিইউ সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশ সংসদীয় দলের সঙ্গে রাশিয়ার সংসদীয় দলের এক দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাকালে মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের ভয়াবহতা রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরা হয়। বৈঠকে  রাশিয়ার ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশ সংসদীয় দলকে আশ্বস্ত করে জানান,  মানবিক এ সমস্যার সমাধানে রাশিয়া ভূমিকা রাখবে। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯