বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চায় ব্রিটেন: বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, বাংলাদেশে মুক্ত, অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চায় তার দেশ। গতকাল (শুক্রবার) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ব্রিটেনের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। এ সময়, রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি। এরআগে, গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
'অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনেকটাই দুরহ'
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশাবাদ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনেকটাই দুরহ। কারণ, দেশে এখন নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি চর্চা করছি। তবে সব পক্ষ চাইলে সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। এটা নির্ভর করছে সবার সদিচ্ছার ওপর। সরকারসহ সবাই যদি চায়, তাহলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যাবে। সবাই সমঝোতায় পৌছাতে পারলে দেশে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক নির্বাচন করা সম্ভব।
'দেশে সরকার আছে, কিন্তু রাজনীতি নেই'
এদিকে বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, দেশে সরকার আছে, প্রশাসন আছে, পুলিশ-বিচার ব্যবস্থাও আছে, কিন্তু রাজনীতি নেই। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি দরকার। দেশে রাজনীতির নামে যা হচ্ছে, তা অস্বাভাবিক আচরণ। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনই কিছু বলা মুশকিল। এজন্য আওয়ামী লীগ আর বিএনপি নয়; সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিতে হবে, নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে হবে। আর সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়, বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে, কয়েকমাসের মধ্যে যদি পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাহলে দেশে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব। এছাড়া দেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ব্রিটিশ মন্ত্রী তার দেশে নয়, বাংলাদেশে বসে নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, আগে যে নির্বাচন হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমুলক ছিল না। আর এখনও স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ নেই, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সম্ভাবনাও কম। এ অবস্থায়, শুধু নাগরিক সমাজ চাইলেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। সরকারসহ সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১০