খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বেগম খালেদা জিয়া যেন দ্রুত কারাগার থেকে বের হতে না পারেন, সে জন্য ছলচাতুরী করছে সরকার। এমনকি তাঁকে ওকালতনামায় পর্যন্ত সই করতে দিচ্ছে না।
আজ (বুধবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, তাতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, যাতে তিনি কারাগার থেকে বের হতে না পারেন। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল ছাড়া আবার একটি নির্বাচন করতে চক্রান্ত করছে। সে জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মূলত সরকার একটা ছক তৈরি করেছে কীভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কারাগারে আটকে রাখা যায়।
এর আগে আজ সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
বর্তমান সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে বহুমুখী ষড়যন্ত্র করছে- এমন অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। এখন তাঁর জামিন দিতেও নানা গড়িমসি করছে।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিগত সেনা সমর্থিত কেয়ারটেকার সরকারের সময় খালেদা জিয়ার নামে চারটি মামলা হয় আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার চারটি মামলা বেড়ে বর্তমানে ৩৬টি হয়েছে। আর শেখ হাসিনার ১৫টি মামলার একটিও নেই। এদিকে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলায় ১২ লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। সরকার জুলুম-নির্যাতন করছে যাতে বিরোধী দলগুলো কোনো কথা বলতে না পারে। তাহলে তাদের ক্ষমতা আগলে রাখা সহজ হবে।
ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। বিএনপি ন্যূনতম আইনি সুবিধাও পাচ্ছে না। নির্বাচনের বছরে বিএনপি যখন নির্বাচন করতে চায় তখনই এসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে সরকার। বিএনপি নেতাদের মামলার আসামি করতে ছক তৈরি করে তা সারাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
উচ্চতম আদালতের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে: মওদুদ
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, উচ্চ আদালত দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে যেকোনো রায় দিতে পারেন। কিন্তু এক পক্ষের বক্তব্য শুনে এই ধরনের আদেশ দেয়া মোটেই যুক্তিসঙ্গত হয় নি। এতে দেশের উচ্চতম আদালতের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’
এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন রেডিও তেহারানকে বলেন, আমরা মনে হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে কারাগারে রাখবে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের জেল রেখে একটা একতরফা নির্বাচন করে সরকার তাদের বাকশাল রাজত্ব কয়েম করবে। তবে জনগণ যেভাব ফুঁসে উঠছে তাতে দেশ একটা অরাজক পরস্থিতির দিকে চলে যেতে পারে।
যাত্রীবাহী নৈশকোচে বোমা হামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর
ওদিকে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ যাত্রী হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫নং আমলি আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মুস্তাইন বিল্লাহ বুধবার বিকেলে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত সোমবার বিকেলে এক আদেশে আগামী ২৮ মার্চ কুমিল্লার আদালতে হাজির করার জন্য বেগম জিয়ার নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট অর্থাৎ হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করেছে।
খালেদা জিয়ার শাস্তির পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে: নজরুল
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল ও দুদুকের আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রমাণিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তির পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান আরা বলেছেন, ১/১১ সরকারের আমলে দায়েরকৃত শেখ হাসিনার মামলাগুলো প্রত্যাহার হলে বেগম জিয়ার মামলা কেন প্রত্যাহার হলো না? আসলে আওয়ামী লীগ বেগম খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তাকে ভয় পান। আর সেই কারণেই নিজেরদের অপকর্মকে আড়াল করতে বেগম জিয়াকে জেলে দিয়েছেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪