সবদলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় নির্বাচন: ইসি’র ভূমিকা; বিএনপির অভিমত
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর মাত্র তিনমাস বাকি থাকলেও প্রধান সব দলের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয়। যদিও দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক মহলও চায় আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ক্ষমতাসীন জোটের দলগুলো জোরসোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে এখনও অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি বর্তমানে সংসদের বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ২০ দল।
বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না জানিয়ে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেছে বিএনপি। একই দাবিতে ১০ম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেছিল দলটি। সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। বাম সংগঠনগুলোর বেশিরভাগই নির্বাচনে নির্দলীয় সরকার চায়।
সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও। তবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে নারাজ তারা। যদিও সরকার বিরোধীদের সাফ কথা, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না তারা। এমন সময়, নিবন্ধন নিয়ে ইসির সাম্প্রতিক বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, পরপর দুই বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে। তবে নিবন্ধন বাতিল হবে কি না, সেটি একটি প্রক্রিয়ার ব্যাপার। ২৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, এ নির্বাচনে না আসলে বিএনপির নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে। তবে, নির্বাচন কমিশন আশাবাদী, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বিএনপি। নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে আনতেই এমন কথা বলছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সিইসি বিএনপিকে ভয় দেখাচ্ছেন, যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কমিশনের বক্তব্য প্রমাণ করে, তারা সরকারের শিখিয়ে দেয়া কথা দলীয় মুখপাত্রের মতো বলে চলছেন। তবে কাগজের নিবন্ধন নয়, জনগণের বিচারই রাজনীতির শেষ কথা।
বাংলাদেশে এখন ৪০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে। যেসব দল নিবন্ধিত নয়, তাদের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিতে পারেন। বিএনপি নিবন্ধন হারালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেয়ার ক্ষমতা যেমন নির্বাচন কমিশনের আছে, তেমনি তা বাতিলের ক্ষমতাও তাদের হাতে রয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৯০ (এইচ) (ই) ধারায় বলা হয়েছে, পাঁচটি কারণে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে আছে, ১. যদি দলটি নিজেই নিজেই বিলুপ্ত ঘোষণা করে। ২. সরকার যদি কোনো দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ৩. কোনো নিবন্ধিত দল যদি পরপর তিন বছর নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মতো তথ্য না দেয়। ৪. ৯০ (বি) অনুযায়ী নিবন্ধন পাওয়ার ও রাখার শর্ত ভঙ্গ করে। এবং ৫. কোনো দল যদি পরপর দুই বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়। তবে এই আইন অনুযায়ী, দু’বার অংশ না নেয়া দলের নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ হবে না। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দলকে শুনানির জন্য সুযোগ দেবে। বিএনপিসহ ২৮টি রাজনৈতিক দল ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেছিল। অংশ নিয়েছিল ১২টি দল। বিএনপি ছাড়াও সিপিবি, গণফোরাম, বিকল্পধারা, এলডিপি ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল। ফলে এই দলগুলোও একাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে। তবে তার আগে কেন নির্বাচনে যায়নি, সে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবে।#
পার্সটুডে/ শামস মন্ডল/ বাবুল আখতার/২৮
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন