কুমিল্লার ২ মামলায় জামিন স্থগিত: কারাগারেই ঈদ খালেদা জিয়ার
নাশকতার অভিযোগে কুমিল্লার দুটি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের যে আদেশ হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাতে স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজ (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতির দেয়া স্থগিতাদেশ ২৪ জুন পর্যন্ত বহাল রেখেছে। আপিল বিভাগ আদালত খোলার পর প্রথম দিন ২৪ জুন পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল করতে বলেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬/১৭ জুন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। ফলে ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলছে না।
হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গত সোমবার কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে সেদিনই আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা পরে চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। গত মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৩১ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন দুটি আজ (বৃহস্পতিবার) আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি নিয়ে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
মানহানির ২ মামলায়ও জামিন পাননি খালেদা জিয়া
এদিকে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে জাতির মানহানির অভিযোগে ঢাকার আদালতে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে এ দুটি মামলায় পরোয়ানা তামিলপূর্বক জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, সরকারই ‘ষড়যন্ত্র’ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে রেখেছেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের বিষয় এবং তার উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতির আদেশের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে। সরকার চায় বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, কারাগারে রেখে তারা নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করবে।”
তার বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এ ধরনের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর। আদালত জামিন দিচ্ছে, আবার জামিন স্থগিতও করছে।”
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লার হত্যা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছিলেন।
হত্যা মামলাটি অবরোধের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন। কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলাটিও নাশকতা নিয়ে।
অবরোধের মধ্যে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিনই চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। কুমিল্লার এ দুটি মামলায়ই বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩১