সরকার ষড়যন্ত্রের ছক তৈরি করছে- নজরুল: পুলিশের সমালোচনা করলেন রিজভী
'বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ষড়যন্ত্রের ছক তৈরি করছে বলে জনগণ ভোট নিয়ে শংকিত। কারণ দেশে সুশাসনের কোনো নমুনাই নেই।' -এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্যই সহায়ক সরকার গঠনসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এসব দাবিকে অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিলে সংকট আরো বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থেকে যদি ইলেকশন করেন তাহলে তো ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আপনি জিতে যাবেন। আমরা সেজন্য বলছি আপনি করতে পারবেন না ইলেকশন। আপনার কাছে এটা এখন যৌক্তিক মনে হয় না। কিন্তু আপনার কাছে ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় মানুষ দিয়ে সরকার গঠন করা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে।’
নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, ‘আলোচনায় যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আমাদের দাবি যৌক্তিক না তাহলেই না দাবি অগ্রাহ্য করার অধিকার জন্মাবে আপনার।’
পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের ফরম্যাট প্রস্তুত করা থাকে: রিজভী
এদিকে, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীশক্তিকে শূন্য করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে সরকার। ক্ষমতা ধরে রাখতে তাই পাইকারি হারে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দিচ্ছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কাছে আষাঢ়ে গল্পের একটা ফরম্যাট সবসময় প্রস্তুত করা থাকে। সময়মতো বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে সেগুলো ব্যবহার করা হয়। এবারেও পুলিশ তা-ই করেছে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা ও সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ৫৫ বিরুদ্ধে রোববার দিবাগত রাতে এবং পরদিন সোমবার হাতিরঝিল থানায় পৃথক দু’টি মামলা রুজু করেছে ডিবি পুলিশ।
বিএনপি দাবি করেছে, ২৯ সেপটেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের জনসভাকে কেন্দ্র করে শাহবাগ ও রমনা থানা এলাকা থেকে দলটির শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতদের খোঁজ নিতে থানায় ভীড় করা উদ্বিগ্ন স্বজনেরা বলেছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেছেন, তাদের ছেলে বা ভাই রাজনীতি করে না বা কোন অপকর্মের সাথে যুক্ত নয়। কেই কেই জনসভায়ও আসে নি। ঘরে ফেরার পথ সভাস্থল থেকে দূরে রাস্তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেছেন, ‘গত পরশু বিএনপির জনসভার পর দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের সচিত্র দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। টেনেহিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে, শার্টের কলার ধরে কীভাবে বিএনপির লোকজনদের পুলিশভ্যানে তোলা হচ্ছে, সেগুলোও মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। অথচ ডাহা মিথ্যা বলা শুরু হলো— বিএনপি নেতাকর্মীরা নাকি পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দিয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা নাকি এতে ইন্ধন দিয়েছে।’
মওদুদ-সানাউল্লাহ'র আগাম জামিন
এদিকে, পুলিশের কাজে বাধাদান ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াকে আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।
আজ বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এ জামিন মঞ্জুর করেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন