আমরা জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি: শেখ হাসিনা
-
আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “সামরিক একনায়কেরা নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে জনগণের রায়কে ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু আমরা জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ছবিসহ ভোটার তালিকা চালু এবং অন্যান্য সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”
শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি বোর্ডের এক সভায় ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। তিন সিটি করপোরেশন, একটি সংসদীয় আসন এবং বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রদানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেয়র পদে রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে বদরুদ্দিন আহমদ কামরান এবং বরিশালে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে বক্তব্যে নেতাকর্মীদের প্রতি দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটা মনে রাখতে হবে। সেখানে সবাই একসাথে কাজ করবেন। ভোটারদের বিশ্বাস, ভোটারদের বিশ্বাস অর্জন করা- এটাই সব থেকে বড়, সব থেকে বেশি প্রয়োজন। আমাদের নেতাকর্মী যে যেখানে আছে, কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সে সিদ্ধান্তে এক হয়ে কাজ করবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। আসন্ন সকল নির্বাচন বিশেষ করে সিটি করপোরেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার বিএনপি’র মতো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়। দলের কর্মীদের এ কথা মাথায় রাখতে হবে।” তিনি আরো , দেশে এত উন্নয়নের পরও যদি জনগণ ভোট না দেয়, তা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দায়ী থাকবেন। কারণ তখন বুঝতে পারব ক্ষমতায় থাকতে আপনি জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। টাকার বিনিময়ে কাজ করেছেন। এ কারণে জনগণ আপনাকে ভোট দেয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা মাগুরা অথবা ঢাকার উপনির্বাচন অথবা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো কোনো নির্বাচন আয়োজন করতে চাই না।“
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের উন্নয়নের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে দেশের নজিরবিহীন উন্নতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসন আমলে ৯ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে দেশ কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছতে সক্ষম হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারণ, এ দল শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামই নয়, দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে। থেমে গেছে এ জাতির উন্নয়ন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “ক্ষমতা কুক্ষিগত করে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়নি। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের গভীরে এ দলের অস্তিত্ব বিদ্যমান। আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে।”
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে আগামী ৩০ জুলাই। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮ জুন, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আগামী ১ ও ২ জুলাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার শেষ দিন ৯ জুলাই।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৩