খালেদা জিয়ার উদ্দেশে কাদেরের বক্তব্য ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে: রিজভী
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে, এখানে কারো হাত নেই।’ ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্য আরো ভয়ংকর ইঙ্গিত বহন করে। ওবায়দুল কাদেরের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে আমরা দেশনেত্রীর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আরো বেশি উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করছি। ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্যে প্রমাণিত হলো যে সত্যি সত্যি তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের জীবন নিয়ে একটা গভীর চক্রান্তে লিপ্ত।’
রিজভী আরো বলেন, ‘কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করছে না। গতকাল শারীরিকভাবে অসুস্থ দেশনেত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র নিয়ে কারাফটকে গেলেও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হাঁটু ও পায়ের ব্যথা আরো বেড়ে গেছে। পুরাতন ভবনের স্যাঁতসেঁতে কক্ষে তাঁকে অন্তহীন নানাবিধ সমস্যার দ্বারা আক্রান্ত হতে হচ্ছে। সেখানে একদিকে মশার তীব্র উপদ্রব, অন্যদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে তাঁকে এক অবর্ণনীয় কষ্টে রাখা হয়েছে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অবিলম্বে দেশনেত্রীর ইচ্ছানুযায়ী রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হোক, অন্যথায় জনগণের রুদ্ররোষ থেকে কেউই রেহাই পাবে না।’
ঢাকা বিশ্ববিশ্বদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়ার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন কমনওয়েলথ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন তখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে গভীর রাতে হল থেকে সম্পূর্ণ অমানবিক আচরণের মাধ্যমে বের করে দেয়া হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি অন্যতম ন্যাক্কারজনক ও কলঙ্কজনক ঘটন।
তিনি বলেন, ছাত্রীদের প্রতি ছাত্রলীগের নির্যাতন জারী রাখার ছাড়পত্র দিয়েছে বর্তমান সরকার। ছাত্রলীগের অপকর্মগুলোর মদদদাতা আওয়ামী সমর্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে এতো নিচে নামতে পারে, সেটি দেখে বিবেকবান মানুষ আজ বিস্মিত, হতভম্ব।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনি পূর্বে একজন অধ্যক্ষকে এবং পরে এক কোচিং সেন্টার মালিককে চাঁদার দাবিতে যে অমানবিক নির্যাতন করেছে, সেই ভিডিওটিও দেশ-বিদেশের সর্বত্র ভাইরাল হয়ে গেছে। এর আগেও এই ছাত্রলীগ নেতা অবৈধ অস্ত্রসহ ধরা পড়ে। কিন্তু থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেখা যাবে সেও ছাত্রলীগের রগ কাটা নেত্রী এশার মতো তিরস্কারের পরিবর্তে পুরস্কৃত হবে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০