সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে ৯ মে (বুধবার) ঢাকায় বিক্ষোভ করবে বিএনপি। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সোমবার ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী সমাবেশ অনুষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। অনেক প্রতীক্ষার পর গতরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার ঢাকার প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সরকার জন আতঙ্কে ভুগছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা জনগণ দেখলেই ভয় পায়। এজন্য বিরোধী দলকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। সরকারের এমন অগণতান্ত্রিক আচারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার বলেই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দায়ের করা মামলায় অন্যায় সাজা দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমানে নানাবিধ জটিল রোগে ভুগলেও তার সুচিকিৎসার জন্য বিএনপি’র দাবিকে আমলে না নিয়ে বরং উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিষ্ঠুর রসিকতা করছেন। গণতন্ত্রের শত্রুপক্ষ শেখ হাসিনা ও তার সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে দেশের জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রোগে-শোকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ লাভ করছেন।
রিজভী বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ নেতারা এমন কথা নেই যা বলছেন না। এই সরকারের পতন হলে এই নেতারাই সবার আগে উল্টো কথা বলবেন। যা বলেছিলেন ১/১১ সরকারের সময়।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, এর আগেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলাম। সরকার ভয় পায় তাই জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন দলকে সমাবেশ করতে দিলেও বিএনপিকে সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়নি।

গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে সংবিধানের ১২৫ এর (গ) অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, সেখানে বলা আছে ‘কোনো আদালত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হইয়াছে এইরূপ কোনো নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসঙ্গত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ প্রদান না করে অন্তবর্তী বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিবে না।’ তিনি প্রশ্ন করেন তাহলে এটা কিভাবে হলো?
তিনি আরও বলেন, রোববার (৬ মে) খুলনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যদি তাই হয় তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব হলো, এটা আমার জানা প্রয়োজন বলে মনে করছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭