২২ শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি পেল বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i64653-২২_শর্তে_সোহরাওয়ার্দী_উদ্যানে_জনসভার_অনুমতি_পেল_বিএনপি
বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ২২টি শর্ত দিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামীকাল (রোববার) সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে  পুলিশ। আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশের অনুমতির জন্য ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ ১৩:১৬ Asia/Dhaka
  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা (ফাইল ফটো)
    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ২২টি শর্ত দিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামীকাল (রোববার) সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে  পুলিশ। আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশের অনুমতির জন্য ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সমাবেশের অনুমতি সাথে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) জুড়ে দেয়া  শর্তের মধ্যে রয়েছে- জনসভার দুই ঘণ্টা আগে মানুষ জনসভাস্থলে আসতে পারবে, মিছিল সহকারে জনসভায় আসা যাবে না, ব্যানার-ফেস্টুনের আড়ালে কোনো ধরনের লাঠি, রড আনা যাবে না, বিকেল ৫টার মধ্যে জনসভা শেষ করতে হবে, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়ক ও ফুটপাতে প্রজেকশন ব্যবহার করা যাবে না, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়কে অথবা ফুটপাতে সমবেত হওয়া যাবে না।

ডিএমপির শর্তগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে- সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ পরিচালনা করা যাবে না, উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য এবং প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে— এমন কোনো ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করা যাবে না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইডি কার্ডসহ নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োগ করতে হবে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

এছাড়া আরো আরও শর্ত দেয়া হয়েছে, সভাস্থলের প্রতিটি প্রবেশ পথে আয়োজকদের  ব্যবস্থাপনায় আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে আসা প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে, আজান, নামাজ এবং ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক চালু রাখা যাবে না, জনসভার মঞ্চ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, শর্ত না মানলে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমতি বাতিল বলে গণ্য হবে, জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্তৃপক্ষ এ অনুমতি বাতিল করতে পারবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির এই সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও দলটির পক্ষ থেকে পরে সমাবেশের তারিখ পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশের তারিখ পেছানোর কারণ সম্পর্কে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার ছুটির দিনে সমাবেশ করতে পুলিশের পক্ষ হতে তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে শনিবারও সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। এদিন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলেরও সমাবেশ রয়েছে এমন কারণ দেখিয়ে রোববার সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।

ওদিকে, ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিএনপি’কে ঢাকার রাজপথে  প্রতিহত করার হুমি দিলেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গতকাল বলেছেন, বিএনপি সমাবেশ করবে, আমরা পাল্টাপাল্টি কিছু করব না। তবে সারাদেশে নগর, থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।

শুক্রবার দলের এক কর্মী সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের বলেছেন, 'দেশের রাজনীতির অঙ্গনে অশুভ শক্তির পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপিসহ তাদের সাম্প্রদায়িক দোসররা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আন্দোলনের নামে নাশকতা ও সহিংসতার ছক আঁটছে। তারা সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এমন মেসেজ ও তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। তারা যেভাবে হাঁকডাক হুমকি-ধামকি শুরু করেছে, তাতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।'

তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে এটাও বলেছেন, আন্দোলনের নামে সভা-সমাবেশে যদি নৈরাজ্য, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করব। আর সহিংসতা-নাশকতার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যথাযথ জবাবই দেবে। আমরা সবদিক থেকে প্রস্তুত আছি। বিএনপি ও তার দোসররা সহিংসতা-নাশকতার দিকে পা বাড়ালে, জনগণই তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।'#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯