বিএনপির জনসভা থেকে ৭ দাবি, ১২ দফা ও ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
-
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আগামী ৩ অক্টোবর দেশের জেলায় জেলায় সমাবেশ, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং ৪ অক্টোবর মহানগরগুলোতে সমাবেশ ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সেইসঙ্গে ৭ দফা ও ১২টি লক্ষ্যও ঘোষণা করেছে দলটি।
আজ (রোববার) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়াদী উদ্যানে আয়োজিত জনসভা থেকে এ ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে এ জনসভা করে বিএনপি। জনসভায় কারাগারে থাকা দলীয় চেয়ারপারসনকে সম্মান জানাতে তাকে প্রধান অতিথি করে চেয়ার খালি রাখা হয়।
সব ঘটনার তদন্ত হবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না: ফখরুল
কর্মসূচি ঘোষণার আগে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দুর্নীতি-লুটপাট করে আজ অর্থনীতিকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের অসংখ্য সহযোদ্ধাকে গুম ও হত্যা করেছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার গায়েবি মামলা দিচ্ছে। এই মিথ্যা মামলার জন্য ভবিষ্যতে জবাবদিহি করতে হবে। সব ঘটনার তদন্ত হবে। তখন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই সরকারকে বিএনপির ভয়ে ধরেছে। তারা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আতঙ্কে ভুগছে।
খালেদা জিয়ার আহ্বানে বিভিন্ন দলমত আজ ঐক্যবদ্ধ: মোশাররফ
জনসভার প্রধান বক্তা, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, খালেদা জিয়ার আহ্বানে বিভিন্ন দলমত আজ ঐক্যবদ্ধ। তাকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। এ সময়, জনগণের দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আর ফাঁকা মাঠে গোল হবে না: মওদুদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যদি বাধা দেয়া হয়, তাহলে এবার আমরাও ছাড় দেবো না। আওয়ামী লীগ নেতারা মাঠ দখলের কথা বলছেন, এখানে মাঠ দখলের প্রশ্ন কেন? যদি মাঠ দখলের কথা বলেন, আমরাও এবার দখল করব। আর ফাঁকা মাঠে গোল হবে না। এই দিবাস্বপ্ন দেখলে ভুল করবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে রাজপথই কথা হবে। জনসভার জন্য কোন অনুমতি নেয়া হবে না। প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করেই জনসভা করা হবে। এই সরকারের পতনের সময় এসে গেছে। আর বেশি দিন নাই।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে সাত দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করবে জানিয়ে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, এই আইন এতো ভয়ংকর যে, পুলিশকে এত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, ১৯৭৫ সালে বাকশালের সময় রক্ষীবাহিনীকেও তা দেয়া হয়নি।
এদেশের মানুষ এই সরকারের ওপর অতিষ্ঠ: নজরুল
জনসভায়, রাজপথ দখল করতে দলের নেতাকর্মীদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আনতে হলে রাজপথ দখল করতে হবে। এদেশের মানুষ এই সরকারের ওপর অতিষ্ঠ। বিশ্বের কোনো দেশই এই অবৈধ সরকারকে নৈতিক সমর্থন দেয়নি।
বেলা ২টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তবে সকাল ১০টা থেকেই দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশস্থলে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সভামঞ্চে দেশাত্মবোধক ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। বেলা ২টার আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকা মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
জনসভার শুরুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবির পাশাপাশি তাকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৩০