নির্বাচন পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য: ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i58130-নির্বাচন_পর্যন্ত_খালেদা_জিয়াকে_কারাগারে_রাখাই_সরকারের_মূল_লক্ষ্য_ফখরুল
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মে ৩০, ২০১৮ ১১:২১ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম (ফাইল ফটো)
    সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম (ফাইল ফটো)

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও কারামুক্তি আটকানোর জন্য সরকার বাধা সৃষ্টি করছে। যাতে তিনি বের হতে না পারেন। সেই ব্যবস্থা সরকার নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। কারণ সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা।’

গতকাল বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৭ থেকে ৮ দিন পরে তাদেরকে বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিয়েছে। কারাগারে যাওয়ার পরে তারা দেখেছেন, বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। আর এ অসুস্থতা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, তিনি ঠিক মত হাঁটতে পারছেন না। প্রতিদিন রাতে বেগম খালেদা জিয়ার জ্বর আসে। পরে এই জ্বরটা আর যাচ্ছে না। আর যে রান্না হয়, সেই রান্নার মানও অনেক খারাপ হয়ে গেছে। অপরদিকে তাঁর বাসা থেকেও কোনো খাবার দেয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা দরকার।’

কালবিলম্ব না করে ইউনাইটেড হাসপাতালে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য আবারও জোর দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।  

এর আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, "পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যেখানে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে, সেখানে কোনও জেনারেটর নেই। প্রায় বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি ও হাতপাখা দিয়ে চলতে হয় খালেদা জিয়াকে। এই যে অমানবিকতা ও হৃদয়হীন আচরণ, এর কোনো তুলনা নেই।"

মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, "বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, তার সঙ্গে সরকার ন্যূনতম মানবিক আচরণ করছে না।"

প্রধানমন্ত্রী হিংসায় ভোগেন: রিজভী

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "জিয়াউর রহমান আজকে সরকারের টার্গেট। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এনেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটা নিয়ে হিংসায় ভোগেন। তাই তার প্রথম টার্গেট গণতন্ত্র ভেঙে দাও।"

আজ (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন পূর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
এতে রিজভী বলেন, "উন্নয়নের নামে আজকে লাখ লাখ কোটি টাকা প্রচার করা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা।"

তিনি বলেন, "রাজপথে নামতেই হবে, রাজপথে না নামা পর্যন্ত গণতন্ত্রের মুক্তি নেই। আজকে গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, তাকে তিলেতিলে নিঃশেষ করে দেয়ার জন্য।"

রিজভী বলেন, "খালেদা জিয়া দেশকে স্বাধীন রাখতে চেয়েছিল বলেই এত আক্রোশ। কেন দেশটাকে প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হবে না? শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই একে একে কাজটি করে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রকে দুই পায়ের নিচে দলিত করে যাচ্ছেন।"

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সকাল থেকে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। জিয়ার কবর জিয়ারতের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গরিবদের মাঝে ইফতারসামগ্রী, খাবার ও কাপড় বিতরণ করেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০