তারেক রহমান নির্বাচিত, আপনাদের বলার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রীকে ফখরুল
-
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল
তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে তাদেরকে ‘ভয় দেখানো’ বলে মনে করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেছেন, “এই ভয় আমাদের দেখাচ্ছেন কেন? তিনি (তারেক রহমান) দেশে ফিরে আসতে হয় তিনি আসবেন। যেদিন তিনি মনে করবেন জন্মগত নাগরিক হিসেবে উনি উনার দেশে ফিরে আসবেন এবং সেদিন আপনারা দেখবেন তার জনপ্রিয়তা কত এবং মানুষ তাকে কত ভালোবাসে। সেইদিন দেখবেন কোটি কোটি মানুষ তাকে বরণ করার জন্য সেই এয়ারপোর্টে গিয়ে হাজির হয়েছে।”
আজ (বুধবার) বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির মতো একটা রাজনৈতিক দল, যারা নিজেদের মনে করে সব থেকে বড় দল, সব থেকে জনপ্রিয়, শক্তিশালী দল; তো সেই দলে কি একজন উপযুক্ত নেতা তারা বাংলাদেশে খুঁজে পেল না? একজন সাজাপ্রাপ্ত, পলাতক আসামিকে তাদের চেয়ারপারসন বানাতে হল এবং সে সেখান থেকে নেতৃত্ব দেয়।”
তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই বিকেলে বিএনপির নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিএনপির কাউন্সিলে তারেক রহমান দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। পার্টির চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেবেন। এটা আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে। এতে আপনাদের বলার কিছু নেই।”
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো করেছে, একটা মামলারও কোনও ভিত্তি নেই। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা ১১ বার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) চেঞ্জ করেছে। সর্বশেষ যে আইওকে দিয়ে এটা করানো হয়েছে, তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রার্থী ছিলেন। আর যে মুফতি হান্নানকে দিয়ে স্বীকারোক্তি নিয়েছিল, তাকে তো ফাঁসি দিয়ে দিয়েছে। তিনি (মুফতি হান্নান) কোর্টে এসে বলেছিলেন, যে তাকে দিয়ে জোর করে ১১৩ দিন রিমান্ডে নিয়েছিল।“
পাল্টা প্রশ্ন করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি সাজাপ্রাপ্ত (তারেক) কোন মামলায়? যে মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন? তাকে খালাস দেওয়ার পরে ওই বিচারককে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে,টু সেইভ হিজ লাইফ। আপনারা (সরকার) সমস্ত সাজাপ্রাপ্ত লোকদের নিয়ে মন্ত্রিপরিষদে বসে রয়েছেন। আপনাদের মামলাগুলো নিজেরা নিজেরা তুলে নিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা (সরকার) সমস্ত সাজাপ্রাপ্তদের নিয়ে মন্ত্রিত্বে বসিয়ে রেখেছেন। আপনাদের মামলাগুলো নিজেরা নিজেরা তুলে নিয়েছেন। একটাও মামলা রাখেননি, সব তুলে নিয়েছেন। সকলের বেলায় সমান হবে, আপনাদের মামলাও থাকুক, অন্যদেরটাও থাকুক- দেখা যাক কী হয়? আর আদালত নিরপেক্ষ হোক।”
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে ‘বন্দুকের নল দিয়ে দেশ থেকে বের করার’ অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই সরকার বিচার বিভাগকে শেষ করে দিয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কোথায়? আপনারা (সরকার) নিম্ন আদালতের সব ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছেন।”
আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যায়িত করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, এই সরকারের পক্ষে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সরকার একটা চুক্তি করলেন। এই চুক্তিতে এখন পর্যন্ত ৬ মাস হয়ে গেল একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠাতে পারেনি এবং পারবেন না। এখন যে অবস্থা আছে তাতে ফেরত পাঠানো যাবে না। এই মেরুদণ্ডবিহীন সরকার এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারকে নিন্দা জানিয়ে একটাও রেজুলেশন নেয়নি।”
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব জনমতের সঙ্গে ‘প্রতারণা করেছেন’ বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।
নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাইদ হাসান মিন্টুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাসিরউদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আখতার কল্পনাসহ মহানগর দক্ষিণের নেতারা বক্তব্য রাখেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১